Umar received his MA in Philosophy from Dhaka University and his BA Honors degree in PPE (Philosophy, Politics and Economics) from Oxford University. Umar began his academic career as a teacher at Dhaka University on a temporary basis. In 1963, he joined Rajshahi University as the founder-chair of the Political Science department. He also founded the department of Sociology at the same university, but he resigned from his university positions during the hostile times of the then East Pakistan governor Abdul Monem Khan to become increasingly more active and engaged as a full-time leftist political activist and public intellectual to fight for the cause of oppressed peasants and workers in Bangladesh.
As a follower of Marxist-Leninist principles, Umar began writing anti-colonial articles from the 1970s. In the 1960s he wrote three groundbreaking books––Sampradayikata (Communalism, 1966), Sanskritir Sankat (The Crisis of Culture, 1967), and Sanskritik Sampradayikata (Cultural Communalism, 1969)––that theorize the dialectics of the political culture of ‘communalism’ and the question of Bengali nationalism, thus making significant intellectual contributions to the growth of Bengali nationalism itself. In 1969, Umar joined the East Pakistan Communist Party (Marxist-Leninist), and from February 1970 to March 1971, Umar edited the mouthpiece of the East Pakistan Communist Party––Saptahik Ganashakti—which published essays and articles about the problems and prospects of the communist movement in Pakistan. He was president of both Bangladesh Krishak Federation (Bangladesh Peasant Federation) and Bangladesh Lekhak Shibir–the country’s oldest organisation of progressive writers, intellectuals, and cultural activists.
চতুর্দশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপে কমপক্ষে দুইটি ''বিপ্লব'' হয়েছিল। রেঁনেসা ও রিফরমেশন। ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে আলাদা করে ইহজাগতিক কল্যাণের পথ উন্মুক্ত করে রেঁনেসা। অন্যদিকে ধর্মীয় নেতাদের নেতৃত্বে ধর্মান্দোলন হলো রিফরমেশন। উনিশ শতকের বাঙালি সমাজে ধর্মীয় সংস্কারমূলক কাজ করেন রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। উনিশ শতকে ধর্মাশ্রয়ী কল্যাণকামী চিন্তা-ই এদেশের বড়ো মানুষদের অর্জন। তাকে বড়োজোর রিফরমেশন বলা যায়। রেঁনেসা নয়। এভাবেই নিজের গ্রন্থে বঙ্গীয় রেঁনেসা নস্যাৎ করে দিয়েছেন বদরুদ্দীন উমর। বিদ্যাসাগরসহ উনিশ শতকের মহীরুহদের কর্মকাণ্ডের চমৎকার ব্যবচ্ছেদ করেছেন।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের আগে সমাজ কাঠামো একরকম ছিল। খাজনা সংগ্রহকারীদের স্থায়ী জমিদার বানানোর সিদ্ধান্তে মোটাদাগে দুইটি প্রভাব পড়ে। এক. দ্বারকানাথের মতো যারা সফল ব্যবসাদার ছিলেন, তারা ব্যবসায় বাদ দিয়ে জমিদারিতে বিনিয়োগ করেন। ফলশ্রুতিতে ইংরেজদের সাথে টেক্কা দেওয়ার মতো পুঁজিপতি এদেশের তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে গেল এবং জমিদারি আয়ে চলা কোনো ব্যক্তির পক্ষে বড়ো মুখে ইংরেজদের সমালোচনা করার শক্তি রইল না৷ বন্দোবস্তের দ্বিতীয় প্রভাবটি হলো কৃষকশ্রেণির নিপীড়ন বৃদ্ধি।
রামমোহন রায়কে বাংলার রেঁনেসার অন্যতম স্রষ্টা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। সতীদাহ প্রথা রোধ করার জন্য রামমোহনের ভূমিকা ঐতিহাসিক এবং অনস্বীকার্য। কিন্তু এই দায়িত্ব তো ধর্মান্দোলন নেতার দায়িত্ব। রেঁনেসার নেতা হিসেবে পীড়ক ইংরেজের বিরোধিতা তিনি করেননি। পক্ষ নেননি গরিব কিষাণের। বদরুদ্দীন উমর লিখেছেন,
"ইংরেজের স্বার্থ উদ্ধারের উদ্দেশ্যেই রামমোহনের মতো ব্যক্তি ইংরেজ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন বাঙলাদেশে লবণ প্রস্তুত বন্ধ করে ইংলন্ড থেকে লবণ আমদানীর। হয়েছিলোও তাই। এর ফলে একদিকে দেশীয় লবণ-শিল্পের উচ্ছেদ হয়েছিলো, লক্ষ লক্ষ লবণ-শিল্প শ্রমিক বেকার হয়েছিলো এবং অন্যদিকে রামমোহনের শ্রেণীভুক্ত ব্যবসায়ীরা সেই ব্যবসায়ে অংশগ্রহণ করে ইংরেজের মুনাফার এক ক্ষুদ্র অংশ নিজেদের পাতে উঠিয়েছিলেন। রামমোহন ও তাঁর শ্রেণীভুক্ত অন্যান্যদের এই কর্মের ফলে দেশীয় অর্থনীতির বিকাশ না ঘটে তার ধ্বংসের পথই প্রশস্ত হয়েছিলো ব্যবসার পাট উঠিয়ে জমি ও জমিদারী ক্রয় করেই নিজেদের আর্থিক জীবনের ধ্বংসকে তাদের রোধ করতে হয়েছিলো। "
কথিত রেঁনেসার আরেক ব্যক্তিত্বকে কোনোভাবেই রেঁনেসা সম্পর্কীত বলা যায় না। তিনি হলেন বঙ্কিমবাবু৷ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রতিটি কাজকে বঙ্কিমচন্দ্র প্রশ্নবিদ্ধ করতে চেয়েছেন। ঈশ্বরচন্দ্র তাঁর জীবনের দুইটি কাজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন। প্রথমত, বিধবাবিবাহ চালু এবং দ্বিতীয়ত, লেখালিখি৷ ঈশ্বরচন্দ্রের লেখালিখিকে সারবত্তাহীন মনে করতেন বঙ্কিম। কারণ ঈশ্বরচন্দ্র পাঠ্যপুস্তক ও অনুবাদের বাইরে কোনো কাজ করেননি। বিধবাবিবাহের বিপক্ষে দাঁড়াতে আরও কটূক্তি করেছেন বঙ্কিম। বিদ্যাসাগরকে 'মূর্খ' বলতেও তার মুখে আটকায়নি। ''বাংলার কৃষক'' রচনা তিনি কৃষকের পক্ষে কথা বলেছেন এটা সত্য। আবার একই প্রবন্ধে সাফাই গেয়েছেন জমিদারি প্রথার সপক্ষে।
উনিশ শতকের অর্থনৈতিক ভিত্তি প্রোথিত ছিল চিরস্থায়ী বন্দোবস্তে৷ যার শিকার বাংলার কৃষক৷ দীনবন্ধু মিত্র, দ্য পেট্রিয়টের হরিশচন্দ্রের মতো কৃষকের পাশে এসে দাঁড়াননি বিদ্যাসাগর। তিনি সাহসী মানুষ ছিলেন। তবু কেন সরাসরি বাংলার কৃষকের পক্ষে দু'কলম লিখলেন না তা এক প্রশ্ন বটে৷
রিফরমেশনকে রেঁনেসা বলে গুলিয়ে ফেলা বাংলার বুদ্ধিজীবিদের মুখে ঝামা ঘষে দেওয়ার মতো গ্রন্থ ''ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ"।
বিখ্যাত লেখক ম্যাক্সিম গোর্কি ইতিহাস বিষয়ে একটা কথা বলেছিলেন, "অতীত সমালোচনার ঊর্ধে নয়, কিন্ত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা অর্থহীন। অতীতকে অধ্যয়ন করতে হবে।"
ঠিক সেই 'অধ্যয়নের' জন্যেই উনিশ শতকের বাঙালি সমাজ এবং রামমোহন-বিদ্যাসাগর-বঙ্কিমের গঠণমূলক পর্যালোচনা এই বইয়ের মূল উপজীব্য ছিল। এটি বদরুদ্দিন উমরের ১৯৭০ সালে লিখিত একটি প্রবন্ধ।
উনিশ শতকের বাঙালি সমাজ নিয়ে প্রচলিত ডিসকোর্স হলো রামমোহন-বিদ্যাসাগর-বঙ্কিমকে সাধারণ মানুষের অবস্থান থেকে না দেখে জাতীয় নেতার চরিত্রে দেখা এবং ইংরেজি শিক্ষার দরুন সে সময়কার সংষ্কারকে রেনেসাঁসের সাথে তুলনা করা। এই বইয়ে বদরুদ্দীন উমর প্রচলিত এই ডিসকোর্সকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এবং দেখাতে চেয়েছেন যে এটি কোনো রেনেসাঁস ছিল না, বরং এর মাঝে শ্রেণিচেতনা স্পষ্ট।
১৫ শতকে ইতালির ফ্লোরেন্সে রেনেসাঁসের ফলে যা হয় —
১। বুর্জোয়া সমাজের উত্থান (হায়ার ক্লাস) যারা লোয়ার ক্লাস শ্রমিকদের নিয়ে মিডল ক্লাস সামন্তদের সাথে বিদ্রোহ করে;
২। দর্শন ও চিন্তাভাবনার নিত্য নতুন দুয়ার খুলে যায়, জন লক-কান্ট-স্পিনোজা-শোপেনহাইমার প্রমুখ ফিলোসফারের উদ্ভব হয়। লিবারেলিজমের জন্ম হয়, মানবতাবাদী সংষ্কৃতির জন্ম হয়;
৩। দর্শনের প্রভাবে ধর্মীয় বাধা কমে যায়, বিজ্ঞান গতিশীল হয়;
৪। বিজ্ঞানের গতিশীলতা আবার ধর্মের খুঁত বের করে কোপার্নিকাস-কেপলারের মাধ্যমে। ধর্মের বাঁধন দিনদিন আলগা হয়ে যেতে থাকে;
৫। এর ফলশ্রুতিতে সেখানে ধর্মের গুরুত্ব কমতে থাকে, রাষ্ট্র ও ধর্ম আলাদা হতে থাকে;
৬। ধর্মের প্রভাববিহীন রাষ্ট্রের ভয়েডে রুশো বা যারা ছিলেন আধুনিক রাষ্ট্রের সংজ্ঞা দাঁড় করাতে থাকেন। তৈরী হয় আধুনিক রাষ্ট্র;
৭। এখন এই আধুনিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় সংষ্কার সময়ের দাবি হয়ে উঠে, ধর্মের সংষ্কার হয়।
এক্ষেত্রে একটা বিষয় যা মনে রাখতে হবে, রেনেসাঁস এবং রিফর্মেশন কিন্ত এক নয়। ইউরোপে রেনেসাঁস হবারো প্রায় শতবছর পরে রেনেসাঁসের প্রভাবেই রিফর্মেশন হয়। মোটাদাগে রেনেসাঁস হলো সমাজের সংষ্কার যেখানে রেনেসাঁসের পথনায়কেরা ধর্মকে খুব একটা বিবেচনায় রাখেনি; অন্যদিকে রিফর্মেশন হলো ক্রিশ্চানিটির ধর্মগুরুদেরই ভেতর থেকে সৃষ্ট পরিবর্তনের আহবান।
একটা হলো সমাজ সংস্কার, অন্যটা ধর্ম সংস্কার — দুটোর গতিপথ এবং নায়কেরা আলাদা।
এখন, ১৭৯৩ এর চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত পরবর্তীকালে বিবেচনা করলে দেখা যাবে সে বাংলায় কখনোই রেনেসাঁস হয়নি। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে যে শ্রেণিপার্থক্য তৈরি হয়, জন্ম হয় মিডল ক্লাস জমিদার এবং শোষিত কৃষক শ্রেণির — উনিশ শতকে এর অবস্থায় কিন্ত পরিবর্তন আসেনি।
বাংলায় বিচ্ছিন্ন কিছু সংস্কার হলেও তা রেনেসাঁস না হবার যুক্তি হিসেবে লেখক তিনটি কারণকে দায়ী করেন —
১। ইউরোপে রাষ্ট্র থেকে স্বাধীন বণিক শ্রেণি রেনেসাঁসের সূচনা করলেও বাংলার জমিদারেরা কখনোই স্বাধীন ছিলেন না। তাদের নিজেদের স্বার্থ এবং ইংরেজদের স্বার্থ ছিল সরাসরি জড়িত;
২। ইউরোপে এই বণিকশ্রেণির ভূমিস্বার্থের কোনো কারণ ছিল না যা বাংলার শিক্ষিত শ্রেণির ছিল। একটা সময়ে দেখা যায় যে বাংলার এই শিক্ষিত স্বাধীন বণিকেরা, বা আমলারাই পরের প্রজন্মে জমিদারি আরম্ভ করছে। ফলে তারা কখনোই কৃষকদের অধিকার নিয়ে চিন্তিত ছিল না — বরং আন্দোলন যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতো;
৩। ���নিশ শতকের শেষভাগে বাংলায় হিন্দু ও মুসলমান কোনো গোষ্ঠীই সরাসরি দেশ নিয়ে ভাবেনি। উভয় গোত্রের মানুষই উন্নয়ন বলতে কেবল নিজেদের উন্নয়ন ��েবেছে, যারফলে জন্ম নেয় হিন্দু মুসলিম ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতার — দেশ সংস্কারের বদলে একটা সময়ে যা দেশভাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
লেখক এই বইয়ে তথাকথিত প্রচলিত ঊনিশ শতকের বাংলার রেনেসাঁস প্রসঙ্গে বলেন যে বিচ্ছিন্ন কিছু সংস্কার, সতীদান প্রথা নিবারণ, বিধবা বিবাহের সূচনা, ইয়ং বেঙ্গল এবং আধুনিক বাংলা সাহিত্যের উৎপত্তি, শিক্ষার সম্প্রচার প্রভৃতি হলেও সেখানে বাংলার রেনেসাঁস হবার মতন যথাযথ এলিমেন্ট সেখানে ছিল না। সমাজ সংষ্কারকেরা ব্রিটিশদের ছত্রছায়ায় থেকে সমাজে কিছু উন্নয়ন করতে চাইলেও মূলত তা ছিল হিন্দু হায়ার এবং মিডল ক্লাসের মাঝেই সীমাবদ্ধ। সিস্টেমের গঠণমূলক উন্নয়ন তারা চাননি, পাছে ব্রিটিশেরা বেজার হয় — আবার বিচ্ছিন্নভাবে দরিদ্রদের সাহায্য করলেও তাদের মাঝে শ্রেণিচেতনা ছিল স্পষ্ট। “কৃষকদের উন্নয়ন হলে তাদের নিজেদের অবস্থানই নড়েবড়ে হয়ে যাবে" — এই ধারণা তাদের ছিল। ব্রিটিশদের এবং তাদের স্বার্থ ছিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এবং ব্রিটিশদের সফলতা এই যে ক্লাস ওয়ার তারা খুব ভালভাবেই নির্মাণ করতে পেরেছিলো।
ফলতঃ, সে সময়ে হিন্দু আপার ক্লাস এবং মুসলমান লোয়ার ক্লাসে বিচ্ছিন্ন কিছু আন্দোলন হলেও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিদ্যমান ছিল না। সমাজ সংষ্কারকেরা ব্রিটিশদের কথার বাহিরে গিয়ে কিছু করতে চায়নি, তাদের মনে হয়েছিল যে ব্রিটিশদের হাত ধরেই বাংলার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। মূলত এর পেছনে কাজ করছিল শ্রেণিচেতনা — চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের দরুণ যে পার্মানেন্ট শ্রেণিব্যবধানের জন্ম হয় সে চিন্তার বাহিরে গিয়ে ব্রিটিশদের থেকে মুক্তি কারো পক্ষে চাওয়া সম্ভব হয়নি।
ব্রাক্ষ ধর্মের প্রচলন রামমোহনের ধর্মসংস্কার — যিনি বাইরে থেকে ভারতীয় হলেও মনেপ্রাণে একজন ইংরেজ ছিলেন। বিদ্যাসাগরের বিধবা বিবাহের প্রচলন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধনে ব্যাপক প্রভাব থাকলেও তিনিও সচেতনভাবে শ্রেণিচেতনা থেকে ব্রিটিশদের কৃষক শোষণ এবং পশ্চাৎপদ দরিদ্র শ্রেণির উন্নয়নকে এড়িয়ে গেছেন। এদিকে ঊনিশ শতকের শেষার্ধে বঙ্গিমচন্দ্রের ব্রিটিশদের দালালি এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী ও মুসলমানবিদ্বেষী জাতীয়তাবাদের উত্থান মূলত বাংলার মানুষের পরাজয়েরই ফসল। হিন্দু ও মুসলমান উভয়েরই জাত্যভিমান থেকে এসময় জন্ম নেয় সাম্প্রদায়িকতার। ঊনিশ শতকের প্রথমার্ধের উন্নয়ন ধূলিসাৎ হয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে — একক কৃতিত্ব হিসেবে এতে কেবল ব্রিটিশদেরই দায়ী করা যায় না।
ঊনিশ শতকের কেরি-ডিরোজিও-ইয়ং বেঙ্গল-রামমোহন-বিদ্যাসাগর-বঙ্কিমচন্দ্রকে নিয়ে প্রচলিত যে ডিসকোর্স আছে যে তারাই 'বাংলার রেনেসাঁসের ধারক ও বাহক' — একে প্রবলভাবে আঘাত করেছেন লেখক এই বইয়ের মাধ্যমে। তার মতে সেসময়কার মূল সমস্যা ছিল ব্রিটিশদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে সৃষ্ট শ্রেণিপার্থক্য — যাতে মিডল ক্লাস জমিদারেরা নিজেদের স্বার্থেই ব্রিটিশদের দোসর হয়েছে আর গরীবদের মুক্তি চায়নি এবং সেজন্যই কোনো সমাধান আসেনি, এবং একে কোনোভাবেই রেনেসাঁস বলা যৌক্তিক নয়। বইটির শেষে এই প্রবন্ধ নিয়ে পশ্চিমবাংলার বেশকিছু বুদ্ধিজীবীর সমালোচনার জবাবও দেওয়া হয়েছে। ঊনিশ শতককে জানতে এটি একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ বই।
ঊনিশ শতকের তথাকথিত বাংলা রেঁনেসাঁস এর মিথ ভেঙেছেন লেখক খুবই পরিষ্কার যুক্তি দিয়ে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মত বাংলা অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভাঙা সামন্ততান্ত্রিক সিস্টেমের ছত্রছায়ায় থেকে, এর সুবিধা ভোগ করে, ব্রিটিশ তোষণের মাধ্যমে তৎকালীন উচ্চ ও মধ্যবর্ণের হিন্দুর জন্য ধর্ম, সমাজ ও শিক্ষা সংস্কার পুরো বাংলার জন্য রেঁনেসাঁস হতে পারে না।
উনবিংশ শতাব্দীতে বাঙালি জাতির দুই মহানায়ক - রাজা রামমোহন রায় & ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। তাদের সমাজ সংস্কারকে অনেকে বেঙ্গল রেনেসা নামে অভিহিত করে। কিন্তু ইউরোপের রেনেসার সাথে তুলনা করলে বাংলার আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন ঠিক রেনেসা হয়ে উঠতে পারেনি।
ইউরোপের রেনেসায় ব্যবসায়ী বুর্জেয়া শ্রেণী কৃষকদের সাথে মিলে সামন্তপ্রথার বিলোপ ঘটিয়েছিল। ভূমিকেন্দ্রিক অর্থনীতি বানিজ্য কেন্দ্রিক অর্থনীতি দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছিল। বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের নিজেদের দলে রাখার জন্য নতুন নতুন দর্শন আবিস্কার করেছিল বুর্জেয়া শ্রেণী। যেমন - জাতীয়তাবাদ। অর্থাৎ যদিও তুমি অন্য রাজার রাজত্বে আছ। তবু আমরা একই দেশের, একই জাতির। যেমন আমরা বলি - আমরা সবাই বাঙালি । ভারতীয়রা বলে - "তুমি হও পাঞ্জাবী বা রাজপুত বা তামিল, আমরা সবাই ভারতীয়।" ... এরকম আরকি। এক অখন্ড জাতীতাবাদের concept তৈরি করে ভূমিদাসদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন area এর ভূমিপ্রভুদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল বুর্জেয়া শ্রেণী। তারা ব্যবসায়ী লোক, ভূমির উপর নির্ভরশীল না। যাইহোক, সমাজে যখন অর্থনীতির পরিবর্তন ঘটে তখন আপনাাআপনিই পুরোনো ধ্যান ধারণা, রীতিনীতি, ধর্মের উপর আঘাত চলে আসে।
মাঝেমধ্যে অতীত প্রগতিশীল ( এরিস্টটলের যুগ ), বর্তমান ব্যাকডেটৈড (মধ্যযুগ, অন্ধকার যুগ) । সেক্ষেত্রে অতীতের চেতনা জাগ্রত করে বর্তমানকে আধুনিক বানাতে হয়। রেনেসার সময় ধর্মনিরপেক্ষতার , মানবতাবাদ এসব নতুন নতুন concept তৈরি হয়। নতুন বৈজ্ঞানিক আবিস্কার, সাহিত্য-চিত্রকলা, পুরোনো গ্রীক দর্শনের জাগরণ, নতুন দর্শন তৈরি সবকিছু যেন চার্চের ভিত্তি নাড়িয়ে দেয়। রাষ্ট্র খ্রিষ্টধর্মের প্রভাব থেকে বের হয়ে ধর্মনিরপেক্ষ হয়ে উঠে।
কিন্তু তথাকথিত বাঙালি রেনেসার সময় অর্থনীতির উল্টা পরিবর্তন ঘটেছে। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে সামন্তপ্রথা ( জমিদারপ্রথা ) জেকে বসেছিল। ব্রিটিশরা ভারতের business industry ধ্বংস করে দেয়ায় বাঙালি ব্যবসায়ীরা bankrupt হয়ে গেছিল। তারা অবশিষ্ট জামানো টাকা দিয়ে জমি কিনতে শুরু করেছিল। এটাই উপার্জনের একমাত্র পথ। অর্থনীতির পরিবর্তন উল্টা পথে যাওয়ায় , কৃষকদের সংগঠিত করার মত বুর্জেয়া শ্রেণী তৈরিই হয়নি। কাজেই ইউরোপের মত ভারতে ধর্মের উপর সেরকম আঘাত আসেনি ( খুবই দুঃখজনক )।
ঈশ্বর চন্দ্র বিদ্যাসাগর পাশ্চাত্য শিক্ষার সংস্পর্শে আসার সাথে সাথে টের পেয়েছিল হিন্দু দর্শনের অসারতা। তারপরেও সমাজের চাপে বাধ্য হয়ে সংস্কৃত কলেজে বেদ বেদান্ত পড়াতেই হত। তখন বিদ্যাসাগর ভাবলেন, দেশীয় phiosophy পড়ানোর পাশাপাশি পাশ্চাত্য দর্শনও পড়ানো হোক ( ভাববাদী বা আধ্যাত্মবাদী দর্শন নয়, বস্তুবাদী দর্শন )। পশ্চিমা বস্তুবাদ ভারতের আধ্যাত্মবাদের বিরুদ্ধে ( রোগের বিরুদ্ধে ) প্রতিষেধক বা টিকার মত কাজ করবে।
ব্যক্তিগত মতামতঃ বাংলাদেশেও এরকম করা দরকার। ধর্মান্ধ সমাজের চাপে স্কুলে ধর্মীয় শিক্ষা যেহেতু পড়াতেই হবে। কেননা প্রত্যেক ধর্মের জন্য আলাদা আলাদা বই না বানিয়ে একটাই বই হোক "ধর্ম ও দর্শন" নামে। ঐ বইতৈ সব ধর্ম আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি নাস্তিকীয় দর্শনও থাকুক। হিন্দু ছাত্র বা ছাত্রী কেন শুধুমাত্র হিন্দুধর্ম সমন্ধেই জানবে, কেন ইসলাম বা খ্রিষ্ট ধর্ম সমন্ধে জানবে না। আর মুসলিম কেন শুধুমাত্র ইসলাম সমন্ধেই জানবে, কেন হিন্দুধর্ম সমন্ধে জানবে না। ক্লাসে যখন মুসলিম ছাত্রটা তার হিন্দ�� সহপাঠীকে বলবে - দোস্ত, তোদের রামায়ন পড়ে অনেক মজা পেয়েছি। ভারত থেকে শ্রীলঙ্কা গিয়ে রাক্ষসের সাথে ফাইট। Cool. হিন্দু ছাত্রটা মুসলিম সহপাঠীকে বলবে, "দোস্ত, তোদের নূহঃ নবীর কাহিনীটাও জোশ। বন্যায় দুনিয়া ভেসে গেছিল। নূহঃ নবী সব জীবের এক জোড়া নৌকায় উঠিয়ে ভাসান দিছে। what an adventure ! " এভাবে একে অন্যের ধর্ম নিয়ে আলোচনা করলে সহনশীলতা বাড়বে। দূর্গাপূজায় মূর্তিভাঙা বন্ধ হবে। আর নাস্তিক��যবাদী দর্শন পড়ার ফলে নাস্তিকদের প্রতি ঘৃণা কমবে। শিশু ভাববে, "পৃথিবীতে এমন লোকও আছে যাদের কাছে এই দুই adventure কাহিনীই ভুয়া, রূপকথা এবং its fine. নাস্তিক আার ধর্মকে ভুয়া বললেও আমার ধর্মানুভূতি আহত হয় না।" ................ ............... ................ ................. .................. ................ এই হল আমার ব্যক্তিগত মতামত। আবার বিদ্যাসাগরে ফেরত আসা যাক। বিদ্যাসাগর দেখতে পাচ্ছিল কৃষকদের উপর জমিদার ও বৃটিশদের নির্যাতন। কৃষকের দুঃখে তিনি ছুটে গিয়েছেন। নিজের অর্থ দিয়ে help করেছেন যাতে খাজনা দিতে পারে। এমনি এমনি তিনি দয়ার সাগর, করুণাসাগর উপাধি পান নাই। জীবনে অজস্র মানুষকে টাকা দিয়ে সাহায্য করেছেন। এর মধ্যে মাইকেল মধুসূন দত্তও আছেন। কিন্তু বিধবা বিবাহ প্রচলনের জন্য যেরকম রণক্ষেত্রে নেমেছিলেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাতিলের জন্য তেমন কিছু করেননি। তখনকার দিনে বিদ্যাসাগরই মিডিয়া। বেশ কিছু সংবাদপত্রের মালিক, বইয়ের ব্যবসা আছে। তবু চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিরুদ্ধে কিছুই লেখেননি। কারণ, চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের বিরোধীতা বৃটিশ শাসনের বিরোধীতার সামিল। তিনি চাচ্ছিলেন বৃটিশরা থাকুক। বৃটিশদের শিক্ষা ছাড়া দেশে ধর্মীয় কুসংস্কারের যে পাহাড় দাঁড়িয়ে আছে সেই পাহাড় ভাঙা সম্ভব না। মেয়েদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা, গ্রামে গ্রামে মডেল স্কুল প্রতিষ্ঠা, বিধবাদের বিয়ে দেয়া সব ব্যর্থ হয়ে যাবে যদি বৃটিশ চলে যায়।
দেশীয় শাসক ক্ষমতায় আসলে যে কৃষকদের নির্যাতন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কোন গ্যারিন্টি আছে ? নাই। তবে ঈংরেজরা চলে গেলে নারীরা আবার গৃহবন্দী হয়ে যাবে । পাশ্চাত্য জ্ঞান বিজ্ঞান দর্শন ছাড়া দেশের পশ্চাৎপদ সমাজের মানসিক উন্নতি হবে না। এরা বেদ বেদান্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারবে না। এজন্য ভারতের অর্থনৈতিক অবনতি, কৃষকদের উপর অত্যাচার এগুলো মুখ বুজে মেনে নিয়েছেন মহামহিম বিদ্যাসাগর।
ব্যক্তিগত মতামতঃ দেশের স্বাধীনতার চেয়ে দেশের মানুষের মানসিক উন্নতি বড়। আফগানিস্তান স্বাধীন হয়ে সর্বনাশ হয়েছে। ওখানে মার্কিন শাসন থাকলেই ভাল হত। তালেবানি শাসনে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যে ফেসবুক পোষ্ট দেখি - তালেবানরা গাড়ি বানিয়েছে, আফগানি মুদ্রার value ডলারকে ছাড়িয়ে গেছে, আফগানিস্তান ঘুরে দাড়াচ্ছে। এসব গুজব রাটানোর উদ্দেশ্য - বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে শরীয়াপ্রীতি জাগানো। ইসলামী শাসন থেকে ভাল কিছু আসতে পারে, এটা দেখানো। নাস্তিকদের বুঝিয়ে দেয়া যে, তালেবানরা সন্ত্রাসী না বরং জিনিয়াস। 😆😆 হাঃ হাঃ
যাইহোক, উনবিংশ শতাব্দীতে হিন্দুরা ঈংরেজী শিক্ষা গ্রহণ করায় সরকারী চাকরি পেতে শুরু করলেও বৃটিশদের কাছে বৈষম্যের শিকার হতে হত বেতন, পদমর্যাদার দিক দিয়ে। যখন হিন্দু মধ্যবিত্ত শ্রেণী ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল। তখন বৈষম্য, discrimination গায়ে মাখেনি। পরে যখন মধ্যবিত্ত শ্রেণী মোটামুটি দাড়িয়ে গেছে তখন ঈংরেজদের থেকে মুক্তি পাবার চিন্তা মাথায় এসেছে। কিন্তু চাকুরিজীবী শ্রেণী বৃটিশ সরকারের উপর নির্ভরশীল। জলে থেকে কুমিরের সাথে যুদ্ধ করা যায় না। উপায় ? সর্বস্তরের জনগণকে দিয়ে আন্দোলন করানো। এদের মধ্যে ভারতীয় জাতীয়তাবাদ জাগ্রত করতে হবে। ঠিক যেরকম ইউরোপে বুর্জেয়া শ্রেণী সেখানকার কৃষকদের মধ্যে করেছিল। ইউরোপে ব্যবসায়ীরা ছিল স্বাধীন। ভারতীয় শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণী ছিল সরকারী কামলা, সরকারের অধীন। তাই ফারাসী বিপ্লবের মত বড়সড় বিপ্লব আনতে পারেনি। বরং ধীরে ধীরে ঈংরেজ সরকারের সাথে আপোস করে একটা রাজনৈতিক দল বানিয়ে ফেলছে কংগ্রেস। এটা ধর্মনিরপেক্ষ দল। তারপরের কাহিনী আপনারা জানেন।
By the way, লক্ষ্য করার মত বিষয়- বাংলাদেশের মানুষ ভারতে উগ্র হিন্দুত্ববাদ চায় না ( ধর্মনিরপেক্ষতা চায় )। কিন্তু বাংলাদেশে শরীয়া তথা উগ্র ইসলাম চায় (ধর্মনিরপেক্ষতা চায় না )। মানে মৌলবাদ/উগ্রতা যদি ইসলাম থেকে আসে, no problem. কিন্তু উগ্রতা অন্য ধর্ম থেকে আসে তাহলে সমস্যা। wow ! বাঙালি মুসলমানদের হিপোক্রেসি।
Whatever, এই হল "ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ও উনিশ শতকের বাঙালী সমাজ" বইয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা। যার লেখক বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দীন উমর। যেমন মুসলমানরা নজরুলকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করায়। তেমনি আমরা নাস্তিকরাও বদরুদ্দীন উমরকে সলিমুল্লাহ খানের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করিয়ে রবীন্দ্রবিদ্বেষী সলিমুল্লাহকে এক হাত দেখে নিতে পারি। কি বলেন ?
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর নাম দেখে মনে হতে পারে উনাকে নিয়েই শুধু আলচনা, তা নয় এই বই-এ উঠে এসেছে রাজা রামমোহন রায়, বঙ্কিমচন্দ্র, নওয়াব আবদুল লতিফ(অল্প) উনাদের কর্মকান্ড এবং তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখা।
রাজা রামমোহন রায়(মূলত ধর্ম সংস্কারক) ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ২ জনই সমাজ সংস্কারের কাজ করেছিলেন কিন্তু তাদের কর্মপন্থা ভিন্ন ছিল। যেমন রাজা রামমোহন রায় ধর্মিয় ভাবে সমাজ সংস্কার করেন এবং ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন যা মূলত হিন্দু সমাজের অন্ধকারকেই প্রতিষ্ঠা করে, এই ক্ষেত্রে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উদার ছিলেন। তিনি এই অন্ধাকার থেকে মুক্তির জন্য অন্য কোন অন্ধাকারের আশ্রয় নেন নি।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে আমরা সবাই বিধবা বিবহারের জন্য আলচনা করি, তার অন্যান্য কর্মকান্ড নিয়ে তেমন আলোচনা করি না, এবং তাকে এক প্রকার দেবতার আসনে বসিয়ে রাখি। সেই যায়গাটাতে এই বইয়ের আলোচনা, তার বিভিন্ন কর্মকান্ডের আলোচনা করা হয় এই খানে।
রাজা রামমোহন রায় এর (লবন পৃ-২১ , চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ) চিন্তা এবং কর্ম যে আদোতে ইংরেজদেরই পক্ষে কাজ করে , তা এই খানে ব্যখ্যা করা হয়েছে।
বঙ্কিম চন্দ্র এর সাম্প্রদায়িকতা কথা এই বই-এ বেশ ভালো ভাবেই ফুটে এসেছে। ঈশ্বরচন্দ্র এর প্রতি বঙ্কিম চন্দ্র ন্যায় করেননি, অযৌক্তিক ভাষায় আক্রমন করে বিভিন্ন সময়, তাকে পাঠপস্তুক রচয়িতা বলে ব্যঙ্গ করেন। বঙ্কিম বাবুর কর্মকান্ডও যে ইংরেজদের তোষমদেপূর্ন ছিল তাই পাওয়া যায়।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের স্কুল,কলেজ প্রতিষ্ঠা থেকে হিন্দু সমাজ তাও সব বর্নের হিন্দু সমাজ উপকৃত হয়েছিলেন। কিন্তু তাতে মুসলিম সমাজ তেমন একটা লাভবান হন নাই। পক্ষান্তরে হাজী মোহাম্মদ মুহসিনের দান করা অর্থ থেকে (হুগলি কলেজ) মোট সুবিধা ভোগীর ৯০% এর উপর হিন্দু ছিলেন (যে কোন বর্নের), যার জের ধরে নওয়াব আবদুল লফিত একটি আন্দোলন করে হুগলী কলেজের অনুদান বন্ধ করে মাদ্রসা (৫টি ) তৈরী করেন। যা মুসলিম সমাজকে ইংরেজী শিক্ষা থেকে পিছিয়ে দিয়েছিল অনেক। (পৃঃ৫৫-৫৬)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরে ও বেথুন সাহেব নারী শিক্ষার জন্য যে কর্মকান্ড করেন তা ছিল কেবল উচ্চশ্রেনীরে হিন্দুদের জন্য ।(পৃঃ৬৬)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরে অন্যতম বড় অবদান এই বাংলা ভাষা। রবীন্দ্রনাথের ভাষায় “তাহার প্রধান কীর্তি বঙ্গভাষা”। তিনি বিদ্যাসাগরকে আধুনিক বাংলা গদ্যের জনক রুপেই অভিহিত করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের যে চিন্তা আমার কাছে এখনো খুব প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে তা হলো সেই যুগেই শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে তার চিন্তা। তিনি শিক্ষা পরিষদের ফ্রেডরিক হ্যালিডির কাছে বাংলা সম্পর্কে যে পরিকল্পনা পেশ করে তাতে তিনি বলেনঃ ১। বাংলা শিক্ষার বিস্তার ও সুব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজনীয়। তা না হলে দেশের জনসাধারনের কল্যান হবে না। ২। কেবল লিখন পঠন এবং গন���া ও সরল অঙ্ক কষার মধ্যে বাংলা শিক্ষা সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। যতদূর সম্ভব বংলা ভাষাতেই সম্পূর্ন শিক্ষা দিতে হবে এবং তার জন্য ভূগোল, ইতিহাস, জীবনচরিত, পাটিগনিত, জ্যামিতি, পদার্থবিদ্যা, নিতীজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও শরীরবিজ্ঞানও বাংলায় শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।
There is a difference between European Renaissance and Bengal Renaissance. European Renaissance was lead and conducted by bourgeoisie class but Bengal Renaissance was lead and conducted by feudal class whose economic activities was based on feudal Permanent Settlement system. For this reason they did not fight against permanent settlement system. So this Renaissance had a class limitation and was confined within feudal class. This Renaissance did not touch the peasant class. Thus it was not a Renaissance at all, it was a reformation. Vidyasagar never wrote anything on behalf of peasant class. This is the class analysis and class limitation of Vidyasagar. Marxist analysis of nineteenth century Bengal. Good book.