এর আগে হরিশংকর জলদাস লিখেছেন জেলদের নিয়ে, বেশ্যা আর মেথরদের নিয়ে। চোর-বাটপার-লুচ্চা-কসবি-কোটনা আর সমাজের দরিদ্র প্রান্তজন তাঁর কথাসাহিত্যের কুশীলব হয়েছে বারবার। হরিশংকর এবার গণ্ডি ভাঙলেন। ‘হৃদয়নতী’তে তিনি উপস্থাপন করলেন পারভীন আক্তার নামের একজন পঞ্চাশোর্ধ্ব নারীর অন্তর আর বহিজীবনকে। তাকে ঘিরে আবর্তিত মধ্য ও উচ্চবিত্তের সহৃদয়তা আর হৃদয়হীনতা এই উপন্যাসের মূল-উপজীব্য।
পারভীন আক্তার একটি সরকারি কলেজের অধ্যাপক। স্বামী-পুত্র-কন্যা নিয়ে তার দৃশ্যত সুখের সংসার। কিন্তু তারপরও এক দুর্মর অতৃপ্তি পারভীনকে কুরে কুরে খায়। নিশীথে অক্ষম স্বামী ফরহাদের পাশে শুয়ে অন্যজনকে লালন করে মনে মনে। স্বামীর পাশে প্রেমিক নিখিলেশ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। দেহসুখ বঞ্চিত পারভীন নিখিলেশের সঙ্গে জীবনের সুখ-দুঃখকে ভাগ করে নিতে চায়।
কন্যা হেমলতা বিয়ে করে এক মাদকতাসক্তকে, প্রেমের বিয়ে। হেমলতা নির্যাতিত হয় শ্বশুরবাড়িতে। অন্তঃসত্ত্বা হেমলতার বাপের বাড়িতে ফিরে আসার উপায় থাকে না। গভীর বেদনা পারভীন ভেতর-বাহির ছিঁড়েছুঁড়ে খেতে থাকে। অনেকের মধ্যে থেকেও পারভীন নিজেকে বড় নিঃসঙ্গ বোধ করে। এই একাকিত্ব পারভীনের জীবনকে বিষিয়ে তোলে। এখন কী রবে পারভীন? জীবন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবে না জীবনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামবে?
Harishankar is a promising Bangladeshi author. The most significant point to notice is that all the four novels produced from Harishankar's pen sketch the life of the downtrodden, some of whom are from among fisherfolks, some from among prostitutes and some others are the 'harijons' or 'methors'.
চলনসই বই। তবে অন্যকে পড়তে বলার মত বই নয়। লেখকের আগের বইগুলি সমাজের নানা শ্রেনীকে নিয়ে ছিল, যেগুলির ভিতরের অনেক কথাই আমার অজানা ছিল বলে-পুলকিত হয়ে ভেবেছি, আরে এও সম্ভব। কিন্তু মধ্যবিত্ত এক শিক্ষক পারভীন কে আবর্তিত এই উপন্যাস আমাকে তেমন কিছু দেয়নি। দিনশেষে মনে হয়েছে, মধ্যবিত্তের জীবন নিয়ে আরও ভালো উপন্যাস হচ্ছে, হবে। বরঞ্চ লেখক যদি আগের মত নানা কুঠির নানা জাতের উপন্যাস তুলে ধরে আনতে পারেন-সেটাই ভাল।
This entire review has been hidden because of spoilers.
ভালো হবে এমন আশা নিয়েই পড়তে বসেছিলাম। শেষ হবার পর রীতিমতো হতাশ হয়েছি। বলতেই হচ্ছে, দুঃখিত! হরিশংকরের লেখা ইদানিং পড়ছি..। কিন্তু, এই বইটি ভালো লাগে নি কোনভাবেই। হয়তো আমি ঠিকঠাক মূল সুরটা ধরতে পারি নি। এটাও হতে পারে। যাইহোক। দেখা যাক সামনে কী হয়। :)