হীরাকান্তের অদৃশ্য সরোবরে ফোটা কোনো অচিন ফুলের মতো, প্রণয়নীর বিনুনিতে গেঁথে রাখা আছে প্রণয় শত শত। তুমি থাকলে পাশে সৃষ্টির সকল সুখ চিরসত্য, অবেলার তুষার গলা জমাট জল, তারকারাজির ঝিলমিল রং, তুমি থাকলে পাশে তীব্র আঘাতেও এই ধরণি অমর। তুমি হৃদয় গহিনে, নীলয়ের আলিঙ্গনে বেঁচে আছো, 'বিচ্ছেদ' তো শুধু একটি শব্দ মাত্র!
কিছু সম্পর্কের মায়ার বাঁধনে মানুষ মানুষকে সামলে রাখে, আগলে থাকে, বাঁচতে শেখায়, অতল জলে না ডুবেও ভাসতে শেখায়। জড়িবুটি হয়ে হৃদয়ের জখম তাড়ায়। আবার কিছু সম্পর্ক কাঠের নৌকা যেমন, মাঝসমূদ্র হেসে-খেলে পার করিয়ে তীরে এসে তরি ডুবায়।
আঁধারী সমীর আমারে নতমুখে শুধায়, 'প্রিয়তমকে এক শব্দে ব্যাখ্যা করার কী উপায়?' স্মিত হেসে বলি, 'মায়ামৃগ চেন?' ছুঁয়ে দেখার আগেই সে হারিয়ে যায় যেন!
যুগপৎ আন্তরিক আর স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে কেউ কথা বললে কোনো কারণ ছাড়াই কথাগুলো মনোযোগ আকর্ষণ করে । ‘মায়ামৃগ’ বইটি পড়লে এমন একটি অনুভূতি হতে পারে আপনারও। লেখকের সহজ সরল বর্ণনা ভঙ্গি আপনাকে সহজেেই আকৃষ্ট করবে। স্রেফ সমালোচনার জন্য পড়তে বসলে অনেক ভুলত্রুটি হয়তো প্রকট মনে হবে, তবে অবসর বিনোদনের জন্য হলে বইটা আপনার ভালো লাগতে পারে, বিশেষ করে তরুণ পাঠকদের। বইটি পড়ে মনে হয়েছে একদম তরতাজা পাণ্ডুলিপি পড়ছি, কোনোধরনের পরিমার্জনা ছাড়া। লেখকের শব্দভাণ্ডার বেশ সমৃদ্ধ। ওগুলো আরেকটু গুছিয়ে উপস্থাপনা করলে পাঠ অনুভূতিটা আরেকটু মসৃণ হতো। ভালো লাগেনি সমাপ্তিটা। হুট করে শেষ করা। ধারণা করা যায়, বইটার হয়তো সিকুয়েল আসবে। প্রচ্ছদটা দুর্দান্ত। প্রোডাকশনও চমৎকার। যারা নিয়মিত বই পড়েন তাদের ভালো লাগার কথা এই তরুণ লেখকের বইটি। -খালেদ নকীব
হীরাকান্তের অদৃশ্য সরোবরে ফোটা কোনো অচিন ফুলের মতো, প্রণয়নীর বিনুনিতে গেঁথে রাখা আছে প্রণয় শত শত। তুমি থাকলে পাশে সৃষ্টির সকল সুখ চিরসত্য, অবেলার তুষার গলা জমাট জল, তারকারাজির ঝিলমিল রং, তুমি থাকলে পাশে তীব্র আঘাতেও এই ধরণি অমর। তুমি হৃদয় গহিনে, নীলয়ের আলিঙ্গনে বেঁচে আছো, 'বিচ্ছেদ' তো শুধু একটি শব্দ মাত্র! কিছু সম্পর্কের মায়ার বাঁধনে মানুষ মানুষকে সামলে রাখে, আগলে থাকে, বাঁচতে শেখায়, অতল জলে না ডুবেও ভাসতে শেখায়। জড়িবুটি হয়ে হৃদয়ের জখম তাড়ায়। আবার কিছু সম্পর্ক কাঠের নৌকা যেমন, মাঝসমুদ্র হেসে-খেলে পার করিয়ে তীরে এসে তরি ডুবায়। আঁধারী সমীর আমারে নতমুখে শুধায়, 'প্রিয়তমকে এক শব্দে ব্যাখ্যা করার কী উপায়?' স্মিত হেসে বলি, 'মায়ামৃগ চেন?' ছুঁয়ে দেখার আগেই সে হারিয়ে যায় যেন! -কুহু চৌধুরী।
#কাহিনী_সংক্ষেপ: মায়ামৃগ এর শুরুটা হয় হীরাকান্ত দ্বীপের একজন মেয়ে নিয়ে। নাম ফ্লোরা আর সঙ্গী কুকুর টোটো। চতুর্পাশে জলবেষ্টিত দ্বীপটার সবটা জুড়ে নাম না জানা বৃক্ষরাজি, ছোট বড় উঁচু নিচু পাহাড় গুহা যেনো নীল সমুদ্রের মাঝে এক বিন্দু সবুজ রং। এই দুর্গম দ্বীপে ফ্লোরা এসেছে তার মায়ের মৃত্যুস্থল থেকে নিজেকে বিলীন করে দিতে। কিন্তু তার ভাগ্যে অন্য কিছু লেখা ছিলো। সে সময়ের ফেরে মিশে যায় এমন একটা দলের সাথে যারা নিজেরাই পালিয়ে বাঁচতে এই দুর্গম দ্বীপটায় ঠাঁই নিয়েছে। মানসিক অবসাদগ্রস্ত, চুপচাপ মেয়েটার মনের বরফ গলে সেখানে বসন্তের ফুল ফুল ফুটতে শুরু করে এই দলের অচেনা মানুষদের নিঃস্বার্থ স্নেহ, ভালোবাসা পেয়ে। মেয়েটার পাথর মনে ফুটে ভালোবাসার ফুল। সে ভালোবাসে তার বয়সের দ্বিগুণ একটা ছেলে, সুলেমান কে... দ্বীপটায় ভয়ানক বিপদ ওৎ পেতে থাকে। বিপদের কড়ালগ্রাস থেকে নিজেদের রক্ষা করতে কৌশলী সব মানুষ। তারপর একদিন আক্রমণ হয় হায়েনা দলের। আহত হয় ২ জন। আর বাকিরা? বাকিরা সবাই বন্দী হয় হুলো আদিবাসীদের হাতে। এর পর থেকেই টুইস্টের শুরু। একটার পর একটা ঘটনা, অ্যানাকোন্ডার আক্রমন, হুলো অধিবাসীদের আক্রমণ, অচেনা চার পেয়ে কালো লোমের প্রাণীর আক্রমণ সাথে একজন সদ্য কিশোরী মেয়ের মনের প্রেমের আন্দেলন। এসব ছাড়াও গল্পের আরো কাহিনী গল্পটাকে টেনে নিয়ে চলেছে।
#পাঠ_প্রতিক্রিয়া: লেখিকা চেষ্টা করেছে শেষাংশে বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলতে। আমার হায়েনা আক্রমণের পূর্ব পর্যন্ত তেমন ভালো লাগে নি। শুরু করার পর পড়তে হবে বিধায় পড়ে গেছি। কিন্তু হায়েনা আক্রমণের পর থেকে আগ্রহ হচ্ছিলো পড়তে। লেখিকার প্রকৃতি বিবরণ অনেক ভালো ছিলো বিশেষ করে সমুদ্রের মাঝে ফ্লোরা আর সুলেমানের দেখা পানির তলদেশ। অসম প্রেমের মাঝে বাস্তবিক চিত্র থাকলেও বাহারের সাথে বিচ্ছেদের পর ও তাকে গ্রহন করাটা কেমন লেগেছে। এমন চরিত্রহীন নারীকে বাস্তব জীবনে আমার মনে হয় না কোনো পুরুষ গ্রহণ করবে। লেখিকা যুক্তি দেখিয়েছে অনাগত বাচ্চার কথা ভেবে। কিন্তু বাস্তবিক হলে ১০০ জনে ৯৯ জন ই বাচ্চাটা ভূমিষ্ট হবার পর তালাক কার্যকর হলে বাহারের মতো মেয়েকে ত্যাগ করতো। এক্ষেত্রে সুলেমান বাকি ১ জন হলেও ভূমিষ্ট হবার পর তাদের মধ্যকার যে মানসিক অমিল, সেটা কোনো না কোনো ভাবে বাচ্চাটার উপর প্রভাব ফেলবে। এটা আমার পারসোনালি ভালো লাগে নি। শেষের এই অংশটুকু বাদে হায়েনা আক্রমণের পর থেকে বাকিটা বেশ ভালোই লেগেছে। আর গফুর শিরিনের ব্যাপার টা আরেকটু লিখে ক্লিয়ার করা উচিত ছিলো। তবে লেখিকা প্রথম বই হিসবে দারুণ লিখেছেন।
অনেক সুন্দর ছিল বইটি। অনেক আগ্রহ নিয়ে পড়ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেল বইয়ের পৃষ্ঠা। অনেক তথ্য অজানাই রয়ে গেল। ধারণা করছি পার্ট ২ আসবে। দেখা যাক.......