আখতারুজ্জামান আজাদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়াবলি নিয়ে কবিতা ও প্রবন্ধরচনার জন্য তাঁর বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।
বইটির তিনটি অংশ কবিতা,ইয়াম্মি সিরিজ এবং শের-এ-আজাদ।কাব্যগ্রন্থের কবিতা আমার কাছে সবর্দা সাগর সেচে পাওয়া মুক্তার মতো মনে হয়,কারণ একটা কাব্যগ্রন্থ পড়ে অল্প কয়েকটি কবিতা পছন্দ হয়।এই বইয়ে মোট ৯৫ টা কবিতা আছে।এর মধ্যে "দেখা তুমি,অদেখা তুমি","চলো,দেড় থেকে আড়াই হয়ে যাই","ভালোবেসো কবিতাকে,"ভালোবেসো কবিটাকে","বিটিভি" সহ আরো বেশ কিছু কবিতা অনেক পছন্দ হয়েছে।কবির কবিতায় রাজনৈতিক ঘটনাবলী এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বেশ উপস্থিতি রয়েছে।এর ফলে কবিতাগুলো রুপ-নিসর্গ ,প্রেম,অনুভূতির পাশাপাশি সময়কে ধারণ করেছে। ইয়াম্মি সিরিজ যে উদ্দেশ্যে লেখা তা সফল।সিরিজটা পড়ে বেশ মজাই পাওয়া গেছে। আর তৃতীয় অংশে আমি হতাশ। দুই চার লাইন মিল করে লিখলেই কী তা শের!আমার মনে হয়েছে এই অংশটি বই এ স্থান না পেলেই ভালো হতো।
বইটার নাম দেখে অনেকটা অবাক হয়েছিলাম, তখন ভেবেছিলাম পলিটিক্যাল কবিতা-টবিতা দিয়ে ভরপুর। প্রথম কিছু কবিতা পড়েই বুঝলাম যে না, রাজনীতি বিষয়ক না, বিবিধ বিষয়ে কবিতা। এর মাঝে নারী বিষয়ক কিছু কবিতা আছে, খুবই সুন্দর লেগেছে, কবিতাগুলোও খুব শক্তিশালী। এছাড়াও রাষ্ট্র, আইন নিয়েও অনেকগুলো কবিতা বেশ ভালো লাগলো। বলতে কারচুপি নেই, উনার বইয়ের প্রথম ভাগের কবিতা দ্বারা আমি অনেকটা ইনফ্লুয়েন্স হয়েছি, হয়তো খুব জলদি এইরকম করে কিছু কবিতা লেখার ট্রাই আমিও করবো, যদিও উনার মতো শক্তিশালী হবেনা, অতো স্পর্ধা নাই। তবে উনার বইয়ের প্রথম ভাগের কবিতা অনেক ভালো লাগলেও, প্রথমভাগের শেষাংশের কিছু কবিতা মোটামুটি লেগেছে, যেনো হুট করে অন্য কোনো কবির লেখা পড়তে শুরু করেছি। এবং 'ইয়াম্মি সিরিজ' পড়তে বেশ বেগ পেতে হয়েছে, যেনো ২০১৪-২০১৫ এর ফেসবুকের কবিতা। উনি ইয়াম্মি সিরিজ নিয়ে আলাদা বই লেখলেই ভালো হতো, যদিও উনি সিরিজের আগেই বলে দিয়েছিলেন এইগুলো মকারি করে লেখেছিলেন, ঐ লেখাটা বরং সিরিজের কবিতা থেকে বেশি দারুণ লেগেছে। শের-এ-আজাদে মোটামুটি বিনোদন পেয়েছি।