হিরের টুকরার মতো শিশির দেখে প্রচণ্ড কৌতূহল নিয়ে মেয়ে বলল, ‘এরা কই থাকে?' 'আকাশে থাকে মা, সন্ধ্যা হতেই ঝুপ ঝুপ করে নামে।’ ‘সন্ধ্যাতেই নামে কেন?’ 'ওরা দিনের আলো সহ্য করতে পারে না।’ 'কেন পারে না?’ ‘ওদের শরীর নরম।’ শোভা আরও ঘনিষ্ঠ হয়ে এলো আমার, বুঝলাম এবার আরও অনেক অনেক, অনেক প্রশ্ন আসবে, কি আসবে তা আমি আন্দাজ করতে পারছিলাম, কিন্তু আমাকে অবাক করে সে বলল, ‘আকাশ কি শিশিরের পাপা?’
"বাবা মানে হাজার বিকেল আমার ছেলে বেলা বাবা মানে রোজ সকালে পুতুল পুতুল খেলা বাবা মানে কাটছে ভালো যাচ্ছে ভালো দিন বাবা মানে জমিয়ে রাখা আমার অনেক ঋণ"
ছোটবেলায় আমাকে কেউ যখন বলতো আমি কার মতো দেখতে আমি গম্ভীরভাবে বলতাম আমি আব্বুর মতো হয়েছি আর আমার বোন আম্মুর মতো। বাবার মতো দেখতে মানে বাবার মেয়ে ব্যাপারটা তেমন নয়। আমি আসলে আব্বুকে বাবার থেকেও ভালো বন্ধু ভাবতাম খুব বেশি। যাই হোক আজকে মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ের একটা ইবুক পড়লাম "আমাদের ফ্ল্যাটে পরী থাকে" গল্পটা আসলে যতটা সামাজিক জনরার আমি বলবো গল্পটা বাবা মেয়ের।
পাপা'স প্রিন্সেস কথাটা অনেকসময় আমরা শুনি এবং আসলে কী কথাটা অনেকটাই সত্যি। মেয়েরা বাবার খুব ক্লোজ হয় আর ছেলেরা মায়ের। বাবার আঙুল ধরে হাঁটতে হাঁটতে সব পরীরা একদিন বড় হয়ে যায়। নাহ মায়ের অবদানকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তবে বাবা মানে তো আলাদা একটা কমফোর্ট জোন। আমি আমার নিজের ভাতিজাকে দেখেছি বাবার সাথে ওর ছোটবেলা থেকেই আলাদা একটা টান। মাকেও সে ভালোবাসে কিন্তু বাবা ওর কাছে অন্যরকম অনুভূতি।
তো বলছিলাম বাবা মেয়ের সম্পর্কের কথা। ছোট্ট একটা পরী। পাঁচ বছর বয়স তার। পুরো ঘর একাই মাতিয়ে রাখে দুষ্টুমি দিয়ে। আবার তার মায়াভরা মুখ দেখে বাবা যেন ভুলে যায় নিজের সব দুঃখ। পুরো ফ্ল্যাটের শোভা বাড়ায় বলেই বোধহয় এই পরীটার নাম শোভা। বাবার জীবন সে। যত প্রশ্ন, আহ্লাদ, খুনসুটি বেশিরভাগ বাবার সাথে। মাকে সে তেমন একটা পাত্তা দেয় না বাবা বাসায় থাকলে।
রোজ সকালে বাবা যখন অফিসে যায় তার খুব কষ্ট হয়। বাবাকে ছাড়তে সে রাজি নয়। আর মেয়ের এমন কাঁদো কাঁদো মুখ দেখে বাবার মনটাও খচখচ করে সারাদিন। কিন্তু কাজের সূত্রে বাধ্য হয়ে মেয়েকে ফেলেই অফিসে বের হতে হয়। তখন খুব অভিমান হয় শোভার। তার পাপা কেন এমন তাকে ফেলে অফিসে চলে যায়।
মা শর্মিলা বাবা মেয়ের এই সম্পর্ক দেখে কী ঈর্ষান্বিত হয় নিজের গুরুত্ব কমে যাচ্ছে বলে? মেয়ে তো বাবাকে পেলে শর্মিলার কাছে আসতেই চায় না। মেয়েটা বাবার ভক্ত বেশি এতে শর্মিলা মনে মনে কী ভাবে বলা কঠিন।
তবে শেষ কথা বলতে হলে একটা প্রশ্ন থেকেই যায় এই ফ্ল্যাটে আসল পরীটা কে? শোভার উত্তর শুনলে কিন্তু আপনি চমকে যাবেন।
🪻পাঠ প্রতিক্রিয়া 🪻
"আমাদের ফ্ল্যাটে পরী থাকে" মনোয়ারুল ইসলামের লেখা ছোট্ট এই ইবুকটা আমার কাছে ভালো লেগেছে। বাবা মেয়ের মিষ্টি সম্পর্ক নিয়ে উপজীব্য গল্পটা পড়তে পড়তে হুট করেই ফুরিয়ে গেল যেন। মনোয়ার ভাইয়ের লেখা আমার কাছে ভালো লেগেছে প্রথমবার আমি যখন তার বকুল ফুল সিরিজ পড়ি। তখন থেকেই এই লোকের লেখার সাথে পরিচয়। হরর জনরায় মনোয়ার ভাই দারুন লেখেন।
কিন্তু আমার ওনার সামাজিক জনরায় কোনো লেখা পড়া ছিল না। আজকের এই ছোট্ট ইবুক পড়ে বেশ ভালো লাগলো। আমার কাছে মনে হয় কী গল্প আপনাকে ঠিক এমনভাবে বলা উচিত যাতে অল্প কথাতেও অনেক কথা বলা হয়ে যায়। এবং এই বইয়ের ক্ষেত্রেও সেই কথা বলা যায়।
ছোট্ট একটা পরী, নাকি পরী হতে পারে অন্য কেউ বইয়ের নামকরণ ভালো লেগেছে। গল্পের সাথে একদম দারুন মিল। মনোয়ার ভাইয়ের সামাজিক জনরায় আরো কিছু লেখা পড়ার ইচ্ছা আছে। আপাতত পরীর সাথে কিন্তু ভালো সময় কাটলো।
এখানে চরিত্রায়ন খুব ছোট পরিসরের। একটা ছোট্ট পরিবার বাবা মা ও তাদের পরীকে নিয়ে। তবুও কিন্তু লেখক একটা দিক তুলে ধরেছেন সন্তান হবার পর স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একটা বোঝাপড়ার সমস্যা হয়ে যায় বাচ্চাকে সময় দিতে গিয়ে। নিজেদের মধ্যে যদি তারা এই সমস্যাটা মিটিয়ে ফেলতে পারেন আমার মনে হয় পরী খুঁজতে বেশিদূর যেতে হবে না।
সম্পর্ক কাঁচের মত স্বচ্ছ। খুব যত্নে রাখতে হয়। আঘাত দিলেই ভেঙে যেতে পারে। সন্তান হবে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসার সেতু। সন্তানকে যেমন ভালোবাসতে হবে তেমনি আপনার সন্তান যে জন্ম দিয়েছে সেই স্ত্রীকেও ভালোবাসতে হবে। ভালোবাসায় ব্যালেন্স থাকা চাই। আর বাবা তো সংসারে সেই বিচক্ষণ ব্যক্তির কাজটাই করবে তাই না।
🪻 বইয়ের নাম: "আমাদের ফ্ল্যাটে পরী থাকে" 🪻লেখক: মনোয়ারুল ইসলাম 🪻 ইবুক প্রকাশনায়: বইঘর
একটি ছোটো গল্পের রিভিউ লেখা আমার কাছে কঠিন লাগে। যেখানে শুরু নেই, শেষ নেই; সেখানে কীভাবে রিভিউ লেখা যায়? সম্প্রতি বইঘর ইবুক অ্যাপে লেখক মনোয়ারুল ইসলাম ভাইয়ের একটি ছোটো গল্প প্রকাশ পেয়েছে।
"আমাদের ফ্ল্যাটে পরী থাকে" গল্পটি একটি ছিমছাম, ছোটো পরিবারের গল্প। বাবা, মা আর পাঁচ বছরের একটি মেয়ে যেখানে প্রাধান্য। ছোট্ট মেয়েটির বাবার কাছে বায়না, অদ্ভুত সব প্রশ্নের সমাহার ছিল বইটিতে। একটি পরিবারের প্রাণ শিশুরা। শিশুদের কথাবার্তা, দুষ্টুমি কিংবা অজানাকে জানতে চাওয়ার প্রবণতা- হোক সে যতই অদ্ভুত, বেশ ভালো লাগে। শোভা নামের মেয়েটি দুই অধ্যায়ের গল্পটির প্রাণ হিসেবে ছিল। এই গল্পে বাবা-মেয়ের বন্ধন দৃঢ়ভাবে ফুটে উঠেছে।
আমাদের গল্পকথক মেয়েটির বাবা। প্রতিটি বাবার কাছে তার মেয়ে পরী। আবার মেয়ের কাছে তার মা পরী ছাড়া কিছুই না। কিন্তু দিন শেষে সত্যিকারের পরী কে? ঠিক কী কারণে শোভা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলো? রহস্য থেকে গেল।
লেখক মনোয়ারুল ইসলামের সবগুলো বই পড়া। লেখকের লেখনীর সাথে পরিচয় বহুদিনের। এত সাবলীলভাবে গল্প বলার ক্ষমতা সবার থাকে না। ছোটো এই গল্পটি লেখক যেই প্লটে লিখেছেন, আমার মনে হয়েছে বিশাল পরিসরে উপন্যাস হিসেবে দারুণ একটা গল্প হতে পারে। সামাজিক উপন্যাস হিসেবে নয়, অতিপ্রাকৃত হিসেবে।
গল্পটা যেন দ্রুত শেষ হয়ে গেল। ছোটো গল্প এমনই হয়। তারপরও কেন যেন পূর্ণতা পেল না। আরেকটু দীর্ঘায়িত হলে মন্দ হতো না।
দুই অধ্যায়ের ছোটো এই গল্পের ইবুক মূল্য বিশ টাকা। আমার কাছে একটি বেশি মনে হয়েছে। এরচেয়ে বড় বই বা গল্প কম মূল্যে পড়েছি। ইবুকের ক্ষেত্রে কাগজের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাত তো খাটে না। পাঁচ টাকার মতো কম হলে যুতসই হতো।
পরিশেষে, ছোটো গল্প হিসেবে গল্পটি বেশ দ্রুততর। দশ বা পনেরো মিনিট শেষ হয়ে যায়। মেদহীন, ঝরঝরে উপভোগ্য লেখা। এমন ছোটো গল্পের জন্য ইবুক বইঘর বেশ কার্যকরী অ্যাপ বলে মনে হয়েছে।
বই : আমাদের ফ্ল্যাটে পরী থাকে লেখক : মনোয়ারুল ইসলাম ইবুক : বইঘর অধ্যায় : ২ মূল্য : ২০ টাকা
বাবা-মেয়ে-মা তিনজনের ছোট্ট সংসার। পাঁচ বছরের শোভা বাপের ন্যাওটা। বাবাও কন্যা শোভাকে একদম চোখে হারায়। মা শর্মিলা তো মনে হয় একটু হিংসেই করে। তবুও কী করার! কন্যারা পিতার প্রতি এক অমোঘ টান অনুভব করে এ আর নতুন কী? শোভাই যেন এই পরিবারের ছোট্ট পরী। বাগান পরিচর্যা করতে গিয়ে শোভা তার বাবাকে আশ্চর্য সব প্রশ্ন করে বসে। বাবাও উত্তর দিয়ে যায়। এরমধ্যেই হঠাৎ কী হলো! বাবার দিকে চেয়ে শোভা ❛র ক্ত, র ক্ত❜ বলে চিৎকার করে উঠলো। আচমকা পাওয়া ভয়ে সে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো। একটু হুশ ফিরতেই সে বাসায় যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে গেলো। কেন বাসায় যেতে চায়? কারণ শোভাদের ফ্ল্যাটে পরী থাকে। কে সেই পরী? পাঠ প্রতিক্রিয়া: বিশাল বড়ো আকারের ইবুক পড়তে আমি একেবারেই স্বস্তি পাইনা। সেক্ষেত্রে ছোটো গল্পের ইবুক আমার ভরসা। টুক করে শুরু হয় টুক করে শেষ হয়ে যায়। পড়ে ফেললাম মনোয়ারুল ইসলামের সদ্য প্রকাশিত ইবুক ❛আমাদের ফ্ল্যাটে পরী থাকে❜। একদম পিচ্চি গল্প। শুরু না হতেই খ তম। ছোটো গল্পগুলোর রিভিউ করা আমার মতো সাধারণ পাঠিকার জন্য অনেক কঠিন ব্যাপার। কাহিনি সংক্ষেপ লিখতে গিয়ে না গল্পই বলে দিলাম এমন লাগে! যাই হোক, এই ছোট্ট ইবুক পড়ে ভালোই লেগেছে। তিনজনের ছোটো পরিবারের গল্প। পিতা কন্যার সম্পর্ক বেশ ভালো লেগেছে। ফ্ল্যাপের লেখায় ছোট্ট শোভার আজগুবি এই প্রশ্নটাও বেশ লেগেছে। ছোটো গল্প নিয়ে ভালোমন্দ বলার জায়গা খুব কম। মনোয়ার ইসলামের লেখা প্রায় সবই পড়া থাকায় এবং এর আগেও একটা ইবুক পড়ায় আমার কাছে এই বইটা একটু ভিন্ন ধারার লেগেছে। রূপকথা জাতীয় বলা যায় কি? আমার তাই লেগেছে। তবে মূলত সমসাময়িক ধারার-ই গল্প। গল্পের শেষটা বেশ লেগেছে। আমি পরের পেইজে কী আছে পড়ার জন্য উল্টানোর চেষ্টা করছি দেখি গল্পটি ফুরিয়ে গেলো! গল্পে গল্পকথক তথা বাবা চরিত্রের সংলাপ কিছু অপরিপক্ক মনে হয়েছে। যেমন, একবার সে উল্লেখ করছে শর্মিলা এমন করে, একই লাইনে তাকে আবার আমার বউ আমার বউ বলে সম্বোধন করছে। হুট করে এক সংলাপের মাঝে আরেকটা এসে পড়লো না কন্টিনিউটি আমি ধরতে পারিনি বুঝলাম না। এছাড়াও, একটা দৃশ্যে বলা হচ্ছে শোভা তার বাবাকে অফিসে যেতে দিচ্ছে না। বাবা চকলেট দিয়ে তাকে পটিয়ে ফেললো। পরমুহূর্তেই বাগানের ঘটনা। তখন বলছে অফিস না গিয়েই ভালো করেছে। বুঝিনি এই জায়গাটা। সব মিলে ১২ পেইজের পিচ্চি গল্পটা আমার ভালোই লেগেছে।