...‘টাইম হয়ে এসেছে‚ পনেরো সেকেন্ড বাকি আছে মাত্র।’ ঘোষণা করলেন নেত্য চাকলাদার।
বেহুলা বোস উলটোদিকে ঘুরে গেলেন। তিনি আমাদের কারও মৃ*ত্যুই দেখতে চাইছেন না। সারা জীবন যিনি এত মৃ*ত্যু দেখলেন তিনি মৃত্যুর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চাইছেন‚ এ এক আশ্চর্য জগৎ! মানুষও এই জগতের মতোই আশ্চর্য। চাকলাদার গুনতে শুরু করলেন, ‘দশ... নয়... আট...সাত... ছয়... পাঁচ... চার... তিন... দুই... এক...’ দ্রুত ডান হাত থেকে বাঁ'হাতে চালান করলাম পি*স্তলটা। ওটা রেডি করাই আছে। কাজটা করলাম এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে। দাওয়াইবাবার শেখানো ট্রিক। আগে কখনও কাজে লাগেনি, আজ লাগল। চাকলাদারের হাত থেকে রুমাল মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি গু*লি চালালাম। আর সঙ্গে সঙ্গেই বাঁদিকে ঝাঁপ দিলাম। ঘটনাটা ঘটল তড়িৎ গতিতে।
এক মুহূর্তের জন্য শুধু মনে হল আমার কানের পাশ ঘেঁসে আগুনের একটা গোলা বেরিয়ে যাচ্ছে।
দেবদূতের বু*লেট আজও মিস করেনি। আমি ঈশ্বরের বুকে গু*লি করতে চেয়েছিলাম। গু*লি সেখানেই লেগেছে। উনি আরও কিছুক্ষণ শ্বাস নিলেন জোরে জোরে। ক্ষমা চাইলেন বেহুলা বোসের কাছে। আমাকে দেখে হাসলেন। কষ্ট জড়ানো ক্ষীণ গলায় বললেন‚ ‘শাবাশ!' তারপর চোখ বুজে ফেললেন। খেলা শেষ হল। আমি সব্যসাচী‚ এটা দাওয়াইবাবার আশীর্বাদ বা আমার খু*নি ধরমের প্রভাব‚ আমি জানি না এর আসল কারণ কী!...
এই হলো এই ফাজিল বইয়ের যাবতীয় সারমর্ম। মাতা ধূমাবতির বিশ্রী আস্ফালনের সম্মুখীন হয়ে যখন সেই ফেমাস ট্রিলজিখানা পড়ে যাচ্ছিলুম, তখনই লেখকের গদ্যের প্রশংসা করে বসি। ইচ্ছে হয়, ওনার অন্য কোনো লেখা পড়ে দেখবার। এমন কিছু, যাতে স্রেফ মনীষ মুখোপাধ্যায় থাকবেন, তন্ত্র-মন্ত্র আণবিক যন্ত্র, অন্য কিচ্ছু নয়।
আর এখানেই (আমার ভিন্ডিকেশন হয়ে) দেবদূত দত্ত ও তার গ্লক বন্দুকের আগমন। বইটি ছোট। পুঁচকে কলেবরে, মস্ত গপ্পো। একাধারে নর্দমার পাঁক ন্যায় কালো কমেডি, অপর প্রান্তে, চটি সাহিত্যের গর্বিত আধার। পাল্প ফিকশনের রক্তস্নাত রগড়! সাথে চাঁচাছোলা ন্যারেশন, সস্তার সংলাপ ও চটুল খিল্লি। ভালো না লেগে, উপায় কি?
তা হোক না দেবদূত ভাড়াটে খুনি। তবুও তো সে মানুষ। তার হৃদয় আছে। আছে সূক্ষ্ম অনুভূতি। আছে জম্পেশ সেন্স অফ হিউমার। এখানেই লেখক স্রেফ একটা সমরেন্দ্র পান্ডে লিখে বসেননি। আধুনিকতার মোচড়ে যেই গল্পটি বলেছেন তা গায়ে-গতরে লিলিপুট হলেও, অন্তঃস্থলে ইমোশনের (কিউট) সুড়সুড়ি বিদ্যমান। কতকটা বাংলা সিরিয়ালের মতই। লাশের পাশে পা ছড়িয়ে ব্যাকস্টোরি শোনাবার শামিল। তবুও, স্যাটায়ারের আঙ্গিকে সবটাই বেশ উপভোগ্য। বাসি বিরিয়ানিতে ট্যারান্টিনো-সুবাস, এই আরকি।
শব্দ প্রকাশন নিজেরাও ভীষণ যত্ন সহকারে বইটি প্রকাশ করেছেন। একবার হাতে নিয়েই দেখুন না। কোনো পাট না-ভাঙা শাড়ি ও পাঁচশোর নোটের জারজ সন্তান যেন। কড়কড়ে ও আদ্যোপান্ত ফ্রেশ। কটা বানানের বেয়াদবী পেলাম বটে, তবে ওসব নগন্য। সাথে আশীষ ভট্টাচার্যের সিনেমাটিক অলংকরণ। পরিবেশনায় ফুল মার্কস। দুর্বলতার মধ্যে কেবল ছবির স্বল্প রানটাইম।
কেবল এইটুকুতে এরকম একটি গল্প বলা অনুচিত। লেখক চাইলেই দেবদূত ও অন্যান্য পার্শ্ব-চরিত্রদের ব্যক্তিগত জীবনের আরও হদিশ দিতে পারতেন। সেরম হলে, আরও কয়েকটি খুনের মাধম্যে এই পৃথিবীটিকে সম্প্রসারিত করাই যেত। মানছি, দ্রুতগামিতা পাল্প ফিকশনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ, তবুও...
এছাড়াও শেষটুকুও আরেকটু ব্লীক হলে মন্দ হতো না। তাই, বইটিকে সাড়ে তিনের বেশি দেওয়া যাচ্ছে না আপাতত। তাও বলবো এই ভালো। এরমটা আরও হোক। বাংলা সাহিত্যের খাতিরে, লেখকের এই স্বরূপ...তন্ত্র, কর্ভাস ও অভিসম্পাতের জগৎ হতে বেরিয়ে এসে, ফিরে আসুক বারংবার। দিনশেষে, এতে আমাদের মতন পাজি পাঠকেরই লাভ।
এই উপন্যাসিকাটি বাংলা সাহিত্যে অভিনব বললেই চলে। এটি যা নিয়ে লেখা হয়েছে তেমন বিশুদ্ধ পাল্প ফিকশন বাংলায় আমি এযাবৎ পড়িনি। উপন্যাসের কেন্দ্রে আছে এক হিটম্যান, যার নাম দেবদূত। একটি বিশেষ কাজ সারতে গিয়ে সুলেখা নামের মেয়েটি তার সঙ্গে একরকম জড়িয়েই পড়ে। বাধ্য হয়ে দেবদূত তাকে নিয়ে আসে নিজের দলনেত্রী বেহুলা বোসের কাছে। তারপর... তারপর কী হয় সেটা জানতে গেলে আপনাকে বইটা পড়তে হবে। ইনফ্যাক্ট বইয়ের প্রথম ক'টা লাইন পড়লেই বইটা শেষ করতে আপনি বাধ্য হবেন। বইটির ভালো দিক কী-কী? (১) বাংলায় এত ভালো ডার্ক কমেডি শেষ কবে পড়েছি মনে করতে পারছি না। প্রফুল্ল রায় তাঁর 'চরিত্র' বা 'আমাকে দেখুন'-এ প্রোটাগনিস্টকে যে ধাঁচে গড়েছিলেন, সেভাবেই গড়া হয়েছে দেবদূতকে। ছত্রে-ছত্রে ঝিকিয়ে উঠেছে রসিকতা। কলকাতার নিজস্ব গালাগাল ও আমেজ একেবারে মশার মতোই ছেঁকে ধরেছে লেখাকে। (২) লাশো কা মাউন্টেন, খুন কি ফাউন্টেন হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্বেও লেখক এই লেখায় কিন্তু 'ফিরে আসা, ফিরে আশা'-কে গুরুত্ব দিয়েছেন। বইয়ের শেষটা তাই একে একেবারে অন্যরকম করে দেয়। (৩) আনুপুটডাউনেবল লেখা— এ তো আগেই বলেছি। তার সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করেছে আশীষ ভট্টাচার্যের স্মার্ট অথচ ঘন আলো-ছায়ায় ভরা অলংকরণ। ফলে বইটা পড়তে গিয়ে একটা অদ্ভুত সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা হয়। বইটির খারাপ দিক কী-কী? এত ছোট্ট একটি বইয়ের অনুপাতে এর দামটা বড্ড বেশি! তবু বলব, রসিক পাঠকদের জন্যই লেখা এই রসালো উপন্যাসিকাটি উপেক্ষা করবেন না। ভাষা আর বিষয় নিয়ে শুচিবায়ুগ্রস্ত হলে আলাদা কথা; তা না হলে এটি কিন্তু সলিড জিনিস।
এটা সত্যিই অভিনব লেখা। বাংলায় এরকম লেখা আমি পড়িনি। সত্যি বলতে লেখার মধ্যে "ক্যাওড়ামো" কে যদি স্মার্টলি যোগ করা যায় তার পরিণাম হল এই উপন্যাস। আর বাংলায় এরকম ডার্ক কমেডি আমি সেভাবে দেখিনি (যদি পাঠকেরা জানেন তাহলে বলবেন অবশ্যই)। তবে হ্যাঁ, আমার অভিযোগ এটুকুই থাকবে, দেবদূত দত্তের জীবনকে আরেকটু দেখালে ভালো হতো, আরো কয়েকটা কনট্র্যাক্ট কিলিং দেখানো উচিত ছিল, দেবদূতের সাইকোলজিটা এই "ক্যাওড়ামো" মার্কা ডায়লগ দিয়ে আরেকটু রসিয়ে দেখাতে পারলে ভালো লাগত। বড্ড তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে গেল যেন। বড্ড তাড়াতাড়ি ওই কিলিং গেমটা চলে এল মনে হল যেন! আর হ্যাঁ, এই এডিশনে মুদ্রন প্রমাদ ছিল অজস্র (আশা করছি পরের এডিশনে তা আর নেই)। যাই হোক, পড়ে দেখতে পারেন, মজা পাবেন। ব্যস এটুকুই বলা।
শব্দ প্রকাশনের শেষ বই পড়েছিলাম জগদীশ গুপ্তের 'লঘু-গুরু' উপন্যাসটি, মনে রাখার মত একটি কাজ হয়েছিল প্রকাশনা এবং সম্পাদকের তরফ থেকে। সেই বইয়ের থেকে বিষয়বৈচিত্র্যে সম্পূর্ণ বিপ্রতীপে অবস্থান করা একটি উপন্যাসিকা আমার সাম্প্রতিক পাঠ, 'দেবদূতের বুলেট'। লেখক মনীষ মুখোপাধ্যায়।
উপন্যাসিকাটি মূলতঃ ডার্ক কমেডির উপর, আদতে পাল্প ফিকশন। কেন পড়েছি বা অন্যান্য পাঠক পড়তে পারেন, তার কারণ হিসেবে বলা যেতেই পারে, শেষ কয়েক বছরে অন্ততঃ এইরকম কাজ হয়েছে বলে আমার জানা নেই(শ্রীজাত-র 'শালিমারে সংঘাত' কমেডি জঁরের উপরে কাজ হলেও আদতে ছিল অদ্ভুতুড়ে সিরিজের আদলে একটি অ্যাডাল্ট অ্যাডাপশন)। স্বাদ বদলের জন্য একবার অন্ততঃ এই উপন্যাসিকাটি থ্রিলারপ্রেমীরা পড়তে পারেন। ফাটানো অ্যাকশন সিকোয়েন্স, সঙ্গে ফাটানো হাসি, মধ্যে মধ্যে গোলাগুলি, রক্তপাত তো আছেই। দেবদূত দত্ত নামে এক হিটম্যান এই কাহিনির নায়ক, সুলেখা নামের এক মহিলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সে ভাগ্যক্রমে একটি কাজের সূত্রে। সেই ভাগ্য তাকে কোনদিকে কীভাবে ছোটায়, তাই এই কাহিনির উপজীব্য। কাহিনির সমান্তরালে বিদঘুটে সংলাপ এবং সিকোয়েন্সের সঙ্গে সঙ্গে আসতে থাকে কিছু বিদঘুটে চরিত্র, সাইকোপ্যাথ পেশাদার খুনিরা। আপাতদৃষ্টিতে তারা মজার হলেও কাহিনির শেষে লেখক ট্র্যাজেডির মোটা দাগ রেখে গিয়েছেন, যা একটু হলেও পাঠককে ভাবতে বাধ্য করবে। বেশ কিছু চরিত্র আরেকটু পরিসর দাবি করত বলে ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে তবে তা পড়ার সময়ে বিশেষ মনে হয়নি কারণ বিশুদ্ধ পাল্প ফিকশনের ধর্ম মেনেই কাহিনি 'দুদ্দাড়' গতিতে প্রথম থেকে শেষ অবধি ছোটে। মোটের উপর 'দেবদূতের বুলেট', পাঠকের কাছে এক সিনেম্যাটিক উপস্থাপনের রেশ রেখে যেতে পারে কাহিনির শেষে। আশীষ ভট্টাচার্যের অলংকরণগুলিও কাহিনির সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করেছে বলে মনে হয়েছে।
বইটির মূল্য অত্যধিক ধার্য করা হয়েছে বলে আমার মনে হয়। এবং বেশ কিছু মুদ্রণপ্রমাদ চোখে পড়েছে। আর বিশেষ কোন অভিযোগ আমার পাঠক হিসেবে নেই।
📗দেবদূতের বুলেট ✒️মনীষ মুখোপাধ্যায় 🍁শব্দ প্রকাশন 🖌️প্রচ্ছদ: চিরঞ্জিৎ দাস 📃পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪২ 🏷️মুদ্রিত মূল্য: ₹২২৫/- একটা সার্থক পাল্প ফিকশনের মূল উপজীব্য হল বেশ কিছু অদ্ভুত চরিত্র, উচ্চ টোনের গতিসম্পন্ন প্লট, ভালো রকমের অ্যাকশন এবং পাতায় পাতায় এন্টারটেনমেন্ট। সেদিক থেকে এই বই একটি আদ্যপান্ত পাল্প ফিকশন। তার সাথে যোগ হয়েছে কমেডির ডার্ক হিউমার। এবং স্বপনকুমারের পর এই জনরার কাজ বাংলায় কতটা হয়েছে তা হয়তো হাতে গুণে বলা সম্ভব। গল্পটা সংক্ষেপে এইরকম: বেহুলা বোসের আন্ডারগ্রাউন্ড দলের অন্যতম সদস্য দেবদূত দত্ত। তার মূল পরিচয় সে একজন হিটম্যান, এবং পিস্তল হাতে সে একমেবাদ্বিতীয়ম। সেই দেবদূত (সংক্ষেপে ডিডি) একটা অ্যাসাইনমেন্ট সালটাতে গিয়ে এক সুন্দরীকে জুটিয়ে দলে ঢোকায়। এরপর শুরু হয় কাহিনীর মূল প্লট। কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেড়িয়ে পরে। আর এইসব ঘিরে আবর্তিত হয় বেহুলা বোসের দলে সদস্যদের জীবন। বইটার মস্ত বড় গুণ হল এর গতি, যা পাঠককে বই শেষ না করে উঠতে দেয় না। এছাড়াও একটা রাজনৈতিক অ্যাঙ্গেল ঢুকিয়ে বেশ কিছু স্যাটায়ার ব্যবহার করা হয়েছে। মাঝে মাঝে সার্কাসমের ব্যবহার ডার্ক কমেডির দিকেও বইটাকে ত্বরান্বিত করেছে। লেখক খুব বুদ্ধি করে প্রত্যেক চরিত্রের একটা করে ব্যাকগ্রাউন্ড স্টোরি দেখিয়েছেন, যাতে চরিত্রগুলোর পূর্ণতা পেয়েছে। এবার যদি সামান্য কিছু নেগেটিভ পয়েন্ট আলোচনা করি তাহলে প্রথমে থাকবে বইটার এন্ডিং। এত সুন্দরভাবে বিল্ড করা প্লটটা হঠাৎ করেই শেষ হয়ে গেলো। যা গতি ছিল উপন্যাসের তাতে আরো দুর্দান্ত একটা ক্লাইম্যাক্স আশা করেছিলাম। এছাড়াও শেষে ভালো কোনো টুইস্টের আশাও করেছিলাম, যেটা না পাওয়ায় সামান্য আশাহত হয়েছি। এছাড়াও, দেবদূতের দেবদূত হয়ে ওঠার গল্প বা বেহুলা বোসের চরিত্রটা কিছুটা সংক্ষেপ হয়ে গেছে। দেখলাম এই বইটির দ্বিতীয় একটি পার্ট এসেছে। আশা করছি সেটা এইসব চাহিদা পূরণ করবে। বইটির বাঁধাই বেশ ভালো। প্রচ্ছদটিও মনোগ্রাহী, যে কটি অলঙ্করণ রয়েছে তাও সিকোয়েন্স অনুযায়ী যথাযথ। তবে বেশ কিছু মুদ্রণ প্রমাদ চোখে পড়েছে। আশা করা যায়, পরের সংস্করণে এগুলো শুধরে নেওয়া হবে। ওভারঅল, হ্যাপি রিডিং।
পুনশ্চ: বইটার যা প্লট আছে তাতে এটা নিয়ে একটা চমৎকার গ্রাফিক নভেল হতে পারে ভবিষ্যতে।
✅ মনীষ মুখোপাধ্যায় মুখোপাধ্যায়'র লেখা 'দেবদূতের বুলেট' শেষ করলাম। বইটা পড়তে শুরু করে আর থামতে পারিনি। এটা মুলত একটা উপন্যাসিকা।উপন্যাসিকাটি মূলতঃ ডার্ক কমেডির উপর, আদতে পাল্প ফিকশন। কেন পড়েছি বা অন্যান্য পাঠক পড়তে পারেন, তার কারণ হিসেবে বলা যেতেই পারে, শেষ কয়েক বছরে অন্ততঃ এইরকম কাজ হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এই উপন্যাসিকাটি বাংলা সাহিত্যে অভিনব বললেই চলে। এটি যা নিয়ে লেখা হয়েছে তেমন বিশুদ্ধ পাল্প ফিকশন বাংলায় আমি এযাবৎ পড়িনি।
✅এখানে গল্পের মুল প্রোটাগনিস্টকে অবশ্যই দেবদূত। প্রফুল্ল রায় তাঁর 'চরিত্র' বা 'আমাকে দেখুন'-এ প্রোটাগনিস্টকে যে ধাঁচে গড়েছিলেন, সেভাবেই গড়া হয়েছে দেবদূতকে।
✅এবার যদি আমার এর মুল বিষয়বস্তুর দিকে যাই,তাহলে দেবদূত দত্ত নামে এক হিটম্যান এই কাহিনির নায়ক, সুলেখা নামের এক মহিলার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে সে ভাগ্যক্রমে একটি কাজের সূত্রে। সেই ভাগ্য তাকে কোনদিকে কীভাবে ছোটায়, তাই এই কাহিনির উপজীব্য।
✅অল্প পরিসরেও চরিত্রগুলোকে খুব যত্ন করে নির্মাণ করেছেন লেখক। আবার তাদের ব্যাকস্টরিগুলিকে পাঠক মনের সাথে অ্যাটাচমেন্ট করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন।
✅গল্পের ক্ল্যাইম্যাক্সটি নাটকীয় হলেও শেষটা কৃত্রিম না হয়ে আন্তরিক ও গ্রহনীয় হয়ে উঠেছে।
👊 বইটির খারাপ দিক একটাই এত ছোট্ট একটি বইয়ের অনুপাতে এর দামটা বড্ড বেশি!
✅বই-দেবদূতের বুলেট ✅প্রকাশক- শব্দ প্রকাশন ✅মুল্য- ২২৫ ✅পৃষ্ঠা-১৪৫
গল্পের কেন্দ্রে রয়েছেন দেবদূত নামের একজন হিটম্যান। ওপেনিং সিনেই দেখা যায় ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে এর মতো তিনি ঝোপে ঝোপে ঘুরে ইন্টু মিন্টুতে রত একজনের খেল খতম করতে চলেছেন। এবং সেই সূত্রেই তারসাথে আলাপ হচ্ছে সুলেখা নামের এক ঝিঙ্কু মামণির। এরপর তা-রা রা-রা রাম তা-রা রাম পাম বলে তাদের গাড়ি কোনদিকে বা বলা চলে কোথায় যায়? নাট্যমঞ্চে আর কোন কোন অভিনেতার আবির্ভাব হয়? এবং দেবদূত ও তার বুলেট কী কী খেল দেখায় সেই নিয়েই গল্প। এবার বলি উপন্যাসিকাটি আমার কেমন লাগলো.. ক. সত্যি বলতে এরকম বিশুদ্ধ পাল্প ফিকশন বাংলায় সেই অর্থে লেখা হয় না। একইসাথে ডার্ক কমেডির সুচারু ব্যবহার.. মানে বুঝতে পারছেন রিডিং এক্সপেরিয়েন্স পুরো জমে ক্ষীর। খ. অল্প পরিসরেও চরিত্রগুলোকে খুব যত্ন করে নির্মাণ করেছেন লেখক। আবার তাদের ব্যাকস্টরিগুলিকে সেন্টিমেন্টের সেন্টে মাখামাখি না করেও পাঠক মনের সাথে অ্যাটাচমেন্ট করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। গ. গল্পের ক্ল্যাইম্যাক্সটি নাটকীয় হলেও তাতে 'অতি' যোগ হয়নি। ফলে শেষটা কৃত্রিম না হয়ে আন্তরিক ও গ্রহনীয় হয়ে উঠেছে। শেষে এটাই বলব, গতিময় গদ্য ও তুখোড় সংলাপের মিশেলে দেবদূতের বুলেট ইজ আ পিউর এন্টারটেইনার। আমার দারুন লেগেছে। রেকমেন্ডেড।