হাড়হিম আতঙ্ক, রুদ্ধশ্বাস অ্যাডভেঞ্চার, বিকল্প ইতিহাস অথবা রোমাঞ্চকর কল্পবিজ্ঞান… এই সংকলন গোত্র বদলেছে প্রতি পদক্ষেপে, এক কাহিনি থেকে পরের কাহিনিতে। আবার, প্রতিটি গল্প তার অন্তর্লীন জীবনদর্শনে পরস্পরের আত্মীয়। “আনন্দমেলা” ও “কল্পবিশ্ব” পত্রিকায় প্রকাশিত কয়েকটি গল্প এবং একমুঠো নতুন আখ্যান নিয়ে সজ্জিত এই সংকলনের প্রতিটি কাহিনির শেষ মোচড়, কিশোর এবং প্রাপ্তবয়স্ক দুই শ্রেণির পাঠকের মনেই দীর্ঘস্থায়ী রেশ রেখে যাবে।
আগেকার অনেক বাড়িতেই এমন অন্তত একটা ট্রাংক বা বাক্স থাকত, যার ভেতরে যে ঠিক কী আছে, তা বাড়ির বাসিন্দারা কেউই জানত না। সে বাক্স যখন বন্ধ হয়েছিল, তখন বর্তমান প্রজন্ম তো দূরের কথা, তাদের বাপ-ঠাকুর্দারাও সেখানে হাজির ছিল কি না, তাই নিয়ে সন্দেহ আছে। এহেন বাক্সও এক না একসময় খোলা হয়। তখন বাড়ির সবাই, বিশেষত ছোটোরা সেটাকে ঘিরে ভিড় জমায়— ধুলো, আরশোলা, টিকটিকি ইত্যাদির সম্ভাব্য উপস্থিতি উপেক্ষা করে। তাদের মনে তখন ঘড়ির মতো একটাই প্রশ্ন টিক্=টিক্ করতে থাকে। বাক্সের ভেতরে কী আছে? এই সময়ের (আমার মতে) শ্রেষ্ঠ প্রচ্ছদশিল্পী উজ্জ্বলের লেখা আলোচ্য বইটি খোলার আগে আমার ঠিক সেই কথাটাই মনে হচ্ছিল। তারপর কী হল? বাক্সটা খোলা হল। ন্যাপথালিন, কর্পূর, তেজপাতা, জীর্ণ কাপড়, পুরোনো বই, ধুলো, ভাঁজে-ভাঁজে কেটে যাওয়া কাগজ, এমন অনেক কিছু মেশানো একটা গন্ধ এল প্রথমে। তারপর আমাদের সবাইকে স্তম্ভিত করে দিয়ে বেরিয়ে এল একটা মসৃণ কালো বল। আয়তনের তুলনায় হালকা ছিল জিনিসটা। সাবধানে সেটাকে হাতে নেওয়ার সঙ্গে-সঙ্গে তার গায়ে— তখনও অবধি অদৃশ্য একটা সিম্ বরাবর— ফুটে উঠল একঝাঁক লাল বিন্দু। চমকে উঠে বলটা হাত থেকে ফেলে দিলেও ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছিল। দীর্ঘদিন পর মানুষের হাতের ছোঁয়া পাওয়ামাত্র চালু হয়েছিল যন্ত্রটা! আর চোখের সামনে... না, বানানো গপ্পো ফাঁদতে বসিনি এখন। বরং লিখতে বসেছি 'ত্রিলিকা' পাঠের অভিজ্ঞতা। সেটাই করি বরং। অতি সংক্ষিপ্ত প্রাক্কথনে লেখক জানিয়েছেন, তাঁর এই গল্পগুলোর আধ্যাত্মিক পূর্বসূরি হল শরদিন্দু ও সত্যজিতের লেখাপত্তর। কথাটা সম্পূর্ণ সঠিক। ওই দুই মহাজনের দেখানো পথেই লেখা হয়েছে এই বইয়ের তেরোটি গল্প। তারা হল~ ১. হৃদয়ে লেখো নাম; ২. হিপনিক জার্ক; ৩. অবিট; ৪. রাক্ষস; ৫. কাকভূশণ্ডি; ৬. শিল্পী; ৭. মার্ডার; ৮. বন্দি; ৯. ঝাপসা; ১০. শেষের পরে; ১১. গ্রেট বারবেট; ১২. তরঙ্গ; ১৩. ম্যাজিকবাড়ি। এই গল্পগুলোকে কোনো গোত্রভুক্ত করা মুশকিল। তা-ও, কোনো ট্যাগ যদি এদের গায়ে লাগাতেই হয়, আমি এদের ফ্যান্টাসি-ই বলব। খাঁটি সত্যজিতীয় স্টাইলের গল্প 'রাক্ষস' বা 'শিল্পী'-র সঙ্গে এখানে আছে শরদিন্দু-সুলভ 'কাকভূশণ্ড' বা 'শেষের পরে।' এদের মধ্যে একদিকে যেমন আছে পুরোনো আনন্দমেলা=র চিরচেনা ফ্লেভার, আবার তারই নীচে রয়েছে ঘটমান বর্তমান ও তার অভিঘাতে আমাদের মনোজগতের টানাপোড়েন। গল্পগুলোতে নানা সম্ভাবনা আর সম্ভাব্যতার বিচার করার পাশাপাশি, ভারি অদ্ভুতভাবে, মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে পরাবাস্তবতা। ফলে ব্যাপারটা কেমন হয়েছে জানেন? অনেকটা... আমাদের চারপাশটা কেমন যেন অস্পষ্ট, ধুলো-ধুলো হয়ে উঠছিল! খুব মিহি গুঁড়োর মতো হয়ে যাচ্ছিলাম আমরা। অথচ একেবারে ভেঙেচুরে ভেসেও যাচ্ছিলাম না। মনে হচ্ছিল, আমাদের চারপাশের বিশ্বচরাচর যেন অগণিত ধুলোর সমষ্টি, আর সেই ধুলো কাঁপছে থিরথিরিয়ে। তাতে হঠাৎ একটা বড়ো ঢেউ এল। অমনি দেখলাম, শুধু আমরা নই; আরও কোটি-কোটি বিশ্ব যেন মিশে আছে আমাদেরই সঙ্গে— আর তাতেও ঢেউ উঠেছে! আমরা মিশে যাচ্ছি অন্য কোনো বিশ্বের ধুলোয়! নাহ্, চোখের ভুল। এই তো সব স্পষ্ট। বাক্সটা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দাঁড়িয়ে=দাঁড়িয়েই স্বপ্ন দেখে ফেললাম নাকি? কিন্তু... কিন্তু... বাকিদের সবার পিঠের মধ্য থেকে এইরকম কাঁটা বেরিয়েছে কেন? তাদের চোখগুলোই বা অমন মাছের মতো হয়ে গেছে কেন? শুধু তাদের নয়! ওই তো আয়নায় দেখতে পাচ্ছি... আ-আমিও... এরপরেও বইটা পড়ার জন্য আলাদা করে রেকমেন্ড করতে হবে?
‘ত্রিলিকা’র যে বিষয়টি সবচেয়ে আগে চোখ টানে, সেটি হল বিষয়ের বৈচিত্র্য। কখনও ফ্যান্টাসি, কখনও পরাবাস্তব, কখনও ভয়ালরস আবার কখনও অতিপ্রাকৃতিক ধারার প্রত্যক্ষ ব্যবহার কোনওভাবেই পাঠককে একঘেয়েমির ফাঁদে পড়তে দেয় না। বিচিত্র চরিত্রের সমাহার এবং তাদের যথাযথ উপস্থিতিও এই বইয়ের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। লেখার ভাষাও অত্যন্ত সাবলীল, সুস্বাদু এবং স্বচ্ছন্দ্য—নিঃসন্দেহে যা প্লটগুলির সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত করেছে। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয়: উৎসর্গপত্রে দুই কিংবদন্তীর নাম থাকলেও, গল্পে কোথাও তাঁদের ছায়া পড়েনি। বরং প্রতিটি লেখাই হয়ে উঠেছে লেখকের স্বকীয়তায় ভাস্বর। নিজস্ব একটি জগৎ লেখক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন, মনোযোগী পাঠক যেখানে চিন্তার অবকাশ খুঁজে পাবেন। অতিজীর্ণ প্লট এবং নড়বড়ে গদ্যভাষার কাঁধে ভর করে পার করতে চাওয়া বইয়ের ভিড়ে ‘ত্রিলিকা’ নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী নাম।
বিঃদ্রঃ এই বইয়ের ছবিগুলিও যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। কিছু ছবির perspective এবং ভাবনা তো যথেষ্ট মনোমুগ্ধকর, সেইসঙ্গে cross hatching-এর ব্যবহারও বেশ পরিণত।
ত্রিলিকা শব্দটি আসলে লিথুয়ানিয়ান ভাষা, যার বাংলায় অর্থ হচ্ছে ১৩। এখানে প্রতিটা কাহিনী বিভিন্ন জনরার হলেও, সব কাহিনীর মধ্যে ২টি জিনিস কমন রয়েছে। একটি হল সুপারন্যাচারাল বা অতিপ্রাকৃতের উপস্থিতি এবং দ্বিতীয় হচ্ছে শেষের চমক। কিন্তু তাই বলে কি, ১৩টি কাহিনীর প্রতিটা কাহিনীই দুর্দান্ত লেগেছে? নাকি আসলে কাহিনীগুলি অ্যাভারেজ লাগলো?
প্রথম কাহিনী “ হৃদয়ে লেখো নাম”, শুনতে রোমান্টিক মনে হলেও আসলে ফ্যান্টাসি এডভেঞ্চার কাহিনী, যেটা একবার পড়া শুরু করলে গ্যারান্টি দিচ্ছি, আপনি হুকড হয়ে যাবেনই। দ্বিতীয় কাহিনী হিপনিক জার্ক - সাইকোলজিক্যাল সুপার ন্যাচারাল কাহিনী। এটা পড়তে গিয়ে সত্যজিৎ বাবুর অলৌকিক কাহিনীর কথা মনে পড়ে যায়। তৃতীয় কাহিনী অবিট - একটা অদ্ভুত থ্রিলার কাহিনী, যার মধ্যে রয়েছে একটা অদ্ভুত উৎকণ্ঠা। চতুর্থ কাহিনী রাক্ষস একটি কল্পবিজ্ঞান এর কাহিনী, যার শেষে এসে অবাক না হয়ে পারা যায় না। পঞ্চম কাহিনী কাকভূষণ্ডিও mythological সায়েন্স ফিকশন কাহিনী। ষষ্ঠ কাহিনী শিল্পী এক অসাধারণ সুন্দর কাহিনী এবং আমার মতে এটিই সব থেকে বেস্ট কাহিনী, এই সংকলনের মধ্যে, বিশেষ করে শেষে এসে যখন একটি দারুন রিভিলেশন হবে, সেই অংশটা সেরা লেগেছে আমার। সপ্তম কাহিনী মার্ডার হচ্ছে একটা থ্রিলার কাহিনী যার শেষে রয়েছে একটি দারুন টুইস্ট। অষ্টম কাহিনী বন্দী হচ্ছে একটি ফ্যান্টাসি জনরার কাহিনী। এটি মূলত শিশু পাঠ্য বলে আমার মনে হয়েছে। নবম কাহিনী ঝাপসা একটি অলৌকিক ভৌতিক কাহিনী, যেটার রিসেন্টলি একটি অডিও স্টোরিও হয়েছে সায়ক আমন বাবুর চ্যানেলে। কিন্তু এই কাহিনীর এন্ডিং আমার পছন্দ হয়নি। কিছু একটা মিসিং মনে হয়েছে। দশম কাহিনী শেষের পরে একটি সায়েন্স ফিকশন কাহিনী যার শেষে এসে মনটা হালকা ভারী হয়ে যায়। একাদশ তম কাহিনী গ্রেট বারবেট একটি সায়েন্স ফিকশন কাহিনী, যার প্লট চেনা মনে হলেও শেষে এসে একটা দারুন টুইস্ট এ গল্পের মোড় ঘুরে যায়। দ্বাদশ গল্প তরঙ্গ একটা পোস্ট apocalyptic বা অল্টারনেট জগতের কাহিনী হিসেবে ধরা যেতে পারে। শেষ গল্প ম্যাজিক বাড়ি অলৌকিক কাহিনী। এটিকেও শিশু সাহিত্য হিসেবে ধরা যেতে পারে।
প্রতিটা কাহিনী পড়ার সময় আমার ফিল হয়েছে যে আমি যেন সত্যজিৎ বাবুর লেখা অলৌকিক গল্পগুলি পড়ছি। হ্যাঁ, এটা অ���মোস্ট প্রতিটা গল্পেই ফিল হয়েছে। উজ্জ্বল বাবুর লেখনীর জাদু সত্যিই দুর্দান্ত। এটুকু শিওর যে আপনি যখনই কোনো গল্প পড়তে শুরু করবেন, সেটা শেষ না করে উঠতেই পারবেন না। কিছু গল্পের এন্ডিং পরে দুর্দান্ত লাগবে, আবার কিছু গল্পের এন্ডিং পড়ে মনে হবে যেন হুট করে শেষ। যেমন অবিট গল্পের ক্ষেত্রে আমার এন্ডিং টা একটু কেমন লেগেছে, ঝাপসার ক্ষেত্রেও তাই বক্তব্য। কিন্তু বাকি গল্পগুলো পড়ে আমার বেশ ভালো লেগেছে। বিশেষ করে হৃদয়ে লেখো নাম আর শিল্পী - এই দুটি কাহিনী পড়ে আমি মুগ্ধ হয়ে গেছি। আর প্রতিটা গল্পের শেষে যে টুইস্ট রয়েছে, সেটা বেশিরভাগই শক ভ্যালু প্রোভাইড করেছে আমায়।
ঠিক করেছিলাম রোজ একটা করে গল্প পড়বো, কিন্তু এই তেরটি বিভিন্ন স্বাদের গল্পের সংকলন শেষ করতে তেরদিন অপেক্ষা করতে পারিনি। এতে যেমন আছে বিকল্প ইতিহাস বা হাড়হিম করা আতঙ্ক, তেমনি আছে কল্পবিজ্ঞান এবং রূপকথার গল্প মিশেল। আমি সংক্ষিপ্ত ভাবে যথা সম্ভব কম স্পয়লার দিয়ে গল্প গুলি নিয়ে আলোচনা করলাম নিচে।
হৃদয়ে লেখো নাম - পিরামিডের পাশে স্ফিংস কেনও আছে তার ব্যাখ্যায় এক নতুন বিকল্প ইতিহাসের খোঁজ দেওয়া হয়েছে। এটা বাকি গল্প গুলির তুলনায় দৈর্ঘ্যে বড়।
হিপনিক জার্ক - আগে আনন্দামেলাতে বেরিয়েছিল এই গল্পটি, পড়ে বেশ সত্যজিৎ রায়ের গল্পগুলোর উত্তরাধিকারী মনে হচ্ছিল। তবে শেষ টা বেশ ডার্ক।
অবিট - সংবাদপত্রে মৃত ব্যক্তির স্মরণে লেখা গুলি কিভাবে লেখা হয় সেই নিয়ে গল্পটা গড়ে উঠেছে।
রাক্ষস - বেশ আতঙ্কের গল্প, এরপর মাছ ধরতে গেলে এটির কথা মনে পড়বে।
কাকভূশণ্ডী - এখানে দুটি সমান্তরাল মহাবিশ্বে একই ঘটনার কিভাবে দুইরকম পরিণতি হতে পারে তার একটা সুন্দর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
শিল্পী - একজন শিল্পী যখন আর আঁকতে পারেন না তখন তাঁর মনোভাব খুব ভালো ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এখানে। তারপর তাঁর আঁকার ক্ষমতা ফিরে পাবার দৃশ্যটিও বেশ ভালো লাগলো
মার্ডার - এটি সংকলনের সেরা গল্প। কাকেরা কিভাবে মনে রাখতে পারে তাকে কেন্দ্র করে একটি ঘটনা।
বন্দি - এটি একটি রূপকথার গল্প যেখানে ছোট্ট রাজকুমারী তার পিতৃ-মাত্রী-ঘাতি কাকার হাতে বন্দী থাকা সত্ত্বেও কিভাবে বিদ্রোহ করে।
ঝাপসা - এখানে একটি অতিপ্রাকৃত ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। পড়ে বেশ বরদার উত্তরসূরি মনে পড়ছিল। বেশ জমজমাট গল্প আর গল্পের ভাষ্যকারের চরিত্রটিও তারিণী খুড়ো বা ঘনাদার মতো দেশে বিদেশে বিভিন্ন কাজের সূত্রে ঘুরে বেড়ান।
শেষের পরে - চিত্রশিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব ও কিছু অতিপ্রাকৃত ঘটনা দিয়ে গল্পটি তৈরি হয়েছে।
গ্রেট বারবেট - এখানে এক কল্প বিজ্ঞানের যন্ত্র যা এক মানুষের সম্পূর্ণ স্মৃতি ও বুদ্ধিমত্তা অন্য প্রাণীতে পাঠিয়ে দিতে পারে তার প্রভাব নিয়ে লেখা। শেষ টা আমায় দুঃখী করে দিয়েছে।
তরঙ্গ - এটি একটি কল্পবিজ্ঞানের গল্প তবে সেটা বুঝতে গল্পের মধ্যে কিছুটা ঢুকে পড়তে হবে। মানুষের চিরকালীন ক্ষমতার প্রতি লোভ যে তার উন্নতির পথে বাধা তার ভালো মতো রেশ পাওয়া যায় এই গল্পে।
ম্যাজিকবাড়ি - ছোট্ট মানুষের চোখ দিয়ে কল্পনার পৃথিবী কেমন দেখায় তার সুন্দর বর্ণনা রয়েছে এই গল্পে। পড়তে গিয়ে লীলা মজুমদারের গল্প গুলির সার্থক উত্তরাধিকারী মনে হচ্ছিল।
সব মিলিয়ে বেশ স্বাদু গল্পের সংকলন, কিছু কিশোর পাঠ্য বা শিশু পাঠ্য গল্প থাকলেও আমার মতে বইটি প্রাপ্তমনস্কদের জন্যই উপভোগ্য হবে।
তেরোটি গল্প। প্রায় সবই স্পেকুলেটিভ ফিকশনের ওপর। সবকটিই কিশোরপাঠ্য। কিছু কিছু গল্পের শেষটা একটু অতি সরলীকৃত হয়েছে বলে মনে হয়েছে, কেমন ‘গ্রেট বারবেট’ এবং ‘শেষের পরে’। বিশেষ ভালো লেগেছে ‘রাক্ষস’, ‘শিল্পী’, এবং ‘হৃদয়ে লেখো নাম’। বইয়ের প্রতিটি গল্পই নির্মেদ, সুখপাঠ্য। প্রায় ছত্রে ছত্রে সত্যজিৎ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য, এমনকি আর্টওয়ার্কগুলির মধ্যেও।