সময় বয়ে যাওয়ার পথে দাগ রেখে যায়, কিন্তু সেই দাগ অনুসরণ করে সময়ের স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটে পেছনে যাওয়া যায় না, এই দাগ শুধু চিহ্ন রেখে যায়, অতীতের। শান্তিনিকেতন এবং তার পারিপার্শ্বিক আবহে গত কয়েক দশকে চরিত্রগত এক আমূল পরিবর্তন এসেছে, শান্তিনিকেতন আজ বাংলার শ্রেষ্ঠ পর্যটনকেন্দ্রগুলির অন্যতম, অথচ এমনটা হওয়ার কথা ছিল না। রবীন্দ্রনাথ অচলায়তন ভাঙতে চেয়েছিলেন অথচ সময়ের দাবি মেনে নিয়ে শান্তিনিকেতন নিজের চারিপাশে নিত্যনতুন দেওয়াল তুলে অচলায়তন নির্মাণেই বেশি মনযোগী হয়েছে। এই উপন্যাসে আমার শৈশবের পাঠভবনের কথা আছে, সেই সময় যখনও অবধি শান্তিনিকেতন ‘খোয়াইয়ের হাটে’র চেয়ে আশ্রমের জন্য মানুষের কাছে বেশি পরিচিত ছিল।
এই উপন্যাসের নায়িকা তিতাস, তিতাস পাঠভবনের ছাত্রী। পাঠভবন তিতাসের জীবনের আলোকিত দিক, কিন্তু তিতাসের দৈনন্দিন জীবনে ধীরে ধীরে অন্ধকার মিশে যায়, তিতাস এই আলো এবং অন্ধকার নিয়েই বড়ো হতে থাকে। তিতাসের জীবন থেকে একটি বছর তুলে নিয়ে লেখা হয়েছে এই উপন্যাস ‘অফুরান’।