অনুবাদ ও টীকা – অমিতাভ মুখোপাধ্যায় সম্পাদনা – অঙ্কিতা প্রচ্ছদ – পৌষালী পাল পেপারব্যাক ঘরানা-সাহিত্যের মধ্যে ডিটেকটিভ তথা গোয়েন্দা কাহিনির এক বিশেষ স্থান রয়েছে। ভয়ালরস আর ফ্যান্টাসির স্থান যদি বোধের কাছে হয়, গোয়েন্দা বুদ্ধির দরজায় কড়া নাড়েন। প্রথমটায় ভেজে মন, আর দ্বিতীয়ের দাবি মনন। বিশ শতকের প্রথমার্ধ ছিল গোয়েন্দা কাহিনির স্বর্ণকাল। মূলত সেই সময়বৃত্ত থেকে খুঁজে-নেওয়া বিভিন্ন আঙ্গিকের সেরা কিছু গল্পে সাজিয়েছি আমাদের ডালি। এখানে নজন লেখক উপহার দিয়েছেন নব নব রসের স্বাদ।
এগুলির মধ্যে আমার গ্লাসগো রহস্য, তেরো নম্বর সেলের সমস্যা, নিঃশব্দ বুলেট আর একটি নৌ বিদ্রোহের রেশ আমার খুব ভালো লেগেছে, এই গল্পগুলোর রহস্য বেশ জমাটি এবং অনুবাদ ও টীকা সহ পড়তে গিয়ে মনেই হয়না এগুলি অনুবাদ করা গল্প। শার্লক হোমসের পাস্টিশ আটপেজী হ্যামলেট গল্পটিও পড়তে ভালো লাগে, যদিও রহস্য এখানে তেমন কিছু নেই কিন্তু গল্পের টানে ও ভালো অনুবাদের জন্য পড়তে ভালো লাগে, যদিও আমার গল্পের শিরোনামটি আমার ভালো লাগেনি। চুরি যাওয়া চিঠি আরেকটু পুরোনো সময়ের গল্প বাকি গুলোর তুলনায়, পড়তে খারাপ লাগে না অনুবাদ ও টীকা আমায় সাহায্য করেছে পড়ায়। অপর দিকে জেফ্রি মেইনের মৃত্যু বাকি গল্প গুলির তুলনায় একটু আধুনিক এখানে অনেকটা হার্ড বইলড গোয়েন্দার পূর্বসুরী দেখতে পাই আমরা, গোয়েন্দা গল্প এখানে সাবালক হয়ে উঠেছে।
বাকি দুটি গল্প পুরস্কার দু লাখ ফ্রা ও ডায়ানোসিসের মুদ্রা এই সংকলনের বাকি গল্প গুলির তুলনায় কমজোরি পড়তে ও বুঝতে আমায় বেগ পেতে হয়েছে। এগুলির বদলে অন্য গল্প চয়ন করা হলে সংকলনটি সর্বাঙ্গ সুন্দর হত।
এই বইতে খুবই সাবলীল ভাষান্তর করা হয়েছে, পড়ে মনেই হচ্ছে না অনুবাদ পড়ছি। আর টীকা গুলো বেশ কিছু জায়গায় আমায় গল্পের বিভিন্ন তথ্য বুঝতে সাহায্য করেছে। সব মিলিয়ে পড়তে বেশ ভালো লাগছে।
মাঝে ঠিক করেছিলাম অনুবাদ সাহিত্য আর পড়বো না। এই বইটি আমার মত বদলাতে সাহায্য করেছে।