ঝাঁজালো কাসুন্দিজাতীয় মশলার সঙ্গে গলানো চিজ়ের সমন্বয়ে তৈরি চিটচিটে ঘন তরল পদার্থ, মুড়মুড়ে টোস্টের ওপরে লেপন করে তৈরি হয় ওয়েলশ রেয়ারবিট। মার্কিনিদের অতি পছন্দের সুস্বাদু খাদ্যটি হজম করা চাট্টিখানি ব্যাপার নয়। আর রাতে রেয়ারবিট খাওয়া মানেই বদহজম ও দুঃস্বপ্ন। আর এই রেয়ারবিট থেকেই ১৯০৫ সালে আমেরিকার প্রখ্যাত গ্রাফিক আর্টিস্ট উইন্সর জেনিক ম্যাক্কে তৈরি করেছিলেন বিশ্ববিখ্যাত সিরিজ়–ড্রিমস অব দ্য রেয়ারবিট ফিন্ড। আমেরিকার মধ্যবিত্ত সমাজের দ্বিচারিতার ওপরে টীকাটিপ্পনীসহ এই ডার্ক হিউমারের অনবদ্য মিশ্রণ আজও অমলিন হাস্যধারায় আমাদের মজিয়ে দেয়।
Was an American cartoonist and animator, best known for the comic strip Little Nemo (begun 1905) and the animated cartoon Gertie the Dinosaur (1914). For legal reasons, he worked under the pen name Silas on the comic strip Dream of the Rarebit Fiend. A prolific artist, McCay's pioneering early animated films far outshone the work of his contemporaries, and set a standard followed by Walt Disney and others in later decades. His comic strip work has influenced generations of artists, including creators such as William Joyce, André LeBlanc, Moebius, Maurice Sendak, Chris Ware and Bill Watterson.
টোস্টের ওপর চিজ এবং বিবিধ সসের পুরু প্রলেপ— এই পদটিরই নাম হল ওয়েলশ রেয়ারবিট। একদা উইনসর ম্যাকে তাঁর জগদ্বিখ্যাত কমিক স্ট্রিপের মাধ্যমে এমন কয়েকটি হতভাগ্য ব্যক্তির দুঃস্বপ্নের বিবরণ দিয়েছিলেন, যাঁরা এই পদটি কিঞ্চিৎ বেশি মাত্রায় ভক্ষণ করে ঘুমোতে গেছিলেন। আর সে কী-সব স্বপ্ন! সেই স্বপ্নমালার টুকরো-টাকরা এর আগেও আমরা পেয়েছি নানা পত্রিকার বিশেষ কমিক্স সংখ্যা বা কমিক্স নিয়েই প্রকাশিত বইয়ে। কিন্তু এই প্রথমবার গোটা স্ট্রিপটি তার অতুলনীয় স্বাদ ও গন্ধ নিয়ে আমাদের সামনে এল বাংলায়। মূলের সাদা-কালো ছবিগুলো নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে যশোধরা রায়চৌধুরী'র সরস, সময়োপযোগী, আর আদ্যন্ত বাঙালি অনুবাদে লেখাগুলো দুর্দমনীয় হয়ে উঠেছে। ক্লাসিক গান থেকে মিমের উপাদান— সবই এতে এসেছে একেবারে লাগসই হয়ে, তা-ও আবার স্পিচ-বাবলের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিসরে। তাঁকে একেবারে আভূমি সেলাম জানাই এমন অনুবাদের জন্য। উজ্জ্বল ঘোষের প্রচ্ছদ যথারীতি লা-জবাব। বইটির সামগ্রিক মুদ্রণও কল্পবিশ্ব পাবলিকেশনের নিজস্ব মানদণ্ড অনুসারেই অসাধারণ হয়েছে। তবে আমি অনুবাদ নিয়েই ফিদা হয়ে রইলাম। ওয়েলশ রেয়ারবিট খাইনি, ফলে সেটির অ্যাডিক্টিভ ধরন সম্বন্ধে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নেই। অনুবাদের গুণে এই আঁকা+লেখা কিন্তু এমনই নেশা ধরিয়ে দেয় যে বেশ কষ্ট করে বইটাকে মাঝেমধ্যে সরিয়ে রেখে তবেই কাজকর্ম সারতে হয়। চিজের পকোড়া খেয়ে দুঃস্বপ্ন দেখুন বা না-দেখুন, এই "দুঃস্বপ্ন" পড়তে ভুলবেন না!
চিজ বাস্ট পিজ্জার সাথে আমার পরিচয় প্রায় ২ দশক আগে, কোন এক পরীক্ষার আগের রাতে । হোস্টেলে আমার রুমমেট এর পরীক্ষা একদিন আগে শেষ হয়েছিল, তাই সে চিজ বাস্ট পিজা অর্ডার করেছিল। আমি মোটামুটি শেষ রাতে পড়ে পরীক্ষা দেয়ার ছাত্র ছিলাম কাজেই, শেষের রাত গুলো আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু ওই পিজ্জা এতটাই ভরপুর ছিল যে ৯টা নাগাদ একটা গোটা পিজ্জা পেটস্থ করে আমি আর চোখ খোলা রাখতে পারিনি । একেবারে পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে ঘুম ভেঙেছিল। তারপর হলে ঢুকে খালি দুঃস্বপ্ন ।
উইনসর ম্যাক্কের দুঃস্বপ্ন অনেকটা আমার এই বাস্তব অভিজ্ঞতার সাথে মেলে । বয়স্ক মানুষ রোজ রাতে চিজ পকোড়া খেয়ে ঘুমোন আর উদ্ভট স্বপ্ন দেখেন। এই চিজ পকোড়া আসলে ওয়েলস রেয়ারবিট এর বাংলা অনুবাদ ( বইটির মলাটেই রন্ধন প্রণালী দেয়া রয়েছে ) । আমার আঁকার হাত খুবই খারাপ, অংকন শিল্প সম্বন্ধে জ্ঞান আরো খারাপ। তবু বলবো বিভিন্ন ধরনের রেখায় আঁকা সাদাকালো সহজ ছবিতে পরাবাস্তব চিন্তাগুলো দেখতে ভালই লেগেছে | প্রতিটা স্বপ্নই উদ্ভট, কয়েকটি হাস্যকর । বেশ কিছু স্বপ্ন অস্বস্তিকর এবং ভীতিপ্রদ । বিংশ শতকের একেবারে শুরুর দিকের আমেরিকান সমাজের বিভিন্ন সমস্যা , অভ্যাস ম্যাক্কে তার কমিক স্ট্রিপ এর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন । প্রতিটি স্ট্রিপরই কাঠামো একই রকম , তবে মনে রাখতে হবে এটা একেবারে শুরুর দিকের কাজ। যা পরের অনেক শিল্পীকে প্রভাবিত করেছে।
অনুবাদ নিয়ে আর আলাদা করে কিছু বলার নেই, কৌতুকপূর্ণ সাবলীল ভাষা দুঃস্বপ্ন কে শুখপাঠ্য করে তুলেছে। এই ধরনের ব্যতিক্রমী কাজগুলোর জন্যই কল্পবিশ্ব কে ফুলকো লুচির মতন ভালোবাসা দেওয়াই যায় ।