শক্তিনগরের বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী সুনন্দন সেনগুপ্তর স্ত্রী-র হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে অনাবশ্যক ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ল তরুণী দিব্যেন্দ্রিয় চারু দত্ত। অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো এক জন্তুর আক্রমণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হলেও, রক্তাক্ত অকুস্থলে পৌঁছেই চারু বুঝে ফেলল, খালি চোখে যা দেখা যাচ্ছে, বাস্তব চিত্রটা তার চেয়েও ভয়ংকর। আর শক্তিনগরের মতো জায়গায় অপ্রিয় সত্যি কথা বলতে চাওয়ার দাম বড়ো বেশি, তার জন্য প্রাণ চলে যাওয়াও বিচিত্র নয়। এ এক অদ্ভুত রহস্য কাহিনি। এখানে সংগ্রহশালায় বন্দি করে রাখা হয় বিকটদর্শন অতিলৌকিক জীবদের, এখানে রহস্যময় এক নেশার দ্রব্য ইনজেকশনের সিরিঞ্জে ভরে রেখে সংঘটিত হয় অকল্পনীয় অপরাধ, একটি মেয়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে চারু জড়িয়ে পড়ে বিরাট এক ষড়যন্ত্রের জালে, আর হত্যারহস্য তদন্তের পেছনে অনিবার্যভাবে চলতে থাকে শুভ-অশুভের চিরকালীন দ্বন্দ্ব।
সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের জন্ম মেদিনীপুর শহরে ১৯৮৫ সালে। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্র। পেশায় স্কুলশিক্ষক। নেশায় পাঠক। দুঃসাহসে লেখক। লেখেন মূলত কল্পবিজ্ঞান ও ফ্যান্টাসি। বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই লেখালিখি করছেন দেশ ও দেশের বাইরের বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও গল্প-সংকলনে। বাংলায় তাঁর ফ্যান্টাসি-অ্যাডভেঞ্চার উপন্যাস ‘প্রলয়যোদ্ধা’ ইতিমধ্যেই পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া এবং আমেরিকার একাধিক স্পেকুলেটিভ সংকলন ও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে বেশ কিছু গল্প। হলিউডে অনুষ্ঠিত কল্পসাহিত্য প্রতিযোগিতা এল. রন হাবার্ডের নামাঙ্কিত ‘রাইটার্স অব দ্য ফিউচার’-এ একমাত্র ভারতীয় হিসাবে পরপর তিন বছর পেয়েছেন ‘অনারেবল মেনশন’-এর সম্মান। ভালোবাসেন বেড়াল, ব্যাটম্যান, সুকুমার রায় এবং নলেন গুড়ের সন্দেশ।
অনেকটা আমাদেরই মতো, কিন্তু নানা ধরনের অদ্ভুত ও অলৌকিক জীবজন্তুতে ভরা এক পৃথিবীতে, শক্তিনগর নামক অঞ্চলের বাসিন্দা হল চারুহাসিনী দত্ত। সে একজন পেশাদার 'দিব্যেন্দ্রিয়', অর্থাৎ 'অদ্ভুতাঙ্গ' নামক আপাত অলৌকিক জীবেদের চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন হলে নিকেশ করার দায়িত্ব তারই ঘাড়ে চাপে। সেই অঞ্চলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ ব্যবসায়ী তথা অপরাধ করেও পার পেয়ে যাওয়া সুনন্দন চারুকে নিয়োগ করলেন একটি বিশেষ কাজে— তাঁর স্ত্রী ঝিমলি যে এক অদ্ভুতাঙ্গের আক্রমণেই নিহত হয়েছেন, সেই মর্মে রিপোর্ট দিতে হবে চারুকে। চারুর সততা তাকে সত্যিটাই রিপোর্ট করতে বাধ্য হল। ফলে সুনন্দন তো বটেই; শক্তিনগর-এর চরম দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ-প্রধান ধীমানেরও শত্রু হয়ে পড়ল সে। কিন্তু হত্যালীলা থামল না। লাইসেন্স হারিয়ে ঘরবন্দি চারু ক্রমে বুঝতে পারল, অনেকগুলো হত্যা জড়িয়ে যাচ্ছে এই বিশেষ মৃত্যুর সঙ্গে। আর তার কেন্দ্রে আছে 'সোমচূর্ণ' নামক এক ভয়ানক মাদক। চারু কি পারল প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ খুলে দিতে? ফ্যান্টাসিকে নিজের পায়ে দাঁড় করাতে যে দুটি জিনিস অত্যাবশ্যক, সেই ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিং এবং বিশ্বাসযোগ্য চরিত্রনির্মাণ এই বইয়ে চমৎকারভাবে ঘটেছে। তার সঙ্গে এই গল্প একেবারে আনপুটডাউনেবল হয়ে উঠেছে এর গতির জন্য। রহস্য ব্যাপারটা তেমন জমেনি, কারণ উত্তরগুলো আমরা বুঝতে পারছিলাম। কিন্তু কাহিনিতে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু মোচড় এনেছেন লেখক, যে সব জেনেও বইটা চোখের সামনে থেকে সরানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বইয়ের মুদ্রণ শুদ্ধ। উজ্জ্বল ঘোষ ও পৌষালী পালের অলংকরণগুলো ব্যাপক। তবে এই বইয়ের আসল সম্পদ হল গল্প— যা যাবতীয় লজিক্যাল লুপহোল উপেক্ষা করিয়ে আমাদের একরকম বাধ্য করে চারুর সঙ্গে ছুটে চলতে। ভরসা রাখি যে চারুদত্ত সিরিজের পরবর্তী আখ্যানেও এই রহস্যময়, বিপজ্জনক, অনেকটা চেনা হয়েও অচেনা দুনিয়ায় আমরা এমনই উপভোগ্য এক কাহিনি পাব। ইতোমধ্যে, আর্বান ফ্যান্টাসির ভক্ত হলে এই বইটিকে কোনোমতেই উপেক্ষা করবেন না। অলমিতি।
অসাধারণ টানটান একটি ফ্যান্টাসি থ্রিলার , একবার শুরু করলে শেষ না করে ওঠা মুস্কিল। অদ্ভুত প্রাণীতে শহর ছেয়ে থাকলেও মূল চরিত্ররা সকলেই মানুষ। এই গল্প বাংলার এক কাল্পনিক শহরে গড়ে উঠেছে যেখানে পুলিশ কর্তা থেকে বিচারক সবাই এক খুনিকে মাফ করে দিতে চায় কিন্তু আমাদের নায়িকা তাদের সবার চক্রান্ত ছিন্ন করতে চায় কিন্তু তার পরেই ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। অদ্ভুত ভাবে ওই খুনের সাথে যারা জড়িত তারা একে একে মারা পড়তে থাকে। তার রহস্য উন্মোচন করতে নায়িকা চারু মুখোমুখি হয় এক অদ্ভুত সত্যের। এই চমক টা আমি আগেই অনুমান করতে পেরেছিলাম বলে একটা তারকা কম। এটি বাঙলা সাহিত্যে ফ্যান্টাসি ধারায় এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক, যাদের এরকম সাহিত্য পড়তে ভালো তাদের জন্য অবশ্য পাঠ্য। আশা করি পরবর্তী খণ্ড গুলি আরও উপভোগ্য হবে।
১) যারা হ্যারি পটার, প্রফেসর শঙ্কুর মত ফ্যান্টাসি পড়ে সুখ পেয়েছেন তাদের অটোমেটিক চয়েস। ২) যেকোন ভাষায় কল্পবিজ্ঞান তথা আরবান ফ্যান্টাসির গল্প যারা ভালবাসেন। ৩) গতানুগতিক থ্রিলার গল্পের মধ্যে চমকে দেওয়ার মত পরিবেশনার খোঁজ যারা করেন। ৪) সায়েন্স ফ্যান্টাসি জনরায় "বাঙালির ইন্টারন্যাশনাল লেভেলের কাজ" দেখতে যারা মুখিয়ে থাকেন। ৫) আড়ালে-আবডালে তন্ত্রমন্ত্র এবং "খুলে-আম" কল্পবিজ্ঞান পড়া পাঠক। ____________________________ কেন পড়বেন?
১) ফ্যান্টাসি ধারার গল্পে ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং, চরিত্রায়ণ এবং আনুষঙ্গিক ফ্যান্টাসি পাওয়ার কিংবা ফ্যান্টাসি ইকুইপমেন্টের সাথে গল্পের প্লটের কেমিস্ট্রি সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায়ের সুইফ্ট ম্যাজিকাল লেখায় কতটা ফুটে উঠল, তার স্বাদ নিতে। ২) ধর্মীয় তন্ত্রমন্ত্র ঘরানার বাইরে বিশ্বসাহিত্যের নিরিখে বাঙালির সায়েন্স ফ্যান্টাসির কনটেম্পোরারি স্ট্যান্ডার্ড সম্বন্ধে ধারণা পেতে। ৩) (জটিল ভাবনাচিন্তা সাইডে রেখে) নির্ভেজাল পাঠসুখ পেতে! ___________________________ গল্পের "অতি-সামারি" (স্পয়লার মনে করলে তাই-ই)
গল্পের প্রোটাগোনিস্ট "দিব্যেন্দ্রিয়" চারুহাসিনী দত্ত ইউনিভার্সিটিতে মৃতদেহে (কিছুক্ষণের জন্য) প্রাণসঞ্চারের পার্টটাইম প্র্যাকটিকাল ক্লাস নেওয়ার পাশাপাশি পুলিশকে সাহায্য করে বিভিন্ন ধরনের "অদ্ভুতাঙ্গ" প্রাণীঘটিত অপরাধের কিনারা এবং গবেষণায়। তার সাইডকিক বিশুদা পাক্কা অ্যাকশন ম্যান। দুজনে হঠাৎ জড়িয়ে পড়ে জাঁদরেল অসাধু ব্যবসায়ী সুনন্দন সেনগুপ্তের স্ত্রীয়ের এক অদ্ভুতাঙ্গের হাতে রহস্যজনক মার্ডারের কেসে। কেস আরও জটিল করে দেন শক্তিনগরের পুলিশ চিফ ধীমান এবং সুনন্দনের শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শক্তিনগরে চিড়িয়াখানা ও জঙ্গলে থাকা ভয়জাগানো অতিলৌকিক জীবেদের অবস্থানের পাশাপাশি দুর্নীতিপরায়ণ পুলিশ প্রশাসনের নাকের ডগায় ঘটে চলা অদ্ভুত এক রাসায়নিক ড্রাগের কারবারের রহস্যের ফাঁকেই ঘটতে থাকে আরও নৃশংস কিছু খুন। রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে প্রতিবার আরও বেশি করে বিপাকে জড়িয়ে পড়ে চারু আর বিশুদা। টানটান উত্তেজনায় শেষ পর্যন্ত .... (থাক)। ___________________________ ভালো-মন্দ
১) ভীষণ ঝরঝরে ভাষা। পারফেক্ট পেস। উত্তেজনার পারদের গ্রাফ দুর্দান্তভাবে মেনটেনড। ২) বাংলা ও ইংরাজি মিশিয়ে পরিভাষা ব্যবহার করার কাজ বেশ কঠিন। লেখকের এক্সপেরিমেন্ট অবশ্যই প্রশংসনীয়। ৩) সিরিজে আরও উপন্যাস আসবে বলে টুকটাক কৌতূহল না মেটার স্পট থাকা স্বাভাবিক। আছেও। কিন্তু এর জন্য অতৃপ্তির ন্যূনতম জায়গা নেই। গল্পের এন্ডিং আমার অন্তত ভালো লেগেছে। ৪) বইয়ের প্রোডাকশন এবং প্রুফ রিডিংয়ের কাজ তারিফযোগ্য। ৫) বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ ঠিকঠাক লাগলেও প্রচ্ছদে ব্যবহৃত লেখকের নামের ফন্ট এবং সাইজ ততটা ভালো লাগেনি। ____________________________ পাঠকের পার্সোনাল দাবিদাওয়া
১) পরের পার্টগুলো খুব তাড়াতাড়ি চাই। ২) গল্পের কলেবর আরেকটু বড় হোক। ৩) স্ট্যান্ডার্ড কোন ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এই গল্পের ঝড় তোলা দেখার ওপেন সুপ্ত বাসনা রাখলাম। ৪) সৌম্যদার মুকুটে আন্তর্জাতিক স্তরের বড় স্বীকৃতি দেখার অপেক্ষায় রইলাম। ____________________________
"Monsters are real, and ghosts are real too. They live inside us, and sometimes, they win." - Stephen King
শক্তিনগরের বিলিয়নেয়ার ব্যবসায়ী সুনন্দন সেনগুপ্তর স্ত্রী-র হত্যার তদন্ত করতে গিয়ে অনাবশ্যক ঝাম��লায় জড়িয়ে পড়ল তরুণী দিব্যেন্দ্রিয় চারুহাসিনী দত্ত। অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন কোনো এক জন্তুর আক্রমণে মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার করা হলেও, রক্তাক্ত অকুস্থলে পৌঁছেই চারু বুঝে ফেলল, খালি চোখে যা দেখা যাচ্ছে, বাস্তব চিত্রটা তার চেয়েও ভয়ংকর। আর শক্তিনগরের মতো জায়গায় অপ্রিয় সত্যি কথা বলতে চাওয়ার দাম বড়ো বেশি, তার জন্য প্রাণ চলে যাওয়াও বিচিত্র নয়। এ এক অদ্ভুত রহস্য কাহিনি। এখানে সংগ্রহশালায় বন্দি করে রাখা হয় বিকটদর্শন অতিলৌকিক জীবদের, এখানে রহস্যময় এক নেশার দ্রব্য ইনজেকশনের সিরিজে ভরে রেখে সংঘটিত হয় অকল্পনীয় অপরাধ, একটি মেয়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে চারু জড়িয়ে পড়ে বিরাট এক ষড়যন্ত্রের জালে, আর হত্যারহস্য তদন্তের পেছনে অনিবার্যভাবে চলতে থাকে শুভ-অশুভের চিরকালীন দ্বন্দ্ব।
একে একটি নিখাদ রহস্য কাহিনী বলাই যায়, যার মধ্যে রয়েছে ফ্যান্টাসির মিশেল। লেখক তার প্রলয় সিরিজে যেমন এক অন্য দুনিয়ারই সৃষ্টি করেছিলেন, এখানে ফ্যান্টাসি থাকলেও অনেকটা আধুনিক সময়ের সমাজের ছোঁয়া রয়েছে, কিন্তু রয়েছে বাস্তবতার সাথে অনেক অমিলও। সম্পূর্ণ কাহিনী one-take shot-এর উত্তেজনার মতো নির্মেদ, গতিশীলভাবে এগিয়ে চলে, যা পাঠককে একবারের জন্যও থামতে বা বোর হতে সুযোগ দেয়না। অলৌকিক বস্তু তথা পরিবেশের বর্ণনাগুলি নিপুণভাবে লেখা এবং বইয়ের নাম সম্পূর্ণরূপে সার্থক বলেই আমার মনে হয়।
সামান্য কিছু অভিযোগ রয়েছে (হয়তো স্পয়লার)- ১. বেশ কিছু চরিত্রের আরো একটু স্পেস থাকলে ভালো লাগতো। কিছু চরিত্রের হয়তো পরবর্তী কাহিনীতে সে সুযোগ থাকলেও অনেক চরিত্রের সেই সুযোগ রইলোনা। সেটায় একটু খুঁতখুঁত করলো মনটা। যেমন - বিশুদা চরিত্রটি দিন শেষে সাধারণ সহকারী হয়ে রয়ে গেলো, অলংকরণ দেখে আরো বেশি কিছু আশা করেছিলাম। আশা করি পরবর্তী কাহিনীতে সেটা হবে। ২. কাহিনীর ভিলেনদের চরিত্রগুলো আরেকটু ম্যাচিউর করতে পারতো। ৩. আরো কিছু অদ্ভূতাঙ্গের বর্ণনা / অলংকরণ থাকলে আরেকটু ইন্টারেস্টিং হতো। ৪. কাহিনীর পরিসর আরেকটু বড়ো হলে মনে হয় বিষয়টা আরেকটু জমতো।
আসলে লেখক নিজেই তার স্ট্যান্ডার্ড এত ভালো সেট করেছেন অলরেডি, তাই তার থেকে প্রত্যাশা সবসময়ই একটু বেশি থাকে।
সবশেষে, সর্বপ্রথমে উল্লিখিত Stephen King-এর লাইনের পরিপ্রেক্ষিতেই বলবো, অমানুষ কিন্তু মানুষের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে, তার জন্য না-মানুষের প্রয়োজন হয় না।
সদ্য পড়ে শেষ করলাম বিষনিদ্রা। এটি লেখকের এক অভিনব প্রচেষ্টা এবং আমার পড়া প্রথম বাংলা urban fantasy ঘরানার উপন্যাস। গল্পে লেখক তৈরি করেছেন ‘দিব্যেন্দ্রিয়’ নামক এক নতুন শ্রেণির চরিত্র, চারুহাসিনী দত্ত ওরফে চারু হল এদের মধ্যে অন্যতম একজন। শক্তিনগর অঞ্চলে একের পর এক ‘অদ্ভুতাঙ্গ’-এর হাতে ঘটে যাওয়া রহস্যময় হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নামে চারু ও তার বিশ্বস্ত সহযোগী বিশুদা।
গল্পের গতি ঝরঝরে, এবং লেখকের ভাষা সাবলীল। তবে, বইটির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা তার প্লট। অনেকাংশে এটি একটি সান্ধ্য বাংলা টেলিভিশন সিরিয়ালের মতই আবহ তৈরি করে। Urban fantasy ঘরানায় একটি বিশ্বাসযোগ্য এবং সুগঠিত জগত তৈরির জন্য যতটা গভীরতা এবং ব্যাখ্যার প্রয়োজন, তা এই গল্পে অনুপস্থিত। উদাহরণস্বরূপ, ‘অদ্ভুতাঙ্গ’ ঠিক কী, কীভাবে তারা অন্য হিংস্র প্রাণীদের থেকে আলাদা, কেন বা কেবল দিব্যেন্দ্রিয়দের দ্বারাই তাদের দমন সম্ভব — এইসব প্রশ্নের কোনও সন্তোষজনক উত্তর দেওয়া হয়নি।
প্রধান চরিত্র চারুকেও খুবই দুর্বল একটি চরিত্র বলে মনে হয়েছে।
তবে বইটির ফিজিক্যাল কোয়ালিটি এককথায় অনবদ্য। কল্পবিশ্ব-এর প্রিন্ট ও বাইন্ডিং নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। হার্ডবাউন্ড সংস্করণে প্রকাশিত এই বইটির কোনও dust cover না থাকলেও, অভ্যন্তরের অলংকরণ ও ছাপার মান যথেষ্ট ভালো, যা পড়ার অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে।
বই রিভিউ বিষ নিদ্রা সৌম্যসুন্দর মুখোপাধ্যায় কল্প বিশ্ব
এটা একটা রহস্য উপন্যাস।শুরু হয়েছে একটা খুন দিয়ে।এটা একটা বিশেষ সিরিজ লেখক শুরু করতে চলেছেন।এটা গোয়েন্দা আর ফ্যান্টাসির মিশ্রণ।এই টাইপের উপন্যাস আগে পড়িনি।এই উপন্যাসে অনেক নতুন ফ্যান্টাসি উপাদান আছে।অনেক নতুন শব্দ তৈরী করা হয়েছে। দিব্যেন্দ্রীও, সোম চূর্ণ, অদ্ভূতাঙ্গ, চিতকারনি ইত্যাদী। গল্প প্রথম থেকে শেষ অবধি একটানা পড়ে যাওয়া যায়।শেষের চমক আর সাসপেন্স টা দারুন।মনে হয় এর আরো অনেক পর্ব আসবে।দেখা যাক আর কি চমক সামনে আসে। আমার রেটিং। 5/5