আবুল মনসুর আহমদ বাংলাদেশের সাহিত্যের অনন্য শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গ-গল্পকার। শুধু বাংলাদেশের নয়, বাংলা সাহিত্যেরও একজন শ্রেষ্ঠ ব্যঙ্গ-গল্পকার তিনি। ব্যঙ্গাত্মক গল্পের কদর পৃথিবীর প্রায় সকল দেশের সাহিত্যেই রয়েছে। তার ব্যঙ্গ-গল্পগ্রন্থের সংখ্যা চার : ‘আয়না’, ‘ফুড কন্ফারেন্স’, ‘আসমানী পর্দা’ (১৯৫৬) ও ‘গালিভরের সফরনামা’। গ্রন্থগুলোতে গল্প ছাড়াও অন্যান্য রস-রচনাও রয়েছে। ১৯৫৭ সংস্করণ ‘আসমানী পর্দা’র মোট দশটি রস-রচনার মধ্যে তিনটি প্যারডি-কবিতা, দুটো নাট্যচিত্র এবং পাঁচটি ব্যঙ্গ-গল্প (‘খাজা বাবা’, ‘আহ্লে সুন্নত’ ‘আদুভাই’, ‘নিমক হারাম’ ও ‘ইউনিটি ইন্ ডাইভার্সিটি’)। ‘গালিভরের সফরনামা’য় নাট্যচিত্র দুটো, ব্যঙ্গ-গল্প সাতটি (‘গালিভরের সফরনামা’, ‘বন্ধু-বান্ধবের অনুরোধে’, ‘অনারেবল মিনিস্টার’, ‘আহা! যদি প্রধানমন্ত্রী হতে পারতাম,’ ‘চেঞ্জ-অব-হার্ট’, ‘মডার্ণ ইব্রাহিম’ ও ‘ইলেকশন’) এবং অভিনব আঙ্গিকে দুটো ব্যঙ্গ-রচনা (‘রাজনৈতিক বাল্য-শিক্ষা’ ও ‘রাজনৈতিক ব্যাকরণ’) রয়েছে। ‘আয়না’র সাতটিই ব্যঙ্গ-গল্প : ‘হুযুর কেবলা’, ‘ গো দেওতা-কা দেশ’, ‘নায়েবে নবী’, ‘লীডরে কওম’, ‘মুজাহেদীন’, ‘বিদ্রোহী সংঘ’ ও ‘ধর্মরাজ্য’। ‘ফুড কন্ফারেন্স’ মোট নয়টি ব্যঙ্গ-গল্পের সমাহার : ‘ফুড কন্ফারেন্স’, ‘সায়েন্টিফিক্ বিযিনেস’, ‘এ.আই.সি.সি.’, ‘লঙ্গরখানা’, ‘রিলিফ ওয়ার্ক’, ‘গ্রো মোর ফুড’, ‘মিছিল’, ‘জমিদারি উচ্ছেদ’ ও ‘জনসেবা য়ুনিভার্সিটি’। অর্থাৎ চারটি ব্যঙ্গগল্প-গ্রন্থে মোট আটাশটি গল্প। আবুল মনসুর আহমদের গল্পের পেছনে তীক্ষè সমাজচেতনা বা সমাজ-কল্যাণ উদ্দেশ্য কাজ করেছে। গল্পগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ ও পরিহাস-প্রিয়তা। তবে নিছক পরিহাসই লেখকের উদ্দেশ্য ছিলো না।
Abul Mansur Ahmed (Bangla: আবুল মনসুর আহমেদ) (1898–1979) was a Bangladeshi politician and journalist. His political career helped him writing political satire. He is the most famous political satirist in Bangla literature.
He was honored with Bangla Academy Award in 1960 and Swadhinota Dibosh Padak (Independence Day Medal) in 1979. Tahmima Anam is his granddaughter.
"আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর"- আবুল মনসুর আহমেদের আত্মজীবনীমূলক বইটা পড়ে তার রাজনৈতিক,সাংবাদিক,সাহিত্যিক জীবন সম্বন্ধে জানতে পারি। স্যাটায়ার লিখেন এটাও জানা ছিলো কিন্তু এতটা অসাধারণ সেটা জানতাম না।তৎকালীন ভারতবর্ষ ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক,ধর্মীয় ও সামাজিক অবস্থার বিদ্রুপাত্মক বর্ণনা আছে তার ছোট ছোট গল্পগুলোতে।বাঙালী জাতি তথা কতিপয় বাঙালী মুসলমান সমাজের বিতর্কিত তিক্ত কিছু সত্যকে ব্যাঙ্গ লেখার মাধ্যমে বেশ একহাত দেখিয়ে দিয়েছেন।তৎকালীন অবস্থার ধারাবাহিকতা এখনও যে আমাদের এই শতাব্দীতে বিদ্যমান তা দেশের পরিস্থিতি দেখলেই পরিমাপ করা যায়।