During the decade of the 1960s, a darkness had descended on West Bengal and Kolkata. In the midst of widespread political turmoil and anarchy, the ordinary, educated, middle class had become fearful and craven. Against this backdrop, the titular protagonist, at once a non-entity and an everyman, dares to confront life with a burning question: What is the point of it all? Just existing in order to carry the burden of a million disgraces for one more day? Mere survival at any cost? Is it worth the trouble? The answer doesn't come easily to him. A victim of many misfortunes, he stands at the edge of death and reckons with his little life, determined, if not to find some real value in it, then, at least, to make a true assessment of its insignificance.
৫ আষাঢ় ১৩৩০, ২২ জুন ১৯২৩, বাংলাদেশের যশোর জেলার হাট গোপালপুর গ্রামে জন্ম। প্রাথমিক পড়াশোনা শ্রীহট্ট জেলার এক চা-বাগানে। স্কুলের দরজা পার হন নবদ্বীপে। ১৯৪৫ সালে আই এস-সি পাশ করেন। ১৯৪১ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত তিনি ক্রমাগত পেশা বদলেছেন। প্রাইভেট টিউটর, ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, খালাসি, রেস্তরাঁয় বয়, ট্রেড ইউনিয়ন অর্গানাইজার, ইস্কুল মাস্টার থেকে ভ্রম্যমান নৃত্য-সম্প্রদায়ের ম্যানেজার,ল্যান্ডকাস্টমস ক্লিয়ারিং কেরানি, প্রুফ রিডার। ১৯৭৫ সালের মিসা (MISA) অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ জন-নিরাপত্তা আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সাংবাদিকদের অধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য বহু নির্যাতন সহ্য করেও নিরন্তর সংগ্রামের ব্রতী ছিলেন। এই মানবতাবাদী লেখক ও সাংবাদিক সম্মানিত হয়েছেন বহু পুরস্কারে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য আনন্দ পুরস্কার (১৯৭০), কো জয় উক স্মৃতি-পুরস্কার (১৯৭৬), খো যাই স্মৃতি-পুরস্কার (১৯৭৮), ম্যাগসাইসাই পুরস্কার (১৯৮১), এবং বঙ্কিম পুরস্কার (১৯৮২)। মৃত্যু : ১৫ ডিসেম্বর ২০০০।
ইন্টার্নলাইফে খুব খেটে কাজ করতাম। একবার আমার কাজিনের বিয়েতে গিয়েছি, খুব দ্রুত ফিরেও এসেছি কাজ করার জন্য। আমার আরেক সিনিওর কাজিন মন্তব্য করেছিলেন ওকে 'তুমি খুব ভালো ইন্টার্ন, তুমি ছাড়া ওয়ার্ড চলবেনা' এই ধরনের স্তোকবাক্যে ভুলানো হয়েছে। কথাটা গায়ে লেগেছিল তখন খুব। মনে হচ্ছিল, ওয়ার্ড হয়তো চলবে, তবে নিশ্চয়ই ভালোভাবে না! নিশ্চয়ই আমি গুরুত্বপূর্ণ। এমন অনুভূতি হঠাৎ হঠাৎ কাঁচা বয়সে লোকটার মতো অনেকেরই হয়ে থাকে। লোকটা যেমন প্রতিবাদ করতে চায় অন্যায়ের কিন্তু পারিপার্শ্বিকতা আর বাস্তবতার চাপে হয়ে ওঠে না, তেমনি অসংখ্য মানুষ আশেপাশে দেখি। দেখি যে কেন জানি না তারা আপোষ করে দিব্যি আছে। ঠিকঠাক ডিউটি করেও প্রতিষ্ঠানের দণ্ডমুণ্ডের কারো কারো থেকে তাই ধাতানি শুনতে হয় যারা কাজ বেশি করে তাদেরই। লোকটা উপন্যাসের মাধ্যমে গৌরকিশোর ঘোষ যেভাবে মধ্যবিত্ত জীবনের সংকট এঁকেছেন তা এক কথায় অতুলনীয়। এই সংকট চিরন্তন। ছোট ছোট বাক্যে, মাঝে মাঝে উপযুক্ত চিত্রকল্প সৃষ্টি করে রূপদর্শী তাঁর দর্শন করা নানা জীবনের রূপই যেন পাঠকের সামনে তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন৷ অনেক দিন ধরেই চাইছিলাম অন্তত একটা গৌরকিশোর পড়ি। অবশেষে পড়া হল। বইটি ক্লাসিকের তালিকায় কেন নেই, কেন খুব কম মানুষ জানে এর কথা ভেবে আফসোস হচ্ছে।
"লোকটা"র কোনো নাম নেই। কারণ লোকটা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি না। এই লোকটা আপনি, আমি বা যে কেউ হতে পারে; তাই তার একমাত্র পরিচয় "লোকটা।" নাম না দিয়ে "লোকটা" বলে উল্লেখই লেখকের মাস্টারস্ট্রোক। সে যে কোনো সাধারণ মধ্যবিত্ত তরুণ, যুবক বা মধ্যবয়স্ক মানুষের প্রতিনিধি। ছোট ছোট ঘটনায়, কোনো বাড়তি আবেগ না চাপিয়ে, একদম নিস্পৃহভাবে, তীক্ষ্ণ সংলাপের সাহায্যে গৌরকিশোর ঘোষ যেভাবে পুরো একটা প্রজন্মের ট্র্যাজেডি তুলে ধরলেন তাতে বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। এই ক্ষুদ্রকায় উপন্যাসটি আরো অনেক ভালোবাসা ও আলোচনার দাবি রাখে।
সে বলল, "আমাকে আপনারা যা ভাবছেন, সে কাজ (আমি করতে পারবো না) আমার দ্বারা ভালোভাবে (আমি পারবো না, পারবো না) হবে বলে (আমাকে এর মধ্যে জড়াবেন না, দোহাই) আমার বিশ্বাস নেই। আপনারা বরং উপযুক্ত একজন কাউকে..."
কে বলল?
"সে স্বার্থপর, নিজের স্বার্থরক্ষার জন্য অন্যের স্বার্থকে বিসর্জন দিতে সে কুণ্ঠিত নয় -এই সরল কথাটা স্বীকার করে নিলেই চুকে যেত। সে রেহাই পেতে পারত। কেন সে কথাটা স্বীকার করল না? কেন পারল না? কেন কথাটা তার গলায় বেধে গেল?- এই যন্ত্রণাদায়ক রহস্যের কিনারা লোকটা করতে পারল না। দেয়ালের দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে শান্ত, নিরুত্তেজ এবং স্পষ্টভাবে প্রশ্নটা দেয়ালে ছুড়ে মারল "আমি কি আস্ত একটা সং নই?"
কে স্বার্থপর?
"ওদের বোঝাতে পারিনি যে, আমাকে আমি বিক্রি করে দিয়েছি। নিলামে যে সবথেকে বেশি ডাক দিয়েছে সে-ই আমাকে কিনে রেখেছে।স্থায়ীত্বই আমার প্রভু। আমি এখন নিরাপত্তার ভূমিদাস ছাড়া আর কিছু নই।"
কে সে নিরাপত্তার ভূমিদাস? -কেন? -ঐ যে লোকটা! কোন লোকটা? -আরে ঐ লোকটা... কে এই লোকটা? -গৌরকিশোর ঘোষের 'লোকটা' নাম নেই নাকি? -না নাম নেই। ওমা! সেকি! তাহলে চিনবো কি করে? -কেন? ঐ লোকটা তো আমি/তুমি/তুই/সে/আপনি/তিনি... বা যে কেউ! একটু চিন্তা করে দেখলে হয়তো বোঝা যাবে, এইযে লোকটা আমাদের মনের দ্বিচারিতারই তো প্রতিনিধিত্ব করে।
স্বীকার করতে বাধে বুঝি? কিন্তু অস্বীকারও কি করা যায়?
নিম্ন মধ্যবিত্ত ছা পোষা একটা লোক; যে সব জায়গাতেই অন্যায়ের বিদ্রোহ করতে চায় কিন্তু সাহসে কুলায় না বিধায় করতে পারে না। আমরা তাকে কাপুরুষ বলতে পারি। নির্বিকার বলতে পারি। আত্মসম্মানহীন বলতে পারি। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে দুজন ই সমান অপরাধী বলে কাঠগড়ায় তুলে সহজেই একটা সাজা দিয়ে দিতেই পারি কিন্তু লোকটা যে কত খানি নিরুপায় তা আমাদের জানা আছে কি? আমরা একে অন্যের কষ্ট দেখলে খুব আন্তরিকভাবে পিঠে বা মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে আস্বস্ত করি যে ''তোমার অবস্থটা আমি বুঝি'' আসলে বুঝি ঘোড়ার ডিম। মানুষ কতটা নীচ আর ইতর হলে এরকম একটা মিথ্যা সান্ত্বনা অন্য কোন মানুষ কে ঠান্ডা মাথায় দেয় ভাবতে পারেন? আপনার ক্ষতির পরিমাণ আর পরিনাম কোনটাই আমার বুঝার সাধ্য কখনোই ছিলো না ,হবে না, হতে পারে না এই সুন্দর সত্যটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এরকম লোক দেখানো ছলনার আশ্রয় নেওয়া কি খুবই দরকার? সামাজিকতা দেখাতে গিয়ে কপটতার আশ্রয় নেওয়াটাও কি এক ধরনের কাপুরষতার পরিচয় নয়? লোকটা কিন্তু নিজের বিরুদ্ধে নিজে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে চলে। চলতেই হয়। এত সামান্য একটা চাকুরী করে যে, ষড়যন্ত্র টা না করলে সুখে থাকা দুষ্কর। সামান্য চাকুরীর সামান্য বেতনে নিজেকে চালানোর সাথে সাথে অসামান্য সংসার টাও সামান্য টেনেটুনে কোনমতে চলে যায়। দুটো ইনক্রিমেন্টের ব্যবস্থা করা বস তার মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে খুব খাটিয়ে নেয়। এই ইনক্রিমেনট প্রাপ্তি ও বসের পছন্দের পাত্রের দোহাই দিয়ে কোম্পানির বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে কথা বলার জন্য অফিসের অন্য সহকর্মীরাও এই নিরীহ লোকটিকেই নির্বাচন করে। তা উপযুক্ত নির্বাচন ই বটে! আমাদের সমাজে কিছু মানুষ আছে যারা ভেতরে ভেতরে সারাজীবন 'না' বলে চিৎকার করতে করতে সামনাসামনি শুধুমাত্র 'জ্বী আচ্ছা' বলে কাটিয়ে দেয় তার গোটা জীবন। লোকটাও তেমন। কাউকেই না বলতে না পারা লোকটার সন্তান যখন তার অফিসের গাড়িতে উঠার জন্য বায়না করে তখন সে না করতে পারে না। বস যখন অফিসের কারা কারা তাকে সুপারিশ করতে পাঠিয়েছে জানার জন্য নামধাম জানতে চায় তখন ও না করতে পারে না।পছন্দের মানুষটা যখন কোন রেস্তোরাঁয় বসে খেতে চায়, পকেট কমজোর থাকলেও না বলতে পারে না। ভাগ্যদেবতা যখন তাকে নিয়ে নির্মম পরিহাস করতে করতে হাততালি দিতে থাকে, তার প্রচন্ড অপমানে লাগলেও সে না করতে পারে না। কিন্তু সে একবার 'না' বলেছিলো। উল্টো দিক থেকে যখন একটা ট্যাক্সি তার অফিসের গাড়ি বরাবর ধেয়ে এসেছিলো তখন সে চিৎকার করে ট্যাক্সির ড্রাইভার কে 'না' বলেছিলো। কিন্তু হতভাগা ড্রাইভার তার 'না' বলতে না পারা মুখের প্রথম 'না' টা শেষ পর্যন্ত শুনতে পেরেছিলো কি?
গৌরকিশোর ঘোষ-এর ‘লোকটা’ কি কোনো কাল্পনিক চরিত্র? না। সে অত্যন্ত বাস্তব। এই লোকের মাঝেই আমরা সবাই নিজেদের খুঁজে পাই।
যদিও পুরোপুরিভাবে কোন��� একক মানুষকে ‘লোকটা’ ফুটিয়ে তুলে না, বরং, আমরা সবাই জীবনের নানা সময়ে এমন সব কাজ করি বা করতে বাধ্য হই, সেগুলোই আবার এই উপন্যাস পড়তে গিয়ে মনে পড়ে যায়।
প্রটাগনিস্টের নাম নেই, লোকটা বলা হয়েছে। লেখকই তো ওই লোক, তিনিই নিজেকে বাইরে থেকে তার অন্তর্দ্বন্দ্ব পর্যবেক্ষণ করছেন। আমরাও, মানে সাধারণ অর্থহীন (উভয়ার্থেই) মানুষেরা এই দ্বন্দ্বে জড়িয়ে থাকি। কথা বলতে চাই কিন্তু বলা হয়ে ওঠে না কখনো। তাই আমাদের ভেতরে দুটো সত্ত্বা তৈরি হয়। একটা এই অপকর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে বলে; অন্যটি কেন বিদ্রোহ না করাই শ্রেয় তার ব্যাখ্যা দেয়। এবং শেষোক্ত জন-ই জয়ী হয় আমাদের ক্ষেত্রে। লেখকের কথায় "আমি এখন নিরাপত্তার ভূমিদাস ছাড়া আর কিছু নই।" মানে আমি আমার বেঁচে থাকার নিরাপত্তার কাছে বন্দি। তাই যতই নৈতিক দ্বন্দ্ব মনের মধ্যে উদ্বুদ্ধ হোক না কেন আমাদের করার কিছু থাকে না, এই নিরাপত্তার লক্ষ্মণরেখা অতিক্রম করা অসাধ্য।
"ওদের বোঝাতে পারিনি যে, আমাকে আমি বিক্রি করে দিয়েছি। নিলামে যে সবথেকে বেশি ডাক দিয়েছে সে-ই আমাকে কিনে রেখেছে।স্থায়ীত্বই আমার প্রভু। আমি এখন নিরাপত্তার ভূমিদাস ছাড়া আর কিছু নই।"
বছরের শেষ প্রান্তে এসে গৌরকিশোর ঘোষকে আবিষ্কার করলাম হারুণ ভাইয়ের কল্যাণে। ২০২৪ কে মনে রাখার মতো আরও একটা কারণ পাওয়া গেলো!