Jump to ratings and reviews
Rate this book

কাল-কূট

Rate this book
উত্তরবঙ্গের এক মফস্বল শহর দরিয়াগঞ্জ।

সেখানকার লোকাল থানায় ইন-চার্জ হিসেবে বদলি হয়ে এলেন কালীচরণ। নতুন শহরে পা দিয়েই এক অদ্ভুত রহস্যের মুখোমুখি হলেন তিনি। দরিয়াগঞ্জের আতঙ্ক লালবাড়ির ধ্বংসাবশেষ এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীত বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিনশো বছর ধরে। এই লালবাড়ির ভেতরেই পাওয়া গেল স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার কন্যা মেধার মৃতদেহ। কিন্তু এইই প্রথম নয়, কালীচরণ জানলেন এই বাড়িতে আগেও একইভাবে খুন হয়েছে মেয়েরা। স্থানীয় মানুষদের ধারণা এসব কোনও মানুষের কাজ নয়; বরং হত্যাগুলি সব লালবাড়ির অভিশপ্ত অতীতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তে নেমে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসতে লাগল কালীচরণের সামনে। একটি জীর্ণ ধ্বংসস্তূপ, এক ভয়ঙ্কর অতীত, তাকে ঘিরে রাজনীতি, হত্যা, ষড়যন্ত্র ও এক অসম লড়াই। কালীচরণ কি পারবেন লালবাড়ির এই ধারাবাহিক হত্যারহস্যের সমাধান করতে?

181 pages, Hardcover

First published February 28, 2022

34 people want to read

About the author

Somaja Das

17 books9 followers
সোমজা দাসের জন্ম উত্তরবঙ্গের জেলাশহর কোচবিহারে। সেখানেই বেড়ে ওঠা। বাংলা সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা সেই শৈশব থেকে। জলপাইগুড়ি গভর্নমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন এবং কলকাতায় একটি বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় কর্মজীবন শুরু করেন। লেখকের এখন অবধি প্রকাশিত একক বইগুলি হল ‘এক কুড়ি পাঁচ গল্প’, ‘টাপুরদির গোয়েন্দাগিরি’, ‘কৃষ্ণগহ্বর’ ও ‘নিকষিত হেম’, ‘কাল-কূট’ ও ‘মৃতেরা কোথাও নেই’। আনন্দবাজার এছাড়াও পত্রিকা, আনন্দমেলা, কিশোর ভারতী, বর্তমান পত্রিকা, সাপ্তাহিক বর্তমান, সুখী গৃহকোণ, উত্তরবঙ্গ সংবাদ, গৃহশোভা ও আরও অনেক পত্রপত্রিকা ও গল্প সংকলনে লিখেছেন এবং লিখছেন। লেখালেখি ছাড়াও প্রচুর পড়তে ভালোবাসেন তিনি। নিজেকে তিনি লেখকের চাইতে মগ্ন পাঠক হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
9 (39%)
4 stars
9 (39%)
3 stars
4 (17%)
2 stars
1 (4%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 9 of 9 reviews
Profile Image for Joydeep Chatterjee.
55 reviews6 followers
April 25, 2023
উত্তরবঙ্গের এক মফস্বল শহর দরিয়াগঞ্জ। সেখানকার লোকাল থানায় ইন-চার্জ হিসেবে বদলি হয়ে এলেন কালীচরণ। নতুন শহরে পা দিয়েই এক অদ্ভুত রহস্যের মুখোমুখি হলেন তিনি। দরিয়াগঞ্জের আতঙ্ক লালবাড়ির ধ্বংসাবশেষ এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীত বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিনশো বছর ধরে। এই লালবাড়ির ভেতরেই পাওয়া গেল স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার কন্যা মেধার মৃতদেহ। কিন্তু এইই প্রথম নয়, কালীচরণ জানলেন এই বাড়িতে আগেও একইভাবে খুন হয়েছে মেয়েরা। স্থানীয় মানুষদের ধারণা এসব কোনও মানুষের কাজ নয়; বরং হত্যাগুলি সব লালবাড়ির অভিশপ্ত অতীতের সঙ্গে সম্পর্কিত। তদন্তে নেমে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসতে লাগল কালীচরণের সামনে। একটি জীর্ণ ধ্বংসস্তূপ, এক ভয়ঙ্কর অতীত, তাকে ঘিরে রাজনীতি, হত্যা, ষড়যন্ত্র ও এক অসম লড়াই। কালীচরণ কি পারবেন লালবাড়ির এই ধারাবাহিক হত্যারহস্যের সমাধান করতে? সোমজা দাসের টাপুরদির চরিত্রটির পর রহস্যগল্পের নায়ক হিসাবে আবির্ভাব ঘটল আরেকটি চরিত্রের, ইনস্পেকটর কালীচরণের।

▪️'কাল-কূট' একটি সুখপাঠ্য থ্রিলার হওয়ার প্রথম এবং প্রধান শর্তটিই পূরণ করতে সমর্থ হয়, লেখিকা কাহিনি এবং কাহিনির চরিত্রগুলিকে বাস্তবের মাটিতে, আক্ষরিক অর্থেই মাটির কাছাকাছি রেখে নির্মাণ করেছেন। কাহিনির প্রটাগনিস্ট পুলিশ অফিসার কালীচরণ, আমার-আপনার মতোই একজন আদ্যন্ত সাধারণ রক্তমাংসের মানুষ। নায়ক হিসাবে তিনি অন্য 'কিছু কিছু' রহস্য কাহিনির প্রটাগনিস্টের মত সুপারম্যান নন।

▪️কালীচরণের পাশাপাশি অন্যান্য চরিত্রগুলিকেও অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যভাবে গড়ে তুলেছেন লেখিকা, তাদের ভূমিকা, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, খুঁটিনাটি ডিটেলিং গল্পের পরিবেশ এবং প্লটের সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ।

▪️কলকাতার সুযোগসুবিধার বাইরেও, মফস্বলের প্রেক্ষাপটে একটি বাস্তবধর্মী রহস্যকাহিনি গড়ে তুলতে লেখিকা সোমজা দাস সফল। একটি মফস্বল অঞ্চলের সামাজিক-রাজনৈতিক অ্যাঙ্গেলগুলি কাহিনির মধ্যে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তিনি ব্লেন্ড করেছেন। গল্প অনর্থক জটিল হয়নি। পড়ার পরে পাঠকের কাছে কোনো প্রশ্নের উত্তরই যেমন অজানা থাকে না, আবার কাহিনিতে সারপ্রাইজ এলিমেন্ট বা উপযুক্ত টুইস্ট যথেষ্ট আছে বলে ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে।

▪️'কাল-কূট' কাহিনিতে মানবমনের যে জটিল মনস্তাত্ত্বিক দিকটিকে কেন্দ্র করে লেখিকা অত্যন্ত সুন্দরভাবে এই কাহিনির জাল বুনেছেন, শুধুমাত্র তার জন্যই ফুলমার্কস দেওয়া যেতে পারে উপন্যাসটিকে। ব্যক্তিগতভাবে আমার ভীষণ পছন্দ হয়েছে।

▪️শিল্পী ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যের করা দুই মলাটের মধ্যের অলংকরণগুলি অপূর্ব। পাঠক হিসাবে ব্যক্তিগত আর্জি, তাঁর আরো কয়েকটি অলংকরণ যদি এই কাহিনিতে পরবর্তী মুদ্রণে যুক্ত করা যায়।

▪️'কাল-কূট' এর মত টানটান, গতিশীল একটি কাহিনি অতি অবশ্যই অন্যান্য থ্রিলারপ্রেমী পাঠকদের পড়তে অনুরোধ জানাব, আশা করি তারা হতাশ হবেন না। লেখিকাকে একইসঙ্গে পাঠক হিসাবে ধন্যবাদ এবং অভিনন্দন জানাই নিন্দেমন্দ করে বিরাগভাজন হওয়ার আগে।

আসি কিছু অপছন্দের জায়গায়,

▪️কাহিনির প্রারম্ভিক পর্বে 'সে', 'তার' দিয়ে লেখিকা কোন এক অজানা চরিত্রের সঙ্গে পাঠকের পরিচয় করাচ্ছেন। কিন্তু বারবার 'সে', 'তার' শব্দগুলির ব্যবহার আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে একদমই শ্রতিমধুর নয়। কাহিনির প্রয়োজনে বা আবহনির্মাণের প্রয়োজনে হয়তো দরকার ছিল এমন দাবি সোমজা করতে পারেন, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার তা মনে হয় না। অন্যভাবেও হয়তো বাক্যগুলি কিছু কিছু জায়গায় পরিবর্তন করা যেত। ইনফ্যাক্ট উপন্যাসটির তিন-চার জায়গায় আমার বাক্যগঠন বেশ দুর্বল লেগেছে। 'কৃষ্ণগহ্বর' পড়ার সময়ে যা আমার মনে হয়নি।

▪️কাহিনির বিস্তার অত্যন্ত সুন্দরভাবে হলেও যবনিকা পতনের ক্ষেত্রে লেখিকা হঠাৎ করেই যেন তাড়াহুড়ো করে ফেললেন। গল্পের ঝাঁপি ফেলতে গিয়ে টানটান একটি রহস্যকাহিনির মধ্যে সাপের ঝাঁপি খুলে দেওয়া আমার কিঞ্চিত আরোপিত মনে হয়েছে। অন্যভাবেও হয়তো শেষ করা যেত।

▪️কৃষ্ণেন্দু মন্ডলের প্রচ্ছদটিও মোটামুটি। আহামরি লাগেনি।

▪️আসি সবশেষের কথায়। একটি ভালো কাহিনি পড়ার সাথে সাথে সবথেকে তৃপ্তির জায়গা হয়তো বইটি মুদ্রণ এবং বর্ণশুদ্ধির দিক থেকেও সুন্দর এবং ত্রুটিমুক্ত হলে। কাল-কূট বইটির প্রোডাকশন সুন্দর, অরণ্যমন প্রকাশনী যেমন কাজ করে, সেইরকম করলেও বইটিতে অসংখ্য মুদ্রণ প্রমাদ। অথচ সেইভাবে অন্যান্য পাঠকদের প্রতিক্রিয়াতে লেখিকা এবং প্রকাশনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে দেখিনি। একটি বইয়ের দ্বিতীয় মুদ্রণেও এত মুদ্রণ প্রমাদ প্রিয় প্রকাশনীর কাছ থেকে অনভিপ্রেত।

বেশ কিছু উদাহরণ নিজের স্বপক্ষে রেখে যাই,

১/ বইয়ের ভূমিকায় 'তুখোড়' বানানটি ভুল।
২/ 'ঠগ বাছতে গাঁ উজাড়' কাহিনির দুই জায়গাতেই 'ঠক' শুধু হয়নি, ১০০ পাতায় সেটি 'ঠক বাঁছতে গা উজাড়' হয়েছে।
৩/ 'তদন্তসাপেক্ষ' , 'অভিশাপজর্জর' , 'পড়েছিল' শব্দগুলির বানান 'তদন্ত সাপেক্ষ' , 'অভিশাপ জর্জর' , 'পড়ে ছিল' হয়ে আছে।
৪/ চরিত্রগুলির পদবী বা নামের বানান ভুল পেয়েছি দু-তিন জায়গায়।
৫/ বহু জায়গায় যতিচিহ্নের ব্যবহারে মুদ্রণ প্রমাদ, কোটেশন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও মুদ্রণ প্রমাদ চোখে পড়েছে।
এছাড়াও আরো বেশ কিছু উল্লেখ করা যেত।

শুধুমাত্র এই মুদ্রণ প্রমাদের কারণেই 'কাল-কূট' উপন্যাসটিকে ৪* দিতে বাধ্য হলুম। লেখিকা এবং প্রকাশনীকে অনুরোধ জানাই পরবর্তী মুদ্রণের আগে বইটির প্রুফরিডিং আরেকবার যদি করা যায় এবং উপযুক্ত ব্যক্তিকে দিয়ে।

*******************************

।। কাল-কূট ।। সোমজা দাস ।।
অরণ্যমন প্রকাশনী
মূল্য - ২৭৫.০০
অলংকরণ - ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য
প্রচ্ছদ - কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,877 followers
June 24, 2022
উত্তরবঙ্গের এক সীমান্ত-ঘেঁসা আধা মফস্বল, আধা গ্রাম হল দরিয়াগঞ্জ। সেখানে থানার বড়োবাবু হয়ে এলেন ইন্সপেক্টর কালীচরণ। ক'দিনের মধ্যেই তিনি মুখোমুখি হলেন এক তরুণী'র হত্যারহস্যের। ক্রমে বোঝা গেল, এ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। শহরের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাচীন লালবাড়ির মধ্যে এর আগেও পাওয়া গেছে একাধিক তরুণীর মৃতদেহ।
এলাকার বাসিন্দাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ওই বাড়ির প্রাক্তন এক বাসিন্দার প্রেতাত্মাই এই মৃত্যুগুলোর জন্য দায়ী। তাদের অন্ধ ভীতি, এক চতুর প্রোমোটারের পরিকল্পনা, কয়েকজনের ক্রোধ, আর রাজনীতি— এই বিস্ফোরক চতুরঙ্গের কেন্দ্রে চলে এল লালবাড়ি। কিন্তু কালীচরণ কিছুতেই এই অলৌকিক ব্যাখ্যাটি মানতে পারলেন না। নিজের অতীতের অন্ধকার আর নানা বিশ্বাস ও এজেন্ডার ব্যূহ ভেদ করে তিনি এগিয়ে চললেন সত্যের সন্ধানে।
কালীচরণ কি পারলেন সেই সত্যকে সবার সামনে আনতে? নাকি তিনি হারালেন নিজের একমাত্র সন্তানকেও?
ক্লান্ত দেহ ও মন নিয়ে বইটা পড়া শুরু করেছিলাম। ভেবেছিলাম, কয়েকটা অধ্যায় পড়ে রেখে দেব। কিন্তু এ এমনই শ্বাসরোধী লেখা যে একটানে শেষ না করে ছাড়তে পারিনি। তাই প্রথমেই বলি, আনপুটডাউনেবল থ্রিলারের প্রথম শর্তটিই এই বই সসম্মানে পূরণ করেছে। এ-ছাড়া কী-কী করেছে এই বইটা?
প্রথমত, নিছক খুনখারাপি ছাপিয়ে এই বই হয়ে উঠেছে আমাদের সময়ের একটি দলিল। ছোট্ট 'ভূমিকা'-তে লেখক কাহিনির নামকরণের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমি তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। ধাবমান নয়, আমাদের চারপাশে কাল ক্রমেই এক কুটিল ও জটিল আবর্ত হয়ে দেখা দিচ্ছে— যার থেকে অমৃতের ভেক ধরে উঠে আসছে গরল। এই কাহিনি সেই কুটিল কাল তথা গরলেরই।
দ্বিতীয়ত, একটি রহস্য উপন্যাসে এত ভালো চরিত্রচিত্রণ দেখার সৌভাগ্য সচরাচর হয় না। প্রতিটি, এমনকি এক ঝলকের জন্য দেখা দিয়ে সরে যাওয়া নিতান্ত পার্শ্বচরিত্রদেরও অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য আর বাস্তবানুগ করে পরিবেশন করা হয়েছে। সংলাপের ক্ষেত্রেও এই বৈশিষ্ট্যটি প্রকট হয়েছে। ফলে স্থান, কাল ও পাত্রদের একবার চিনে নেওয়ার পর আমরা ঢুকে পড়েছি কাহিনির মধ্যেই। এ যে লেখকের কত বড়ো সাফল্য, তা পাঠকমাত্রেই মানবেন।
তৃতীয়ত, মনস্তত্ত্বের যে নিগড়ে বন্দি হয়ে কাটে আমাদের দিনরাত্রি, তার এক ভয়ংকর রূপ তুলে ধরেছে এই কাহিনি। সত্যি কথা বলতে কি, এতটা যত্ন নিয়ে লেখা মনস্তত্ত্ব-আধারিত রহস্য উপন্যাস শেষ কবে পড়েছি, মনে করতে পারছি না। লেখক এর আগে পলিটিক্যাল থ্রিলারে নিজের দক্ষতা সংশয়াতীতভাবে প্রমাণ করেছেন। এবার তিনি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের ক্ষেত্রেও জাত চেনালেন।
চতুর্থত, কালীচরণের মতো বিশ্বাসযোগ্য একজন প্রটাগনিস্টকে কেন্দ্রে রেখে এমন এক উপন্যাস লেখা সহজ ছিল না। শক্তি ও দুর্বলতা, পুলিশি কঠোরতা ও ভঙ্গুর পিতৃহৃদয়— এমন নানা বিশেষত্ব নিয়ে গড়া এই মানুষটিকে বড্ড ভালোবেসে ফেলেছি। লেখকের উদ্দেশে অনুরোধ, এঁকে ফিরিয়ে আনুন। আমরা যে দেশ ও কালে বাস করি সেখানে এমন চরিত্রদের দেখেই তো লড়ে যাওয়ার সাহস পাওয়া যায়।

বইটির দুর্বলতা বলতে গেলে দু'টি বিষয়কে চিহ্নিত করব।
(১) উপন্যাসের একেবারে শুরুর অংশে আর প্রথম হত্যাকাণ্ডের বিবরণে কিছুটা অতিকথন হয়েছে। ওই অংশটা আরও টাইট করা যেত।
(২) কাহিনির শেষটা বড়ো হুড়মুড়িয়ে হল— যেখানে কয়েকটি ঘটনা একেবারে সমাপতনের মতো না ঘটলে কাহিনির পরিণতি একেবারে অন্যরকম হতে পারত। ধাপে-ধাপে চড়ানো এই দুর্ধর্ষ লেখায় ওই সমাপতনটুকু কাঁটার মতো খচখচ করে উঠল।

বইটির মুদ্রণ ও বানান শুদ্ধ। ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যের অলংকরণ আবহনির্মাণে পূর্ণ মাত্রায় সফল হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে বলব, আমাদের সময়ের অমৃত ও হলাহল নিয়ে লেখা অন্যতম শ্রেষ্ঠ রহস্য উপন্যাসটি পড়ার সৌভাগ্য হল। যদি এখনও এটি না পড়ে থাকেন, তাহলে ত্রুটি সংশোধনে অবিলম্বে তৎপর হোন।
লেখকের কলম অক্ষয় হোক।
Profile Image for Bookish Subhajit.
31 reviews2 followers
June 24, 2022
#bookish_subhajit
#আমার_বইপড়া_২০২২
#শুভর_আলোচনায়
📖 বই- কাল-কূট
📖 লেখিকা- সোমজা দাস
📖 প্রকাশনা- অরণ্যমন
📖 মুদ্রিত মূল্য- ২৭৫/-
📖 প্রচ্ছদ- কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল
📖 অলংকরণ- ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য
📖 হার্ড কভার, জ্যাকেট সহ
-----------------------------------------------------
🔥 বিষয়বস্তু- কাল-কূট এই বই এর নাম। কাল এই কথাটার দুটো অর্থ হয়, একটা কাল হল সময়, আর একটা কাল হল মৃত্যু। আর কূট শব্দের অর্থ হলো কপট বা প্রতারক। আর এই উপন্যাস হলো দুই কালের এবং এক কূট এর সমার্থক। কারণ এখানে সময় যেমন কথা বলেছে, তেমনই মৃত্যুও এসেছে একের পর এক। আবার অপরদিকে প্রতাকরণা বা কপটতা ও এসেছে সমান্তরালে। কিন্তু মৃত্যু আর প্রতারনা কী সত্যিই সমান্তরাল? নাকী তাদের মধ্যে কোন কাইজমা সৃষ্টি হয়ে ক্রসিং ওভার ঘটে? তারই উত্তর দিয়েছে এই বই।
এই উপন্যাস এর নায়ক হিসেবে লেখিকা কাউকেই মোটা দাগে লেখেন নি, কারণ তিনি হয়তো চাননি যে পাঠক যে কোন কাউকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখুক, কারণ এই উপন্যাস এর প্রতিটি চরিত্রই স্পেশাল। প্রত্যেকের একটা করে নিজস্বতা আছে , একটা করে বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব আছে। কালীচরণ হলেন তার অন্যতম। এই কালীচরণ কলকাতা থেকে বদলি হয়ে এলেন উত্তরবঙ্গের এক মফস্বল শহর দরিয়াগঞ্জ থানার ইন-চার্জ হয়ে। দরিয়াগঞ্জে কালীচরণ এর সাথে এলেন তার একমাত্র মেয়ে রুপসা। আর দরিয়াগঞ্জ শহরে পা দিতে না দিতেই তিনি মুখোমুখি হলেন এক অদ্ভুত রহস্যের। সেখানে আছে এক পুরানো জমিদার বাড়ি লালবাড়ি। জমিদার লক্ষ্মীকান্ত সেন এর তৈরি করা সেই বাড়ি। আর এই বাড়িকে ঘিরেই জট পাকিয়েছে রহস্য। এই জীর্ণ বাড়ির এক অভিশপ্ত অতীতের গল্প, তার সাথে বর্তমানে মানুষের ভূতে বিশ্বাস এই বড়িকে করে তুলেছে এক আতঙ্কের জায়গা।
এর এই লালবাড়িতেই খুন হচ্ছে একের পর এক মেয়ে। কিন্তু তারা খুন হচ্ছে অদ্ভুত ভাবে। তাদের ঘাড় ভেঙে খুন করা হচ্ছে। আর তাতেই ভূতের প্রতি বিশ্বাস আরও জোড়ালো হচ্ছে মানুষের। কালীচরণ আসার পর খুন হয় রাজনৈতিক নেতার মেয়ে মেধা। কিন্তু তার আগেও খুন হয়েছে অনেকে। এর এই খুনের তদন্তে নামেন কালীচরণ। এবং খুলতে থাকেন একের পর এক জট। আর তার সাথেই উঠে আসতে থাকে সব তথ্য, গুটিয়ে আসতে থাকে রহস্যের জাল।
এক জীর্ণ ধ্বংসস্তূপ, এক ভয়ঙ্কর অতীত, এক অভিশপ্ত ইতিহাস, তাকে ঘিরে এক রাজনীতি, হত্যা, এবং নোংরা ষড়যন্ত্র ও অসম লড়াই। কালীচরণ কী পারবে এই ধারাবাহিক হত্যারহস্যের পর্দা ফাঁস করতে? কে এই সুকুমার রক্ষিত, কে এই অনিমেষ মজুমদার?
এই সব কিছুর উত্তর দিয়েছে এক টান টান উত্তেজনাপূর্ণ উপন্যাস কাল-কূট।
---------------------------------------------------
🔥 ভালো লাগল দিক-
১.) সোমজা দি এর লেখনী বরাবরই মুগ্ধ করে আমাকে, এই উপন্যাস তার ব্যাতিক্রম না। এখানেও দিদির লেখা অত্যন্ত সাবলীল ভঙ্গিতে, কোন জটিলতার জায়গা নেই।
২.) গল্পের বুনন অসাধারণ। খুব নিপুণ হাতের স্পর্শে ফুটিয়ে তুলেছেন কাহিনীর প্লট।
৩.) চরিত্র চিত্রায়ন অসম্ভব ভালো। একটা এই ধরণের উপন্যাস এর খলনায়ক এর চরিত্র যেমন হওয়া উচিত, ঠিক তেমন ভাবেই সৃষ্টি করেছেন লেখিকা। আর কালীচরণ যাস্ট মাইন্ডব্লোইং। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী চরিত্ররা ও খুবই ভালো।
৩.) গল্পে মানসিক রোগের এবং উত্তরবঙ্গের বেশ ভালো ডিটেলিং আছে। তবে তথ্য থাকলেও তথ্যের বোঝা নেই কোথাও। Information dumping বিষয়টা এই উপন্যাস এর পুরো বিপরীতে।
৪.) উপন্যাসটার একটা অমোঘ আকর্ষণ আছে, একবার শুরু করলে শেষ না করে ওঠা খুব কঠিন কাজ।
৫.) শেষ এ যে টুইস্ট তা সত্যিই অসাধারণ। মানে ওটা কল্পনাতেও আসেনি।
---------------------------------------------------
🔥 ভালো লাগেনি-
১.) উপন্যাস এ আছে মেধার প্রেমিকের নাম হলো রাজীব। কিন্তু তার পদবী এক জায়গায় আছে রাজীব বর্মন আর ঠিক তার পরের পাতায় আছে রাজীব মণ্ডল। এখানে একটা খামতি আছে।
২.) যারা আমাদের মত গোয়েন্দা গল্পের নিয়মিত পাঠক, তাদের কাছে অপরাধী অনেক আগেই ধরা পরে গেছে বলে আমার মনে হয়। তবে হ্যাঁ শেষ এ টুইস্ট অবশ্যই অসাধারণ।
৩.) এই বৃষ্টির জলে পার্সেল এর নাম উঠে যাওয়ার ধরণটা ঠিক আমার বিশ্বাস হয়নি। কারণ বর্তমান দিন হলো কুরিয়ার আর হোম ডেলিভারী এর যুগ, তাই সেখানে ওই ভাবে তাও আবার একটা এমন গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের পার্সেল এর উপর থেকে নাম মুছে যাবে এটা বিশ্বাস করা একটু কঠিন। এটাকে অন্যরকম ভাবেও লেখা যেত।
৪.) দু চারটি বানান ভুল আমার চোখে পড়েছে।
--------------------------------------------------
🔥 প্রচ্ছদ- প্রচ্ছদ শিল্পী কৃষ্ণেন্দু মণ্ডল দাদা এর কাজ অসাধারণ। এই বই এর কাজও বেশ ভালো। কালার কম্বিনেশন বেশ ভালো। এবং লালবাড়ি ও বেশ সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।
🔥 অলংকরণ- ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্য স্যার এর কাজ একটা অন্য রকম প্রসংশার দাবি রাখে। কারণ বইটা খুললেই বোঝা যায়। প্রতিটি আঁকা খুব সুন্দর।
🔥 বই এর বাঁধন এবং পাতার মান উভয় খুব ভালো। অরণ্যমন প্রকাশনা এর কাজ খুব সুন্দর। বই এর ছাপার হরফ ও বেশ ভালো।
ধন্যবাদ অরণ্যমন প্রকাশনা এর পুরো টিমকে।
------------------------------------------------------
🔥 বই এর অভার অল রেটিং- ৪/৫
⭐⭐⭐⭐
-----------------------------------------------------
জানিনা আর কালীচরণ ফিরবে কীনা। তবে অপেক্ষায় থাকলাম। ‌যদিও এটা স্ট্যান্ড অ্যালোন উপন্যাস, তাও আমি চাই কালীচরণ আবার আসুক। এটা লেখিকার কাছে দাবী। 😊
---------------------------------------
ধন্যবাদ সকলকে 🙏 ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন 😍 আর অবশ্যই সাহিত্যে থাকুন 😍 আরও বেশি করে বই পড়তে থাকুন এবং সমৃদ্ধ হতে থাকুন 🙏😍🤩
এই ধরনের আরও রিভিউ পেতে লাইক করতে পারেন আমার ফেসবুক পেজ Bookish Subhajit কে। এবং সাবক্রাইব করতে পারেন আমার ইউটিউব চ্যানেল Bookish Subhajit কে।
ধন্যবাদ 🙏
📸 ছবি- আমার তোলা
Profile Image for Journal  Of A Bookworm .
135 reviews11 followers
November 10, 2025
কাল-কূট
লেখক: সোমজা দাস
প্রকাশনা: অরণ্যমন প্রকাশনী
মূল্য: ২৭৫ টাকা।

বছরের ১৩ নম্বর বই সোমজা দাস এর লেখা একটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার কাল-কূট, বইটি অনেকদিন আগে থেকে আমার কাছে ছিল এই বছর মার্চ মাসে কাজের চাপের ফাঁকে তুলে নিই বইটি পড়ার জন্য। লেখক সোমজা দাস এর লেখনীর সাথে প্রথমবার পরিচয় ঘটলো, লেখনী বেশ ভালো লেগেছে। বইটির প্রচ্ছদটি বেশ আকর্ষণীয়। বইটির মূল চরিত্র থানা ইন - চার্জ কালীচরণ। উত্তরবঙ্গের এক মফস্বল শহর দরিয়াগঞ্জ এর থানায় ইন-চার্জ হিসেবে বদলি হয়ে আসেন কালীচরণ। ইদানিং বাংলা ভাষায় গোয়েন্দাদের আর ঠিক অতিমানবীয় হিসেবে দেখানো হয় না। যা বাস্তব, যেভাবে একটি তদন্ত এগোয় তার কাছাকাছি পৌঁছে এখনকার গোয়েন্দা কাহিনীগুলো রচনা করা হয়।

পটভূমি -

দরিয়াগঞ্জের আতঙ্ক লালবাড়ির ধ্বংসাবশেষ এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীত বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিনশো বছর ধরে। এই লালবাড়ির ভিতরেই ঘটে যায় একের পর এক হত্যা। এই লালবাড়ির ভেতরেই পাওয়া গেল স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার কন্যা মেধার মৃতদেহ। কিন্তু এইই প্রথম নয়, কালীচরণ জানলেন এই বাড়িতে আগেও একইভাবে খুন হয়েছে মেয়েরা। স্থানীয় মানুষদের ধারণা এসব কোনও মানুষের কাজ নয়; বরং হত্যাগুলি সব লালবাড়ির অভিশপ্ত অতীতের সঙ্গে সম্পর্কিত। মেয়েদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের ওপর কোনো শারীরিকভাবে অত্যাচার করা হয়নি, শুধুমাত্র মুখের বিকৃতি বা শরীরে আঁচড়ের দাগ রয়েছে। এলাকায় প্রচলিত বাড়িটায় রয়েছে এক অত্যাচারী জমিদারের অতৃপ্ত আত্মা। তদন্তে নেমে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসতে লাগল কালীচরণের সামনে। একটি জীর্ণ ধ্বংসস্তূপ, এক ভয়ঙ্কর অতীত, তাকে ঘিরে রাজনীতি, হত্যা, ষড়যন্ত্র ও এক অসম লড়াই। দরিয়াগঞ্জের লোকাল থানায় নতুন শহরে পা দিয়েই এক অদ্ভুত রহস্যের মুখোমুখি হলেন তিনি। কালীচরণ কি পারবেন লালবাড়ির এই ধারাবাহিক হত্যারহস্যের সমাধান করতে?

পাঠপ্রতিক্রিয়া -

বই পড়ার পর আমার মনে হয়েছে রহস্য কাহিনী যেমনভাবে লেখা উচিৎ ঠিক সেভাবেই লেখা হয়েছে। প্রথমে ঘটনার বিস্তার ঘটেছে তারপর জাল গুটিয়ে আনা হয়েছে ধীরে ধীরে।
রহস্য উন্মোচন করার বিষয়টি খুব ভালো। যেভাবে ধীরে ধীরে মূল অপরাধীকে পাঠকদের সামনে উপস্থিত করেছেন সেটা খুবই উপভোগ্য। কাহিনীর শেষে অপ্রত্যাশিত মোচড়টিও বেশ ভালো লেগেছে। এককথায় এই কাহিনীতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা বজায় ছিল। গল্পের গতিও কোথাও থেমে যায় নি। গোয়েন্দা বা পুলিশের যে অতিমানবীয় চেহারা দেখে আমরা অভ্যস্ত সেটার থেকেও লেখিকা সরে এসে কালীচরণকে অনেক বাস্তব চরিত্র হিসেবে গড়ে তুলেছেন। রহস্য কাহিনী হলেও এখানে একটি সুন্দর সামাজিক বার্তা রয়েছে। ছোটবেলা থেকে সুস্থ, স্বাভাবিক পরিবেশ না পেলে কারো কারো মধ্যে অপরাধ করার প্রবণতা কী প্রবলভাবে গড়ে উঠতে পারে তা দেখিয়েছেন লেখিকা। তাই শারীরিক সুস্থতার সাথে সাথে মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দেওয়া খুবই প্রয়োজন। যাঁরা মার্ডার মিস্ট্রির কাহিনী পড়তে ভালোবাসেন আশা করি তাঁরা এই বই পড়ে নিরাশ হবেন না।
Profile Image for Dipankar Bhadra.
677 reviews60 followers
July 9, 2025
এই গল্পের মূল চরিত্র ইন্সপেক্টর কালীচরণ, যিনি থানার বড়োবাবু পদে নিযুক্ত হয়ে উত্তরবঙ্গের মফস্বল শহর দরিয়াগঞ্জে পৌঁছান। সঙ্গে আসে তাঁর একমাত্র মেয়ে রুপসা। কিন্তু নতুন শহরে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের মুখোমুখি হতে হয় এক অদ্ভুত রহস্যের।

দরিয়াগঞ্জের সঙ্গেই জড়িয়ে আছে লালবাড়ির ধ্বংসাবশেষ, যা প্রায় তিনশো বছরের পুরনো এক অন্ধকার অতীত গোপন করে রেখেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার কন্যা মেধার মৃতদেহ যখন এই ধ্বংসাবশেষে পাওয়া যায়, তখন শুরু হয় এক ভয়ঙ্কর কাহিনি। কালীচরণ জানতে পারেন, এটি প্রথমবার নয়; অতীতেও একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে। স্থানীয় মানুষজনের মধ্যে এমন বিশ্বাস রয়েছে যে, এই হত্যাগুলির সঙ্গে লালবাড়ির অভিশপ্ত অতীতের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।

কালীচরণের উদ্দেশ্য একটাই—এই রহস্যের সমাধান করা এবং হত্যাকাণ্ডগুলি রোধ করা। তিনি তদন্ত শুরু করেন, এবং একের পর এক নতুন তথ্য তাঁর সামনে উঠে আসে। ফলস্বরূপ, তাঁকে দাঁড়াতে হয় একটি জীর্ণ ধ্বংসস্তূপের বিরুদ্ধে, যেখানে রাজনীতি, হত্যা এবং ষড়যন্ত্র মূল চরিত্র। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, তিনি কি সত্যকে সবার সামনে আনতে পারবেন? নাকি এই লড়াইয়ের মধ্যে হারাতে হবে তাঁর একমাত্র সন্তানকেও?

এবার আমার কেমন লাগল, সেই দিকে একটু আলোকপাত করা যাক।

~ 'কাল-কূট'-এর প্রটাগনিস্ট কালীচরণ, আমার আপনার মতোই একজন সাধারণ, রক্তমাংসের মানুষ। তাঁর চরিত্র নির্মাণে লেখিকা অত্যন্ত নিপুণতার সাথে সাধারণত্বের সঙ্গে গভীরতা যুক্ত করেছেন। কোন অতিমানবীয় গুণ নয়, তাঁর চরিত্রে রয়েছে বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ, ভঙ্গুরতা এবং সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সংগ্রামের দৃঢ়তা। একইসাথে, পার্শ্বচরিত্রগুলিরও গুরুত্ব অপরিসীম। তারা নিছক কোনো এক্সট্রা নয়, বরং কাহিনির উন্নয়ন ও প্রেক্ষাপট তৈরিতে তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত কার্যকরী। এই চরিত্রগুলি অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য এবং বাস্তবানুগ, তাই আমরা তাঁদের সঙ্গেও আত্মিক যোগ স্থাপন করতে পারি।

~ পাঠকদের মধ্যে ঘটে যাওয়া উদ্বেগ এবং আবেগের খেলাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য লেখিকা সুন্দরভাবে সংলাপ তৈরি করেছেন, যা এই গল্পের প্রগতি এবং ধ্বংসের মধ্যে একটি সুন্দর অথচ ভয়ঙ্কর সেতুবন্ধন স্থাপন করে। কাহিনিটির পরতে পরতে আমাদের মনস্তত্ত্বের সেই নিগড়ের চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায়, যা আমাদের নিজেদের জীবনেও এভাবে ফিরে ফিরে আসে।

~ কৃষ্ণেন্দু মণ্ডলের তৈরি প্রচ্ছদটি যথাযথ হলেও, এতে কিছুটা যত্নের অভাব লক্ষ্য করা যায়। তবে স্যার ওঙ্কারনাথ ভট্টাচার্যের অলংকরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

~ বইটিতে বেশকিছু মুদ্রণ প্রমাদ চোখে পড়েছে, যা পাঠকের পাঠের অভিজ্ঞতাকে কিছুটা বিঘ্নিত করতে পারে। প্রকাশনা সংস্থার প্রতি এই বিষয়ে নজর দেওয়ার এবং ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক থাকার অনুরোধ রইল।

সবশেষে এটাই বলব, বাংলায় ভালো সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার পড়তে চাইলে, এই বইটিকে কোনোভাবেই মিস করবেন না। নমস্কার!

🔹কাল-কূট // সোমজা দাস
🔹অরণ্যমন প্রকাশনী
Profile Image for   Shrabani Paul.
397 reviews24 followers
June 24, 2022
🍂📖বইয়ের নাম - কাল-কূট📖🍂
✍️লেখিকা - সোমজা দাস
🖨️প্রকাশক - অরণ্যমন প্রকাশনী
🧾পৃষ্ঠা সংখ্যা - ১৮১

💐🍁🍂📚📖📚🍂🍁💐

🎭📑 এক মফস্বল শহর দরিয়াগঞ্জ । সে���ানকার লোকাল থানায় ইন - চার্জ হিসেবে বদলি হয়ে এলেন কালীচরণ । নতুন শহরে পা দিয়েই এক অদ্ভুত রহস্যের মুখোমুখি হলেন তিনি । দরিয়াগঞ্জের আতঙ্ক লালবাড়ির ধ্বংসাবশেষ এক অন্ধকারাচ্ছন্ন অতীত বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় তিনশো বছর ধরে । এই লালবাড়ির ভেতরেই পাওয়া গেল স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার কন্যা মেধার মৃতদেহ । কিন্তু এইই প্রথম নয় , কালীচরণ জানলেন এই বাড়িতে আগেও একইভাবে খুন হয়েছে মেয়েরা । স্থানীয় মানুষদের ধারণা এসব কোনও মানুষের কাজ নয় ; বরং হত্যাগুলি সব লালবাড়ির অভিশপ্ত অতীতের সঙ্গে সম্পর্কিত । তদন্তে নেমে একের পর এক নতুন তথ্য উঠে আসতে লাগল কালীচরণের সামনে । একটি জীর্ণ ধ্বংসস্তূপ , এক ভয়ঙ্কর অতীত , তাকে ঘিরে রাজনীতি , হত্যা , ষড়যন্ত্র ও এক অসম লড়াই । কালীচরণ কি পারবেন লালবাড়ির এই ধারাবাহিক হত্যারহস্যের সমাধান করতে ?📑🎭

🍁🍂 চরিত্র গুলো খুব সুন্দর করে তুলে ধরা হয়েছে । প্রতিটি চরিত্রের - তাদের চারিত্রিক নানা ত্রুটির দিকেও তুলে ধরা হয়েছে তাই চরিত্রগুলিকে আরও বেশি করে বাস্তবিক বলে মনে হয়। বিশেষ করে বলতে হয় মেন চরিত্র কালীচরণের কথা। কালীচরণ সরকারি পুলিশ অফিসার। সাধারণ মানুষের মতোই তারও জীবনের ভয় আছে, হারানোর ভয় আছে, হেরে যাওয়া আছে । তার পাশাপাশি সাফল্যও আছে! তার জীবনেও পূর্বের কিছু ঘটনা আছে। জানতে হলে অবশ্যই উপন্যাসটি পড়ে দেখতে হবে!দরিয়াগঞ্জএ এসে যে কেসটি সবার প্রথমে হাতে পায় সেখানে তিনজন মেয়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় লালবাড়িতে। তার মধ্যে শেষ মৃত্যুর তদন্তে জড়িয়ে পড়েন। শুধু কালীচরণ নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে এই শহরের ছোট-বড় নানা চরিত্র। উত্তরবঙ্গের শহরকে কেন্দ্র করেই এই উপন্যাস গড়ে উঠেছে! সব রহস্যের জট ছাড়িয়ে যখন এই হত্যাকাণ্ড সমাধানে পোঁছয়, সেখানেই শেষ হয় 'কাল-কূট'- উপন্যাসটি। কিন্তু, তিনি অপরাধীকে চোখের সামনে হাজির করলেও, তার অপরাধের কারণগুলোকে হাজির করেছেন সবার শেষে। খুব সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা আমার খুব ভালো লেগেছে। এতো সুন্দর একটা উপন্যাস পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ লেখিকা কে ! এই ভাবেই এগিয়ে চলুক আপনার লেখালেখি । আমি অপেক্ষায় রইলাম আরো কোনো একটি নতুন বইয়ের!🍂🍁

#সোমজা_দাস #বই #কাল_কূট #অরণ্যমন

#bengalibooks #book #bookreading #bookrecommendations #bookreview #bookreader #bookworm #boipoka #goodreads #bookinstagram #bookcollection #BengaliNovel #suspensethriller #novels #shortstory #readingchallenge #readingdone #reader #bengalidetective #BengaliMagazine #happyreading #bengalibook #Reader
#bangalaboi #bengalibookrecommendation #bengalireaders
Profile Image for monsieur_eeshan das.
100 reviews2 followers
October 7, 2022
একটি জরাজীর্ণ বাড়ির খুনে ইতিহাস এর ওপর ভিত্তি করে লেখা একটা অসাধারন থ্রিলার ।যেখানে অলৌকিক ঘটনার বর্ণনার সাথে , জুড়ে আছে ৩ টি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা।
কেন মেয়েদের কেই মরতে হচ্ছে ওই বাড়িতে? কেন ই বা সেই বাড়ির আসে পাশেও কেও যায় না ? ওদিকে ছোট থেকেই মানসিক ভারসাম্যহীন দাদার প্রতি কিসের টানে তার ভাই আজ তাকে সব প্রতিকূলতা থেকে বাঁচিয়ে আসছে।
জিভেনাইল সংসোধগরের পুরনো ডাক্তার ই বা কি জানেন এই বিষয়ে ! সব মিলিয়ে জমজমাট একটা গল্প।।।
Profile Image for DIPANJAN MUKHERJEE.
82 reviews
January 24, 2026
এই গল্পের মূল চরিত্র ইন্সপেক্টর কালীচরণ, যিনি থানার বড়োবাবু পদে নিযুক্ত হয়ে উত্তরবঙ্গের মফস্বল শহর দরিয়াগঞ্জে /
রহস্য উন্মোচন করার বিষয়টি খুব ভালো। যেভাবে ধীরে ধীরে মূল অপরাধীকে পাঠকদের সামনে উপস্থিত করেছেন সেটা খুবই উপভোগ্য।
KALICHARAN HAS A VERY EMOTIONAL PAST THE EMOTIONAL RELATION WITH HIS DAUGHTER IS ESTABLISHED SUPERBLY. WITHOUT COMPROMISING ON SUSPENSE.
GREAT WRITING BY SOMAJA MAAM
Displaying 1 - 9 of 9 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.