এই বইতে সুদৃঢ়, সুপ্রতিষ্ঠিত ইতিহাস থেকেই একের পর এক প্রমাণ করা হবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন নবি ছিলেন। সত্য নবি। সত্যের দিকে আহ্বানকারী আল্লাহর সত্যিকারের একজন বার্তাবাহক, মেসেঞ্জার। একজন ট্রু প্রফেট।এই বইটি পড়ে পাঠক-পাঠিকা গালে হাত দিয়ে ভাবনার অতলে তলিয়ে যাবে, ঘুমাতে পারবে না আর চিন্তায় চিন্তায়। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনীর পাতায় পাতায়, কুরআনের পরতে পরতে তার নবুওয়াতের সত্যতা দেখে নিতে, ভেবে বের করে শেখার চেষ্টা করবে নিজে নিজে। উনাকে অস্বীকার করার আর কোনো ভিত্তিই খুঁজে পাবে না নিজের ভেতরে। মুখে অস্বীকার করলেও, ভেতর থেকে ঠিকই জেনে যাবে, উনি নবি, সত্য নবি। আর উনাকে নবি হিসেবে সত্য জানলেই ইসলামের সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় অন্তরের ভেতর।
কে উনি? নাম শুনলেই বুঝা যায়, কি নিয়ে লেখা! সুন্দর, ছোটখাটো, সহজ করে লেখা একটা বই। আলাদা করে কারো জন্য নয় বইটি, আমার/আপনার সবার জন্য। এমন একটা বই যেখানে পাতায় পাতায় রেফারেন্স দিয়ে ভারী করা হয় নি কথাগুলো, মাথার উপর দিয়ে যাওয়ার মতো নয় অবশ্যই। কে এই মুহাম্মদ (সাঃ)? ওনার দেখানো পথ সত্য, প্রমাণ কি? উনি যা যা বলে গেছেন, তা সত্য এর প্রমাণ কি? এমন ভাবনা মাথায় যদি ঘুরপাক খায়, তাহলে বইটি আপনার জন্য🖤 অবশ্যই ভালো লাগবে, আর মজার কথা বইটির প্রতিটি ঘটনা সম্পূর্ণ বাস্তব ও সত্য! ~৪.৫/৫
বইটিতে লেখক মহানবি (সা.) এর সত্য নবি হওয়ার প্রমাণ একটি গল্পের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে গেছেন৷
সদ্য আল্লাহর একত্বের পরিচয় পাওয়া এক ব্যক্তির সত্য নবি হিসেবে মুহাম্মাদ (সা.) কে খুঁজে পাওয়ার যাত্রাই পুরো বইতে দেখানো হয়েছে। বইটি অমুসলিমদের পড়া উচিত যেন তারা সত্যকে অবলোকন করতে পারে। আর মুসলিমদের পড়া উচিত নিজেদের ঈমানকে আরো দৃঢ়,মজবুত করার জন্য৷ . . .
পশ্চাত্য মুগ্ধতার এ যুগে নতুন প্রজন্মের মাঝে ধর্ম মানা বা এ নিয়ে কথা বলাই অনেকটা ট্যাবু। ধর্মকে সাধারণ জীবন থেকে করা হয়েছে পৃথক। এ শিক্ষার অনুপস্থিতিতে জায়গা করে নিয়েছে বিজ্ঞানবাদ ও নাস্তিক্যবাদ। ইসলাম ধর্মের, আমাদের প্রাণপ্রিয় নবি মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নিয়ে করা হয়েছিল অনেক বদনাম। এই নিকৃষ্ট শাতিমদের অনেক অভিযোগ আমাদের প্রাণপ্রিয়র বিরুদ্ধে।
লেখক তোয়াহা আকবর এই বইতে এই সম্পূর্ণ অভিযোগগুলোকে চারটা ধাপে ভাগ করেছেন। আর ধাপ অনুযায়ী শেষে প্রমাণ করেছেন কেন মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষ এবং সত্য নবি।
পসিবিলিটি চারটা
১. তিনি মিথ্যা বলেছেন
২. তিনি ডিলিউশনাল ছিলেন
৩. মিথ্যাবাদী ও ডিলিউশনাল দুটোই ছিলেন
৪. তিনি সত্য নবি ছিলেন
একজন মানুষের জার্নি এবং তার মাঝে ইসলাম নিয়ে চলতে থাকা অন্তর্দ্বন্দের মাধ্যমে এই পয়েন্টগুলো একে একে আলোচনা করা হয়েছে।
বইয়ের পরের অংশ মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রফেসি বা ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে। সেখানে অনেকগুলো প্রফেসির কথা এসেছে। এটা মূলত চার নং পয়েন্টকেই কমপ্লিমেন্ট করে।
সহজবোধ্য ভাষা আর সাবলীল গল্পের ভঙ্গিতে বলে যাওয়া কিছু কথা। গল্পের আশ্রয়ে লেখা এ ধরণের বইগুলোতে অনেক সময় বাহুল্য হিসেবে ধরা দেয় গল্পাংশগুলো। এক্ষেত্রে মনে হয়েছে বইটা এভাবেই লেখার কথা ছিল, আর লেখক সেটাই করেছেন।
সহজ, সাবলীল ছোট্ট বইটিকে রাসূল (সা.) এর সীরাত গ্রন্থ হিসেবে শ্রেণীভুক্ত করা যাক বা না যাক, তাঁর নবী পরিচয় পেশ করার ভিন্ন দিকটি প্রকাশে লেখকের প্রচেষ্টা সফল বলে মনে করি। মহানবী (সা.) এর জীবদ্দশায় ঘটে চলা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরে তাঁর নবুয়তের সপক্ষে যুক্তি উত্থাপন করা হয়েছে বইটিতে। লেখক রেফারেন্স ও পাদটীকা যতটা সম্ভব পরিহারের চেষ্টা করেছেন যাতে বইটি কাঠখোট্টা শ্রেণীর না হয়ে যায়। বইয়ের শেষ অর্ধাংশে আলোচনা করা হয়েছে নবী (সা.) এর বিভিন্ন সময়ে করা প্রফেসি নিয়ে। যা পরবর্তীতে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ অংশের উপস্থাপন খুবই ভালো লেগেছে। সংক্ষেপে বললে বইটি "আয়তনে ক্ষুদ্র, পরিসরে বৃহৎ"।
If you feel bored by the complex wordings and critical conversations at the beginning like me, start from page 66 - some fulfilled prophecies of the last true Prophet. You will love it from there.
অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে আল্লাহকে খুঁজে পাওয়ার পর মুহাম্মদ (সঃ) কে আল্লাহ তায়া’লার প্রেরিত নবী হিসেবে মানতে নারাজ সকল মনে চৌদ্দশ বছর ধরে অবিকৃত ও সর্বজনস্বীকৃত ইতিহাসের পাতা দ্বারা চির ধরিয়ে দিয়েছেন আলোর পথের যাত্রী মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর।তিঁনি মিথ্যাবাদী ও মানসিকভাবে বিকারগস্ত ছিলেন এমন তথাকথিত অভিযোগের টুঁটি চেপে ধরে এক এক করে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়েছেন মিথ্যার আশ্রয়ে স্বার্থসিদ্ধি করার ছাপ নবীজীর সাদামাটা জীবনে দাগ কাটতে পারেনি।অর্থ,প্রভাব-প্রতিপত্তি,নারী ইত্যাদির জন্য মানুষ মিথ্যার আশ্রয় নেয়।অথচ নবীজী এসবের ঝটপট অফার পাওয়া স্বত্তেও বিনাবাক্যে সব বিসর্জন দিয়ে কেন বেঁচে নিলেন ক্ষুধায় পেটে পাথর বাঁধার মতো বন্ধুর পথ?কেনই বা জীবনের পরতে পরতে মরণ ঝুঁকি নিয়ে সাথীদের আগলে রেখে শরীরকে করেছেন ক্ষত বিক্ষত?এমনসব যুক্তিতর্কের মাধ্যমে অবিশ্বাসীর অশান্ত অন্তরে বইয়ে দিয়েছেন প্রশান্তির ফল্গুধারা।
একজন বিকৃত মস্তিষ্কের লোক কেমনে পরিবার,সমাজ,রাষ্ট্র,সংবিধান,অর্থনীতি,সমরনীতি,ধর্ম প্রচারকারী এমনকি জীবনের সর্বক্ষেত্রে সফল নায়ক শুধু নন,হাজার বছর ধরে মানুষের অনুকরণ,অনুসরণের পাত্র হয়ে রইলেন অবিশ্বাসীদের অন্তরে এসব চিন্তা ও ভাবাবেগ জাগ্রত করেছেন লেখক।
এছাড়াও সত্য ও অবিকৃত ইতিহাস নির্ভর এক অশিক্ষিত মেষপালকের অসংখ্য ভবিষ্যদ্বানীর বাস্তব প্রতিফলন দ্বারা লেখক বারংবার প্রমাণ করেছেন তিঁনি আল্লাহরই প্রেরিত দূত।
অতএব যার ইচ্ছা সে সত্যকে গ্রহণ করে জান্নাতের পথে কাজ শুরু করুক।আর যার ইচ্ছে সে প্রতিষ্ঠিত সত্যকে জেনে বুঝে অস্বীকার করে জাহান্নামে নিজের স্থান করে নিক।সত্যের পথে কোন বাঁধা নেই,কোন জোরাজোরি নেই।
❝আলহামদুলিল্লাহ। এটার ক্রেডিট পুরোপুরি আল্লাহর। আর তুই এখনো কুরআন পুরোটা বুঝে পড়িস নাই বলে যে লজ্জাটা পাচ্ছিস, এই লজ্জা, এই দায়িত্ববোধ যদি আল্লাহর প্রতি নিজেকে পুরোপুরি সমর্পিত দাবি করা মানুষগুলোর মধ্যে, অর্থাৎ নিজেকে মুসলিম দাবি করা ফাঁপা মানুষগুলোর মধ্যে একটা ফোঁটা থাকত রে ভাই, তাইলে আজকের দুনিয়ায় এত অন্যায়-অবিচার থাকত না।❞
♣️ফ্ল্যাপঃ কে খুন হলো? লাশের চেহারায় এত রহস্য কেন? লাশের মোবাইলে একটা কল এসেছে, রিং বাজছে অনবরতা কে কল করছে? ওদিকে সত্যকে খুঁজে ফিরছে হৃদয় কুমার। ফলে দিনরাত পড়াশোনা আর নিমগ্��� চিন্তায় দিন কেটে যাচ্ছে তারা সত্যকে খোঁজার এই পবিত্র যাত্রায় সুলভ সবকিছুই সে পড়ে ফেলেছে। ঈশ্বর এক এবং অদ্বিতীয় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গিয়েছে বহু আগেই। বিভিন্ন ধর্ম আর ধর্মগ্রন্থ নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শেষ করে সম্প্রতি ইসলামের সত্যতা নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছে। অবাক হয়ে সে লক্ষ করছে, ইসলামের কথাগুলো সেই সনাতন যুগ থেকে একই বার্তা দিয়ে আসছে বারবার৷ পড়তে পড়তেই এক পর্যায়ে ইসলামের শেষ নবি বলে খ্যাত মুহাম্মাদের কথামালা আর জীবনীর সংরক্ষণ নীতিমালা দেখে হৃদয় কুমার তো পুরোপুরি তাজ্জব! এত সুনিপুণ নীতিমালা রক্ষা করে প্রায় দেড় হাজার বছর ধরে এত অপূর্ব এক সংরক্ষণ! কীভাবে সম্ভব? সংরক্ষণ নীতিমালা জেনে-বুঝে নিশ্চিন্ত হওয়ার পরেই সে খুঁজতে শুরু করেছে শেষ নবির ব্যাপারে লিখিত বিশুদ্ধতম জীবনীগ্রন্থ। পেয়েও গিয়েছে সে ঠিক ঠিক, আর ভালোভাবে বুঝে-শুনে অধ্যয়নটাও শেষ৷ কিন্তু সমস্যা বেধেছে এর পরেই। হৃদয় আর কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না। নাওয়া-খাওয়া দুটোই শিকেয় উঠে বসে আছে৷ কারণ, জটিল এক প্যাঁচ লেগে গেছে৷ আচ্ছা, কোথায় লাগল সেই মরণজট? প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে হাজার হাজার মাইল দূরে ঘটে যাওয়া কিছু বিশুদ্ধ ঘটনার মুখোমুখি হৃদয়া স্থান-কালের সীমানা পেরিয়ে নিপুণ দক্ষতায় সংরক্ষিত ইতিহাসের ঘটনাগুলো সে আত্মস্থ করে নিয়েছে৷ মেধাবী ও পড়ুয়া পাঠক হিসেবে হৃদয়ের জন্য এটা অত্যন্ত সহজ আর মামুলি একটা কাজ৷ যা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে তার জন্য, তা হচ্ছে— ঘটনাবলির সব কটা সুতোকে এক জায়গায় গাঁথা৷ শুধু এক জায়গায় গাঁথলেই হবে না, সাথে এটাও যাচাই করে দেখতে হবে—সেসব আসলে কী ইঙ্গিত করছে? কী বলতে চাইছে? ঘটনাগুলো যা ইঙ্গিত করবে তা নিরপেক্ষভাবে, সততার সাথে যাচাই আর বিশ্লেষণ করতে পারবে তো হৃদয়? মস্তিষ্ক বুঝে নিলেও হৃদয় কুমারের অনভ্যস্ত অন্তর কি মানতে চাইবে নিজের জগতে এতদিনের অনাবিষ্কৃত কোনো সত্যকে? সমর্পিত হতে পারবে সে নতুন করে খুঁজে পাওয়া কোনো সত্যের সামনে? এটাই কি সেই মহাচ্যালেঞ্জ নয়, যা সনাতন যুগ থেকে আজ অবধি চলে এসেছে? সত্যকে জেনে বুঝে নেওয়ার পরে একজন মানুষ কি তা মেনে নেবে, নাকি অস্বীকার করবে? ইতিহাসের পাঠ হৃদয় কুমারের সামনে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছে মুহাম্মাদ নামের এই অনক্ষর আনপড় মানুষটা আসলে কে? কীভাবে সেই রুক্ষ মরুতে শান্ত আর কোমল বাতাসের এমন সুন্দর এক ঝড় তুললেন স্মিত হাসির অধিকারী এই মানুষটা? প্রায় দেড় হাজার বছর পরেও হৃদয় কুমারের মানসে অনুভবে সেই ঝাড়ের ঝাপ্টা এসে লাগছে বারবার! আসলেই তো, কে উনি?
♣️পাঠ্যানুভূতিঃ কিছু বই থাকে যেগুলো পড়ার পর মনে হয় লেখক কী করে জানলেন আমার কথা? তিনি তো আমার জন্যই লিখেছেন এগুলো। ❝কে উনি❞ বইটা পড়েও এমন একটা অনুভূতি কাজ করছিলো আলহামদুলিল্লাহ। কুরআন-হাদিস, সিরাত-ইতিহাস এর পর একটা শূন্যস্থান থাকে। যাকে আমি বলি উপলব্ধির পর্দা। আমাদের সব জ্ঞানের ছায়া আঁকা হয় এই পর্দায়। আর এই অঙ্কন যত গোছালো হয়, ব্যক্তির ভাবের প্রকাশ ততই মার্জিত ও উত্তম হয়। উল্লেখ্য বইটিতে প্রিয় নবীজী ﷺ কে নিয়ে সনাতন ধর্ম থেকে আসা নও মুসলিম এক যুবকের প্রশ্ন ও একজন উত্তরদাতার উপলব্ধি বেশ সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। হৃদয় কুমার থেকে হয়ে ওঠা "আব্দুল্লাহ" ও "আব্দুল্লাহর ভাইয়ার"(পরিচিত ভাই, টিচার বা গাইড বললে বেশি ভালো হয়। আমার মতে ফেতনাময় একটা জীবন থেকে দ্বীনে ফিরে আসার সময় এমক্ন একজন গাইড খুব দরকার। ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা থেকে বলছি আরকি) এর গল্প নিয়েই সাজানো পুরো বইটা। বইয়ের আরেকটা বিষয় ভালো বেশ লেগেছে। গতানুগতিকভাবে লেখক তার লেখার শুরু করেননি, একটা খু ন আর ভিক্টিম এর হাস্যোজ্জ্বল লাশ নিয়ে ওসি সাহেবের মনে জাগা প্রশ্ন…… এখানে অবশ্য একটা মেসেজ ছিলো যে "আব্দুল্লাহর ভাইয়া"র মৃ ত্য টা একটা সুন্দর মৃ ত্যু ছিলো, যা নবীজী ﷺ এর বিভিন্ন হাদিসে উল্লিখিত।
◾বইঃ কে উনি ◾লেখকঃ মোহাম্মদ তোয়াহা আকবর ◾প্রকাশনায়ঃ সমকালীন প্রকাশন ◾প্রচ্ছদঃ হাসান মাহমুদ অভি ◾পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ১২৫ ◾মলাট মূল্যঃ ১৭২ টাকা মাত্র ♣️ পারসোনাল রেটিংসঃ ৪.৩/৫ রিভিউঃ আশরাফুন নাহার
এই বইটা মূলত মোহাম্মদ সাঃ সত্য নবী ছিলেন এবং তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন - এই দুটো বিষয় নিয়ে আলাপ। আর শেষের দিকে বেশ কয়েকটা প্রফেসি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই বিষয়গুলো একটি গল্পে বর্ণনা করা - হৃদয় নামের এক অমুসলিম ছেলে ইসলাম নিয়ে সিরিয়াস পড়াশোনা করছে। গল্পের কাঠামো হৃদয়ের সাথে তার এক ভাই এবং ওয়েলউইসার ( সম্ভবত তোয়াহা ভাইয়া নিজেই ) এর মধ্যে চলা কথোপকথন, ডায়েরি এবং চিঠির মাধ্যমে নির্মিত।
বইটা অনেক পাঠক বান্ধব, সুন্দর প্রচ্ছদ এবং মানসম্মত প্রোডাকশন কোয়ালিটি সম্পন্ন ছোট্ট একটা বই। একদম সহজ ভাষায় বক্তব্যগুলোকে তুলে ধরা হয়েছে। লেখক যেন কানে কানে ফিসফিশিয়ে বুঝাচ্ছেন প্রত্যেকটা পয়েন্ট পরম মমতায়।
বইটার কিছু লাইন খুব করে নাড়া দিয়েছে -
◑ কেউই নিরপেক্ষ না আসলে, দিনশেষে সবাই শুধু নিজের বুঝটাই বলে এরপর চাপিয়ে দিতে চায়। ◑ মানুষ সত্যকে মানতে পারে না, কারণ সত্য সবসময়েই জীবনকে আমূল বদলে দেয় চড়া দামের বিনিময়ে। হয় সেই সত্যকে গ্রহণ করার কারণে এই জীবনটা দুর্গম-অসহ্য হয়ে আসে পারিপার্শ্বিক সব অনিয়মের ভিড়ে, দুঃশাসনের অত্যাচারে, অথবা এই সত্যকে ত্যাগ করে পরবর্তী জীবনকে পুরোপুরি বিষাক্ত আর ধ্বংস করে রক্তাক্ত করবার দায়িত্বটা নিজের হাতেই তুলে নিতে হয়। ◑ নিজের স্পিরিচুয়াল পটেনশিয়ালের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে, শারীরিক পশুত্বের খোলস ভেঙে, ইন্দ্রিয়ের ইন্দ্রজাল ছড়ানো পশুত্বকে বশ করে তারই ওপর চড়ে বসে, তাকে ঠিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করে, তার একমাত্র মালিক আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকে চালিয়ে নেয়া-এই তো মানবজীবনের আসল লক্ষ্য। ◑ অতএব যার ইচ্ছা সে সত্যকে গ্রহণ করে জান্নাতের পথে কাজ করা শুরু করুক। আর যার ইচ্ছা সে প্রতিষ্ঠিত সত্যকে জেনে-বুঝে অস্বীকার করে জাহান্নামে নিজের স্থান করে নিক। সত্যের পথে কোনো বাধা নেই, কোনো জোরাজুরি নেই।
এক বেদুইন মহিলা যে মানুষটাকে খুঁজতে এসে দেখতে পেয়ে সম্মানে, ভয়ে জড়সড় হয়ে গেছে, যে মানুষটা তখন এই বলে মহিলাটিকে আশ্বস্ত করেছেন, সহজ করে নিয়েছেন যে, 'আরে! আমি তো এমন এক সাধারণ মহিলার সন্তান, যে কিনা শুকনো মাংস খেত!' সেই মানুষটাকে যদি কেউ বলে, 'এ লোক খ্যাতি-প্রতিপত্তি আর সম্মানের লোভে মিথ্যা বলেছে', তাহলে আমিও জগতের কাছে প্রশ্ন করতে চাই, সবাইকে আপন করে নেয়া এই সাদাসিধে মানুষটা যদি মিথ্যাবাদী হয়, তবে এ জগতে সত্যবাদী কে?
নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাই���ি ওয়া সাল্লাম মানসিকভাবে বিভ্রান্ত ছিলেন না, মিথ্যাবাদী ছিলেন না। বরং তার মতো সুস্থ হৃদয়ের মানুষ, তার মতো সত্যবাদী আর কাউকে ইতিহাস দেখেনি, দেখবে না কোনোদিন।
হে আল্লাহ! এ কেমন নবি দিয়েছ তুমি আমাদের জন্য?
This entire review has been hidden because of spoilers.
Starting with a little annoyance at myself for forgetting the English spelling of the author's name. Anyway, he wrote a mystery fiction that explores a new convert's journey to Islam. Solid content, but the dialogue is not as natural as I would like. Kinda miss the clear flow of his writing from 7-8 years ago.
“কে উনি?” নাম শুনেই মনে হয়, বইটি হয়তো কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে লেখা কিংবা তাঁর পরিচয় বা জীবনীচরিত তুলে ধরা হয়েছে। ধারণাটা একদম ভুল নয়। কারণ বইটিতে আলোকপাত করা হয়েছে আমাদের প্রিয় নবী, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর।
তবে এখানে “পরিচয়” বলতে শুধু বংশপরিচয় বা পারিবারিক সূত্র বোঝানো হয়নি। বরং এমন কিছু ভবিষ্যদ্বাণী (prophecy) ও যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে, যা প্রমাণ করে—মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সত্যিই আল্লাহ তায়ালার মনোনীত নবী ও রাসূল।
এই জায়গাতেই বইটি আমাকে ভাবিয়ে তুলেছে। বেশ কয়েকটি সীরাতগ্রন্থ পড়া হলেও এমন দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা বই আগে পড়িনি। লেখক “হৃদয়” চরিত্রের মাধ্যমে মানব মনে জাগা সংশয়গুলোকে খুব সহজ, প্রাঞ্জল ও হৃদয়স্পর্শীভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।
যারা সীরাত ভালোবাসেন কিংবা নবীজি ﷺ-এর জীবনের সত্যতা ও তাৎপর্য গভীরভাবে জানতে চান, তাদের জন্য “কে উনি?” হতে পারে এক অনন্য পাঠ। বিশেষ করে যারা ইসলাম সম্পর্কে সংশয় দূর করতে চান বা অন্যদের বুঝাতে আগ্রহী, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ সহায়ক গ্রন্থ। সহজ বর্ণনা, যুক্তিভিত্তিক বিশ্লেষণ, আর গল্পধর্মী প্রবাহই বইটির সবচেয়ে বড় শক্তি।