What do you think?


আঁধার আখ্যান
রহস্য। ভৌতিক। অলৌকিক। কিংবা নিছক ক্রাইম স্টোরি। গল্পের বিষয়বস্তু যাই হোক না কেন, এই সংকলনের সব গল্প আসলে এক তারে বাঁধা। এদের সবার মূল বিষয় "অন্ধকার"। হোক না সে মানব মনের কালিমা, গভীর অন্ধকারের ঘুম, অতিলৌকিক তমসা অথবা ডিস্টোপিয়ান ডার্কনেস। আদতে গোটাটাই এক নিরবিচ্ছিন্ন আখ্যান। সঙ্গে পাতায় পাতায় রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনা…‘তারপর কী হল?’ দুই মলাটে বন্দি রয়েছে অদ্ভুত এক আঁধার, নীল কস্তুরী আভার চাঁদ।
আসুন। এই অন্ধকারে, এই অনন্ত নরকে আপনাকে স্বাগত।
আসুন। এই অন্ধকারে, এই অনন্ত নরকে আপনাকে স্বাগত।
184 pages, Hardcover
Published November 16, 2020
About the author
Kaushik Majumdar
41 books663 followersজন্ম ১০ এপ্রিল, ১৯৮১, কলকাতা। স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং পি. এইচ. ডি. তে সেরা ছাত্রের স্বর্ণপদক প্রাপ্ত। নতুন প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া Bacillus sp. KM5 এর আবিষ্কারক। বর্তমানে ধান্য গবেষণা কেন্দ্র, চুঁচুড়ায় বৈজ্ঞানিক পদে কর্মরত এবং হাবড়া মৃত্তিকা পরীক্ষাগারের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক।
জার্মানী থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর লেখা গবেষণাগ্রন্থ Discovering Friendly Bacteria: A Quest (২০১২)। তাঁর কমিকস ইতিবৃত্ত (২০১৫), হোমসনামা' (২০১৮),মগজাস্ত্র (২০১৮), জেমস বন্ড জমজমাট (২০১৯), তোপসের নোটবুক (২০১৯), কুড়িয়ে বাড়িয়ে (২০১৯),নোলা (২০২০), সূর্যতামসী (২০২০), আঁধার আখ্যান (২০২০) ও নীবারসপ্তক (২০২১) এই সব দিনরাত্রি (২০২২), ধন্য কলকেতা সহর (২০২২), আবার আঁধার (২০২২), অগ্নিনিরয় (২০২২), হারানো দিনের গল্প (২০২৪), সিংহদমন (২০২৪), ডিটেকটিভ তারিণীচরণ (২০২৪), আরও একটি প্রবন্ধ সংকলন (২০২৫), আতঙ্ক সমগ্র (২০২৫), তিমিরহনন (২০২৬) সুধীজনের প্রশংসাধন্য। সরাসরি জার্মান থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন ঝাঁকড়া চুলো পিটার (২০২১)। বাংলাদেশের আফসার ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে ম্যাসন সিরিজের বাংলাদেশ সংস্করণ (২০২২, ২৩), মৃত্যুস্বপ্ন (২০২৪), ডিটেকটিভ তারিণীচরণ (২০২৪) । সম্পাদিত গ্রন্থ সিদ্ধার্থ ঘোষ প্রবন্ধ সংগ্রহ (২০১৭, ২০১৮) ফুড কাহিনি (২০১৯), কলকাতার রাত্রি রহস্য (২০২০) সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষে একাই একশো (২০২২), কলিকাতার ইতিবৃত্ত(২০২৩), বিদেশিদের চোখে বাংলা (২০২৪) এবং কলিকাতার নুকোচুরি (২০২৫)
জার্মানী থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর লেখা গবেষণাগ্রন্থ Discovering Friendly Bacteria: A Quest (২০১২)। তাঁর কমিকস ইতিবৃত্ত (২০১৫), হোমসনামা' (২০১৮),মগজাস্ত্র (২০১৮), জেমস বন্ড জমজমাট (২০১৯), তোপসের নোটবুক (২০১৯), কুড়িয়ে বাড়িয়ে (২০১৯),নোলা (২০২০), সূর্যতামসী (২০২০), আঁধার আখ্যান (২০২০) ও নীবারসপ্তক (২০২১) এই সব দিনরাত্রি (২০২২), ধন্য কলকেতা সহর (২০২২), আবার আঁধার (২০২২), অগ্নিনিরয় (২০২২), হারানো দিনের গল্প (২০২৪), সিংহদমন (২০২৪), ডিটেকটিভ তারিণীচরণ (২০২৪), আরও একটি প্রবন্ধ সংকলন (২০২৫), আতঙ্ক সমগ্র (২০২৫), তিমিরহনন (২০২৬) সুধীজনের প্রশংসাধন্য। সরাসরি জার্মান থেকে বাংলায় অনুবাদ করেছেন ঝাঁকড়া চুলো পিটার (২০২১)। বাংলাদেশের আফসার ব্রাদার্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে ম্যাসন সিরিজের বাংলাদেশ সংস্করণ (২০২২, ২৩), মৃত্যুস্বপ্ন (২০২৪), ডিটেকটিভ তারিণীচরণ (২০২৪) । সম্পাদিত গ্রন্থ সিদ্ধার্থ ঘোষ প্রবন্ধ সংগ্রহ (২০১৭, ২০১৮) ফুড কাহিনি (২০১৯), কলকাতার রাত্রি রহস্য (২০২০) সত্যজিৎ রায়ের জন্ম শতবর্ষে একাই একশো (২০২২), কলিকাতার ইতিবৃত্ত(২০২৩), বিদেশিদের চোখে বাংলা (২০২৪) এবং কলিকাতার নুকোচুরি (২০২৫)
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 40 reviews
November 29, 2020
হার্ড কপি মূল্য - ২৫০
(বানান ভুলের ত্রূটি মার্জনা করবেন বন্ধুগণ , প্রতিক্রিয়াটি আদ্যপান্ত মোবাইলে লেখা )
একটু নতুন কিছু জানার খিদেটা সকল পাঠকের ন্যায় আমার মধ্যেও বিদ্যমান। সেই ক্ষুধা নিবারণের অন্যতম উপাদান হোমসনামা, কুড়িয়ে বাড়িয়ে, মগজাস্ত্র, নোলা প্রমুখ। আর এসব উপাদেয় পুস্তকের পাচক কৌশিক মজুমদার মহাশয়। এতদিন অবধি তাঁর লেখনী কেবলই পড়েছি নতুন কিছু জানার আগ্রহে। এহেন লেখক মহাশয় সাবেকি নন ফিকশন থেকে বেরিয়ে এসে ফিকশন নন ফিকশনের মিশেল করে ব্যতিক্রমী যে বই টি রচনা করেছিলেন সেই সূর্যতামসী পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তখনই মনের কোণে যে প্রশ্ন উঁকি দিয়েছিল তা হল সহসা নিজের গণ্ডী ছেড়ে বেরিয়ে লেখক মহাশয় যেভাবে ফিকশন লেখনীতেও নিজের ব্যতিক্রমী স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন সেটি সহসা এত শীঘ্র কি করে সম্ভব। উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক বই আঁধার আখ্যান এ। এই বইতে প্রকাশিত ১৫ টি গল্পই পূর্বে পত্র পত্রিকায় এবং গল্প সংকলনে প্রকাশিত। এই বইয়ের গল্প গুলির মধ্যে দিয়েই নন ফিকশনের লেখক ফিকশন লেখনীতে তাঁর কলমের ধার বাড়িয়েছেন। দুই মলাটে সেই গল্প গুলি পড়তে পাচ্ছি এটাই একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল বইটি কেনার পিছনে।
এবার বলি গল্প গুলির কথা। মুটামুটি ভাবে ১৫ টি গল্পকে আমি দেখছি দুই ভাবে, মৌলিক(১১ টি) এবং অনুবাদ (৪ টি)। এবার গোত্র অনুযায়ী ভাঙ্গতে বসলে আমার স্বল্প জ্ঞানে শ্রেণীবিভাগ করতে পারছি মুটামুটি ৬ রকম(সম্পাদকের মতানুসারে ৪)। রহস্য,ভৌতিক, ভয়, কল্পবিজ্ঞান, অপরাধ এবং ডিস্টোপিয়ান। বোঝাই যায় যে এ বই একদম পাঁচমিশেলি। প্রতিটি গল্পই ছোট গল্প, যথা সম্ভব কাহিনী উল্লেখ না করে সেগুলির পরিচিতি নিম্নরূপ।
(১) নির্জন স্বাক্ষর- লক্ড রুম মিস্ট্রি। সূর্যতামসী খ্যাত গোয়েন্দা তুর্বসু রায়ের প্রথম কেস। ছোট্ট মেদহীন রহস্য গল্পে লেখক মিস্ট্রির জট অত্যন্ত সুচারু ভাবে পাকিয়েছেন এবং রহস্যভেদ করেছেন। ঘটনার বাহুল্য অনুপস্থিত থাকে বলে সাবেকি লক্ড রুম মিস্ট্রি গল্পে পাঠকের ধৈর্য ধরে রাখা অনেকাংশেই নির্ভর করে লেখনীর মাধুর্যের উপর। এই গল্পটি একেবারে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতন।
(২) স্যান্পচ্যাট - গল্পের বীজ নিহিত রয়েছে একটি খবরে প্রকাশিত সত্য ঘটনায়। কেমন হতো যদি চেনা ছকের অপরাধের আড়ালে লুকিয়ে থাকতো এক অন্যরকম 'কারন'। লেখকের কথায় ঠিক সেই চিন্তা থেকেই জন্ম এই কাহিনীর। বেশ উপভোগ্য লেখনী।
(৩) কাঁটা - এই গল্পটির মধ্যে দিয়ে পাঠককুল পরিচিত হবেন অপরাধ সম্বন্ধীয় গল্পের নতুন একটি ধারার সাথে। যেখানে গল্পে বর্ণিত হচ্ছে অপরাধ নয় , বরং অপরাধ মূলক কর্মের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাহিনী। পোশাকি ভাষায় নন ক্রাইম ক্রাইম স্টোরি। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এই প্রথম এরকম গল্প পড়লাম। আমার বেশ ভালো লেগেছে।
(৪) পোস্টকার্ড - এটিকেও সম্ভবত লক্ড রুম মিস্ট্রী ঘরানা-ভুক্ত করা চলে। তবে রহস্যের বুনন এবং সর্বোপরি গল্পের শেষ টুকু বেশ ভালো।
(৫) টেলিপ্যাথি - ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত লেখক মহাশয়ের প্রথম গল্প এটি। সাইকো লজিক্যাল থ্রিলার গোত্র ভুক্ত করা যেতে পারে। অত্যন্ত টানটান গল্পটির প্রতিক্ষণে কি হয় কি হয় সাসপেন্স টা লেখক মহাশয় খুবই দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।
(৬) পিপহোল - অত্যন্ত উপভোগ্য ভৌতিক গল্প। লেখকের নিজের জীবন থেকেও প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। গল্পের শেষটুকু ছাড়া রয়েছে পাঠকের মগজাস্ত্রের জন্য। তবে পাঠক হিসেবে আমার মনে হলো গল্পটি আরেকটু বড় হলে ভালো হতো, কেমন যেন ছোট বাটিতে পরিবেশিত উপাদেয় পায়েস মনে হলো।
(৭) শল্লের নাভি - এই গল্প সংকলনের সেরা গল্পের তকমা দেওয়া চলতে পারে এই গল্পটাকে। তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প গুলি যেমন অকাল্ট ও হরর এর সুনিপুণ মাত্রায় মিশেল হয়ে সুন্দর পাঠ্যানুভূতি দেয়, অবিকল সেই রকম স্বাদ পেলাম এই গল্পটি পড়ে। লেখক মহাশয়কে অনুরোধ জানাবো ঠিক এইরকম গল্প আরও পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য।
(৮) অভিশাপ - মদীয় জন্ম-ভিটে পণ্যহট্ট নিয়ে গল্প দেখে উৎসাহ জেগে উঠছিল, এই গল্পটির ও স্বাদ
শল্লের নাভি অনুরূপ। তবে শেষটুকু ব্যক্তিগত ভাবে আমার অপছন্দের। আকস্মিক মৃত্যু টা একটু অবিশ্বাস্য ঠেকল। যদিও বলা হয়েছে মৃত্যুর আগে জনৈক কি কর্মে লিপ্ত ছিল, তবু কিছুর একটু অভাব রয়েছে বলে মনে হয়।
(৯) মরণের পরে - লেখক মহাশয়ের জবানী অনুযায়ী অ্যমব্রোস বিয়ার্স রচিত ভয়ের গল্প থেকে সূত্র নিয়েই এই গল্প রচিত। হতে পারে আমারই ব্যর্থতা কিন্তু লক্ষ্য করেছি বেশ কিছু গোত্রের ভয়ের গল্প আমার রোচেনা। হয়তো বোধগম্য হয়না বলেই রোচেনা। চুপি চুপি বলি ল্যাভক্রফটিয়ান হরর নিয়েও আমার একই সমস্যা আছে। এই গল্পটিকে আমি পছন্দের তালিকার অন্তিম সোপানে ঠাঁই দিলুম। ও হ্যাঁ, এই গল্পেই প্রথম ছাপার ভুল চোখে পড়লো। ২নং অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে দুজনে দুহাজার টাকায় রফা হয়েছে এদিকে তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলছে দুটি দু হাজারের নোট (অর্থাৎ ৪ হাজার) দেওয়া হলো।
(১০) প্রেতিনী - ভৌতিক গল্পের সাথে অপার্থিব ভয় মিলিয়ে মিশিয়ে অসাধারণ একটি পরিবেশ রচনা করেছেন লেখক মহাশয়। শেষ পাতে জবানবন্দি বলছে এ কাহিনীর অনেকটাই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। ভাবতেই শিহরণ জাগে। কুর্নিশ কলমচি মহাশয় কে।
(১১) বারো মিনিট - সংকলনের প্রথম কল্পবিজ্ঞানের গল্প। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এটিকে সাইন্স ফিকশন না বলে সাইন্স ফ্যান্টাসি হিসেবেই দেখতে চাই। ভবিষ্যতের সমাজের বেশ ভালো একটি চিত্রায়ন হয়েছে এই গল্পে তবে শেষ টুকু আমার অতিরিক্ত কল্পনা দুষ্ট মনে হলো।
(১২) শেষ মেষ - রোয়াল ডাল রচিত Lamb to the slaughter র অনুবাদ। অসাধারণ গল্পের অসামান্য অনুবাদ। গল্পের মূল চরিত্র গুলির মানসিক অবস্থা যেভাবে ফুটে উঠেছে লেখনীর মধ্যে দিয়ে তা দুর্দান্ত। এই গল্পেও আমার একটি ছাপার ভুল নজরে এসেছে। 'গাড়ি এসে হাহির' যেটি 'হাজির' হবে।
(১৩) সে এক অদ্ভুত পার্টি - সংকলনের দ্বিতীয় সাইন্স ফ্যান্টাসি ঘরানার গল্প। মূল গল্পের নাম How to talk to girls at parties । দুই বন্ধুর সান্ধ্য কালীন পার্টি গমন যে কিভাবে একটি গা ছমছমে এডভেঞ্চারে পরিণত হয় তা বেশ রোমাঞ্চকর ভাবে বর্ণিত হয়েছে এই গল্পে।
(১৪) পাকড়ো ছোড়ো - আমার অত্যন্ত প্রিয় এক গল্পের অনুবাদ। মানুষের মনের এক ঘৃণিত অন্ধকার দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে। মূল গল্প Catch and relese । গল্পের প্রতি মুহূর্তে যে 'তারপর কি হলো ' অনুভূতি , তাতে পাঠককে একদম বইয়ের লাইনে আটকে রাখছে গল্পের শেষ অবধি। লেখক মহাশয় কে কুর্নিশ এই অসামান্য অনুবাদের জন্য। প্রথম পড়েছিলাম 'ভয়াল' বইটিতে আর এবার পড়লাম এখানে। সেলাম লেখক।
(১৫) সাজাঘর - এই গল্প সংকলনের একমাত্র ডিস্টোপিয়ান কাহিনী। ব্যক্তিগত ভাবে আমার এই ঘরানা খুব একটা পছন্দের নয় তবে এই গল্পটি আমার অসাধারণ লাগলো। সত্যি মনে হচ্ছে এই গল্পটি পড়ার পর এই ঘরানার উপর আমার উৎসাহ জন্মাচ্ছে। মূল কাহিনী Punishment Room এতো সাবলীল অনুবাদ যে ধারণা করাই দুষ্কর যে এটি মৌলিক গল্প নয়। অসাধারণ।
সব শেষে বলতে চাই খুবই অল্প কিছু ছাপার ভুল বাদ দিলে অত্যন্ত উপভোগ্য গল্প সংকলন। প্রচ্ছদ শিল্প অনবদ্য, সব মিলিয়ে সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই।
(বানান ভুলের ত্রূটি মার্জনা করবেন বন্ধুগণ , প্রতিক্রিয়াটি আদ্যপান্ত মোবাইলে লেখা )
একটু নতুন কিছু জানার খিদেটা সকল পাঠকের ন্যায় আমার মধ্যেও বিদ্যমান। সেই ক্ষুধা নিবারণের অন্যতম উপাদান হোমসনামা, কুড়িয়ে বাড়িয়ে, মগজাস্ত্র, নোলা প্রমুখ। আর এসব উপাদেয় পুস্তকের পাচক কৌশিক মজুমদার মহাশয়। এতদিন অবধি তাঁর লেখনী কেবলই পড়েছি নতুন কিছু জানার আগ্রহে। এহেন লেখক মহাশয় সাবেকি নন ফিকশন থেকে বেরিয়ে এসে ফিকশন নন ফিকশনের মিশেল করে ব্যতিক্রমী যে বই টি রচনা করেছিলেন সেই সূর্যতামসী পড়ে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তখনই মনের কোণে যে প্রশ্ন উঁকি দিয়েছিল তা হল সহসা নিজের গণ্ডী ছেড়ে বেরিয়ে লেখক মহাশয় যেভাবে ফিকশন লেখনীতেও নিজের ব্যতিক্রমী স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছেন সেটি সহসা এত শীঘ্র কি করে সম্ভব। উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তাঁর সাম্প্রতিক বই আঁধার আখ্যান এ। এই বইতে প্রকাশিত ১৫ টি গল্পই পূর্বে পত্র পত্রিকায় এবং গল্প সংকলনে প্রকাশিত। এই বইয়ের গল্প গুলির মধ্যে দিয়েই নন ফিকশনের লেখক ফিকশন লেখনীতে তাঁর কলমের ধার বাড়িয়েছেন। দুই মলাটে সেই গল্প গুলি পড়তে পাচ্ছি এটাই একটা আলাদা আকর্ষণ ছিল বইটি কেনার পিছনে।
এবার বলি গল্প গুলির কথা। মুটামুটি ভাবে ১৫ টি গল্পকে আমি দেখছি দুই ভাবে, মৌলিক(১১ টি) এবং অনুবাদ (৪ টি)। এবার গোত্র অনুযায়ী ভাঙ্গতে বসলে আমার স্বল্প জ্ঞানে শ্রেণীবিভাগ করতে পারছি মুটামুটি ৬ রকম(সম্পাদকের মতানুসারে ৪)। রহস্য,ভৌতিক, ভয়, কল্পবিজ্ঞান, অপরাধ এবং ডিস্টোপিয়ান। বোঝাই যায় যে এ বই একদম পাঁচমিশেলি। প্রতিটি গল্পই ছোট গল্প, যথা সম্ভব কাহিনী উল্লেখ না করে সেগুলির পরিচিতি নিম্নরূপ।
(১) নির্জন স্বাক্ষর- লক্ড রুম মিস্ট্রি। সূর্যতামসী খ্যাত গোয়েন্দা তুর্বসু রায়ের প্রথম কেস। ছোট্ট মেদহীন রহস্য গল্পে লেখক মিস্ট্রির জট অত্যন্ত সুচারু ভাবে পাকিয়েছেন এবং রহস্যভেদ করেছেন। ঘটনার বাহুল্য অনুপস্থিত থাকে বলে সাবেকি লক্ড রুম মিস্ট্রি গল্পে পাঠকের ধৈর্য ধরে রাখা অনেকাংশেই নির্ভর করে লেখনীর মাধুর্যের উপর। এই গল্পটি একেবারে এক নিঃশ্বাসে পড়ে ফেলার মতন।
(২) স্যান্পচ্যাট - গল্পের বীজ নিহিত রয়েছে একটি খবরে প্রকাশিত সত্য ঘটনায়। কেমন হতো যদি চেনা ছকের অপরাধের আড়ালে লুকিয়ে থাকতো এক অন্যরকম 'কারন'। লেখকের কথায় ঠিক সেই চিন্তা থেকেই জন্ম এই কাহিনীর। বেশ উপভোগ্য লেখনী।
(৩) কাঁটা - এই গল্পটির মধ্যে দিয়ে পাঠককুল পরিচিত হবেন অপরাধ সম্বন্ধীয় গল্পের নতুন একটি ধারার সাথে। যেখানে গল্পে বর্ণিত হচ্ছে অপরাধ নয় , বরং অপরাধ মূলক কর্মের জন্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কাহিনী। পোশাকি ভাষায় নন ক্রাইম ক্রাইম স্টোরি। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এই প্রথম এরকম গল্প পড়লাম। আমার বেশ ভালো লেগেছে।
(৪) পোস্টকার্ড - এটিকেও সম্ভবত লক্ড রুম মিস্ট্রী ঘরানা-ভুক্ত করা চলে। তবে রহস্যের বুনন এবং সর্বোপরি গল্পের শেষ টুকু বেশ ভালো।
(৫) টেলিপ্যাথি - ছাপার অক্ষরে প্রকাশিত লেখক মহাশয়ের প্রথম গল্প এটি। সাইকো লজিক্যাল থ্রিলার গোত্র ভুক্ত করা যেতে পারে। অত্যন্ত টানটান গল্পটির প্রতিক্ষণে কি হয় কি হয় সাসপেন্স টা লেখক মহাশয় খুবই দক্ষতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছেন।
(৬) পিপহোল - অত্যন্ত উপভোগ্য ভৌতিক গল্প। লেখকের নিজের জীবন থেকেও প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। গল্পের শেষটুকু ছাড়া রয়েছে পাঠকের মগজাস্ত্রের জন্য। তবে পাঠক হিসেবে আমার মনে হলো গল্পটি আরেকটু বড় হলে ভালো হতো, কেমন যেন ছোট বাটিতে পরিবেশিত উপাদেয় পায়েস মনে হলো।
(৭) শল্লের নাভি - এই গল্প সংকলনের সেরা গল্পের তকমা দেওয়া চলতে পারে এই গল্পটাকে। তারানাথ তান্ত্রিকের গল্প গুলি যেমন অকাল্ট ও হরর এর সুনিপুণ মাত্রায় মিশেল হয়ে সুন্দর পাঠ্যানুভূতি দেয়, অবিকল সেই রকম স্বাদ পেলাম এই গল্পটি পড়ে। লেখক মহাশয়কে অনুরোধ জানাবো ঠিক এইরকম গল্প আরও পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্য।
(৮) অভিশাপ - মদীয় জন্ম-ভিটে পণ্যহট্ট নিয়ে গল্প দেখে উৎসাহ জেগে উঠছিল, এই গল্পটির ও স্বাদ
শল্লের নাভি অনুরূপ। তবে শেষটুকু ব্যক্তিগত ভাবে আমার অপছন্দের। আকস্মিক মৃত্যু টা একটু অবিশ্বাস্য ঠেকল। যদিও বলা হয়েছে মৃত্যুর আগে জনৈক কি কর্মে লিপ্ত ছিল, তবু কিছুর একটু অভাব রয়েছে বলে মনে হয়।
(৯) মরণের পরে - লেখক মহাশয়ের জবানী অনুযায়ী অ্যমব্রোস বিয়ার্স রচিত ভয়ের গল্প থেকে সূত্র নিয়েই এই গল্প রচিত। হতে পারে আমারই ব্যর্থতা কিন্তু লক্ষ্য করেছি বেশ কিছু গোত্রের ভয়ের গল্প আমার রোচেনা। হয়তো বোধগম্য হয়না বলেই রোচেনা। চুপি চুপি বলি ল্যাভক্রফটিয়ান হরর নিয়েও আমার একই সমস্যা আছে। এই গল্পটিকে আমি পছন্দের তালিকার অন্তিম সোপানে ঠাঁই দিলুম। ও হ্যাঁ, এই গল্পেই প্রথম ছাপার ভুল চোখে পড়লো। ২নং অনুচ্ছেদে বলা হচ্ছে দুজনে দুহাজার টাকায় রফা হয়েছে এদিকে তৃতীয় অনুচ্ছেদে বলছে দুটি দু হাজারের নোট (অর্থাৎ ৪ হাজার) দেওয়া হলো।
(১০) প্রেতিনী - ভৌতিক গল্পের সাথে অপার্থিব ভয় মিলিয়ে মিশিয়ে অসাধারণ একটি পরিবেশ রচনা করেছেন লেখক মহাশয়। শেষ পাতে জবানবন্দি বলছে এ কাহিনীর অনেকটাই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত। ভাবতেই শিহরণ জাগে। কুর্নিশ কলমচি মহাশয় কে।
(১১) বারো মিনিট - সংকলনের প্রথম কল্পবিজ্ঞানের গল্প। ব্যক্তিগত ভাবে আমি এটিকে সাইন্স ফিকশন না বলে সাইন্স ফ্যান্টাসি হিসেবেই দেখতে চাই। ভবিষ্যতের সমাজের বেশ ভালো একটি চিত্রায়ন হয়েছে এই গল্পে তবে শেষ টুকু আমার অতিরিক্ত কল্পনা দুষ্ট মনে হলো।
(১২) শেষ মেষ - রোয়াল ডাল রচিত Lamb to the slaughter র অনুবাদ। অসাধারণ গল্পের অসামান্য অনুবাদ। গল্পের মূল চরিত্র গুলির মানসিক অবস্থা যেভাবে ফুটে উঠেছে লেখনীর মধ্যে দিয়ে তা দুর্দান্ত। এই গল্পেও আমার একটি ছাপার ভুল নজরে এসেছে। 'গাড়ি এসে হাহির' যেটি 'হাজির' হবে।
(১৩) সে এক অদ্ভুত পার্টি - সংকলনের দ্বিতীয় সাইন্স ফ্যান্টাসি ঘরানার গল্প। মূল গল্পের নাম How to talk to girls at parties । দুই বন্ধুর সান্ধ্য কালীন পার্টি গমন যে কিভাবে একটি গা ছমছমে এডভেঞ্চারে পরিণত হয় তা বেশ রোমাঞ্চকর ভাবে বর্ণিত হয়েছে এই গল্পে।
(১৪) পাকড়ো ছোড়ো - আমার অত্যন্ত প্রিয় এক গল্পের অনুবাদ। মানুষের মনের এক ঘৃণিত অন্ধকার দিক ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই গল্পে। মূল গল্প Catch and relese । গল্পের প্রতি মুহূর্তে যে 'তারপর কি হলো ' অনুভূতি , তাতে পাঠককে একদম বইয়ের লাইনে আটকে রাখছে গল্পের শেষ অবধি। লেখক মহাশয় কে কুর্নিশ এই অসামান্য অনুবাদের জন্য। প্রথম পড়েছিলাম 'ভয়াল' বইটিতে আর এবার পড়লাম এখানে। সেলাম লেখক।
(১৫) সাজাঘর - এই গল্প সংকলনের একমাত্র ডিস্টোপিয়ান কাহিনী। ব্যক্তিগত ভাবে আমার এই ঘরানা খুব একটা পছন্দের নয় তবে এই গল্পটি আমার অসাধারণ লাগলো। সত্যি মনে হচ্ছে এই গল্পটি পড়ার পর এই ঘরানার উপর আমার উৎসাহ জন্মাচ্ছে। মূল কাহিনী Punishment Room এতো সাবলীল অনুবাদ যে ধারণা করাই দুষ্কর যে এটি মৌলিক গল্প নয়। অসাধারণ।
সব শেষে বলতে চাই খুবই অল্প কিছু ছাপার ভুল বাদ দিলে অত্যন্ত উপভোগ্য গল্প সংকলন। প্রচ্ছদ শিল্প অনবদ্য, সব মিলিয়ে সংগ্রহে রাখার মতো একটি বই।
July 16, 2021
শল্লের নাভি, প্রেতিনী — দুয়েকটা গল্প ছাড়া বাকিসব ঠিক জমলো না! [ আরাম নাই, ব্যারাম! ]
December 20, 2023
দারুণ সময় কাটলো। 'নির্জন সাক্ষর' ' শল্লের নাভি' 'প্রেতিনী' 'শেষ মেষ' ও 'অভিশাপ' সবচেয়ে ভালো লেগেছে।
January 15, 2026
লকড রুম মিস্ট্রি থেকে শুরু হলেও ক্রমান্বয়ে জনরা বদলে গিয়ে সাইন্স ফিকশন এমনকি অনুবাদ গল্পে এসে ঠেকেছে।
একেবারে প্রথম গল্পটার নাম 'নির্জন সাক্ষর'। গল্পটার রহস্য মীমাংসায় যথেষ্ট সন্তুষ্ট। তারানাথ তান্ত্রিক কায়দার ক্লাসিক হরর গল্প 'শল্লের নাভি', 'অভিশাপ'ও অনুরুপ। 'প্রেতিনী' গল্পটা নাকি বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। এই চারটে গল্প ভালো লেগেছে।
অনুপ্রাণিত গল্প ছিল বেশিরভাগই। অনুবাদ ছিলো বেশ কয়েকটা। 'শেষ মেষ' গল্পটা Lamb to the Slaughter গল্পের অনুবাদ। কি দারুণ একটা গল্প! এছাড়া 'পিপহোল' গল্পের ভীতিকর এন্ডিং আর মাছ ধরার রুপকীয় গল্প 'পাকড়ো-ছোড়ো' বেশ ভালো অনুবাদ করা হয়েছে । লেখকের লেখা এই প্রথমবারের মত পড়লাম। ঝরঝরে লেখা। তবে সব গল্প না জমলেও উপভোগ্য..
একেবারে প্রথম গল্পটার নাম 'নির্জন সাক্ষর'। গল্পটার রহস্য মীমাংসায় যথেষ্ট সন্তুষ্ট। তারানাথ তান্ত্রিক কায়দার ক্লাসিক হরর গল্প 'শল্লের নাভি', 'অভিশাপ'ও অনুরুপ। 'প্রেতিনী' গল্পটা নাকি বাস্তব ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। ভাবলেই গায়ে কাঁটা দেয়। এই চারটে গল্প ভালো লেগেছে।
অনুপ্রাণিত গল্প ছিল বেশিরভাগই। অনুবাদ ছিলো বেশ কয়েকটা। 'শেষ মেষ' গল্পটা Lamb to the Slaughter গল্পের অনুবাদ। কি দারুণ একটা গল্প! এছাড়া 'পিপহোল' গল্পের ভীতিকর এন্ডিং আর মাছ ধরার রুপকীয় গল্প 'পাকড়ো-ছোড়ো' বেশ ভালো অনুবাদ করা হয়েছে । লেখকের লেখা এই প্রথমবারের মত পড়লাম। ঝরঝরে লেখা। তবে সব গল্প না জমলেও উপভোগ্য..
August 7, 2021
১৫টি গল্প নিয়ে সংকলিত এই বইটি। শুরু করেছেন গোয়েন্দা গল্প দিয়ে আর ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন জনরা যথা ক্রাইম, হরর আর সায়েন্স ফিকশন দিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন। কিছু গল্প আছে যেগুলা সরাসরি অনুবাদ আর কিছু গল্প অনুপ্রেরিত হয়ে লেখা। সাথে মৌলিক লেখা তোহ আছেই। এসব গল্পের মধ্যে নির্জন স্বাক্ষর, শল্লের নাভি আর প্রেতিনী ভাল লেগেছে। অনুবাদগুলা ভাল কিন্তু মূল গল্পটাই তেমন ভাল লাগেনি দেখে পছন্দ হয়েছে বলা যাচ্ছে না। লেখকের লেখা ঝরঝরে। পড়তে ভাল আরাম।
March 17, 2025
দারুণ! প্রথম গল্পেই ম্যাসন ট্রিলজির তুর্বসু রায়!
"এই কাহিনি সূর্যতামসীর স্পিন অফ। ঘটনাক্রমানুযায়ী সূর্যতামসীর পরে হলেও আসলে প্রকাশিত হয়েছিল (চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম সাইটে) বই প্রকাশের একমাস আগে (মে, ২০২০)। তাই পাঠকের কাছে তুর্বসুর আবির্ভাব কাহিনি এক অর্থে এটাই।" - লেখক।
কিছু গল্প ভালো লেগেছে, কিছু সাদামাটা। ফুরসত পেলে বিস্তারিত রিভিউ লেখবার ইচ্ছা আছে।
"এই কাহিনি সূর্যতামসীর স্পিন অফ। ঘটনাক্রমানুযায়ী সূর্যতামসীর পরে হলেও আসলে প্রকাশিত হয়েছিল (চার নম্বর প্ল্যাটফর্ম সাইটে) বই প্রকাশের একমাস আগে (মে, ২০২০)। তাই পাঠকের কাছে তুর্বসুর আবির্ভাব কাহিনি এক অর্থে এটাই।" - লেখক।
কিছু গল্প ভালো লেগেছে, কিছু সাদামাটা। ফুরসত পেলে বিস্তারিত রিভিউ লেখবার ইচ্ছা আছে।
November 10, 2025
১৫ টা ছোট গল্প নিয়ে এই বইটা।মোটাদাগে ৬-৭ টা গল্প মন ছুয়ে যাওয়ার মতো।এই গল্পগ্রন্থের সেরা গল্প "নির্জন সাক্ষর"। আহ কতদিন পর একটা ক্লাসিক লকড রুম মার্ডার মিস্ট্রি পড়লাম।এরপর ই বলতে হবে " পোস্টকার্ড " গল্পটা।নিঃসন্দেহে এই গল্পগ্রন্থের দ্বিতীয় সেরা গল্প।তারপর উল্লেখযোগ্য গল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে "প্রেতিনী"," পিপহোল","কাঁটা"।আর অনুবাদ গল্পের মধ্যে অবশ্যই রয়েছে "অদ্ভুত পার্টি " গল্পটা।কি অদ্ভুত সুন্দর একটা গল্প নিল গেইম্যানের।
May 30, 2026
সাড়ে তিন।
কৌশিক মজুমদার আমার বেশ পছন্দের লেখক। নন-ফিকশন হোক কিংবা ফিকশন, উভয় জায়গাতেই তার লেখা আমার পছন্দের। এই বইয়ের গল্পগুলোও বেশ ভালো লাগলো।
একটা জিনিস আলাদা করে নজর কেড়েছে তা হলো গল্পগুলো যেভাবে সাজানো হয়েছে বইয়ে। একটার চেয়ে আরেকটা বেশি ডার্ক এই ধারায়।
কৌশিক মজুমদার আমার বেশ পছন্দের লেখক। নন-ফিকশন হোক কিংবা ফিকশন, উভয় জায়গাতেই তার লেখা আমার পছন্দের। এই বইয়ের গল্পগুলোও বেশ ভালো লাগলো।
একটা জিনিস আলাদা করে নজর কেড়েছে তা হলো গল্পগুলো যেভাবে সাজানো হয়েছে বইয়ে। একটার চেয়ে আরেকটা বেশি ডার্ক এই ধারায়।
December 11, 2023
দুই তিনটা গল্প ছাড়া বাকিগুলো একদমই জমেনি।
June 17, 2021
অন্ধকার তন্ত্রসাধনার ক্লাসিক ভয়ের গল্প "শল্লের নাভি", গ্রামীণ পটভূমিতে অপদেবতার গল্প " অভিশাপ" আর মনের গহীন অন্ধকার দুনিয়ার গল্প "প্রেতিনী" সংকলনের সেরা তিনটা গল্প। সায়েন্স ফিকশন গল্পগুলো সবচেয়ে দুর্বল গল্প। অনুবাদ গল্পগুলো বেশ ভালো। গোয়েন্দা গল্পগুলো তেমন একটা সুবিধার না।
March 22, 2024
১৫ খানা গল্পের এই সংকলনে স্ন্যাপচ্যাট, কাঁটা, টেলিপ্যাথি, শল্লের নাভি, শেষ মেষ গল্পগুলো বেশি ভালো লেগেছে। বাকিগুলো এভারেজ!
June 15, 2024
২.৫
কয়েকটা গল্প বেশ সুন্দর হলেও তাদের সংখ্যা খুবই কম। বেশিরভাগ গল্পই বিলো এভারেজ-এভারেজ। হাতে আজাইরা সময় না থাকলে এইটা রেকমেন্ড করছি না
কয়েকটা গল্প বেশ সুন্দর হলেও তাদের সংখ্যা খুবই কম। বেশিরভাগ গল্পই বিলো এভারেজ-এভারেজ। হাতে আজাইরা সময় না থাকলে এইটা রেকমেন্ড করছি না
February 4, 2025
2.86, rounded up.
November 29, 2024
আমি সচরাচর ছোটগল্প পড়ি না...কিন্তু কৌশিক মজুমদার স্যার এর ঝরঝরে লেখনীর কাছে এসব অজুহাত নিতান্তই ফেলনা... শীতের রাতে, এককাপ কফি হাতে, গরম কম্বল গায়ে জড়িয়ে এই বই পড়ার মজাই আলাদা!!!..."আবার আধার" বইটা খুব শীঘ্রই পড়ার ইচ্ছে রইল।
June 18, 2022
প্রথমের দিকের লেখাগুলো বেশ ভাল। তবে অনুবাদ গল্পগুলো খুব একটা ভাল লাগল না।
November 23, 2022
আঁধার আখ্যান।
লেখক -কৌশিক মজুমদার।
প্রকাশক - বুক ফার্ম।
জেনার - থ্রিলার গল্প সংকলন।
মূল্য - 250/-
কলকাতার লেখকদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় লেখক কৌশিক মজুমদার। তার লেখা সূর্যতামাসী ও নীবারসপ্তক ইতিমধ্যেই পড়া হয়েছে তাই কৌশিক মজুমদারের নাম দেখে বইটি পড়তে আর দু'বার চিন্তা করিনি। আঁধার আখ্যান বইটি একটি গল্প সমগ্র। পুরো বইয়ে মৌলিক ও অনুবাদ মিলিয়ে পনেরটি গল্প আছে।রহস্য, ভৌতিক, অলৌকিক,ক্রাইম স্টোরি জনরার মোট পনেরোটি গল্প নিয়ে আঁধার আখ্যান বইটি সাজানো হয়েছে ।গল্পের বিষয়বস্তুু যাই হোক না কেন, এই সংকলনের সব গল্প আসলে এক তারে বাঁধা। এদের সবার মূল বিষয় "অন্ধকার"। হোক না সে মানবমনের কালিমা,গভীর অন্ধকারের ঘুম,অতিলৌকিক তমসা অথবা ডিস্টোপিয়ান ডার্কনেস। আদতে গোটাটাই এক নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকার জগতের গল্প সংকলন।
পটভূমি -
আমার পছন্দের কিছু গল্পের আলোচনা করলাম।
১. নির্জন স্বাক্ষর -
"আঁধার আখ্যান" বইয়ের প্রথম গল্পেই ত্রিশ বছর আগের একটি লকড রূম মার্ডার মিস্ট্রি, একটি আনসলভ্ড কেস যা একজন পুলিশ অফিসার এর মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছিল, সেই কেস টিকে সলভ করতে পুলিশ অফিসার কেস সম্পর্কিত সব ডিটেলস আলোচনা করেন ডিটেক্টিভ তুবুরসু রায় এর সাথে, তুবুরসু কি করে এই মার্ডার মিস্ট্রি সলভ করলেন সেটাই গল্প।
২. স্ন্যাপচ্যাট :
একটি চিঠির বয়ানে প্রকোট হতে থাকে নিজের স্বামীকে ঠকিয়ে পালিয়ে যাওয়া একজন স্ত্রীর পরকীয়ার মুহূর্তগুলো। চিঠির মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেছে একজন পুরুষ যার স্ন্যাপচ্যাটে পরিচয় হয়েছিল সেই মহিলা অর্থাৎ সুজাতার সঙ্গে। প্রেমের ধারায় ভেসে গেলেও ছেলেটি তার আরেক ভালোবাসাকে ভুলে যায়নি। সে গাছ ভালোবাসে, ফুল ভালোবাসে, বাড়িতে গড়তে চায় একটি সুন্দর গোলাপের বাগান। কিন্তু তারপর…
৩. কাঁটা:
হাউসিং কমপ্লেক্সে আজকাল যে যার মত বাঁচতে ভালোবাসে। কিন্তু এই চিন্তাগুলো রণিতার জন্য খাটে না। সোসাইটির সমস্ত খবর তার নখদর্পণে। কিন্তু সে যখন জানতে পারে তাঁর সামনের ফ্ল্যাটের সোহম চলে যাচ্ছে তখন সন্দেহ বাসা বাঁধে তার মস্তিষ্কে। আর সেই সন্দেহ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে যখন সোহমের স্ত্রী স্নিগ্ধার কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় রণিতা দেবীর জন্য। পরে সবকিছু ঠিক হলেও এক ঘন চক্রান্তের জাল আস্তেপিষ্টে জড়িয়ে ধরে। কী ছিল সেই চক্রান্ত, এর পরে কি হলো সেই দম্পতি এবং রণিতা দেবীর!
(এই ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা প্রথমবারের মতো পড়লাম, গল্পের শেষটা জাস্ট অন্য লেভেলের।)
৪. পোস্টকার্ড :
ঝাঁ চকচকে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছে ধৃতি যেখানে এক মাস আগে মারা গিয়েছেন এই ফ্ল্যাটের পূর্বতন মালিক চিত্রনাট্যকার সুপ্রিয় বসু। নিজের লাইব্রেরীতে মই থেকে পড়ে গিয়ে ঘটে সেই দুর্ঘটনা। পেশায় জার্নালিস্ট ধৃতির এই মৃত্যু নিয়ে আগ্রহ আরো বাড়িয়ে তোলে একটি পোস্ট কার্ড, পাঠিয়েছেন সুপ্রিয় বাবুর বন্ধু অরবিন্দ। তাঁর ছবি "বিষণ্ণ সকাল" এর সফল্যতার জন্য শুভেচ্ছা বার্তাও ছিল বর্তমান চিঠিতে। সুপ্রিয় বসু মারা গিয়েছেন কয়েক মাস আগে আর তার ছবি রিলিজ করেছে দুই সপ্তাহ হয়েছে! আশ্চর্যের বিষয় হলো, চিঠিটাও ডেলিভারি হয়েছে মাত্র তিনদিন আগেই।
৭. শল্লের নাভি :
পিতামহ স্বর্গীয় বলহরি মজুমদারের খাতা ঘেঁটে লেখক জানতে পারে তার পিতামহের এমন নামের পিছনে আসল কারণ। তাঁর আসল নাম ছিল প্রফুল্লকুমার মজুমদার। বাংলাদেশে থাকাকালীন তাঁর ছোটকাকা পরেশচন্দ্র পাশে একটি শ্মশানে ডোম হরিয়ার সান্নিধ্য লাভ করে। স্বভাবে বাউন্ডুলে প্রকৃতির মানুষটিকে বিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও তার চরিত্রে কোনো পরিবর্তন আসে না। একদিন সেই হরিয়া শ্মশানে বাজ পড়ে মারা যায়। প্রফুল্লকুমারের কাকা স্বভাবতই খুব ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে গ্রামে হরিয়ার শরীর সঠিক সময়ে দাহ করা সম্ভব হয় না। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে আংশিক শরীর পোড়ানো সম্ভব হলেও হরিয়ার নাভি এবং মাথার খুলি কেউ খুঁজে পায় না। অমাবস্যায় হরিয়ার মৃত্যু হয়েছে। খুলি আর নাভি পাওয়া যায়নি। চন্ডাল অপঘাতে মরলে চুন্ডু হয়। গয়ায় পিন্ডি দিলেও তার মুক্তি নেই। নাভি থেকে তৈরি হয় শল্ল। কেন এই জিনিসটি এত ভয়ঙ্কর আর কি অভিশাপ নিয়ে এসেছিল একটি চন্ডালের অপমৃত্যু।
৮. অভিশাপ :
"পানিহাটির অপদেবতা" নামে এই বিশেষ এবং অদ্ভুত লেখাটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রকাশ পায় এক অলৌকিক এবং হাড় হিম করা ঘটনা। ব্রিটিশ আমলে মশলা এবং তামাকের ব্যবসা করে বেশ ফুলে ফেঁপে উঠেছিল কিশোরীমহন মুখুজ্জে। তার নায়েব হিরু বসাক ব্যবসার স্বার্থে ইংরেজদের নানাভাবে খুশি করার চেষ্টায় জঘন্য কাজ করতে পিছপা হত না। সেই অভ্যাস গুণে তিনি করে ফেলেন এমন একটি কাজ যার ফলস্বরূপ তার উপর হয় প্রাণঘাতী হামলা। কষ্টদায়ক মৃত্যুর পরে শ্মশান পথে যাত্রা করার সময় তার নিষ্প্রাণ শরীরে অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে যা প্রত্যক্ষ করে তাকে নিয়ে চলা শ্মশান যাত্রীরা। লোকে বলে তাকে নাকি দানোয় পেয়েছিল! এক ভয়ংকর অমানিশা গ্রাস করে কিশোরী এবং তার পরিবারকে। কেন এমনটা হলো! সেই তথ্যের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এই গল্পে।
১১. বারো মিনিট :
পৃথিবীতে ক্রমে বিস্তার ঘটে চলেছে ভীনগ্রহীদের। তাদের বিরুদ্ধে একটি এলায়েন্স গঠন করে ডঃ মুস্তাফি। কিন্তু বর্তমানে কিছু ঘটনায় ডঃ মুস্তাফিকে সন্দেহ করতে শুরু করে তাঁর সংগঠনের কর্মীরা। নিশ্চিত হতে ঠিক হয় প্রাণদণ্ড। কিন্তু মুস্তাফি নিজেকে এত সহজে শেষ হতে দিতে পারে না। তিরিশ তলা বিন্ডিং এর কার্নিশে দাঁড়িয়ে এক বিকল্প পদ্ধতি বেছে নেয় সে। শেষ পর্যন্ত কী উপসংহার অপেক্ষা করছে তার জন্য?
১৫. সাজাঘর :
ডমিনিক প্ল্যাটাগ্লিয়া ধৈর্য্যের সীমা অতিক্রম করে। প্রতি ধাপে অত্যাচারের নতুন পন্থায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠা মানুষটা সুযোগ খোঁজে এই নরক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাওয়ার। তার মত আরো অনেক মানুষ বন্দি সেই সাজাঘরে। সে কি পারবে সাজাঘর থেকে পালাতে? কেনই বা তার মত সকলে এই বর্বরতার শিকার হতে হয়! ডিসটোপিয়ান সমাজের এই অদ্ভুত নিদর্শনের আখ্যান রয়েছে এই গল্পে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া -
বইটিতে সবকটি গল্পের ভাষা অত্যন্ত সাবলীল। গল্পের দৈর্ঘ্য কম এবং সবথেকে চমৎকার লাগে প্রতি গল্পের শেষে লেখকের জবানি। নির্দিষ্ট কোনো গল্পের প্লট লেখকের মাথায় কিভাবে আসে সে বিষয়ে সংক্ষেপে বলা হয়েছে। কল্পবিজ্ঞান, ক্রাইম, রহস্য এবং অলৌকিক ধারায় রচিত এই গল্পগুলোর মারাত্মক মোচড় পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে গল্পের শেষ লাইনে। এই বইয়ে লেখক নতুন ধরনের কিছু গল্প লিখেছেন যা বাংলা সাহিত্যে সচরাচর দেখা যায় না।যেমন নন ক্রাইম স্টোরি।নন ক্রাইম স্টোরি সেরকম গল্প যেখানে আদতে কোনো অপরাধ হয় না,কিন্তু অপরাধের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।শেষে গোটা টাই পাঠকের কল্পনার ওপরে ছেড়ে দেওয়া হয়।থ্রিলার প্রেমী পাঠকদের জন্য সুখপাঠ্য হবে বইটি।প্রতিটি পাতায় রোমাঞ্চে ভরপুর।
Please follow Journal of a Bookworm page in facebook for more discussion.
লেখক -কৌশিক মজুমদার।
প্রকাশক - বুক ফার্ম।
জেনার - থ্রিলার গল্প সংকলন।
মূল্য - 250/-
কলকাতার লেখকদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় লেখক কৌশিক মজুমদার। তার লেখা সূর্যতামাসী ও নীবারসপ্তক ইতিমধ্যেই পড়া হয়েছে তাই কৌশিক মজুমদারের নাম দেখে বইটি পড়তে আর দু'বার চিন্তা করিনি। আঁধার আখ্যান বইটি একটি গল্প সমগ্র। পুরো বইয়ে মৌলিক ও অনুবাদ মিলিয়ে পনেরটি গল্প আছে।রহস্য, ভৌতিক, অলৌকিক,ক্রাইম স্টোরি জনরার মোট পনেরোটি গল্প নিয়ে আঁধার আখ্যান বইটি সাজানো হয়েছে ।গল্পের বিষয়বস্তুু যাই হোক না কেন, এই সংকলনের সব গল্প আসলে এক তারে বাঁধা। এদের সবার মূল বিষয় "অন্ধকার"। হোক না সে মানবমনের কালিমা,গভীর অন্ধকারের ঘুম,অতিলৌকিক তমসা অথবা ডিস্টোপিয়ান ডার্কনেস। আদতে গোটাটাই এক নিরবচ্ছিন্ন অন্ধকার জগতের গল্প সংকলন।
পটভূমি -
আমার পছন্দের কিছু গল্পের আলোচনা করলাম।
১. নির্জন স্বাক্ষর -
"আঁধার আখ্যান" বইয়ের প্রথম গল্পেই ত্রিশ বছর আগের একটি লকড রূম মার্ডার মিস্ট্রি, একটি আনসলভ্ড কেস যা একজন পুলিশ অফিসার এর মর্যাদা ক্ষুন্ন করেছিল, সেই কেস টিকে সলভ করতে পুলিশ অফিসার কেস সম্পর্কিত সব ডিটেলস আলোচনা করেন ডিটেক্টিভ তুবুরসু রায় এর সাথে, তুবুরসু কি করে এই মার্ডার মিস্ট্রি সলভ করলেন সেটাই গল্প।
২. স্ন্যাপচ্যাট :
একটি চিঠির বয়ানে প্রকোট হতে থাকে নিজের স্বামীকে ঠকিয়ে পালিয়ে যাওয়া একজন স্ত্রীর পরকীয়ার মুহূর্তগুলো। চিঠির মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরেছে একজন পুরুষ যার স্ন্যাপচ্যাটে পরিচয় হয়েছিল সেই মহিলা অর্থাৎ সুজাতার সঙ্গে। প্রেমের ধারায় ভেসে গেলেও ছেলেটি তার আরেক ভালোবাসাকে ভুলে যায়নি। সে গাছ ভালোবাসে, ফুল ভালোবাসে, বাড়িতে গড়তে চায় একটি সুন্দর গোলাপের বাগান। কিন্তু তারপর…
৩. কাঁটা:
হাউসিং কমপ্লেক্সে আজকাল যে যার মত বাঁচতে ভালোবাসে। কিন্তু এই চিন্তাগুলো রণিতার জন্য খাটে না। সোসাইটির সমস্ত খবর তার নখদর্পণে। কিন্তু সে যখন জানতে পারে তাঁর সামনের ফ্ল্যাটের সোহম চলে যাচ্ছে তখন সন্দেহ বাসা বাঁধে তার মস্তিষ্কে। আর সেই সন্দেহ অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে যখন সোহমের স্ত্রী স্নিগ্ধার কোনো খোঁজ পাওয়া যায় না। বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ায় রণিতা দেবীর জন্য। পরে সবকিছু ঠিক হলেও এক ঘন চক্রান্তের জাল আস্তেপিষ্টে জড়িয়ে ধরে। কী ছিল সেই চক্রান্ত, এর পরে কি হলো সেই দম্পতি এবং রণিতা দেবীর!
(এই ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে লেখা প্রথমবারের মতো পড়লাম, গল্পের শেষটা জাস্ট অন্য লেভেলের।)
৪. পোস্টকার্ড :
ঝাঁ চকচকে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছে ধৃতি যেখানে এক মাস আগে মারা গিয়েছেন এই ফ্ল্যাটের পূর্বতন মালিক চিত্রনাট্যকার সুপ্রিয় বসু। নিজের লাইব্রেরীতে মই থেকে পড়ে গিয়ে ঘটে সেই দুর্ঘটনা। পেশায় জার্নালিস্ট ধৃতির এই মৃত্যু নিয়ে আগ্রহ আরো বাড়িয়ে তোলে একটি পোস্ট কার্ড, পাঠিয়েছেন সুপ্রিয় বাবুর বন্ধু অরবিন্দ। তাঁর ছবি "বিষণ্ণ সকাল" এর সফল্যতার জন্য শুভেচ্ছা বার্তাও ছিল বর্তমান চিঠিতে। সুপ্রিয় বসু মারা গিয়েছেন কয়েক মাস আগে আর তার ছবি রিলিজ করেছে দুই সপ্তাহ হয়েছে! আশ্চর্যের বিষয় হলো, চিঠিটাও ডেলিভারি হয়েছে মাত্র তিনদিন আগেই।
৭. শল্লের নাভি :
পিতামহ স্বর্গীয় বলহরি মজুমদারের খাতা ঘেঁটে লেখক জানতে পারে তার পিতামহের এমন নামের পিছনে আসল কারণ। তাঁর আসল নাম ছিল প্রফুল্লকুমার মজুমদার। বাংলাদেশে থাকাকালীন তাঁর ছোটকাকা পরেশচন্দ্র পাশে একটি শ্মশানে ডোম হরিয়ার সান্নিধ্য লাভ করে। স্বভাবে বাউন্ডুলে প্রকৃতির মানুষটিকে বিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও তার চরিত্রে কোনো পরিবর্তন আসে না। একদিন সেই হরিয়া শ্মশানে বাজ পড়ে মারা যায়। প্রফুল্লকুমারের কাকা স্বভাবতই খুব ভেঙে পড়ে। অন্যদিকে গ্রামে হরিয়ার শরীর সঠিক সময়ে দাহ করা সম্ভব হয় না। প্রচন্ড বৃষ্টির মধ্যে আংশিক শরীর পোড়ানো সম্ভব হলেও হরিয়ার নাভি এবং মাথার খুলি কেউ খুঁজে পায় না। অমাবস্যায় হরিয়ার মৃত্যু হয়েছে। খুলি আর নাভি পাওয়া যায়নি। চন্ডাল অপঘাতে মরলে চুন্ডু হয়। গয়ায় পিন্ডি দিলেও তার মুক্তি নেই। নাভি থেকে তৈরি হয় শল্ল। কেন এই জিনিসটি এত ভয়ঙ্কর আর কি অভিশাপ নিয়ে এসেছিল একটি চন্ডালের অপমৃত্যু।
৮. অভিশাপ :
"পানিহাটির অপদেবতা" নামে এই বিশেষ এবং অদ্ভুত লেখাটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রকাশ পায় এক অলৌকিক এবং হাড় হিম করা ঘটনা। ব্রিটিশ আমলে মশলা এবং তামাকের ব্যবসা করে বেশ ফুলে ফেঁপে উঠেছিল কিশোরীমহন মুখুজ্জে। তার নায়েব হিরু বসাক ব্যবসার স্বার্থে ইংরেজদের নানাভাবে খুশি করার চেষ্টায় জঘন্য কাজ করতে পিছপা হত না। সেই অভ্যাস গুণে তিনি করে ফেলেন এমন একটি কাজ যার ফলস্বরূপ তার উপর হয় প্রাণঘাতী হামলা। কষ্টদায়ক মৃত্যুর পরে শ্মশান পথে যাত্রা করার সময় তার নিষ্প্রাণ শরীরে অদ্ভুত পরিবর্তন ঘটে যা প্রত্যক্ষ করে তাকে নিয়ে চলা শ্মশান যাত্রীরা। লোকে বলে তাকে নাকি দানোয় পেয়েছিল! এক ভয়ংকর অমানিশা গ্রাস করে কিশোরী এবং তার পরিবারকে। কেন এমনটা হলো! সেই তথ্যের ব্যাখ্যা পাওয়া যায় এই গল্পে।
১১. বারো মিনিট :
পৃথিবীতে ক্রমে বিস্তার ঘটে চলেছে ভীনগ্রহীদের। তাদের বিরুদ্ধে একটি এলায়েন্স গঠন করে ডঃ মুস্তাফি। কিন্তু বর্তমানে কিছু ঘটনায় ডঃ মুস্তাফিকে সন্দেহ করতে শুরু করে তাঁর সংগঠনের কর্মীরা। নিশ্চিত হতে ঠিক হয় প্রাণদণ্ড। কিন্তু মুস্তাফি নিজেকে এত সহজে শেষ হতে দিতে পারে না। তিরিশ তলা বিন্ডিং এর কার্নিশে দাঁড়িয়ে এক বিকল্প পদ্ধতি বেছে নেয় সে। শেষ পর্যন্ত কী উপসংহার অপেক্ষা করছে তার জন্য?
১৫. সাজাঘর :
ডমিনিক প্ল্যাটাগ্লিয়া ধৈর্য্যের সীমা অতিক্রম করে। প্রতি ধাপে অত্যাচারের নতুন পন্থায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠা মানুষটা সুযোগ খোঁজে এই নরক যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাওয়ার। তার মত আরো অনেক মানুষ বন্দি সেই সাজাঘরে। সে কি পারবে সাজাঘর থেকে পালাতে? কেনই বা তার মত সকলে এই বর্বরতার শিকার হতে হয়! ডিসটোপিয়ান সমাজের এই অদ্ভুত নিদর্শনের আখ্যান রয়েছে এই গল্পে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া -
বইটিতে সবকটি গল্পের ভাষা অত্যন্ত সাবলীল। গল্পের দৈর্ঘ্য কম এবং সবথেকে চমৎকার লাগে প্রতি গল্পের শেষে লেখকের জবানি। নির্দিষ্ট কোনো গল্পের প্লট লেখকের মাথায় কিভাবে আসে সে বিষয়ে সংক্ষেপে বলা হয়েছে। কল্পবিজ্ঞান, ক্রাইম, রহস্য এবং অলৌকিক ধারায় রচিত এই গল্পগুলোর মারাত্মক মোচড় পাঠককে ভাবতে বাধ্য করে গল্পের শেষ লাইনে। এই বইয়ে লেখক নতুন ধরনের কিছু গল্প লিখেছেন যা বাংলা সাহিত্যে সচরাচর দেখা যায় না।যেমন নন ক্রাইম স্টোরি।নন ক্রাইম স্টোরি সেরকম গল্প যেখানে আদতে কোনো অপরাধ হয় না,কিন্তু অপরাধের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়।শেষে গোটা টাই পাঠকের কল্পনার ওপরে ছেড়ে দেওয়া হয়।থ্রিলার প্রেমী পাঠকদের জন্য সুখপাঠ্য হবে বইটি।প্রতিটি পাতায় রোমাঞ্চে ভরপুর।
Please follow Journal of a Bookworm page in facebook for more discussion.
May 26, 2021
ভদ্রলোকের নন-ফিকশন যতটা ভাল, ফিকশন ততটা জুতের লাগলো না।
August 14, 2021
মন্দ না। থ্রিলার, সাই ফাই, হরর মিলিয়ে মোট ১৫টা গল্প। কিছু মৌলিক, কিছু অনুবাদ। লেখকের জবানিটা বেশ লাগল। সব মিলিয়ে ৩/৫।
January 14, 2023
সত্যি বলতে কি ভালো লাগেনি
December 19, 2021
কেউ যদি আমাকে জিজ্ঞেস করে, ভয় পাওয়ার জন্য বই সাজেষ্ট করতে, আমি বলবো ‘আঁধার আখ্যান'।
'আঁধার আখ্যান'— আমার প্রিয় বইয়ের তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে। কৌশিক মজুমদার-এর লেখা আমার ভীষন ভালো লেগে গিয়েছে 'সূর্যতামসী' থেকে। তারপর এই বইটা পড়ি। এটা একটা গল্প সংকলন। মোট পনেরোটা গল্প আছে, তার মধ্যে শেষ চারটি গল্প অনুবাদ গল্প।
এই বইয়ে যেমন ভূতের গল্প আছে, তেমনি ক্লাসিক থ্রিলার গল্প, গোয়েন্দা গল্প-ও আছে। রয়েছে তবর্সু রায়-ও। এই বইটিতে যে জিনিসটা সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে বিষয়টা, লেখক প্রতিটা গল্পের শেষে কীভাবে প্লটগুলো তার মাথায় এসেছে বা কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে লিখেছেন, তার ব্যাখা দিয়েছেন। যা পড়তে ভীষন মজা লেগেছে। আর আমার মতন যারা রয়েছে লেখালেখি করার চেষ্টা করে অল্প-সল্প, তারা শিখতে পারবে।
আর অনুবাদ গল্প, বিশেষ করে শেষ দু'টো হাড়হিম করা🙂 ভূত ছাড়াও যে ভয় দেখিয়ে হাড় কাঁপিয়ে দেওয়া যায় তা জানতাম না🔥 আর মৌলিক গল্প গুলোর প্লটও তাক লাগিয়ে দেবার মতন; রহস্য, ফ্যান্টাসি, কল্পবিজ্ঞান, ক্লাসিক ভুতের গল্প, সাইকোলজিক্যাল হরর সব এক বইয়ের মধ্যে। প্রতিটা গল্পের প্লট নিঃসন্দেহে মানুষের মনে অন্ধকার জগতের সন্ধান দিয়ে যায়, সে অর্থে বইটি সার্থকনামা।
অন্ধকারের তথা থ্রিলারের টান যাদের যাদের আছে অর্থাৎ যারা থ্রিলার পড়তে ভালোবাসো, প্লিজ বইটা পড়ে দেখো।
নাহলে কিন্তু, মিস্ করবে🌚
March 28, 2022
...রয়েছে ১৫ টি গল্প,এর মধ্যে 11 টি মৌলিক এবং বাকি চারটি অনুবাদ । মৌলিক গল্পগুলির প্রত্যেকটিই একে ওপরের থেকে আলাদা অথচ যেন একই সূত্রে গ্রথিত - সেই সূত্র হলো - "অন্ধকার" । রহস্য, অলৌকিকতা , শিহরণে ,চাঞ্চল্যে কাহিনীগুলোর ঘটনাপ্রবাহের পথে ভিড় করেছে অন্ধকার কুয়াশা । গল্প গুলির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এই কুয়াশা দূর হয় শেষ পাতায় বা শেষ অনুচ্ছেদে ! অপ্রত্যাশিত টুইস্ট গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেয় একশো আশি ডিগ্রি । দুয়েকটা গল্প অতিঅলৌকিক বা উদ্ভট মনে হলেও পড়া ছেড়ে ওঠা মুশকিল কারণ আপনি শেষটা দেখেই ছাড়বেন ; ওখানেই গল্পের মজা- জাগবে শিহরণ ! পাঠকের জিজ্ঞাসু মন "এরপর কীহবে ?" । রয়েছে classical locked room mystry, non-crime crime story , লেখকের মুখে শোনা অলৌকিক ঘটনা- নিজস্ব টুইস্ট সহ , এই চমকগুলোই যেন বহন করছে লেখকের হস্তাক্ষর ,তার মৌলিকত্ব । মৌলিক গল্প গুলোর মধ্যে পার্সোনাল ফেভারিট - "পোস্টকার্ড" , "নির্জন স্বাক্ষর"," কাঁটা" এবং "অভিশাপ" । প্রতিটা গল্পের শেষে আছে "লেখকের জবানি" যেখানে জানতে পারবেন গল্পের নেপথ্যে তার অনুপ্রেরণা । সবমিলিয়ে গল্পগুলি সুখপাঠ্য ।
September 24, 2021
মৌলিক গল্পের মধ্যে বেশ ভালো লেগেছে টেলিপ্যাথি, শল্লের নাভি, অভিশাপ, প্রেতিনী, নির্জন স্বাক্ষর এই পাঁচটি গল্প। মোটামুটি ভালো লেগেছে কাঁটা, পোস্টকার্ড, পিপহোল, বারো মিনিট এই চারটি। ভালো লাগেনি স্ন্যাপচ্যাট, মরণের পরে।
আর অনুবাদ বা বিদেশী গল্পের অবলম্বনে লেখা চারটি গল্পের মধ্যে সাজাঘর গল্পটা ভালো, শেষ মেষ মোটামুটি লেগেছে। আর একদমই ভালো লাগেনি সে এক অদ্ভুত পার্টি, আর পাকড়ো ছোড়ো গল্প দুটি।
সবমিলিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতা হলেও, ভালো লাগার পাল্লাটাই ভারী বলা চলে।
আর অনুবাদ বা বিদেশী গল্পের অবলম্বনে লেখা চারটি গল্পের মধ্যে সাজাঘর গল্পটা ভালো, শেষ মেষ মোটামুটি লেগেছে। আর একদমই ভালো লাগেনি সে এক অদ্ভুত পার্টি, আর পাকড়ো ছোড়ো গল্প দুটি।
সবমিলিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতা হলেও, ভালো লাগার পাল্লাটাই ভারী বলা চলে।
May 10, 2021
প্রথমেই বলবো প্রচ্ছদ মোটেও ভালো লাগেনি। সদ্য লেখকের "নোলা" পড়ে ভালো লাগে, তাই ওনার অন্য বইগুলোও পড়ার কথা ভাবলাম।
বইটিতে মোট ১৫টি ছোটো গল্প স্থান পেয়েছে। বুক ডেসক্রিপশনে নামগুলো দেওয়া নাই তাই
নামগুলি উল্লেখ করলাম -
(১) নির্জন স্বাক্ষর, (২) স্ন্যাপচ্যাট, (৩)কাঁটা,
(৪) পোস্টকার্ড, (৫)টেলিপ্যাথি, (৬)পিপহোল,
(৭)শল্লের নাভি, (৮) অভিশাপ, (৯)মরণের পরে, (১০) প্রেতিনী, (১১) বারো মিনিট, (১২) শেষমেষ
(১৩) সে এক অদ্ভুত পার্টি, (১৪) পাকড়ো ছোড়ো, (১৫) সাজঘর।
ক্ল্যাসিকাল লকড রুম মিস্ট্রি যাকে বলে তার জনক ছিলেন জন ডিকশন কার, বাংলায় এ ধরনের লেখা নাই তাই লেখক দায়িত্ব নিয়ে লকড রুম মিস্ট্রি রচনা করেন, এটাই এই বইএর প্রথম কাহিনী। এছাড়াও নানান ভ্যারাইটির গল্প আছে, যেমন টেলিপ্যাথি সংক্রান্ত, মার্ডার, নন ক্রাইম,মানসিক ব্যাধি, অলৌকিক বা হরর, সাইন্স ফিকশন ইত্যাদি।এতগুলো গল্পের মধ্যে আমার ভালো লেগেছে - "শল্লের নাভি" সত্যিই বেশ ভয় পেয়েছি, পড়ার সময় ঘর অন্ধকার ছিল, ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি আলো জ্বালাই। "অভিশাপ" এই গল্পটাও বেশ ভয় পাবার মতোই। "পিপহোল" - সবটা পড়ে সত্যিই চমকে গেছি। "প্রেতিনী" গল্পটা পুরোটা পড়ে যখন লেখকের জবানি টা পড়লাম আরও বেশি ভয় পেয়ে গেলাম। আর একদম ভালো লাগেনি - সে এক অদ্ভুত পার্টি, সাজঘর, পাকড়ো ছোড়ো,বারো মিনিট।
*লেখক প্রতিটা গল্পের শেষে নিজের জবানি লিখেছেন গল্পটা সম্পর্কেই কিভাবে প্লটটা মাথায় এলো এইসব আরকি, সেগুলোও অবশ্যই পড়বেন, তাহলে গল্পের সাথে ভালো মতো আট্যাচ হতে পারবেন।
বইটিতে মোট ১৫টি ছোটো গল্প স্থান পেয়েছে। বুক ডেসক্রিপশনে নামগুলো দেওয়া নাই তাই
নামগুলি উল্লেখ করলাম -
(১) নির্জন স্বাক্ষর, (২) স্ন্যাপচ্যাট, (৩)কাঁটা,
(৪) পোস্টকার্ড, (৫)টেলিপ্যাথি, (৬)পিপহোল,
(৭)শল্লের নাভি, (৮) অভিশাপ, (৯)মরণের পরে, (১০) প্রেতিনী, (১১) বারো মিনিট, (১২) শেষমেষ
(১৩) সে এক অদ্ভুত পার্টি, (১৪) পাকড়ো ছোড়ো, (১৫) সাজঘর।
ক্ল্যাসিকাল লকড রুম মিস্ট্রি যাকে বলে তার জনক ছিলেন জন ডিকশন কার, বাংলায় এ ধরনের লেখা নাই তাই লেখক দায়িত্ব নিয়ে লকড রুম মিস্ট্রি রচনা করেন, এটাই এই বইএর প্রথম কাহিনী। এছাড়াও নানান ভ্যারাইটির গল্প আছে, যেমন টেলিপ্যাথি সংক্রান্ত, মার্ডার, নন ক্রাইম,মানসিক ব্যাধি, অলৌকিক বা হরর, সাইন্স ফিকশন ইত্যাদি।এতগুলো গল্পের মধ্যে আমার ভালো লেগেছে - "শল্লের নাভি" সত্যিই বেশ ভয় পেয়েছি, পড়ার সময় ঘর অন্ধকার ছিল, ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি আলো জ্বালাই। "অভিশাপ" এই গল্পটাও বেশ ভয় পাবার মতোই। "পিপহোল" - সবটা পড়ে সত্যিই চমকে গেছি। "প্রেতিনী" গল্পটা পুরোটা পড়ে যখন লেখকের জবানি টা পড়লাম আরও বেশি ভয় পেয়ে গেলাম। আর একদম ভালো লাগেনি - সে এক অদ্ভুত পার্টি, সাজঘর, পাকড়ো ছোড়ো,বারো মিনিট।
*লেখক প্রতিটা গল্পের শেষে নিজের জবানি লিখেছেন গল্পটা সম্পর্কেই কিভাবে প্লটটা মাথায় এলো এইসব আরকি, সেগুলোও অবশ্যই পড়বেন, তাহলে গল্পের সাথে ভালো মতো আট্যাচ হতে পারবেন।
January 11, 2025
২০২৫ রিভিউ
বিষয়: বই
রিভিউ ০৩
বইয়ের নাম: আঁধার আখ্যান
লেখক: কৌশিক মজুমদার
অন্ধকার জগত। খুব অদ্ভুত। এই আঁধারে কত কিছু চলে, কেউ জানেনা। দিনের আলোতেও সে জগতের বাসিন্দাদের আনাগোনা। কিন্তু কেউ তাদের চেনে না, জানে না। আমি বা আপনি যেমন চিনি না, তেমন জানিনা আমরাও এই জগতের কেউ কী না!
১৫ টি ছোট ছোট গল্পে সাজানো এই বইটি। কোনটা রহস্যে মোড়া, কোনটা ভৌতিক, কোনটা সাসপেন্স, আবার সায়েন্স ফিকশন ও পাবেন। কোন রহস্য দিনের আলোর মত পরিষ্কার, তবুও….. আবার কোন গল্পের শেষ নেই। অন্ধকার জগতের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কিছু অনুবাদ আছে তো কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে, কোনটা আবার সত্য ঘটনা, আবার কোন গল্পের আইডিয়া লেখক পেয়েছেন আমাদের চারপাশ থেকেই।
এতগুলো গল্প নিয়ে আলাদা করে লেখা সম্ভব না। প্রতিটি গল্প মাথায় কিছুটা হলেও চিন্তা করতে সাহায্য করবে৷ বুঝতে সাহায্য করবে। কিছু গল্প খুব চেনা মনে হবে, কারণ এই সব চরিত্র আমাদের আশে পাশেই আছে। হরহামেশাই এদের দেখা মেলে।
প্রতিটি গল্পের নীচে লেখা আছে, সেই গল্প কীভাবে লেখা হল বা মাথায় এল। ১৫ টা গল্পই পরিপূর্ণ, অতৃপ্তি নেই। ছোট ছোট বাক্যে লেখা স্লাইস অফ লাইফের মত। অনেকদিন পর, সেই ছোট বেলার ভূতের গল্পের বই পড়ার মত অনুভূতি হল।
যদিও সবগুলো ভূতের না, তবু.. .. ।
ছোট গল্প, থ্রিলার, সাসপেন্স যারা ভালোবাসেন, তারা পড়তে পারেন। এই বইয়ের একটা গল্পে, লেখকের বেশ জনপ্রিয় একটা চরিত্র আছে। বলুন তো কে?
বিষয়: বই
রিভিউ ০৩
বইয়ের নাম: আঁধার আখ্যান
লেখক: কৌশিক মজুমদার
অন্ধকার জগত। খুব অদ্ভুত। এই আঁধারে কত কিছু চলে, কেউ জানেনা। দিনের আলোতেও সে জগতের বাসিন্দাদের আনাগোনা। কিন্তু কেউ তাদের চেনে না, জানে না। আমি বা আপনি যেমন চিনি না, তেমন জানিনা আমরাও এই জগতের কেউ কী না!
১৫ টি ছোট ছোট গল্পে সাজানো এই বইটি। কোনটা রহস্যে মোড়া, কোনটা ভৌতিক, কোনটা সাসপেন্স, আবার সায়েন্স ফিকশন ও পাবেন। কোন রহস্য দিনের আলোর মত পরিষ্কার, তবুও….. আবার কোন গল্পের শেষ নেই। অন্ধকার জগতের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। কিছু অনুবাদ আছে তো কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে, কোনটা আবার সত্য ঘটনা, আবার কোন গল্পের আইডিয়া লেখক পেয়েছেন আমাদের চারপাশ থেকেই।
এতগুলো গল্প নিয়ে আলাদা করে লেখা সম্ভব না। প্রতিটি গল্প মাথায় কিছুটা হলেও চিন্তা করতে সাহায্য করবে৷ বুঝতে সাহায্য করবে। কিছু গল্প খুব চেনা মনে হবে, কারণ এই সব চরিত্র আমাদের আশে পাশেই আছে। হরহামেশাই এদের দেখা মেলে।
প্রতিটি গল্পের নীচে লেখা আছে, সেই গল্প কীভাবে লেখা হল বা মাথায় এল। ১৫ টা গল্পই পরিপূর্ণ, অতৃপ্তি নেই। ছোট ছোট বাক্যে লেখা স্লাইস অফ লাইফের মত। অনেকদিন পর, সেই ছোট বেলার ভূতের গল্পের বই পড়ার মত অনুভূতি হল।
যদিও সবগুলো ভূতের না, তবু.. .. ।
ছোট গল্প, থ্রিলার, সাসপেন্স যারা ভালোবাসেন, তারা পড়তে পারেন। এই বইয়ের একটা গল্পে, লেখকের বেশ জনপ্রিয় একটা চরিত্র আছে। বলুন তো কে?
August 13, 2021
বই টা দুপুর পেরোবার আগেই অর্ধেক টা শেষ হয়ে গেলো. একটু ঘুমিয়ে আবার বৈকালে শুরু করলাম. পুরো বই টাই সন্ধ্যে তে শেষ. 250 টাকা হজম. বড্ডো ছোটো. ছোটো ছোটো গল্প দিয়ে সাজানো. সূচিপত্র টা দিলাম. প্রথমেই বলে রাখি কৌশিক মজুমদার এর সূর্যতামসি টা আগে পড়েছি. খুব ভালো লেগেছিলো. তাই স্বাভাবিক ভাবেই আশা টা উচ্চ পর্যায়ে ছিল. কিন্তু আশানুরূপ পাইনি বই টা. ছোটো ছোটো অনেক গুলো ভিভিন্ন স্বাদের গল্প আছে. যারা এই রকম বই পড়তে ভালোবাসে তাঁদের জন্য খুবই ভালো. কিন্তু সব গল্পের মধ্যে শুধু তিন থেকে 4 টা গল্প তে স্বাধ পেয়েছি. বাকি গুলো তে নয়. আজকাল একটা ট্রেন্ড চলছে. সব গল্প তেই বৈদেশিক টান আনা. এখানেও কিছু গল্প বিদেশের এর অনুবাদ. কিছু গল্প আবার বিদেশের মাটির উপর ভিত্তি করেই. এই বছরের আনন্দমেলা বইটা তেও তাই. আফ্রিকা, লন্ডন, জার্মানি কিছু বাদ যায়নি যেন আমাদের দেশের সংস্কৃতির উপর গল্প লিখলে কেউ যেন পড়বে না. এই বই টা আমার কাছে 3 পাবে 5 এর মধ্যে. অবশ্যই এটা সম্পূর্ণ আমার নিজস্ব মতামত. এই বই টার কিছু গল্প যেমন শল্লের নাভি, মরনের পরে এবং নির্জন স্বাক্ষর টা অসাধারণ. বাকি গুলো মোটামুটি. খারাপ বলবো না তবে লেখক এর কাছ থেকে একটু বেশি আশা করেছিলাম. পড়ে দেখতে পারেন. আশা করছি খারাপ লাগবে না. তবে যারা বড়ো বই বা গল্প পড়তে ভালোবাসেন তারা অবশ্যই হতাশ হবেন.
July 24, 2025
মৌলিক ও অনুবাদ সাহিত্যের মধ্যে সৃষ্টিগত বেশ কিছু ফারাক থাকলেও লেখকের পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার বোধহয় সেরকম তফাৎ থাকে না। অনুবাদ করতে হলেও একধরণের সৃষ্টিশীলতা প্রয়োজন, কখনওবা সেই সৃষ্টিশীলতার মান মৌলিক সাহিত্য রচনাকেও ছাপিয়ে যায়। লেখক কৌশিক মজুমদার এই মৌলিক বনাম অনুবাদের ঠান্ডা লড়াইকেই সুন্দরভাবে পরিবেশন করেছেন এই সংকলনের মধ্যে দিয়ে। বিভিন্ন ধরনের পনেরোটি কাহিনীর এক অনবদ্য সংকলন লেখক কৌশিক মজুমদারের লেখা এই 'আঁধার আখ্যান' বইটি। পনেরোটি কাহিনীর মধ্যে বেশ কিছু লেখকের নিজস্ব সৃষ্টি, আবার কিছু বিদেশী কাহিনীর অনুবাদ। কাহিনীগুলি শুধু ভিন্ন স্বাদেরই নয়, ভিন্ন ঘরানারও বটে। অনুবাদ কাহিনীর ক্ষেত্রেই হোক বা লেখকের নিজস্ব সৃষ্টির ক্ষেত্রেই হোক লেখক কিন্তু তাঁর কলমের জোরে রহস্য বজায় রেখেছেন প্রায় প্রতিটি কাহিনীতেই। কাহিনীগুলির ঘরানা ও ধরন বিভিন্ন প্রকারের হলেও প্রত্যেকটি কাহিনীর বিষয়বস্তুর মধ্যে লুকিয়ে আছে 'অন্ধকার'। প্রায় প্রতিটি গল্পের সাথেই যোগ আছে অন্ধকারের। যা এই সংকলনের কাহিনীগুলিকে পাঠকের কাছে আরো অনেক বেশি চিত্তাকর্ষক করে তুলেছে। এই বই এবং তাতে বর্ণিত অন্ধকারের কাহিনী যে পাঠকের বিশেষ পছন্দ হবে তা আর বলার অবকাশ রাখে না।
February 23, 2023
'আঁধার আখ্যান' আমার পড়া কৌশিক মজুমদারের প্রথম বই। বিভিন্ন স্বাদের রহস্য গল্প, সাইকোলজিকাল হরর ও একটি কল্পবিজ্ঞান নিয়ে মোট ১৫ টি ছোটগল্পের সংকলন এই বইটি। এর মধ্যে মৌলিক গল্পের পাশাপাশি রয়েছে বেশকিছু অনূদিত গল্পও। অধিকাংশ গল্পেরই শুরুটা বেশ সম্ভাবনাময় হয়েও শেষে গিয়ে ঠিক জমল না বলেই মনে হল। এরমধ্যে 'কাঁটা' ও 'মরণের পরে' গল্পটি বেশ ভাল লেগেছে। তবে গতধরা ভূতের বা রহস্যগল্পের বিষয়বস্তুর থেকে দূরে গিয়ে নতুনত্বের আমদানি করায় লেখকের তারিফ করতে হয়। এছাড়া সাবলিল ভাষা প্রয়োগেও কৌশিকবাবুর গল্পগুলি সুখপাঠ্য হয়েছে। সবমিলে বলব উইকেন্ডে পড়ার জন্য আঁধার আখ্যান বেছে নেওয়াই যায়। অতি উচ্চাশা নিয়ে পড়তে না বসলে পাঠকের মন্দ লাগবে না।
March 8, 2022
I like dark stories and this collection was as per my expectation. I also like short stories and all the stories were a clever mix ranging various genres. Some stories will leave a long lasting impact. The stories which I liked the most as per decreasing order are as under:
1. Petni
2. Snapchat
3. Peephole
4. Kata
5. Pakro Choro (translated work)
6. Postcard
1. Petni
2. Snapchat
3. Peephole
4. Kata
5. Pakro Choro (translated work)
6. Postcard
February 5, 2025
মজুমদার সাহেবের মেসন সিরিজ থেকেই উনার লেখার সাথে পরিচয়। আঁধার আখ্যান এ ১৫ খানা গল্পের এই সংকলনে অসম্ভব সুন্দর করে ছোটগল্পগুলো উপস্থাপন করেছেন।ক্লাসিক ভয়ের গল্প "শল্লের নাভি", গ্রামীণ পটভূমিতে অপদেবতার গল্প " অভিশাপ" আর মনের গহীন অন্ধকার দুনিয়ার গল্প "প্রেতিনী" সংকলনের সেরা তিনটা গল্প।
October 8, 2022
কোনো রকমে উত্রে গেল গল্প গুলো এরকম মনে হলেও শেষে গিয়ে একটা অদ্ভুত ভালো লাগাও থাকবে।। মতের ওপর ভালই বলা চলে।
Displaying 1 - 30 of 40 reviews






























