মুসলিম পরিচয় ধারণ করেও যারা মুক্তচিন্তা, লিবারেলিজম ও মডার্ণ ইসলাম ধারণার পক্ষে কাজ করেন ও এ-জাতীয় চিন্তাগুলো মুসলিমসমাজে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করেন, তাদের হেদায়েত কামনায়। ঐসব ভাইয়ের দরজা বুলন্দি ও কবুলিয়্যাতের জন্য, যারা কেবল আক্ষরিক জ্ঞান নয়; বরং সালাফদের থেকে যুগপরম্পরায় প্রাপ্ত দীনের বুঝকে ধারাবাহিক বুঝ সংরক্ষণ করতে নিজেদের নিয়োজিত করেন।
এটাকে এখন ধ্রুব ধরে নেওয়া হয় যে পশ্চিমের সব মতবাদই প্রশ্নের উর্ধ্বে। আসলেই কি তাই? বইতে সে জবাব দেওয়া হয়নি। বইটা মূলত কুরআনের অপব্যাখ্যার জবাবে খণ্ডন মূলক আলোচনা করা হয়েছে।
মুক্তচিন্তার আড়ালে মডারেট আলিমরা সাধারণ মুসলিমদের মাঝে যে তথাকথিত ইসলাম প্রচার করে তা যে ভ্রান্ত তা খুব সহজেই বুঝা যায়। কিন্তু অনেক সরল মনা মুসলিম আছে যারা এতসব না বুঝে তাদের পাতা ফাঁদে পা দেয় এবং সবকিছু হারিয়ে ফেলে।
এসব মডারেট দায়িরা যেসব ভ্রান্ত বিষয় নিয়ে সব ধর্মের মাঝে যে আন্তঃসম্পর্কীয় ধর্ম প্রচার করে তার মধ্যে অন্যতম হলো, সূরা কাফিরুনের 'তোমাদের ধর্ম তোমাদের আমার ধর্ম আমার', সূরা কাহাফের ২৯ নং আয়াত, 'যার ইচ্ছা গ্রহণ করুক, যার ইচ্ছা বর্জন করুক' ইত্যাদি আয়াতের চরম অপব্যাখ্যা করে থাকে। কাফির, মুরতাদ ও মুনাফিকদের শাস্তি আল্লাহ আখিরাতে দিবেন, দুনিয়াতে তা দেওয়ার কোন প্রয়োজন নেই (নাউজুবিল্লাহ) এমন কথাও তারা বলে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির নামে কাফেররা যদি নবী ও আল্লাহকে নিয়েও গালি বা কুরুচিপূর্ণ কথা বলে তাহলে এর দুনিয়াবি কোন শাস্তি নেই, পরকালে এর শাস্তি আল্লাহ দিবেন। এমন কথা বলে তারা ইসলাম শান্তির ধর্ম বলে প্রচার করে। তারা জি হাদ ও কিতা লের আয়াতের অপব্যাখ্যা দিয়ে তা রহিত করতে চায়।
বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মডারেট দায়িরা এমন সব আয়াত ও হাদিসের অপব্যাখ্যা দিয়ে থাকে। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে একজনের একটি আর্টিকেলে প্রায় সব মডারেট চিন্তাভাবনাই চলে এসেছিল। (আর্টিকেলের লিংক কমেন্ট বক্সে দেয়া হলো) ওই সবের প্রেক্ষিতে এই বইটি উত্তর হিসেবে লেখা হয়েছে। তাদের অতি শান্তির বাণী যে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় বড় বাধা একথা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদের থেকে মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহ হেফাজত করুন। আমিন।
এটা আল্লাহর (বিধিবদ্ধ) সীমারেখা।। সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন কর না। আর যে আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন করে, বস্তুত তারাই জালিম। (সূরা বাকারা - ২২৯)
কোন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর ক্ষেত্রে এই অবকাশ নেই যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোন বিষয় চূড়ান্ত করে দেয়ার পরও নিজেদের বিষয়ে তাদের এখতিয়ার থাকবে। আর যে ব্যাক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানি করল, সে সুস্পষ্ট গোমরাহিতে পতিত হলো। (সূরা আহজাব - ৩৬)