আমাদের রোল মডেল নবিজি। জীবনের প্রতিটি ধাপেই তিনি ‘উসওয়াতুন হাসানা’। কত ভাবেই না আমরা নবিজিকে বুঝেছি। দয়ার সাগর, আমানতদার, ইনসাফবাদী বিচারক, সামরিক বিশেষজ্ঞ, রাজনৈতিক নেতা, বিপ্লবী, স্বামী, বন্ধু–নানান পরিচয়ে নবিজিকে চিনতে পারি, জানতে পারি। এই গ্রন্থে আমরা এক নতুন পরিচয় খুঁজে নেবো। আমরা দেখব–একজন পিতা হিসেবে কেমন ছিলেন তিনি, চারপাশের শিশু সাহাবিদের সাথে কেমন ছিলেন তিনি। কীভাবে শিশু প্রজন্মকে আগামীর পৃথিবীর জন্য প্রস্তুত করেছিলেন।আমরা বুঝতে চেষ্টা করব– –কীভাবে নবিজি চারপাশের শিশুদের পরিচর্যা করেছিলেন, প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন? –কীভাবে তিনি শিশু মনে বিশ্বাসের বীজ বুনেছিলেন? –কীভাবে ইসলামি জিন্দেগীর সাথে শিশুদের অভ্যস্ত করেছিলেন? –কীভাবে আল্লাহর সাথে সম্পর্ক করে দিয়েছিলেন? –কীভাবে উন্নত নৈতিক চরিত্র শিশুদের ভেতরে ঢুকে দিয়েছিলেন? –কীভাবে শিশুদের টিনএজ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখিয়েছিলেন? –কীভাবে সমাজের প্রোডাক্টিভ মানুষ হয়ে মানুষের কল্যাণে শিশু মন গড়ে তুলেছিলেন?পুরো গ্রন্থেই থাকছে শিশু পরিচর্যার নববি কর্মকৌশল। স্মার্ট প্যারেন্টিং-এ আপনাকে স্বাগতম।
বাংলাদেশি অনুবাদক মাসুদ শরীফের জন্ম ১৯৮৭ সালের ৩ নভেম্বর। ইসলামিক ভাবধারার বই অনুবাদ করে তিনি যথেষ্ট পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।
তিনি আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রনিকস এন্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। তবে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার আগ্রহ তাঁর কোনোকালেই ছিল না। তাই পাড়ি জমান সুদূর ফ্লোরিডায়। সেখানে মিশকাহ ইউনিভার্সিটি থেকে ইসলামিক স্টাডিজ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
মাসুদ শরীফের বর্ণনামতে, তাঁর জন্ম ১৯৮৭ সালে হলেও ২০১১ সালে তিনি যেন নবজীবন লাভ করেন। আদর্শ ও জীবনদর্শনে ইসলামিক চিন্তাধারার প্রতি প্রবল ভালোবাসা তৈরি হয় তাঁর। মাসুদ শরীফ এর বই সমূহ ইসলামিক জীবনদর্শনের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ এবং একাগ্রতারই প্রতিচ্ছবি। লেখক হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই তিনি বিশ্ববিখ্যাত ইসলামিক লেখকদের বই অনুবাদ করে আসছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর জীবনদর্শন ও আদর্শ আলোচনা করে পাঠকদের সাথে আত্মিক বন্ধন সৃষ্টি করেছেন। তরুণ এই লেখকের অনুবাদশৈলীই মূলত তাকে পাঠকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বর্তমানে তিনি পুরোদস্তুর লেখক-অনুবাদক।
পাঠকনন্দিত মাসুদ শরীফ এর বই সমগ্র হলো 'বি স্মার্ট উইথ মুহাম্মাদ' (ড. হিশাম আল আওয়াদি), 'হালাল বিনোদন' (শাইখ আবু মুয়াবিয়াহ ইমসালই কামদার), 'স্রষ্টা ধর্ম জীবন' (ড. আবু আমিনাহ বিলাল ফিলিপ্স), 'আবু বকর আস-সিদ্দীক: জীবন ও শাসন' (ড. আলী মুহাম্মাদ আস-সাল্লাবী), 'দু'আ বিশ্বাসীদের হাতিয়ার' (ড. ইয়াসিন ক্বাদি) ইত্যাদি।
শুধু নিছক অনুবাদগ্রন্থ হিসেবে নয়, মাসুদ শরীফ এর বই পাঠকদের ইসলামিক বইগুলোর সাহিত্যরস বাংলায় অনুভব করতে উদ্দীপনা জোগায়, তাঁর সাবলীল শব্দশৈলীর প্রয়োগ রচনাগুলোতে করে প্রাণসঞ্চার। বর্তমানে এই অনুবাদক স্ত্রী, দুই কন্যা ও মা-বাবাকে নিয়ে ঢাকায় বসবাস করছেন।
আপনি একজন প্যারেন্ট হোন কিংবা না হোন, আপনাকে অবশ্যই প্রতিনিয়ত শিশুকিশোরদের সাথে যোগাযোগ করতে হয়, দেখা সাক্ষাত হয়। আপনার আচার আচরণ তাদের সাথে কেমন সেটার উপর ভিত্তি করেই তারা আপনাকে কতটা সম্মান দিবে তা ঠিক করে নিবে নিজের অজান্তে। বর্তমানে আমাদের একটা পুরো জেনারেশন ডিপ্রেশনে ভুগছি তার মূলে গেলে দেখবেন শৈশবের অনেক বিষয় আমাদের কে এমন বানিয়ে দিয়েছে। অনেকেরই এখন নিজের পিতামাতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, কিন্তু ধর্মের দোহাই দিয়ে হয়তো তারা মুখ ফুটে কিছু বলে না। ইসলাম শুধু আমাদের মা বাবার প্রতি ভালো আচরণের জন্যই উৎসাহিত করে নি বরং মা বাবা কেও কিছু নিয়ম নীতির শিক্ষা দিয়েছে কীভাবে একজন সন্তানকে লালন পালন করলে সে তার জীবনে একজন ভালো মানুষ হতে পারে। তাই প্রাক্টিসিং সব মুসলিমের এই বইটি পড়া জরুরি, সে আপনি এখন নিজে প্যারেন্ট হোন বা না হোন।
মাসুদ শরীফের “স্মার্ট প্যারেন্টিং উইথ মুহাম্মাদ (সা.)” বইটি পিতামাতাদের জন্য অনুপ্রেরণামূলক ও ব্যবহারিক নির্দেশনা প্রদান করে। নবী মুহাম্মাদের (সা.) জীবন ও শিক্ষাকে আধুনিক প্যারেন্টিং-এর সাথে সুন্দরভাবে যুক্ত করা হয়েছে। বইটি সহজভাবে পাঠযোগ্য এবং সন্তানদের নৈতিক ও মানসিক উন্নয়নে কার্যকরী পরামর্শ দেয়।
বাবা হিসেবে কেমন ছিলেন মুহম্মদ (সঃ), তার চেয়েও বেশি আলোচনা হয়েছে ছোটদের সাথে কেমন ছিলেন মুহম্মদ (সঃ)। এই আলোচনাটাও ভালো। জানতে ভালো লাগলো। নতুন কিছু দৃষ্টিভঙ্গি সাজেস্ট করেছেন লেখক। সেটাও ভালো লেগেছে। কিন্তু আমি আসলে সে জিনিসটা জানার জন্য বইটা শুরু করেছিলাম সেটা পাইনি। তবে যা চেয়েছি সেটাও সুন্দর।