What do you think?


দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব
Bengali spy thriller. murder. investigation. This is a duplicate of https://www.goodreads.com/book/show/4...
256 pages, Hardcover
First published February 21, 2019
About the author
জাহিদ হোসেন
24 books492 followersজাহিদ হোসেনের জন্ম সিলেটে, বেড়ে উঠা ঢাকায়। পড়াশোনা করেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। পেশায় ব্যাংকার হলেও বইপড়ার প্রতি অসম্ভব ঝোঁক থেকেই লেখালেখিতে আগ্রহ। শুরু অনুবাদ দিয়ে। পরপর দু’টি অনুবাদ প্রকাশিত হয় তার - অ্যাম্বার রুম ও ম্যাক্সিমাম রাইডঃ দ্য অ্যাঞ্জেল এক্সপেরিমেন্ট। তারপর তিনি প্রবেশ করেন মৌলিক লেখালেখির জগতে। মৌলিক থ্রিলার হিসেবে তার প্রথম প্রয়াস ঈশ্বরের মুখোশ যা ২০১৫ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল। তারপর একে একে বের হয় ফিনিক্স, কাদ্যুসেয়াস, একজোড়া চোখ খোঁজে আরেকজোড়া চোখকে, দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব, গিলগামেশ, নৈর্ঋত, পরশুরামের কঠোর কুঠার, ইথাকা ও স্বর্গরাজ্য। লেখালেখিতে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের জন্য তিনি আলাদা পরিচিতি লাভ করেছেন।
তার প্রকাশিত বই ওপার বাংলাতেও ব্যাপক সমাদৃত ও প্রশংসিত। কলকাতার অভিযান পাবলিশার্স ও বুকিকার্ট থেকে ইতিমধ্যে তার কয়েকটি বইয়ের ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
তার প্রকাশিত বই ওপার বাংলাতেও ব্যাপক সমাদৃত ও প্রশংসিত। কলকাতার অভিযান পাবলিশার্স ও বুকিকার্ট থেকে ইতিমধ্যে তার কয়েকটি বইয়ের ভারতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়ে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 121 reviews
March 25, 2019
অনেক বড় করে বিস্তারিত রিভিউ লিখব ভেবে রেখেছিলাম পড়ার সময়, খুঁটিনাটি পয়েন্ট ধরে ধরে সুদীর্ঘ রচনা লেখার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু এখন আর মন চাচ্ছে না। আলসামি লাগছে। সংক্ষেপে বলার চেষ্টা করি : বইটি উপভোগ্য, বেশ উপভোগ্য। পড়ার পুরোটা সময় মনোযোগ ধরে রেখেছিল। লেখকের লিখনি সাবলীল ও সহজাত হাস্যরসমিশ্রিত, যা খুব সহজ ব্যাপার না। কারও মাঝে সত্যিকারের রসবোধ থাকলেই শুধু তার লিখনিতে সেটার উপযুক্ত প্রতিফলন ঘটে, জোর করে আনতে চাইলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফল উল্টো হয়, বইয়ের ভাষা বিরক্তিকর হয়ে যায় আর গল্পবলায় একটা মেকি ভাব চলে আসে। এখানে সেটা হয়নি। অনেকবারই হো হো করে হেসে উঠতে বাধ্য হয়েছি উদ্ভট সব পরিস্থিতির কারণে। তা বলে কেউ ভাববেন না গল্পটা শুধুই হাসির, বা এমনকি হালকা মেজাজের। কাহিনি পরিক্রমা ও ঘটনার ঘনঘটা যথেষ্ট সিরিয়াস, ক্ষেত্রবিশেষে ডার্ক, মানব চরিত্রের অন্ধকার দিকের পারিপার্শ্বিকতা। একজন লেখকের লিখনি উঁচুমানের হলেই কেবল এহেন সিরিয়াস ডার্ক ঘটনাক্রম হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা সম্ভব। লেখক এখানে সফল, বেশ ভাল ভাবেই। প্লট ও প্লট ডেভেলপমেন্ট অভিনব, বহুদিন পর ভিন্নমাত্রার একটা থ্রিলার পড়লাম, শত-সহস্র থ্রিলারের ভীড়েও (আর শত-সহস্র থ্রিলার পঠিত হবার পরেও) 'নতুনত্ব আছে'-হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার প্রশংসাযোগ্য। শেষাবধিও তৃপ্তি দিতে পেরেছে, মোটামুটি সব রহস্যের সমাধান দিয়ে, শেষের টুইস্টটা আনএক্সপেক্টেড ছিল। আর কিছু খটকা ওয়াইজলি পাঠকের কল্পনাশক্তির উপরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে, প্রতিটা জটের পূঙ্খানুপূঙ্খ বিশ্লেষণ করার অযথা অতিরিক্ত এক্সপোজিশন না করে। বাস্তবজীবনে কখনোই সকল রহস্যের সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না, কিছু জিনিস আন্দাজ করেই নিতে হয়।
তবে তার মানে এই না উপন্যাসটি নিখুঁত, ফার ফ্রম ইট। লেখক স্বল্প পরিধিতে এত বেশি চরিত্রের সন্নিবেশ করেছেন, এবং এত বেশি দলগোষ্ঠীর সমাগম করেছেন, সেই ভীড়ে পাঠকের চিড়েচেপ্টা দশা। কে কার বাপ-ভাই-বন্ধু-শত্রু-আত্মীয়-কাছের লোক-দূরের লোক-কে কোন দলের-কার সাথে কার আঁতাত আছে-কার সাথে কে বিশ্বাসঘাতকতা করছে-কার উদ্দেশ্য কি... সব বুঝতে আর তার খেই ধরতে হিমশিম খেয়ে যাবার উপক্রম। বারবার পৃষ্ঠা উল্টে উল্টে পেছনের অধ্যায়ে যেতে হয়েছে চরিত্রগুলোর হিসেব রাখতে। সাথে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো যোগ হয়েছে ছাপার ভুল ও বানান ভুল: বাতিঘরের বইয়ের জন্য কমন ব্যাপার-বানান ও বাক্যের অসংগতি: একই শব্দের একাধিক বানান একাধিক জায়গায়, একই বাক্যের রিপিটেশন-কন্টিনুয়িটি এরর: বিল্টু হয়ে গেল বল্টু, জাকিয়া খান হয়ে গেল জাকিয়া সুলতানা, সাকিব হয়ে গেল একরাম, যে সিআইএ স্পাইয়ের চেহারা চাকমা চাকমা (মিশনে নাম ছাড়া শুধু চেহারার বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ) তার মিশনের পরে সিআইএ ব্রিফিং-এ লিটেরালি নামই হয়ে গেল 'চাকমা', ফিলোসফির প্রফেসরের টিচিং এসিস্ট্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনে মাস্টার্স, কেমনে কি!-বাস্তব স্পাই সংস্থার অবাস্তব উপস্থাপন: সিআইএ/কেজিবি'র 'সুপারএজেন্ট'দের কার্যধারা ও বুদ্ধিবৃত্তি রোয়ান এটকিনসন অভিনীত জনি ইংলিশের চেয়েও নিম্নমানের; একের পর এক হাস্যকর ব্লান্ডার শুধুমাত্র নিজেদের বোকামিতে; পরবর্তি পদক্ষেপের জন্য নির্ভর করতে হয় পত্রিকার সাংবাদিকের ইনভেস্টিগেশনের উপরে যেন তাদের নিজেদের কোন ইনভেস্টিগেটিভ ক্ষমতাই নেই; সিআইএ/কেজিবির নিজস্ব মেডিক্যাল টিম বা ক্লিনিক নেই মিশনের পর গোপনে চিকিৎসা করানোর মত, জেনারেল হসপিটালের একই ফ্লোরের পাশাপাশি কেবিনে ভর্তি করানো হয় সিআইএ আর কেজিবির মত চিরশত্রু দুই স্পাই সংস্থার সুপার এজেন্টদের!-স্পাইদের একশনের বর্ণনা রিয়েলিস্টিক রবার্ট লুডলামীয় (লেখকের প্রিয় স্পাই থ্রিলার লেখক হিসেবে ভূমিকায় উল্লিখিত) একশন সিকোয়েন্সের বদলে বেশি মিল পাওয়া যায় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ীয় অদ্ভুতূড়ে সিরিজের একশনের সাথে: খালি রদ্দা আর রদ্দা থুড়ি 'কারাতের কোপ', আর 'দুম দুম দুম' গুলি, ব্যস।
এসব কিছু মিলিয়ে পাঠক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে পুরো লেখাটা কিঞ্চিত অগোছালো, অবিন্যস্ততার ছাপ স্পষ্ট, যার অর্থ প্রপারলি এডিট ও রিরাইট বাকি থেকে গেছে। জানি পশ্চিমা দেশের মত (স্টিফেন কিং-ড্যান ব্রাউন টাইপ তাবত হাতিঘোড়া লেখক সহ সবার) আমাদের দেশে প্রায় কোন লেখক বা প্রকাশনীরই বই লেখার পর সঠিকভাবে সম্পাদনা করা হয় না (শুধু প্রুফরিড না, পুরোপুরি এডিটিং-রিরাইটিং), ফলে যে লেখাটা হয়ত দ্বিতীয় বা তৃতীয় চোখে কয়েকবার পুরোটা পড়ার পর সম্পাদনা করা হলে অনেক বেশি সীমলেসলি উপস্থাপিত হতো আর এন্ড প্রডাক্টের কোয়ালিটিও অনেক বেশি শক্তিশালি হতো, তা শেষমেষ অমন আধাখ্যাঁচড়াই থেকে যায়। অভিযোগটা শুধু এই বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়, হাল আমলের বেশিরভাগ প্রকাশিত গল্প-উপন্যাসের ক্ষেত্রে তাই। বরং আমি লেখকের লিখনির প্রশংসাই করব যে এরকম ছোট ছোট কিন্তু অনস্বীকার্য বিরক্তি-উদ্রেক করা ভ্রান্তির পরেও বইটা সুখপাঠ্য ও তৃপ্তিদায়ক হতে পেরেছে, আর আফসোস করব শুধু আরেকটু যথাযথ ঘষামাজা করা হলে এই জিনিস কীরকম মাস্টারপিস হতে পারত!
যাইহোক, নিটপিকিং অনেক হয়েছে, আর না। মোদ্দা কথা উপন্যাসটা পড়ে আমি মজা পেয়েছি, পুরোটা সময় টানটান বর্ণনাভঙ্গি ও চিত্তাকর্ষক স্টোরিটেলিং-এ আমার মনোযোগ আকৃষ্ট করে রেখেছিল। ঘটনাপরিক্রমা কৌতূহলোদ্দীপক, চরিত্রসকল কালারফুল ও মজাদার, ডজন ডজন চরিত্র কিন্তু প্রতিটির পৃথক করার মত আলাদা আলাদা গাঁথুনি ও কণ্ঠস্বর আছে, পর্যাপ্ত ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করায় যথার্থ গভীরতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই নভেম্বর থেকে আমি রিডার্সব্লকে পড়ে ছিলাম, দু'চারটা গ্রাফিক নভেল আর একমাস লাগিয়ে একটা উপন্যাস ছাড়া কিছুই পড়তে পারিনি, সেখানে গতকাল একটানা সারাদিন পড়ে এটা শেষ করেছি। আমার রিডার্সব্লক কাটানোতে সকল সাধুবাদ লেখক জাহিদুল হাসান, মানে জাহিদ হোসেনের প্রাঞ্জল ভিন্নধর্মি আকর্ষনীয় লিখনির প্রাপ্য। থ্যাঙ্ক ইউ ফর দ্যাট।
বিঃ দ্রঃ একটা বিষয় না বলেই পারছি না, লেখকের সম্ভবত মলমূত্র নিয়ে কোন বিশেষ ফ্যাসিনেশন আছে। জীবনে অন্তত চার-পাঁচ হাজার বিভিন্ন ধরনের বই পড়েছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত মনে হয় আর কোথাও এ-ত বার মল ও মূত্রের বহুবিধ উল্লেখ ও তার বহুমুখি ব্যবহারিতার কোন নিদর্শন পাই নাই! নো জাজমেন্ট। :3
বিঃ বিঃ দ্রঃ "সংক্ষেপে" বলার চেষ্টা কইরাও দেখি বিশাল ইতিহাস লেইখা ফেলছি!
উপন্যাস: 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব'
লেখক: জাহিদ হোসেন
জনরা: মিস্ট্রি থ্রিলার, স্পাই থ্রিলার
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ২৫৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০১৯
আমার রেটিং: ৬.৫/১০
তবে তার মানে এই না উপন্যাসটি নিখুঁত, ফার ফ্রম ইট। লেখক স্বল্প পরিধিতে এত বেশি চরিত্রের সন্নিবেশ করেছেন, এবং এত বেশি দলগোষ্ঠীর সমাগম করেছেন, সেই ভীড়ে পাঠকের চিড়েচেপ্টা দশা। কে কার বাপ-ভাই-বন্ধু-শত্রু-আত্মীয়-কাছের লোক-দূরের লোক-কে কোন দলের-কার সাথে কার আঁতাত আছে-কার সাথে কে বিশ্বাসঘাতকতা করছে-কার উদ্দেশ্য কি... সব বুঝতে আর তার খেই ধরতে হিমশিম খেয়ে যাবার উপক্রম। বারবার পৃষ্ঠা উল্টে উল্টে পেছনের অধ্যায়ে যেতে হয়েছে চরিত্রগুলোর হিসেব রাখতে। সাথে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো যোগ হয়েছে ছাপার ভুল ও বানান ভুল: বাতিঘরের বইয়ের জন্য কমন ব্যাপার-বানান ও বাক্যের অসংগতি: একই শব্দের একাধিক বানান একাধিক জায়গায়, একই বাক্যের রিপিটেশন-কন্টিনুয়িটি এরর: বিল্টু হয়ে গেল বল্টু, জাকিয়া খান হয়ে গেল জাকিয়া সুলতানা, সাকিব হয়ে গেল একরাম, যে সিআইএ স্পাইয়ের চেহারা চাকমা চাকমা (মিশনে নাম ছাড়া শুধু চেহারার বর্ণনা দিয়ে উল্লেখ) তার মিশনের পরে সিআইএ ব্রিফিং-এ লিটেরালি নামই হয়ে গেল 'চাকমা', ফিলোসফির প্রফেসরের টিচিং এসিস্ট্যান্ট ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনে মাস্টার্স, কেমনে কি!-বাস্তব স্পাই সংস্থার অবাস্তব উপস্থাপন: সিআইএ/কেজিবি'র 'সুপারএজেন্ট'দের কার্যধারা ও বুদ্ধিবৃত্তি রোয়ান এটকিনসন অভিনীত জনি ইংলিশের চেয়েও নিম্নমানের; একের পর এক হাস্যকর ব্লান্ডার শুধুমাত্র নিজেদের বোকামিতে; পরবর্তি পদক্ষেপের জন্য নির্ভর করতে হয় পত্রিকার সাংবাদিকের ইনভেস্টিগেশনের উপরে যেন তাদের নিজেদের কোন ইনভেস্টিগেটিভ ক্ষমতাই নেই; সিআইএ/কেজিবির নিজস্ব মেডিক্যাল টিম বা ক্লিনিক নেই মিশনের পর গোপনে চিকিৎসা করানোর মত, জেনারেল হসপিটালের একই ফ্লোরের পাশাপাশি কেবিনে ভর্তি করানো হয় সিআইএ আর কেজিবির মত চিরশত্রু দুই স্পাই সংস্থার সুপার এজেন্টদের!-স্পাইদের একশনের বর্ণনা রিয়েলিস্টিক রবার্ট লুডলামীয় (লেখকের প্রিয় স্পাই থ্রিলার লেখক হিসেবে ভূমিকায় উল্লিখিত) একশন সিকোয়েন্সের বদলে বেশি মিল পাওয়া যায় শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ীয় অদ্ভুতূড়ে সিরিজের একশনের সাথে: খালি রদ্দা আর রদ্দা থুড়ি 'কারাতের কোপ', আর 'দুম দুম দুম' গুলি, ব্যস।
এসব কিছু মিলিয়ে পাঠক হিসেবে আমার কাছে মনে হয়েছে পুরো লেখাটা কিঞ্চিত অগোছালো, অবিন্যস্ততার ছাপ স্পষ্ট, যার অর্থ প্রপারলি এডিট ও রিরাইট বাকি থেকে গেছে। জানি পশ্চিমা দেশের মত (স্টিফেন কিং-ড্যান ব্রাউন টাইপ তাবত হাতিঘোড়া লেখক সহ সবার) আমাদের দেশে প্রায় কোন লেখক বা প্রকাশনীরই বই লেখার পর সঠিকভাবে সম্পাদনা করা হয় না (শুধু প্রুফরিড না, পুরোপুরি এডিটিং-রিরাইটিং), ফলে যে লেখাটা হয়ত দ্বিতীয় বা তৃতীয় চোখে কয়েকবার পুরোটা পড়ার পর সম্পাদনা করা হলে অনেক বেশি সীমলেসলি উপস্থাপিত হতো আর এন্ড প্রডাক্টের কোয়ালিটিও অনেক বেশি শক্তিশালি হতো, তা শেষমেষ অমন আধাখ্যাঁচড়াই থেকে যায়। অভিযোগটা শুধু এই বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়, হাল আমলের বেশিরভাগ প্রকাশিত গল্প-উপন্যাসের ক্ষেত্রে তাই। বরং আমি লেখকের লিখনির প্রশংসাই করব যে এরকম ছোট ছোট কিন্তু অনস্বীকার্য বিরক্তি-উদ্রেক করা ভ্রান্তির পরেও বইটা সুখপাঠ্য ও তৃপ্তিদায়ক হতে পেরেছে, আর আফসোস করব শুধু আরেকটু যথাযথ ঘষামাজা করা হলে এই জিনিস কীরকম মাস্টারপিস হতে পারত!
যাইহোক, নিটপিকিং অনেক হয়েছে, আর না। মোদ্দা কথা উপন্যাসটা পড়ে আমি মজা পেয়েছি, পুরোটা সময় টানটান বর্ণনাভঙ্গি ও চিত্তাকর্ষক স্টোরিটেলিং-এ আমার মনোযোগ আকৃষ্ট করে রেখেছিল। ঘটনাপরিক্রমা কৌতূহলোদ্দীপক, চরিত্রসকল কালারফুল ও মজাদার, ডজন ডজন চরিত্র কিন্তু প্রতিটির পৃথক করার মত আলাদা আলাদা গাঁথুনি ও কণ্ঠস্বর আছে, পর্যাপ্ত ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করায় যথার্থ গভীরতা সৃষ্টি হয়েছে। সেই নভেম্বর থেকে আমি রিডার্সব্লকে পড়ে ছিলাম, দু'চারটা গ্রাফিক নভেল আর একমাস লাগিয়ে একটা উপন্যাস ছাড়া কিছুই পড়তে পারিনি, সেখানে গতকাল একটানা সারাদিন পড়ে এটা শেষ করেছি। আমার রিডার্সব্লক কাটানোতে সকল সাধুবাদ লেখক জাহিদুল হাসান, মানে জাহিদ হোসেনের প্রাঞ্জল ভিন্নধর্মি আকর্ষনীয় লিখনির প্রাপ্য। থ্যাঙ্ক ইউ ফর দ্যাট।
বিঃ দ্রঃ একটা বিষয় না বলেই পারছি না, লেখকের সম্ভবত মলমূত্র নিয়ে কোন বিশেষ ফ্যাসিনেশন আছে। জীবনে অন্তত চার-পাঁচ হাজার বিভিন্ন ধরনের বই পড়েছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত মনে হয় আর কোথাও এ-ত বার মল ও মূত্রের বহুবিধ উল্লেখ ও তার বহুমুখি ব্যবহারিতার কোন নিদর্শন পাই নাই! নো জাজমেন্ট। :3
বিঃ বিঃ দ্রঃ "সংক্ষেপে" বলার চেষ্টা কইরাও দেখি বিশাল ইতিহাস লেইখা ফেলছি!
উপন্যাস: 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব'
লেখক: জাহিদ হোসেন
জনরা: মিস্ট্রি থ্রিলার, স্পাই থ্রিলার
পৃষ্ঠাসংখ্যা: ২৫৬
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২০১৯
আমার রেটিং: ৬.৫/১০
March 15, 2021
যে দুইটা জিনিস, “অশ্লীলতা” এবং “উদ্ভট নাম” এর জন্য এই বইটা প্যানড, সেগুলো নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। বরং জাহিদ হোসেনের দুর্দান্ত উইট আর হিউমারই আমার মধ্যে বইটা কন্টিনিউ করার আগ্রহ জিইয়ে রেখেছে।
স্ল্যাং ইউজ করার বিভিন্ন পর্যায় আছে। কোনো চরিত্রের মন্তব্যের মাধ্যমে একটা দুটো স্ল্যাং ইউজ করা পর্যন্ত বাঙালি পাঠক মেনে নিতে পারে। তার উর্ধ্বে গেলে মেনে নিতে পারে না। কেননা বাঙালি পাঠক অনেক সভ্য কিনা! হুমায়ূন আহমেদ যখন ‘এইসব দিনরাত্রি’তে বলেন ‘‘ঝিনুকের মতো ধবধবে বুক’’ তখনই বাঙালি পাঠকের পড়ে যায়! হে সভ্য বাঙালি পাঠক, চোখ খোলেন, আশেপাশে দেখেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওয়ার্ড ‘বাল’ বই অন্য কিছু না! আমরাও সভ্য না কোনো মতেই। আর সাহিত্য তো সমাজেরই দর্পণ। থ্রিলার হোক। ফ্যান্টাসি হোক। প্রেক্ষাপট যখন বাংলাদেশের সমাজ তখন গালিগালাজ, স্ল্যাং আসবে না, সেইটাই অস্বাভাবিক। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মত লেখক তার প্রত্যেক লেখায় স্ল্যাং ইউজ করেছেন এবং সেটা স্বাভাবিকই ঠেকে। জাহিদ হোসেন এই বইয়ে যত প্রকারে স্ল্যাং ইউজ করা যায় সবভাবেই করেছেন, ন্যারেটিভের ভেতর, চরিত্রের মন্তব্য দ্বারা, সলিলোকুই (Soliloquy) এর মাধ্যমে। স্ল্যাং এর ব্যবহার ন্যারেটিভের ক্ষেত্রে কয়েক জায়গায় ওভারহোয়েল্মিং লেগেছে। একটু কমালে হয়তো ভাল হত। না করলেও সমস্যা নেই। আই আম ওকে উইথ ইট।
এখন আসল কথায় আসি। গল্পটা আমার ভাল লেগেছে কিনা? লেখক প্রথমেই বলেছেন, তিনি গাই রিচির ‘স্ন্যাচ’ থেকে ইন্সপায়ার্ড। এবং গল্পটা অনেকটা গাই রিচির গল্পের মতই এগিয়েছে। আমার মনে হয়েছে, অনেকটা গাই রিচি এবং ম্যাথিউ ভন এর মিশ্রন। আমার এখানে একটু সমস্যা আছে, গাই রিচি সিনেমা বানান, আর জাহিদ হোসেন বই লেখেন। গাই রিচির কাছে একটা অস্ত্র আছে যেটা জাহিদ হোসেনের নেই। সেটা হল ভিজুয়াল বা দৃশ্যম সিনেমার দৃশ্যম। গাই রিচি যখন একসাথে বিশটা চরিত্র নিয়ে তার গল্প এগিয়ে নিয়ে যান তখন দর্শকের কাছে ভিজুয়ালের অস্ত্র থাকে। তাই বিশটা চরিত্র অনায়াসে দর্শকের মগজে থেকে যায়। কিন্তু জাহিদ হোসেনের বইয়ের ক্ষেত্রে তা হয় না। মাল্টিডাইমেনশনাল আড়াইশো পৃষ্ঠার বইতে এত এত চরিত্র আর এত মিনিমাল ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট যে পাঠকের বিভ্রান্ত হওয়া এবং অনেক চরিত্রের পরিচয় ভুলে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী। এটাকে আমি তত বড় ইস্যু মানছি না যেহেতু গল্পের স্বার্থেই এত চরিত্র।
জাহিদ হোসেনের এই বইয়ের সবচেয়ে ডাউন পয়েন্ট হল, বইয়ের এন্ডিং। গল্পটা প্রমিসিং ওয়েতে স্টার্ট হয়ে একেবারে শেষ পর্যন্ত সেইম পেসে চলে। কিন্তু শেষে এসেই তরী ডোবে। পুরো প্লটটার রহস্যের জট ছাড়ানো হয় শেষ অধ্যায়ে। এই অধ্যায়ে কালপ্রিট হিন্দি কোনো ক্রিঞ্জি ক্রাইম শো’য়ের ধরা পড়া খুনীদের মতো নিজের সব কুকর্মের কথা কবুল করে, এবং এমন এক ব্যক্তির কাছে কবুল করে যার কাছে তার কৈফিয়ত দেওয়ার কোনো দরকারই নেই, জোর করে পাঠকদের বোঝানোর জন্যই যেন এমন করে কালপ্রিট। আর এই শেষ অধ্যায় পুরো গল্পের ফ্লো’টাকে একটা ভোঁতা ফুলস্টপে এনে থামায়। আর পুরো বই নিয়ে এটাই আমার মূল অভিযোগ। জাহিদ হোসেনের ভাষায় বলতে গেলে এই শেষ অধ্যায়ই ‘‘দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব’’র লিটারেলি পুটকি মেরে দিয়েছে!
স্ল্যাং ইউজ করার বিভিন্ন পর্যায় আছে। কোনো চরিত্রের মন্তব্যের মাধ্যমে একটা দুটো স্ল্যাং ইউজ করা পর্যন্ত বাঙালি পাঠক মেনে নিতে পারে। তার উর্ধ্বে গেলে মেনে নিতে পারে না। কেননা বাঙালি পাঠক অনেক সভ্য কিনা! হুমায়ূন আহমেদ যখন ‘এইসব দিনরাত্রি’তে বলেন ‘‘ঝিনুকের মতো ধবধবে বুক’’ তখনই বাঙালি পাঠকের পড়ে যায়! হে সভ্য বাঙালি পাঠক, চোখ খোলেন, আশেপাশে দেখেন, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ওয়ার্ড ‘বাল’ বই অন্য কিছু না! আমরাও সভ্য না কোনো মতেই। আর সাহিত্য তো সমাজেরই দর্পণ। থ্রিলার হোক। ফ্যান্টাসি হোক। প্রেক্ষাপট যখন বাংলাদেশের সমাজ তখন গালিগালাজ, স্ল্যাং আসবে না, সেইটাই অস্বাভাবিক। আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের মত লেখক তার প্রত্যেক লেখায় স্ল্যাং ইউজ করেছেন এবং সেটা স্বাভাবিকই ঠেকে। জাহিদ হোসেন এই বইয়ে যত প্রকারে স্ল্যাং ইউজ করা যায় সবভাবেই করেছেন, ন্যারেটিভের ভেতর, চরিত্রের মন্তব্য দ্বারা, সলিলোকুই (Soliloquy) এর মাধ্যমে। স্ল্যাং এর ব্যবহার ন্যারেটিভের ক্ষেত্রে কয়েক জায়গায় ওভারহোয়েল্মিং লেগেছে। একটু কমালে হয়তো ভাল হত। না করলেও সমস্যা নেই। আই আম ওকে উইথ ইট।
এখন আসল কথায় আসি। গল্পটা আমার ভাল লেগেছে কিনা? লেখক প্রথমেই বলেছেন, তিনি গাই রিচির ‘স্ন্যাচ’ থেকে ইন্সপায়ার্ড। এবং গল্পটা অনেকটা গাই রিচির গল্পের মতই এগিয়েছে। আমার মনে হয়েছে, অনেকটা গাই রিচি এবং ম্যাথিউ ভন এর মিশ্রন। আমার এখানে একটু সমস্যা আছে, গাই রিচি সিনেমা বানান, আর জাহিদ হোসেন বই লেখেন। গাই রিচির কাছে একটা অস্ত্র আছে যেটা জাহিদ হোসেনের নেই। সেটা হল ভিজুয়াল বা দৃশ্যম সিনেমার দৃশ্যম। গাই রিচি যখন একসাথে বিশটা চরিত্র নিয়ে তার গল্প এগিয়ে নিয়ে যান তখন দর্শকের কাছে ভিজুয়ালের অস্ত্র থাকে। তাই বিশটা চরিত্র অনায়াসে দর্শকের মগজে থেকে যায়। কিন্তু জাহিদ হোসেনের বইয়ের ক্ষেত্রে তা হয় না। মাল্টিডাইমেনশনাল আড়াইশো পৃষ্ঠার বইতে এত এত চরিত্র আর এত মিনিমাল ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট যে পাঠকের বিভ্রান্ত হওয়া এবং অনেক চরিত্রের পরিচয় ভুলে যাওয়া অবশ্যম্ভাবী। এটাকে আমি তত বড় ইস্যু মানছি না যেহেতু গল্পের স্বার্থেই এত চরিত্র।
জাহিদ হোসেনের এই বইয়ের সবচেয়ে ডাউন পয়েন্ট হল, বইয়ের এন্ডিং। গল্পটা প্রমিসিং ওয়েতে স্টার্ট হয়ে একেবারে শেষ পর্যন্ত সেইম পেসে চলে। কিন্তু শেষে এসেই তরী ডোবে। পুরো প্লটটার রহস্যের জট ছাড়ানো হয় শেষ অধ্যায়ে। এই অধ্যায়ে কালপ্রিট হিন্দি কোনো ক্রিঞ্জি ক্রাইম শো’য়ের ধরা পড়া খুনীদের মতো নিজের সব কুকর্মের কথা কবুল করে, এবং এমন এক ব্যক্তির কাছে কবুল করে যার কাছে তার কৈফিয়ত দেওয়ার কোনো দরকারই নেই, জোর করে পাঠকদের বোঝানোর জন্যই যেন এমন করে কালপ্রিট। আর এই শেষ অধ্যায় পুরো গল্পের ফ্লো’টাকে একটা ভোঁতা ফুলস্টপে এনে থামায়। আর পুরো বই নিয়ে এটাই আমার মূল অভিযোগ। জাহিদ হোসেনের ভাষায় বলতে গেলে এই শেষ অধ্যায়ই ‘‘দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব’’র লিটারেলি পুটকি মেরে দিয়েছে!
March 25, 2019
বইয়ের পাতায় পাতায় ভাই ব্রাদার আর শেষদিকে নিজের নামে ক্যারেক্টার দেখে মাথা হালকা পাতলা হ্যাং খেয়ে গেলেও একদম লাস্টের টুইস্টটা মুখ দিয়ে "শিট!" শব্দটা আদায় করে নিয়েছে।
March 22, 2019
এইটা কি লিখসেন জাহিদ ভাই! 😂
April 27, 2020
আমি সত্যিই বইটাকে আরো বেশি রেটিং দিতে চাই কিন্তু হায়! কথায় আছে অতি সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট! এত এত এত চরিত্র আছে এই বইয়ে যে আপনি কিছুক্ষণ পর পরই ভুলে যাবেন তাদের কথা, বেশিরভাগ চরিত্রের বিশেষ কোন কাজ নেই 🙄
কিন্তু হ্যাঁ, গল্পের প্লট ভালো, লেখনী ভালো, থিম ভালো। পড়ে মজাই পেয়েছি। তবে কনফিউজডও হয়েছি প্রচুর! যাই হোক, বইটা পড়ার ইচ্ছা ছিল। হাতাশ হয় নি গল্পে কিন্তু ওই তো সমস্যা একটাই, আই ডোন্ট হ্যাভ এনি ফিলিংস ফর এনি ক্যারেক্টার 😑
কিন্তু হ্যাঁ, গল্পের প্লট ভালো, লেখনী ভালো, থিম ভালো। পড়ে মজাই পেয়েছি। তবে কনফিউজডও হয়েছি প্রচুর! যাই হোক, বইটা পড়ার ইচ্ছা ছিল। হাতাশ হয় নি গল্পে কিন্তু ওই তো সমস্যা একটাই, আই ডোন্ট হ্যাভ এনি ফিলিংস ফর এনি ক্যারেক্টার 😑
September 2, 2022
বইটা আমার আবার পড়তে হবে।
June 16, 2020
২০১৯ সাল ফেব্রুয়ারি মাস , ভাষা আন্দোলনের মাস আর আমার সবচেয়ে পছন্দের বই-লেখক পাঠকদের মিলনমেলার মাস,এই সময়টাতে বাংলা একাডেমীর চত্ত্বর হয়ে উঠে বইপ্রেমীদের তীর্থস্থান.খুব সঙ্গত কারণেই এই সময়টাতে ফেবু সহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া সরগরম থাকে কি কি নতুন বই আসলো, পছন্দের লেখক পাঠকদের তৃপ্তির ঝুলিতে আর কি কি উপহার সাজিয়ে উপস্থাপন করে নিজের আত্মতৃপ্তি আর আত্মবিশ্বাসের জায়গাটা ভরিয়ে তুললো তা দেখতে
ঐ সময় ফেবুতে আর নানা গ্ৰুপে এই বইখানা নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনায় মুখর সবাই,নামটা একটু অদ্ভুত হওয়ায় বেশিরভাগ লোকের জন্য আই ক্যাচিং ছিল এটা,কারো মতে লোককে বইয়ের দিকে আকৃষ্ট করার পজিটিভ একটা উপায় আবার কারো কাছে এটা ছিল শুধুই পাবলিসিটি স্ট্যান্ট.
ফিনিক্স আমার পড়া লেখকের সর্ব প্রথম বই,এত পছন্দ হয়েছিল যে পরবর্তী তে বাকী বইগুলো পড়ারও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, কিন্তু এই বই পড়ার পর আমার এখন নিজের চুলগুলো নিজেই টেনে ছিঁড়ে ফেলতে মন চাইতেছে😑
পুরো দেড় দিন মাথা গরম হয়ে থাকার পর যখন খুঁজতে শুরু করলাম আমার এই অবস্থার কারন তখন এক এক করে এই পয়েন্টগুলো মাথায় আসলো
১.পুরো গল্পে আমি যা শিখছি তা হলো চা কত প্রকার এবং কেমনে কেমনে বানায়,ও মহান শ্যাননের অমরত্বের কপচানো বুলি,চা খাইয়া যদি লোকে অমর হইতোই তাইলে চাবাগানে লোকেরা এতদিনে চা পাতা চড়া দামে বেইচা টাকায় লালে লাল হয়ে যাইত😏আর সবচেয়ে বড় কথা নিজেরাই থুরথুরে বুড়ো হওয়ার আগেই এই অমৃত সুধা পান করিয়া চিরযৌবনা হয়ে দেশ ও দশের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখতেন
২.আচ্ছা নাক তো সোজা সুজি সামনে দিয়েই ধরা যায় তাই না,তাইলে এই চোরপুলিশ খেল খেলে মাথার চারদিকে চক্রাকারে ঘুরে নাক ধরার মানে টা কি 😏
৩.খিচুড়ী রান্নায় কি কি লাগে?চাল ডাল তেল মশলা আর নুন,লেখক সাহেব সবই দিসেন তয় এই যে আমেরিকা,রাশিয়া,চায়না সহ আরো নানা কিসিমের লোকজন যখন তখন হঠাৎ করে আইনা,তাদের দিয়ে আবার লেখকের লেখকবন্ধুদের ভুল ছবি মেসেঞ্জারে চালাচালির পর ভুল লোকরে কিডন্যাপ করে অযথা হিউমারের প্যাচে পাচমিশালী খিচুড়ি বানাতে যেয়ে যে জগাখিচুড়ী অবস্থা হয়ে গিট্টু লাইগা দফারফা অবস্থা হয়ে লোকের যে কাহিনীর থই পাইতে গলদঘর্ম হওয়া লাগছে এজন্যই একটা ভালো প্লটের গল্প সুখাদ্য হতে হতে অবশেষে অখাদ্যে রূপান্তরিত হয়ে গেল
যাক গা ম্যালা প্যাচাল পেড়ে ফেলছি,এখন কথা ফুরায় নটে গাছ মুড়ানোর সময় আইসা গেছে😎
রেটিং: 🌠🌠
ঐ সময় ফেবুতে আর নানা গ্ৰুপে এই বইখানা নিয়ে তুমুল আলোচনা-সমালোচনায় মুখর সবাই,নামটা একটু অদ্ভুত হওয়ায় বেশিরভাগ লোকের জন্য আই ক্যাচিং ছিল এটা,কারো মতে লোককে বইয়ের দিকে আকৃষ্ট করার পজিটিভ একটা উপায় আবার কারো কাছে এটা ছিল শুধুই পাবলিসিটি স্ট্যান্ট.
ফিনিক্স আমার পড়া লেখকের সর্ব প্রথম বই,এত পছন্দ হয়েছিল যে পরবর্তী তে বাকী বইগুলো পড়ারও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি, কিন্তু এই বই পড়ার পর আমার এখন নিজের চুলগুলো নিজেই টেনে ছিঁড়ে ফেলতে মন চাইতেছে😑
পুরো দেড় দিন মাথা গরম হয়ে থাকার পর যখন খুঁজতে শুরু করলাম আমার এই অবস্থার কারন তখন এক এক করে এই পয়েন্টগুলো মাথায় আসলো
১.পুরো গল্পে আমি যা শিখছি তা হলো চা কত প্রকার এবং কেমনে কেমনে বানায়,ও মহান শ্যাননের অমরত্বের কপচানো বুলি,চা খাইয়া যদি লোকে অমর হইতোই তাইলে চাবাগানে লোকেরা এতদিনে চা পাতা চড়া দামে বেইচা টাকায় লালে লাল হয়ে যাইত😏আর সবচেয়ে বড় কথা নিজেরাই থুরথুরে বুড়ো হওয়ার আগেই এই অমৃত সুধা পান করিয়া চিরযৌবনা হয়ে দেশ ও দশের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখতেন
২.আচ্ছা নাক তো সোজা সুজি সামনে দিয়েই ধরা যায় তাই না,তাইলে এই চোরপুলিশ খেল খেলে মাথার চারদিকে চক্রাকারে ঘুরে নাক ধরার মানে টা কি 😏
৩.খিচুড়ী রান্নায় কি কি লাগে?চাল ডাল তেল মশলা আর নুন,লেখক সাহেব সবই দিসেন তয় এই যে আমেরিকা,রাশিয়া,চায়না সহ আরো নানা কিসিমের লোকজন যখন তখন হঠাৎ করে আইনা,তাদের দিয়ে আবার লেখকের লেখকবন্ধুদের ভুল ছবি মেসেঞ্জারে চালাচালির পর ভুল লোকরে কিডন্যাপ করে অযথা হিউমারের প্যাচে পাচমিশালী খিচুড়ি বানাতে যেয়ে যে জগাখিচুড়ী অবস্থা হয়ে গিট্টু লাইগা দফারফা অবস্থা হয়ে লোকের যে কাহিনীর থই পাইতে গলদঘর্ম হওয়া লাগছে এজন্যই একটা ভালো প্লটের গল্প সুখাদ্য হতে হতে অবশেষে অখাদ্যে রূপান্তরিত হয়ে গেল
যাক গা ম্যালা প্যাচাল পেড়ে ফেলছি,এখন কথা ফুরায় নটে গাছ মুড়ানোর সময় আইসা গেছে😎
রেটিং: 🌠🌠
March 19, 2019
|| রিভিউ ||
বইঃ দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব
লেখকঃ জাহিদ হোসেন
প্রকাশকঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
ঘরানাঃ থ্রিলার/ডার্ক কমেডি/স্যাটায়ার
প্রচ্ছদঃ ডিলান
পৃষ্ঠাঃ ২৫৬
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা
ধরণঃ হার্ডকাভার
কাহিনি সংক্ষেপঃ সিরিয়াল কিলিং শুরু হয়েছে ঢাকায়। কেউ একজন রাতের আঁধারে গুলি করে মানুষ খুন করে লাশ ফেলে রেখে যাচ্ছে কোন না কোন চায়ের স্টলের সামনে। তারপর দেয়ালে লিখে যাচ্ছে - 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব'। শুধু তাই না, ক্রাইম সিনে ফেলে যাচ্ছে আধখাওয়া চায়ের কাপ ও কিছু বিস্কিট। অদ্ভুত এই সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনাগুলোর তদন্তের ভার এসে পড়লো সরকারী গোয়েন্দা রফিকুল ইসলামের কাঁধে। অত্যুৎসাহী মিডিয়া যাকে দুধ চা কিলার নামে ডাকে, তাকে খুঁজতে শুরু করলেন রফিকুল ইসলাম ও তার টিম।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের চা দোকানী মান্নান মিয়ার চা খুব বিখ্যাত। 'চালু দোকান' বলতে যা বোঝায়, মান্নান মিয়ার চায়ের স্টল তাই। সে যে শুধু চা-ই ভালো বানায় তা না, বরং অসাধারণ ভঙ্গিতে গল্পও বলে। মান্নান মিয়ার দোকানের কাস্টমাররা সবাই মুগ্ধ হয়ে শোনে তার গল্প। মাঝে মাঝেই সে একটা গল্প বলে। এক সন্তের গল্প। এমন এক গল্প, যে গল্পের সাথে জড়িয়ে আছে অমরত্বের মতো বহুল আকাঙ্ক্ষিত বিষয়।
বিশ্বখ্যাত 'দ্য ইকোনোমিস্ট' পত্রিকায় 'দ্য টি ইভ শ্যানং' নামে একটা আর্টিকেল লিখে রীতিমতো হইচই ফেলে দিলেন দর্শনের প্রোফেসর ড. মেহবুব আরেফীন চৌধুরী। একটা বিশেষ ধরণের চা পাতা নিয়ে লেখা সেই আর্টিকেলের বক্তব্য যদি সত্যি হয় তাহলে অমরত্ব ও অপার জ্ঞান সত্যিই লাভ করা সম্ভব। নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা হতে লাগলো ড. মেহবুব আরেফীন চৌধুরী ও তাঁর আর্টিকেলটা নিয়ে। এসব ডামাডোলের মাঝেই নৃশংসভাবে খুন হয়ে গেলেন এই মেধাবী মানুষটা। আর তাঁর এই খুনকে ঘিরেই পাকিয়ে উঠতে লাগলো ভয়াবহ অদ্ভুত এক ষড়যন্ত্র।
কোন এক অদ্ভুত কারণে আমেরিকা, চীন, রাশিয়া ও খোদ বাংলাদেশের সিক্রেট এজেন্সিগুলো ভয়াবহ রকম তৎপর হয়ে উঠেছে। সি.আই.এ., কে.জি.বি. ও বাংলাদেশের 'ঘুঘু'-এর নানা আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মকাণ্ড শুধু যে আন্ডারগ্রাউন্ডেই সীমাবদ্ধ রইলো তা কিন্তু না, বরং রক্তাক্ত পদক্ষেপে তা এগিয়ে চললো স্বাভাবিক জনজীবনের দিকে। একের পর এক লাশ পড়তে লাগলো৷ রহস্যময় একটা 'প্যাকেজ'-এর খোঁজে মরিয়া হয়ে উঠলো এজেন্টরা।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের বুকে একের পর এক ঘটনার ঘনঘটা দেখা গেলো। কাকতালীয় ভাবেই প্রত্যেকটা ঘটনার পেছনেই কোন না কোন ভাবে একটামাত্র শব্দ জড়িয়ে আছে। আর সেই শব্দটা হলো - 'চা'!
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ২০১৯-এর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব' অন্যতম আলোচিত-সমালোচিত বই। অদ্ভুত নামটার কারণেই বইটা প্রকাশের আগে থেকেই এতো গুঞ্জন। রাজীব দত্তের আঁকা গ্রাফিতি থেকে জাহিদ হোসেন তাঁর নতুন এই উপন্যাসের নামকরণ করেছেন। বইটা পড়ার পর অনেকেই নিজেদের মিশ্র মতামত জানিয়েছেন। অবশেষে আমিও পড়তে পারলাম বইটা। এবার আমার মতামত জানানোর পালা।
'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব' বইটা তো অবশ্যই থ্রিলার, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অনেকটাই এক্সপেরিমেন্টাল একটা কাজ বলা যেতে পারে এটাকে। সাইকো থ্রিলার ধর্মী একটা প্লটের সাথে জাহিদ হোসেন এখানে সমাবেশ ঘটিয়েছেন ডার্ক কমেডি, স্পাই থ্রিলার, মিথ, স্ল্যাশার ও স্যাটায়ারিক কিছু ব্যাপারের। শুরু থেকেই একের পর এক চরিত্রের আগমন ও কর্মকাণ্ডে নিজেরও কিছুটা দিশেহারা লাগছিলো। বইটা পড়তে গিয়ে ধীরে ধীরে সেই বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসেছি। একটা সময় খেয়াল করলাম, রীতিমতো 'দুধ চা'-এর জগতে ঢুকে গেছি পুরোপুরি। জাহিদ হোসেনের এই উপন্যাসে পেয়েছি মাজেদা খালা ও গিল্টি মিয়ার মতো চরিত্রগুলোকেও। তবে এদেরকে পেয়েছি সম্পূর্ণ অন্য আঙ্গিকে, যা কখনো আশাও করিনি। সেই সাথে বিখ্যাত অনেক লেখক, যেমন অ্যালিস্টার ম্যাকলিন, ম্যাথিউ রাইলি সহ অনেকের নামই তিনি তাঁর সৃষ্টি করা কয়েকটা চরিত্রের নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ব্যাপারটা পিকিউলিয়ার লেগেছে।
'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব' রীতিমতো বিশাল একটা প্লটের উপন্যাস। নানা ঘটনার ঘনঘটা ও অনেক প্লাস-মাইনাসের গাণিতিক হিসাবের পর জাহিদ হোসেন সুচারুভাবে কাহিনির শেষটা মিলাতে পেরেছেন। শেষের দিকের ট্যুইস্টটাও বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে। ব্যক্তিগতভাবে বইটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। ডার্ক কমেডি ও ডার্ক হিউমারে পরিপূর্ণ ছিলো পুরো কাহিনিটাই। দ্রুতগতির কাহিনি হওয়ায় পড়ে শেষ করেছিও বেশ দ্রুতই। ভবিষ্যতে এমন এক্সপেরিমেন্টাল কাজ আরো আশা করছি জাহিদ হোসেনের কাছ থেকে। পাঠকের সমালোচনাই হয়ে উঠুক তাঁর অনুপ্রেরণা ও শক্তি। শুভকামনা রইলো লেখকের জন্য।
ডিলান সাহেবের করা 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব'-এর প্রচ্ছদটা অসাধারণ লেগেছে। তবে বাঁধাইয়ের দিকে বাতিঘর প্রকাশনী কর্তৃপক্ষের একটু মনোযোগ দেয়া উচিৎ বলে মনে হয়েছে আমার।
জাহিদ হোসেনের অন্যান্য মৌলিক থ্রিলারের নাম নিচে দিয়ে দিলাম। সবগুলোই এসেছে বাতিঘর থেকে।
১। ঈশ্বরের মুখোশ (রিভেঞ্জ ট্রিলোজি # ১)
২। ফিনিক্স (রিভেঞ্জ ট্রিলোজি # ২)
৩। কাদ্যুসেয়াস
৪। এক জোড়া চোখ খোঁজে আরেক জোড়া চোখকে (লাভক্রফটিয়ান হরর থ্রিলার)
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.২৫/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ২.৯৭/৫
© শুভাগত দীপ
(১৮ মার্চ, ২০১৯, সকাল ১০ টা ৩৮ মিনিট; নাটোর)
বইঃ দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব
লেখকঃ জাহিদ হোসেন
প্রকাশকঃ বাতিঘর প্রকাশনী
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯
ঘরানাঃ থ্রিলার/ডার্ক কমেডি/স্যাটায়ার
প্রচ্ছদঃ ডিলান
পৃষ্ঠাঃ ২৫৬
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩০০ টাকা
ধরণঃ হার্ডকাভার
কাহিনি সংক্ষেপঃ সিরিয়াল কিলিং শুরু হয়েছে ঢাকায়। কেউ একজন রাতের আঁধারে গুলি করে মানুষ খুন করে লাশ ফেলে রেখে যাচ্ছে কোন না কোন চায়ের স্টলের সামনে। তারপর দেয়ালে লিখে যাচ্ছে - 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব'। শুধু তাই না, ক্রাইম সিনে ফেলে যাচ্ছে আধখাওয়া চায়ের কাপ ও কিছু বিস্কিট। অদ্ভুত এই সিরিয়াল কিলিংয়ের ঘটনাগুলোর তদন্তের ভার এসে পড়লো সরকারী গোয়েন্দা রফিকুল ইসলামের কাঁধে। অত্যুৎসাহী মিডিয়া যাকে দুধ চা কিলার নামে ডাকে, তাকে খুঁজতে শুরু করলেন রফিকুল ইসলাম ও তার টিম।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের চা দোকানী মান্নান মিয়ার চা খুব বিখ্যাত। 'চালু দোকান' বলতে যা বোঝায়, মান্নান মিয়ার চায়ের স্টল তাই। সে যে শুধু চা-ই ভালো বানায় তা না, বরং অসাধারণ ভঙ্গিতে গল্পও বলে। মান্নান মিয়ার দোকানের কাস্টমাররা সবাই মুগ্ধ হয়ে শোনে তার গল্প। মাঝে মাঝেই সে একটা গল্প বলে। এক সন্তের গল্প। এমন এক গল্প, যে গল্পের সাথে জড়িয়ে আছে অমরত্বের মতো বহুল আকাঙ্ক্ষিত বিষয়।
বিশ্বখ্যাত 'দ্য ইকোনোমিস্ট' পত্রিকায় 'দ্য টি ইভ শ্যানং' নামে একটা আর্টিকেল লিখে রীতিমতো হইচই ফেলে দিলেন দর্শনের প্রোফেসর ড. মেহবুব আরেফীন চৌধুরী। একটা বিশেষ ধরণের চা পাতা নিয়ে লেখা সেই আর্টিকেলের বক্তব্য যদি সত্যি হয় তাহলে অমরত্ব ও অপার জ্ঞান সত্যিই লাভ করা সম্ভব। নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা হতে লাগলো ড. মেহবুব আরেফীন চৌধুরী ও তাঁর আর্টিকেলটা নিয়ে। এসব ডামাডোলের মাঝেই নৃশংসভাবে খুন হয়ে গেলেন এই মেধাবী মানুষটা। আর তাঁর এই খুনকে ঘিরেই পাকিয়ে উঠতে লাগলো ভয়াবহ অদ্ভুত এক ষড়যন্ত্র।
কোন এক অদ্ভুত কারণে আমেরিকা, চীন, রাশিয়া ও খোদ বাংলাদেশের সিক্রেট এজেন্সিগুলো ভয়াবহ রকম তৎপর হয়ে উঠেছে। সি.আই.এ., কে.জি.বি. ও বাংলাদেশের 'ঘুঘু'-এর নানা আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মকাণ্ড শুধু যে আন্ডারগ্রাউন্ডেই সীমাবদ্ধ রইলো তা কিন্তু না, বরং রক্তাক্ত পদক্ষেপে তা এগিয়ে চললো স্বাভাবিক জনজীবনের দিকে। একের পর এক লাশ পড়তে লাগলো৷ রহস্যময় একটা 'প্যাকেজ'-এর খোঁজে মরিয়া হয়ে উঠলো এজেন্টরা।
ঢাকা ও চট্টগ্রামের বুকে একের পর এক ঘটনার ঘনঘটা দেখা গেলো। কাকতালীয় ভাবেই প্রত্যেকটা ঘটনার পেছনেই কোন না কোন ভাবে একটামাত্র শব্দ জড়িয়ে আছে। আর সেই শব্দটা হলো - 'চা'!
পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ ২০১৯-এর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব' অন্যতম আলোচিত-সমালোচিত বই। অদ্ভুত নামটার কারণেই বইটা প্রকাশের আগে থেকেই এতো গুঞ্জন। রাজীব দত্তের আঁকা গ্রাফিতি থেকে জাহিদ হোসেন তাঁর নতুন এই উপন্যাসের নামকরণ করেছেন। বইটা পড়ার পর অনেকেই নিজেদের মিশ্র মতামত জানিয়েছেন। অবশেষে আমিও পড়তে পারলাম বইটা। এবার আমার মতামত জানানোর পালা।
'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব' বইটা তো অবশ্যই থ্রিলার, এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু অনেকটাই এক্সপেরিমেন্টাল একটা কাজ বলা যেতে পারে এটাকে। সাইকো থ্রিলার ধর্মী একটা প্লটের সাথে জাহিদ হোসেন এখানে সমাবেশ ঘটিয়েছেন ডার্ক কমেডি, স্পাই থ্রিলার, মিথ, স্ল্যাশার ও স্যাটায়ারিক কিছু ব্যাপারের। শুরু থেকেই একের পর এক চরিত্রের আগমন ও কর্মকাণ্ডে নিজেরও কিছুটা দিশেহারা লাগছিলো। বইটা পড়তে গিয়ে ধীরে ধীরে সেই বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে এসেছি। একটা সময় খেয়াল করলাম, রীতিমতো 'দুধ চা'-এর জগতে ঢুকে গেছি পুরোপুরি। জাহিদ হোসেনের এই উপন্যাসে পেয়েছি মাজেদা খালা ও গিল্টি মিয়ার মতো চরিত্রগুলোকেও। তবে এদেরকে পেয়েছি সম্পূর্ণ অন্য আঙ্গিকে, যা কখনো আশাও করিনি। সেই সাথে বিখ্যাত অনেক লেখক, যেমন অ্যালিস্টার ম্যাকলিন, ম্যাথিউ রাইলি সহ অনেকের নামই তিনি তাঁর সৃষ্টি করা কয়েকটা চরিত্রের নাম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ব্যাপারটা পিকিউলিয়ার লেগেছে।
'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব' রীতিমতো বিশাল একটা প্লটের উপন্যাস। নানা ঘটনার ঘনঘটা ও অনেক প্লাস-মাইনাসের গাণিতিক হিসাবের পর জাহিদ হোসেন সুচারুভাবে কাহিনির শেষটা মিলাতে পেরেছেন। শেষের দিকের ট্যুইস্টটাও বেশ ভালো লেগেছে আমার কাছে। ব্যক্তিগতভাবে বইটা আমার কাছে বেশ ভালো লেগেছে। ডার্ক কমেডি ও ডার্ক হিউমারে পরিপূর্ণ ছিলো পুরো কাহিনিটাই। দ্রুতগতির কাহিনি হওয়ায় পড়ে শেষ করেছিও বেশ দ্রুতই। ভবিষ্যতে এমন এক্সপেরিমেন্টাল কাজ আরো আশা করছি জাহিদ হোসেনের কাছ থেকে। পাঠকের সমালোচনাই হয়ে উঠুক তাঁর অনুপ্রেরণা ও শক্তি। শুভকামনা রইলো লেখকের জন্য।
ডিলান সাহেবের করা 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব'-এর প্রচ্ছদটা অসাধারণ লেগেছে। তবে বাঁধাইয়ের দিকে বাতিঘর প্রকাশনী কর্তৃপক্ষের একটু মনোযোগ দেয়া উচিৎ বলে মনে হয়েছে আমার।
জাহিদ হোসেনের অন্যান্য মৌলিক থ্রিলারের নাম নিচে দিয়ে দিলাম। সবগুলোই এসেছে বাতিঘর থেকে।
১। ঈশ্বরের মুখোশ (রিভেঞ্জ ট্রিলোজি # ১)
২। ফিনিক্স (রিভেঞ্জ ট্রিলোজি # ২)
৩। কাদ্যুসেয়াস
৪। এক জোড়া চোখ খোঁজে আরেক জোড়া চোখকে (লাভক্রফটিয়ান হরর থ্রিলার)
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.২৫/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ২.৯৭/৫
© শুভাগত দীপ
(১৮ মার্চ, ২০১৯, সকাল ১০ টা ৩৮ মিনিট; নাটোর)
February 28, 2019
প্রথমেই বলে নেই, লেখক জাহিদ হোসেন এ বইটি টিপিক্যাল থ্রিলারের ধারা অনুসারে লেখেননি। অনেকটা মজার চলে স্যাটায়ারধর্মী থ্রিলার বলা যায়। বই বের হবার আগে নামকরণ নিয়ে অনেক কথাই শোনা গেছে, কিন্তু বইয়ের অন্যতম এক পার্ট ছিল দুধ চা কিলার আর কাহিনীর প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত চা এর নানা ধরনের রহস্য ছিল, তাই নামকরণ আমার হিসেবে ঠিক ই আছে।
বইতে প্রচুর চরিত্র ছিল তাই কোনটা কোন পার্টির চরিত্র তা বুঝতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে আর কোন চরিত্রও ঐভাবে মনে দাগ টানতে পারেনি (যদিও মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছে )।বরাবরের মতোই এ বইতে দুর্দান্ত লেখনী আর সেন্স অফ হিউমার দেখতে পেয়েছি।বইয়ের বাইন্ডিং একটু আঁটসাঁট ছিল, এ ছাড়া বাকি ট্যাকনিক্যাল দিক গুলো ঠিকঠাক আর বইয়ের ফিনিশিং ও চরম লেভেলের।
বাংলা ভাষায় স্যাটায়ার আর ব্ল্যাক কমেডি ধর্মী লেখা প্রচুর রেয়ার, আর থ্রিলার জনরায় তো তা আরো কম।তাই এ বইতে টিপিক্যাল " টানটান উত্তেজনা " টাইপ থ্রিলার এক্সপেক্ট না করে মজা পাওয়ার উদ্দেশ্যে পড়তে শুরু করুন, আশা করি আশাহত হবেন না।
বইতে প্রচুর চরিত্র ছিল তাই কোনটা কোন পার্টির চরিত্র তা বুঝতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে আর কোন চরিত্রও ঐভাবে মনে দাগ টানতে পারেনি (যদিও মুখে হাসি ফোটাতে পেরেছে )।বরাবরের মতোই এ বইতে দুর্দান্ত লেখনী আর সেন্স অফ হিউমার দেখতে পেয়েছি।বইয়ের বাইন্ডিং একটু আঁটসাঁট ছিল, এ ছাড়া বাকি ট্যাকনিক্যাল দিক গুলো ঠিকঠাক আর বইয়ের ফিনিশিং ও চরম লেভেলের।
বাংলা ভাষায় স্যাটায়ার আর ব্ল্যাক কমেডি ধর্মী লেখা প্রচুর রেয়ার, আর থ্রিলার জনরায় তো তা আরো কম।তাই এ বইতে টিপিক্যাল " টানটান উত্তেজনা " টাইপ থ্রিলার এক্সপেক্ট না করে মজা পাওয়ার উদ্দেশ্যে পড়তে শুরু করুন, আশা করি আশাহত হবেন না।
May 17, 2019
মানুষের নাম মনে না থাকা রং যে কতো বড় দোষ বইটি পড়ার পরে মজ্জায় মজ্জায় বুঝেছি। একই লেখকের আর একটি বই পড়েছিলাম কাদ্যুসিয়াস। অসাধারণ বাজে লেখা ছিল। ঐ বই পড়ে মনে হচ্ছিল দ্যা ভিঞ্চি কোড, এনজেলস এ্যান্ড ডেমনস এর বই এবং মুভির একটি মিশ্র সংস্করণ পড়ছিলাম।
নাম ভুলে একই লেখকের চটকদার নাম ও সুন্দর প্রচ্ছদের লোভে পড়ে এই বইটি কেনা।
কাহিনীর শুরু খুব ভালো এবং কাহিনীর শেষাংশ এর আগের অংশটি ভালো। পুরো কাহিনীতে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত লেখা। এবং সর্বোপরি অপ্রয়োজনীয় বিকৃত অশ্লীল লেখা। মাঝে মাঝে আমার লেখকের মানসিকতা বিকৃত মনে হয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই টানটান এ্যাকশন এর মধ্যে হঠাৎ করে কোনো একটি বিকৃত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। বি গ্ৰেড হরর ছবিতে যেমন অধিকাংশ সময় নায়িকাকে গোসলখানা থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় বের হতে দেখা যায় ঠিক তেমনি।
অথচ গল্পটির যে প্লট ছিল তাতে উনি আরো একটু সচেতন হলে অসাধারণ একটি থ্রিলার লিখতে পারতেন। কারণ উনার লেখার হাত প্রাঞ্জল।
বাজে রিভিউ দেবার জন্য সরি। শুধুমাত্র বই পড়া শুরু করলে ছাড়তে পারি না বলে বইটি শেষ করা।
নাম ভুলে একই লেখকের চটকদার নাম ও সুন্দর প্রচ্ছদের লোভে পড়ে এই বইটি কেনা।
কাহিনীর শুরু খুব ভালো এবং কাহিনীর শেষাংশ এর আগের অংশটি ভালো। পুরো কাহিনীতে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত লেখা। এবং সর্বোপরি অপ্রয়োজনীয় বিকৃত অশ্লীল লেখা। মাঝে মাঝে আমার লেখকের মানসিকতা বিকৃত মনে হয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই টানটান এ্যাকশন এর মধ্যে হঠাৎ করে কোনো একটি বিকৃত চিন্তার বহিঃপ্রকাশ। বি গ্ৰেড হরর ছবিতে যেমন অধিকাংশ সময় নায়িকাকে গোসলখানা থেকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় বের হতে দেখা যায় ঠিক তেমনি।
অথচ গল্পটির যে প্লট ছিল তাতে উনি আরো একটু সচেতন হলে অসাধারণ একটি থ্রিলার লিখতে পারতেন। কারণ উনার লেখার হাত প্রাঞ্জল।
বাজে রিভিউ দেবার জন্য সরি। শুধুমাত্র বই পড়া শুরু করলে ছাড়তে পারি না বলে বইটি শেষ করা।
April 28, 2020
আমি বেশ আগ্রহ করেই বইটা হাতে নিয়েছি। বইয়ের শিরোনাম নিয়ে অনেকে নাক শিটকালেও উদ্ভট এই নামকরণটাই আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং লেগেছে। নামেই হিউমারের আঁচ পাওয়া যায়। সুন্দর প্রচ্ছদ। শুরু আর পূর্বাভাস অংশে কি দারুণ আগ্রহ জাগিয়ে গল্প বলানো হয়েছে মান্নান মিয়ার মুখে। আমি ওই পড়েই নড়ে চড়ে বসেছি। না, ঠিক আছে তাহলে।
পুরো বই পাঠকালে এই প্রাথমিক অনুভূতি অবশ্য বজায় থাকে নি। ক্ষণে ক্ষণে আগ্রহ জাগিয়ে জাগিয়ে আবার ক্ষণে ক্ষণেই "বেড়াছেড়া" লেগে গেছে মূলত অতিরিক্ত চরিত্রের ঘনঘটায়। অধিকাংশ চরিত্রই বিশেষ কোন অর্থ বহন করে নি, পরিণতি পায় নি বরং অকারণে একটি থ্রিলার কাহিনীর টানটান ভাবকে আলগা করে দিয়েছে। চমৎকার প্লট থেকে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিয়েছে। জনরা হিসেবে এটি থ্রিলার, স্পাই থ্রিলার, ডার্ক, কমেডি, স্যাটায়ার ইত্যাদির একটা সমন্বয়। গালাগালি আছে প্রচুর, রিভিউ পড়ে আমি একটু ভয়ে ছিলাম যে হজম করতে পারবো কিনা। কিন্তু পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে গালাগালিগুলো ওইসব চরিত্রের সাথে মানানসই। মলমূত্র... ইত্যাদি অসহ্য নোংরা বিষয়গুলো পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে প্রায় বমি চলে এলেও বলছি যে, লেখক যদি ডার্কই লিখতে চান তাহলে তার কল্পনাশক্তি অনেক অসহ্য ডার্ক পর্যায়ে নিয়ে যেতেই পারেন। ভালো চরিত্র যেমন অতি ভালো সাধু সন্যাসী হয়ে যেতে পারে, খারাপ চরিত্রও তেমন অতি অসহ্য খারাপ ডিপজল হতে পারে। "ডার্ক" থিম হিসেবে মানলে সেটাকে দোষারোপ করার কিছু নেই। এই ব্যাপারগুলো বরং লেখক বেশ সাহসের সঙ্গেই লিখেছেন।
তো সারাক্ষণ এরকম অনেক "পজিটিভ" মনোভাব ধরে রেখেও আমি সব মিলে বইটাকে ৫ এ আড়াই দিচ্ছি। রিভিউ দূরে থাকুক, ছোট্ট করে পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতেও আমার নিদারুণ আলসেমি লাগে। এই বইটি পড়ার পরে দুই কলম লিখছি শুধু এই কারনে যে বইটা (এবং লেখক) সম্পর্কে আমার যে মনোভাব এবং বইটিকে যে রেটিং দিচ্ছি তা দুই রকম! পুরো বই পড়ে সন্তুষ্ট না হলেও অনেক কিছুই ভালো লাগার মত ছিলো। প্লটটাই দারুণ ছিলো। মান্নান মিয়া চরিত্রটা আকর্ষনীয় ছিলো। কিন্তু সব মিলে ব্যাটে বলে কেমন যেন হলো না। তবুও এই লেখকের মধ্যে আমি পাঠক হিসেবে সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। আমি তার অন্য বইও পড়বো। যদি অন্য বইতেও ২ দিতে হয় তাহলে হয়ত একটু দমে যাবো। আশা করছি সেটা হবে না।
পুরো বই পাঠকালে এই প্রাথমিক অনুভূতি অবশ্য বজায় থাকে নি। ক্ষণে ক্ষণে আগ্রহ জাগিয়ে জাগিয়ে আবার ক্ষণে ক্ষণেই "বেড়াছেড়া" লেগে গেছে মূলত অতিরিক্ত চরিত্রের ঘনঘটায়। অধিকাংশ চরিত্রই বিশেষ কোন অর্থ বহন করে নি, পরিণতি পায় নি বরং অকারণে একটি থ্রিলার কাহিনীর টানটান ভাবকে আলগা করে দিয়েছে। চমৎকার প্লট থেকে মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিয়েছে। জনরা হিসেবে এটি থ্রিলার, স্পাই থ্রিলার, ডার্ক, কমেডি, স্যাটায়ার ইত্যাদির একটা সমন্বয়। গালাগালি আছে প্রচুর, রিভিউ পড়ে আমি একটু ভয়ে ছিলাম যে হজম করতে পারবো কিনা। কিন্তু পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে গালাগালিগুলো ওইসব চরিত্রের সাথে মানানসই। মলমূত্র... ইত্যাদি অসহ্য নোংরা বিষয়গুলো পড়তে গিয়ে মাঝে মাঝে প্রায় বমি চলে এলেও বলছি যে, লেখক যদি ডার্কই লিখতে চান তাহলে তার কল্পনাশক্তি অনেক অসহ্য ডার্ক পর্যায়ে নিয়ে যেতেই পারেন। ভালো চরিত্র যেমন অতি ভালো সাধু সন্যাসী হয়ে যেতে পারে, খারাপ চরিত্রও তেমন অতি অসহ্য খারাপ ডিপজল হতে পারে। "ডার্ক" থিম হিসেবে মানলে সেটাকে দোষারোপ করার কিছু নেই। এই ব্যাপারগুলো বরং লেখক বেশ সাহসের সঙ্গেই লিখেছেন।
তো সারাক্ষণ এরকম অনেক "পজিটিভ" মনোভাব ধরে রেখেও আমি সব মিলে বইটাকে ৫ এ আড়াই দিচ্ছি। রিভিউ দূরে থাকুক, ছোট্ট করে পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখতেও আমার নিদারুণ আলসেমি লাগে। এই বইটি পড়ার পরে দুই কলম লিখছি শুধু এই কারনে যে বইটা (এবং লেখক) সম্পর্কে আমার যে মনোভাব এবং বইটিকে যে রেটিং দিচ্ছি তা দুই রকম! পুরো বই পড়ে সন্তুষ্ট না হলেও অনেক কিছুই ভালো লাগার মত ছিলো। প্লটটাই দারুণ ছিলো। মান্নান মিয়া চরিত্রটা আকর্ষনীয় ছিলো। কিন্তু সব মিলে ব্যাটে বলে কেমন যেন হলো না। তবুও এই লেখকের মধ্যে আমি পাঠক হিসেবে সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। আমি তার অন্য বইও পড়বো। যদি অন্য বইতেও ২ দিতে হয় তাহলে হয়ত একটু দমে যাবো। আশা করছি সেটা হবে না।
March 15, 2019
এইবইটি ঠিক থ্রিলার না কমেডি আমি সেইটা
ঠিক জানিনা, ধরে নিলাম দুটোর হাইব্রিড জন্রা
কিন্তু আমি বেশিরভাগ থ্রিলার মনে করেই পড়েছি তো সেই হিসেবেই ধরবো...
কাহিনীর প্লট বেশ ভালো...এতসব হাসিতামাশা, উল্টাপাল্টা গালিগালাজের মধ্যে ভালোভাবেই আগায় কিন্তু অপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু বর্ণনা আছে যেইটা আগ্রহ কমিয়ে দেয়...
আমার আন্দাজ এটা যে হাফ না হয়ে ফুল থ্রিলার হলে আরও ভালো হতো অথবা হতে পারে আমি নিজে থ্রিলার পছন্দ করি তাই এমন মনে হয়েছে..বেশকিছু জায়গায় বেশ ডার্ক ছিল কিন্তু আবারো সেইগুলোকে হাসির দিকে নিয়ে হয়েছে
এরপরও শেষপর্যন্ত শেষে চমক ছিল...! আর হ্যাঁ, ভাগ্যিস প্রেডিক্টেবল ছিল না... বরং হাল্কা ধারণা হলেও আসল ব্যাপারটা আড়ালেই থেকে যায়
সমাপ্তিটা আমার কাছে বেশ সংক্ষিপ্ত লেগেছে, সাধারণত এইজায়গায় আমার বলা উচিত যে তাড়াহুড়া করে শেষ করা হয়েছে কিন্তু তানা, বরং শেষটা আরেকটু বড়ই হতে পারত...
ঠিক জানিনা, ধরে নিলাম দুটোর হাইব্রিড জন্রা
কিন্তু আমি বেশিরভাগ থ্রিলার মনে করেই পড়েছি তো সেই হিসেবেই ধরবো...
কাহিনীর প্লট বেশ ভালো...এতসব হাসিতামাশা, উল্টাপাল্টা গালিগালাজের মধ্যে ভালোভাবেই আগায় কিন্তু অপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু বর্ণনা আছে যেইটা আগ্রহ কমিয়ে দেয়...
আমার আন্দাজ এটা যে হাফ না হয়ে ফুল থ্রিলার হলে আরও ভালো হতো অথবা হতে পারে আমি নিজে থ্রিলার পছন্দ করি তাই এমন মনে হয়েছে..বেশকিছু জায়গায় বেশ ডার্ক ছিল কিন্তু আবারো সেইগুলোকে হাসির দিকে নিয়ে হয়েছে
এরপরও শেষপর্যন্ত শেষে চমক ছিল...! আর হ্যাঁ, ভাগ্যিস প্রেডিক্টেবল ছিল না... বরং হাল্কা ধারণা হলেও আসল ব্যাপারটা আড়ালেই থেকে যায়
সমাপ্তিটা আমার কাছে বেশ সংক্ষিপ্ত লেগেছে, সাধারণত এইজায়গায় আমার বলা উচিত যে তাড়াহুড়া করে শেষ করা হয়েছে কিন্তু তানা, বরং শেষটা আরেকটু বড়ই হতে পারত...
March 20, 2019
#রিভিউ
দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব
জাহিদ হোসেন
জনরা: থ্রিলার/ ডার্ক কমেডি থ্রিলার
পৃষ্টা:২৫৫
বাতিঘর প্রকাশনী
প্রচ্ছদ: ডিলান
চায়ের দোকানদার মান্নান মিয়া। অদ্ভুত একটা চরিত্র। মন মেজাজ ভালো থাকলে বিভিন্ন কিংবদন্তীর গল্প শোনায়।
শহরে নেমে এসেছে এক আতঙ্ক। কে যেন প্রতিনিয়ত মানুষ খুন করে লাশের পাশে চায়ের কাপ ও বিস্কুট রেখে যাচ্ছে। সেই সাথে দেয়ালে আকানো একটা আজব গ্রাফিতি। গ্রাফিতিতে লেখা 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব'। শহরের মধ্যে কে করছে এ খুনগুলো? এ উন্মাদ খুনির কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে নাকি শুধুই খেয়ালের বশে খুনগুলো করা?
সুদূর চীনদেশ থেকে বিস্ময়কর একটা জিনিস আবিষ্কার করে নিয়ে এসেছেন পন্ডিত মেহবুব আরেফিন চৌধুরী। যেটা পাল্টে দিতে পারে মানবজাতির ভবিষ্যৎ। কি সেই জিনিস? পন্ডিত সাহেব কি পারবেন মানবজাতির ভবিষ্যৎ পাল্টে দিতে নাকি নিজেই অতীত হয়ে যাবেন? ঢাকার বুকে কিসের আশায় জড়ো হয়েছে রাশিয়া, চীন ও আমেরিকার বাঘা বাঘা সব স্পাই ও এজেন্টরা? এসবের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে জাহিদ হোসেনের 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব' তে।
পাঠ পর্যালোচনা: এ বছরের অন্যতম আলোচিত সমালোচিত বই দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব। বইয়ের নামকরণ স্বার্থক। কেননা পুরা প্লটটায় চা ভিত্তিক। চা নিয়ে দুটো সুন্দর লিজেন্ড উঠে এসেছে। যেটা চোখে পড়ার মত। কিন্তু অনেক সমালোচনার মাঝে এ দুটো সুন্দর লিজেন্ড মানুষের চোখ এড়িয়ে গেছে। উপন্যাসের প্লট ইন্টারেস্টিং। সিরিয়াল কিলিং, এসপিওনাজ আর ডার্ক কমেডির দুর্দান্ত সমন্বয় ঘটেছে উপন্যাসটিতে। সিরিয়াল কিলিং সেই সাথে এসপিওনাজ। শেষে ভালো একটা টুইস্ট আছে। জিভে জল আনার মতোই ব্যাপার। আপনি যদি গল্পের সমালোচনা না করতে চেয়ে শুধুই আরেকটা ক্রাইম উপন্যাস হিসেবে পড়েন, প্লট আপনার পছন্দ হওয়ার কথা। জাহিদ হোসেন সুলেখক। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই। আর এ কাজটা এক্সপেরিমেন্টাল। ভালোমন্দ হতেই পারে। এবার আসি গালাগালির প্রসঙ্গে। এ বইয়ে প্রচুর গালাগালি ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যাপারটা সত্যি। আগেই বলেছি এ উপন্যাস থ্রিলার ও ডার্ক কমেডির মিশ্রণ। ডার্ক কমেডি ব্যাপারটা এরকমই। কিছুটা নিষিদ্ধ টাইপ জিনিস নিয়ে হাস্যরস উত্থাপন। এখানে সেটাই ঘটেছে। ভারতের বিখ্যাত পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ কিন্তু তার প্রত্যেক মুভিতে প্রচুর গালাগালির অবতারণা ঘটান। সে মুভিগুলো কিন্তু জাতীয় পুরস্কার লেভেলের। তখন কিন্তু সমস্যা হয়না। এখানেও লেখক হার্ডকোর একটা থ্রিলার প্লাস ডার্ক কমেডির উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। সে দিক দিয়ে তিনি সফল। কয়েকটা অধ্যায় পড়ে হো হো করে হেসে উঠেছি। যারা একটু কড়া বিনোদন নিতে চান, বইটা তাদের জন্যই। আমরা যেন ভুলে না যাই একটা বই শিক্ষার পাশাপাশি বিনোদনের উৎসও হতে পারে। যারা থ্রিলারের পাশাপাশি ডার্ক ধরনের কমেডি পেতে চান, গালাগালিতে আনকম্ফোর্টেবল ফিল করেন না তারা বইটা উঠিয়ে নিতে পারেন। বই যাদের কাছে গাম্ভীর্যের একটা বিষয়, কড়া হিউমার যাদের পছন্দ নয়, স্যাটায়ারে যাদের সমস্যা আছে তাদের বইটা না পড়া শ্রেয়। আরেকটা ব্যাপার বলি, এ বইয়ের প্লটে আমার অনেক প্রিয় ব্যক্তিত্বকে ট্রিবিউট দেয়া হয়েছে। পড়তে গেলেই বুঝবেন। সেগুলো লেখক বেশ মজার সাথেই লিখেছেন। এইজন্য লেখকের ছোট একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য।
পরিশেষে 'দুধ চা..' একটা এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। ক্রাইমসমৃদ্ধ ভালো একটা প্লট আর কড়া হাস্যরসে পরিপূর্ণ। সিরিয়াল কিলিং, কিছুটা এসপিওনাজ আর ডার্ক কমেডি পেতে চাইলে বইটা আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। ধন্যবাদ।
২০.০৩.১৯
রাজশাহী(সকাল ১০.৪২ মিনিট)
দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব
জাহিদ হোসেন
জনরা: থ্রিলার/ ডার্ক কমেডি থ্রিলার
পৃষ্টা:২৫৫
বাতিঘর প্রকাশনী
প্রচ্ছদ: ডিলান
চায়ের দোকানদার মান্নান মিয়া। অদ্ভুত একটা চরিত্র। মন মেজাজ ভালো থাকলে বিভিন্ন কিংবদন্তীর গল্প শোনায়।
শহরে নেমে এসেছে এক আতঙ্ক। কে যেন প্রতিনিয়ত মানুষ খুন করে লাশের পাশে চায়ের কাপ ও বিস্কুট রেখে যাচ্ছে। সেই সাথে দেয়ালে আকানো একটা আজব গ্রাফিতি। গ্রাফিতিতে লেখা 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব'। শহরের মধ্যে কে করছে এ খুনগুলো? এ উন্মাদ খুনির কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে নাকি শুধুই খেয়ালের বশে খুনগুলো করা?
সুদূর চীনদেশ থেকে বিস্ময়কর একটা জিনিস আবিষ্কার করে নিয়ে এসেছেন পন্ডিত মেহবুব আরেফিন চৌধুরী। যেটা পাল্টে দিতে পারে মানবজাতির ভবিষ্যৎ। কি সেই জিনিস? পন্ডিত সাহেব কি পারবেন মানবজাতির ভবিষ্যৎ পাল্টে দিতে নাকি নিজেই অতীত হয়ে যাবেন? ঢাকার বুকে কিসের আশায় জড়ো হয়েছে রাশিয়া, চীন ও আমেরিকার বাঘা বাঘা সব স্পাই ও এজেন্টরা? এসবের উত্তর লুকিয়ে রয়েছে জাহিদ হোসেনের 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব' তে।
পাঠ পর্যালোচনা: এ বছরের অন্যতম আলোচিত সমালোচিত বই দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব। বইয়ের নামকরণ স্বার্থক। কেননা পুরা প্লটটায় চা ভিত্তিক। চা নিয়ে দুটো সুন্দর লিজেন্ড উঠে এসেছে। যেটা চোখে পড়ার মত। কিন্তু অনেক সমালোচনার মাঝে এ দুটো সুন্দর লিজেন্ড মানুষের চোখ এড়িয়ে গেছে। উপন্যাসের প্লট ইন্টারেস্টিং। সিরিয়াল কিলিং, এসপিওনাজ আর ডার্ক কমেডির দুর্দান্ত সমন্বয় ঘটেছে উপন্যাসটিতে। সিরিয়াল কিলিং সেই সাথে এসপিওনাজ। শেষে ভালো একটা টুইস্ট আছে। জিভে জল আনার মতোই ব্যাপার। আপনি যদি গল্পের সমালোচনা না করতে চেয়ে শুধুই আরেকটা ক্রাইম উপন্যাস হিসেবে পড়েন, প্লট আপনার পছন্দ হওয়ার কথা। জাহিদ হোসেন সুলেখক। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নাই। আর এ কাজটা এক্সপেরিমেন্টাল। ভালোমন্দ হতেই পারে। এবার আসি গালাগালির প্রসঙ্গে। এ বইয়ে প্রচুর গালাগালি ব্যবহৃত হয়েছে। ব্যাপারটা সত্যি। আগেই বলেছি এ উপন্যাস থ্রিলার ও ডার্ক কমেডির মিশ্রণ। ডার্ক কমেডি ব্যাপারটা এরকমই। কিছুটা নিষিদ্ধ টাইপ জিনিস নিয়ে হাস্যরস উত্থাপন। এখানে সেটাই ঘটেছে। ভারতের বিখ্যাত পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ কিন্তু তার প্রত্যেক মুভিতে প্রচুর গালাগালির অবতারণা ঘটান। সে মুভিগুলো কিন্তু জাতীয় পুরস্কার লেভেলের। তখন কিন্তু সমস্যা হয়না। এখানেও লেখক হার্ডকোর একটা থ্রিলার প্লাস ডার্ক কমেডির উপস্থাপন করতে চেয়েছেন। সে দিক দিয়ে তিনি সফল। কয়েকটা অধ্যায় পড়ে হো হো করে হেসে উঠেছি। যারা একটু কড়া বিনোদন নিতে চান, বইটা তাদের জন্যই। আমরা যেন ভুলে না যাই একটা বই শিক্ষার পাশাপাশি বিনোদনের উৎসও হতে পারে। যারা থ্রিলারের পাশাপাশি ডার্ক ধরনের কমেডি পেতে চান, গালাগালিতে আনকম্ফোর্টেবল ফিল করেন না তারা বইটা উঠিয়ে নিতে পারেন। বই যাদের কাছে গাম্ভীর্যের একটা বিষয়, কড়া হিউমার যাদের পছন্দ নয়, স্যাটায়ারে যাদের সমস্যা আছে তাদের বইটা না পড়া শ্রেয়। আরেকটা ব্যাপার বলি, এ বইয়ের প্লটে আমার অনেক প্রিয় ব্যক্তিত্বকে ট্রিবিউট দেয়া হয়েছে। পড়তে গেলেই বুঝবেন। সেগুলো লেখক বেশ মজার সাথেই লিখেছেন। এইজন্য লেখকের ছোট একটা ধন্যবাদ প্রাপ্য।
পরিশেষে 'দুধ চা..' একটা এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। ক্রাইমসমৃদ্ধ ভালো একটা প্লট আর কড়া হাস্যরসে পরিপূর্ণ। সিরিয়াল কিলিং, কিছুটা এসপিওনাজ আর ডার্ক কমেডি পেতে চাইলে বইটা আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে। ধন্যবাদ।
২০.০৩.১৯
রাজশাহী(সকাল ১০.৪২ মিনিট)
February 23, 2021
কোনভাবেই থ্রিলার হিসেবে এই বই পড়ার দুঃসাহস করতে যাবেন না! এটি কমেডি ঘরানার বই। লেখক বাহবা পেতেই পারেন এহেন লেখার জন্য। বই এ ক্যারেক্টর এত বেশী, আপনার নিজের নাম ভুলে যাওয়ায় পসিবলিটি আছে! হালের জনপ্রিয় লেখক দের টেনে আনা দেখে কিঞ্চিৎ অবাক হয়েছি। ফ্ল্যাপ এর লেখাটাই আসলে পুরো কাহিনী কে রিপ্রেজেন্ট করে। বইটা উন্মাদ এক গল্প, সিরিয়াসলি না নিয়ে আপনার মত করে পড়ে যান, আর মজা নিন।
Happy Reading 😊
Happy Reading 😊
December 13, 2022
একটা আন্ডাররেটেড বই।
October 27, 2022
দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব,পড়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া অনুভব করছি।
প্রথমে বলবো যাদের অনেক ধৈর্য ও সময় তারাই বইটা পড়বেন,না হলে থাক বাদ দিন।
বইয়ের বিষয়ে বলি-
মাত্রা অতিরিক্ত চরিত্র, ভাবটা এমন কে ঢুকবে কারে ঠ্যালা দিয়ে।কিছু আগে যার নাম পড়লেন সে উধাও,এরপর ৫০-৬০ পেজ পড়ে যাবেন তার টিক্কি পাবেন না, কিন্তু যখন আপনি তার নাম ভুলে হজম করে ফেলেছেন তখন টুক্কুস করে সে আবার হাজির।এত গুলো চরিত্র সৃষ্টি করে লেখক যে নিজেকে কী হিসেবে জাহির করতে চেয়েছেন আল্লাহর মালুম!!
আর বইয়ের নামের সার্থকতা রাখতে একটু পর পর চা ঢুকাই দিয়েছেন,যেন পাঠক ভুলে না যায় তার বইয়ের নাম হচ্ছে-দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব।
বইয়ের ঘটনা গুলো কেমন ছড়ানো ছিটানো লেগেছে,মানে কোন সিকুয়েন্স মেইনটেইন করেন নি,এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। হতে পারে এটা লেখকের লেখার ধরণ।
ঘটনা খুব সোজাসাপ্টা -ডক্টর মেহবুব আরেফিন চিন থেকে কী একটা নিয়ে এসেছেন যা অমরত্ব দিতে পারে মানুষকে। এই নিয়ে চিন,ভারত,রাশিয়া সব দেশের গোয়েন্দা মেহবুব কে নজরদারিতে রাখে। অন্যদিকে শহরে খুন হতে থাকে, খুনি খুন করে চা রেখে যায় সাথে বিস্কুট কিন্তু কোন ফিংগার প্রিন্ট রাখেন না।
যায় হোক তারপরে অহেতুক মারামারি আর ঘটনার খ্যাচাখ্যাচি।এর মধ্যে মেহবুব মারা যায় তাই নিয়ে লংকা কান্ড সরি দুধ-চা কান্ড।
যারা বইটা পড়বেন, তাদের সাসপেন্স নষ্ট না করি।
কোন বইয়ের সবটাই তো যাচ্ছে তাই হয় না।কিছুকিছু জায়গা বেশ ভালো লেগেছে।
কসাই কাসেমের বউয়ের সাংবাদিকদের দেয়া ইন্টারভিউ জোশ ছিল।কসাইয়ের শ্বশুর লস্করের বুদ্ধি তো মাশাল্লাহ!! ঘুঘু-আর পুলিশ,গোয়ান্দাবাহিনী কে নাকানিচুবানি থুক্কু গুয়েচুবানি খাইয়ে ছেড়েছেন।
ডার্ক কমেডি ধাঁচের সো খুনাখুনি,অহেতুক রহস্য ছিল।
শেষটা সাবলীল ছিল।লেখক যেভাবে আগাছার মত চরিত্র সৃষ্টি করেছেন,সেই ভাবে উপড়িয়ে ফেলেছেন,মনে হচ্ছিল একশন মুভির স্ক্রিপ্ট পড়ছি।
#অনেক সময় লেগেছে পড়তে,২৫৮ পেজের বই। বইটা আমার এভারেজ লেগেছে আবার কখনো কখনো মনে হয়েছে খারাপ না!!তার আগে আমি বলে রাখি,আমি সেই পাবলিক যে ডিপার্টমেন্টের সে ক্লাস গুলো করে,যে গুলো সবাই বোরিং বলে এভয়েড করে।আপনি যদি এই রকম টাইপ হয়ে থাকেন,তবে এই বই আপনার কাছে ভালোই লাগবে বরং বোরিং ক্লাসের থেকে অনেক উপভোগ্য।
প্রথমে বলবো যাদের অনেক ধৈর্য ও সময় তারাই বইটা পড়বেন,না হলে থাক বাদ দিন।
বইয়ের বিষয়ে বলি-
মাত্রা অতিরিক্ত চরিত্র, ভাবটা এমন কে ঢুকবে কারে ঠ্যালা দিয়ে।কিছু আগে যার নাম পড়লেন সে উধাও,এরপর ৫০-৬০ পেজ পড়ে যাবেন তার টিক্কি পাবেন না, কিন্তু যখন আপনি তার নাম ভুলে হজম করে ফেলেছেন তখন টুক্কুস করে সে আবার হাজির।এত গুলো চরিত্র সৃষ্টি করে লেখক যে নিজেকে কী হিসেবে জাহির করতে চেয়েছেন আল্লাহর মালুম!!
আর বইয়ের নামের সার্থকতা রাখতে একটু পর পর চা ঢুকাই দিয়েছেন,যেন পাঠক ভুলে না যায় তার বইয়ের নাম হচ্ছে-দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব।
বইয়ের ঘটনা গুলো কেমন ছড়ানো ছিটানো লেগেছে,মানে কোন সিকুয়েন্স মেইনটেইন করেন নি,এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত। হতে পারে এটা লেখকের লেখার ধরণ।
ঘটনা খুব সোজাসাপ্টা -ডক্টর মেহবুব আরেফিন চিন থেকে কী একটা নিয়ে এসেছেন যা অমরত্ব দিতে পারে মানুষকে। এই নিয়ে চিন,ভারত,রাশিয়া সব দেশের গোয়েন্দা মেহবুব কে নজরদারিতে রাখে। অন্যদিকে শহরে খুন হতে থাকে, খুনি খুন করে চা রেখে যায় সাথে বিস্কুট কিন্তু কোন ফিংগার প্রিন্ট রাখেন না।
যায় হোক তারপরে অহেতুক মারামারি আর ঘটনার খ্যাচাখ্যাচি।এর মধ্যে মেহবুব মারা যায় তাই নিয়ে লংকা কান্ড সরি দুধ-চা কান্ড।
যারা বইটা পড়বেন, তাদের সাসপেন্স নষ্ট না করি।
কোন বইয়ের সবটাই তো যাচ্ছে তাই হয় না।কিছুকিছু জায়গা বেশ ভালো লেগেছে।
কসাই কাসেমের বউয়ের সাংবাদিকদের দেয়া ইন্টারভিউ জোশ ছিল।কসাইয়ের শ্বশুর লস্করের বুদ্ধি তো মাশাল্লাহ!! ঘুঘু-আর পুলিশ,গোয়ান্দাবাহিনী কে নাকানিচুবানি থুক্কু গুয়েচুবানি খাইয়ে ছেড়েছেন।
ডার্ক কমেডি ধাঁচের সো খুনাখুনি,অহেতুক রহস্য ছিল।
শেষটা সাবলীল ছিল।লেখক যেভাবে আগাছার মত চরিত্র সৃষ্টি করেছেন,সেই ভাবে উপড়িয়ে ফেলেছেন,মনে হচ্ছিল একশন মুভির স্ক্রিপ্ট পড়ছি।
#অনেক সময় লেগেছে পড়তে,২৫৮ পেজের বই। বইটা আমার এভারেজ লেগেছে আবার কখনো কখনো মনে হয়েছে খারাপ না!!তার আগে আমি বলে রাখি,আমি সেই পাবলিক যে ডিপার্টমেন্টের সে ক্লাস গুলো করে,যে গুলো সবাই বোরিং বলে এভয়েড করে।আপনি যদি এই রকম টাইপ হয়ে থাকেন,তবে এই বই আপনার কাছে ভালোই লাগবে বরং বোরিং ক্লাসের থেকে অনেক উপভোগ্য।
February 25, 2019
স্পাই থ্রিলারে যে দারুণ হিউমার দিয়েও টান টান উত্তেজনা রাখা যায় তার প্রামান বইটি।
পুরো বইটি পড়ে কখনো ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি উঠে এসেছে, আবার কখনো ঘর কাঁপিয়ে হেসেছি।
সত্যি বলতে বইটি আমি খুবই ইঞ্জয় করেছি।
কি নেই এতে? ভীষণ ভায়োলেন্স, মার মার কাট কাট একশন। এক গণ্ডা স্পাই :D
জাহির ভাই নিজেই বলেছেন এটা উনার মনের মতো লেখা। আশা করবো ভবিষ্যতেও লেখক এরকম মাথানষ্ট তার ছিঁড়া পাঙ্খা টাইপের বই লিখবেন =।
পুরো বইটি পড়ে কখনো ঠোঁটের কোণে মুচকি হাসি উঠে এসেছে, আবার কখনো ঘর কাঁপিয়ে হেসেছি।
সত্যি বলতে বইটি আমি খুবই ইঞ্জয় করেছি।
কি নেই এতে? ভীষণ ভায়োলেন্স, মার মার কাট কাট একশন। এক গণ্ডা স্পাই :D
জাহির ভাই নিজেই বলেছেন এটা উনার মনের মতো লেখা। আশা করবো ভবিষ্যতেও লেখক এরকম মাথানষ্ট তার ছিঁড়া পাঙ্খা টাইপের বই লিখবেন =।
February 14, 2026
বইটার নামটাই অদ্ভুত। প্রথম দিকে এজন্যই পড়তে মন চাচ্ছিল নাহ। পরে কি জানি মনে করে পড়া শুরু করলাম।
শুরুতেই মনে হচ্ছিল সিরিয়াল কিলার নিয়ে গল্প। পরে আস্তে আস্তে অন্যদিকে মোড় নেয়। অনেক বেশী লম্বা করা হয়েছে বলে মনে হইল। অসংখ্য ক্যারেক্টর আর অনেক প্যাচ। কিন্তু কেন জানি ভাল লাগেনি।
শুরুতেই মনে হচ্ছিল সিরিয়াল কিলার নিয়ে গল্প। পরে আস্তে আস্তে অন্যদিকে মোড় নেয়। অনেক বেশী লম্বা করা হয়েছে বলে মনে হইল। অসংখ্য ক্যারেক্টর আর অনেক প্যাচ। কিন্তু কেন জানি ভাল লাগেনি।
May 25, 2020
এ...টা কী ছি...ল?
মানে, এত সম্ভাবনাময় শুরুর পর এইভাবে শেষ!
আর এগুলো চরিত্র না অ্যানিমে থেকে তোলা জিনিস?
হায় (জাহিদ) হোসেন!
মানে, এত সম্ভাবনাময় শুরুর পর এইভাবে শেষ!
আর এগুলো চরিত্র না অ্যানিমে থেকে তোলা জিনিস?
হায় (জাহিদ) হোসেন!
December 5, 2020
আমি একটি রিভিউ লিখছি মানে বইটি আমি মনে রাখতে চাই। এখানে সবগুলো রিভিউ আসলে নিজের স্বার্থ থেকেও লেখা... স্মৃতি-কাতরতা বলা যেতে পারে...
ডার্ক কমেডি! বা একশান উইথ কমেডি... থ্রিল থাকবে, তার সাথে কমেডিও। যারা রগরগে সিরিয়াস মুড বা এক্সপেক্টেশান থেকে পড়তে বসেন বা বই জাজ করেন এটা আসলে তাদের জন্য না। আমরা প্রায়ই হলিউডের একশান নির্ভর কমেডি ধর্মি ছবি দেখি প্রায় ই। ব্যাপারটা ওরকম। লেখকের এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্ট হিসেবে সার্থক।
প্রচন্ড মন খারাপ নিয়ে পড়তে বসেছিলাম। কিছু জায়গায় হাসতে বাধ্য হয়েছি। আবার পরমূহুর্তেই দুম করে সিরিয়াস ও হয়ে গিয়েছি। আবারো হেসে ফেলেছি। হাসি চলে এসেছে। অমায়িক লেগেছে জিনিস টা। বাংলায় প্রথম এই ধরন। এপ্রেশিয়েটেড।
সবচেয়ে বেশি উল্লেখ্যোগ্য বইটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেকগুলো পছন্দের মানুষকে ট্রিবিউট দেওয়া হয়েছে। মাসুদ রানার ফ্যান? গিলটি মিয়াকে সরাসরি ট্রিবিউট দেওয়া হয়েছে। শরীফুল হাসান ভাই, সালমান ভাই কে পরোক্ষভাবে ট্রিবিউট দেওয়া হয়েছে। সাথে আছে অমরত্বের ভিন্ন উপস্থাপনা। বইটা মনে থাকবে এজন্য ই। তবে পুরোপুরি মন ভরেনি। আরো চাইছিলাম। শুভ কামনা প্রিয় লেখক।
ডার্ক কমেডি! বা একশান উইথ কমেডি... থ্রিল থাকবে, তার সাথে কমেডিও। যারা রগরগে সিরিয়াস মুড বা এক্সপেক্টেশান থেকে পড়তে বসেন বা বই জাজ করেন এটা আসলে তাদের জন্য না। আমরা প্রায়ই হলিউডের একশান নির্ভর কমেডি ধর্মি ছবি দেখি প্রায় ই। ব্যাপারটা ওরকম। লেখকের এক্সপেরিমেন্টাল প্রজেক্ট হিসেবে সার্থক।
প্রচন্ড মন খারাপ নিয়ে পড়তে বসেছিলাম। কিছু জায়গায় হাসতে বাধ্য হয়েছি। আবার পরমূহুর্তেই দুম করে সিরিয়াস ও হয়ে গিয়েছি। আবারো হেসে ফেলেছি। হাসি চলে এসেছে। অমায়িক লেগেছে জিনিস টা। বাংলায় প্রথম এই ধরন। এপ্রেশিয়েটেড।
সবচেয়ে বেশি উল্লেখ্যোগ্য বইটিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অনেকগুলো পছন্দের মানুষকে ট্রিবিউট দেওয়া হয়েছে। মাসুদ রানার ফ্যান? গিলটি মিয়াকে সরাসরি ট্রিবিউট দেওয়া হয়েছে। শরীফুল হাসান ভাই, সালমান ভাই কে পরোক্ষভাবে ট্রিবিউট দেওয়া হয়েছে। সাথে আছে অমরত্বের ভিন্ন উপস্থাপনা। বইটা মনে থাকবে এজন্য ই। তবে পুরোপুরি মন ভরেনি। আরো চাইছিলাম। শুভ কামনা প্রিয় লেখক।
March 11, 2019
"এইরাম কুপ দিলাম, বুঝলি রে জাঙ্গি, আর ব্রেইন বাইর অইয়া গেল!"
চপ চপ চপ চপ! দা হাতে কসাই কাসেম এমনেই কোপ দিয়ে বেড়ায়। অতি সম্প্রতি সে একজনকে কোপ দিয়ে ব্রেইন বের করে ফেলেছে। এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাকে গরু খোঁজা হয়ে খুঁজছে। এমতাবস্থায়, ভয়ের পরিবর্তে তার মনে কিঞ্চিৎ কামভাব জাগ্রত হলো। সাত পাঁচ না ভেবেই রওনা দিলো জনৈকা পু'র বাড়ির দিকে। এদিকে ঘুঘু ফাঁদ পেতে বসে আছে। ঘুণাক্ষরেও জানলো না সে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলোসফির শিক্ষক ডঃ মেহবুব আরেফীন চৌধুরী চীনে গিয়েছিলেন। চীন থেকে ফিরে এসে সারা দুনিয়ায় মোটামুটি হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। হৈচৈ এর উৎস চা বিষয়ক একটি অার্টিকেল- দ্য টি অব শ্যানং। এখন রাশিয়া, আমেরিকা তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। মুন ফার্মাসিউটিক্যাল নামের একটি নামজাদা ওষুধ কোম্পানিও রাস্তায় নেমেছে। আরও আছে চোখের পাতাবিহীন মানুষজনে ভরা একটি প্রাচীন গুপ্ত সংগঠন। সবাই সন্দেহ করছে ডঃ আরেফীনের কাছে বিশাল এক রহস্যের চাবি আছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি অমরত্বের সন্ধান পেয়েছেন। ফলশ্রুতিতে, ক্ষমতাবানের তাদের নিজ নিজ দুর্ধর্ষ কিছু স্পাই মাঠে নামিয়ে ফেললো। সবার উদ্দেশ্য এক। বুঝে হোক, আর না বুঝে হোক বাংলাদেশী ঘুঘুবাহিনীকেও রাস্তায় দেখা গেল।
এই ঘটনার কয়েকদিন আগের ঘটনা। ঢাকা শহরে হুট করেই এক রহস্যময় 'দুধ চা কিলারের' আবির্ভাব হয়েছে। মানুষ খুন করে লাশের পাশে অদ্ভুত এক গ্র্যাফিত্তি এঁকে যাচ্ছে। তাতে আবার লিখেও রাখছে- 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব'। দুর্বোধ্য এই দেয়ালচিত্রের মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝে উঠতে পারে না পুলিশের সিনিয়র গোয়েন্দা রফিকুল ইসলাম। কিন্তু অবস্থা তো বেগতিক, তার বোঝা না বোঝার অনেক উপরে! কূল-কিনারা কিছু একটা খুঁজে পেতেই হবে। দুধ চা রহস্য সমাধানে মরিয়া হয়ে ছুটলো সে চট্টগ্রামে।
এদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে, মান্নান মিয়া দুধ জ্বাল দেয়। চা পাতা মেশায়, চিনি মেশায়। গরম গরম চা কাপে ঢেলে দোকানের কাস্টমারদের পরিবেশন করে। মন মেজাজ ভালো থাকলে, মাঝেমধ্যে খদ্দেরদের সাথে গল্পও জুড়ে দেয়। দুর্গম জঙ্গলের এক দয়ালু সন্ত'র গল্প, যিনি কিনা মৃত্যু ছাড়া সারাতে পারতেন যে কোন রোগ। সন্তু মহাশয় একবার জঙ্গলের মধ্যেই সহস্রাব্দ-প্রাচীন এক রহস্যময় গাছের সন্ধান পেয়ে যান। তারপরই গল্পের মোড় অন্যদিকে ঘুরে যায়।
যাইহোক, কমেডি আর ভাড়ামির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। বইয়ের নাম শুনে প্রথমদিকে একটা বড়সড় ধাক্কা খেলেও, জাহিদ হোসেনের উপর আস্থা ছিল। তবে কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম পড়া শুরু করার পর। লেখক এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে যেন বইটাকে আবার ভাড়ামি থ্রিলার না বানিয়ে ফেলেন! শেষমেশ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। না, উনি বেশ সফলভাবেই উনার এই নিরীক্ষাধর্মী থ্রিলার উপন্যাসটি শেষ করতে পেরেছেন। স্পাই থ্রিলার আর সিরিয়াল কিলিংয়ের মিশেলে একটি চমৎকার কমেডি থ্রিলার। এই জনরাতে লেখা আর কোন বই আছে কিনা জানি না আমি। যদি না থেকে থাকে, তবে নতুন একটি থ্রিলার জনরা তৈরি করায় লেখককে অভিনন্দন।
বি দ্রঃ প্রথম ১০০ পেজ এক বসাতে পড়া গেছে। পরের ৫০/৬০ পেজ পড়তে সময় লেগেছে ৪/৫ দিন। ভাবছিলাম আর বোধহয় শেষ করতে পারবো না। ভয়াবহ রকমের একঘেয়ে লাগা শুরু করছিলো। তবে শেষের ১০০ পেজ আবারও একবসাতেই শেষ করা গেছে। মাঝখানের ঐ ৫০/৬০ পেজ বাদ দিলে, সবমিলাইয়ে পুরো বইটা বেশ ভালো। বাংলা থ্রিলারে এধরণের এক্সপেরিমেন্টাল বই আরও থাকা উচিত। বস্তাপচা কাহিনী আর ভাল্লাগেনা।
চপ চপ চপ চপ! দা হাতে কসাই কাসেম এমনেই কোপ দিয়ে বেড়ায়। অতি সম্প্রতি সে একজনকে কোপ দিয়ে ব্রেইন বের করে ফেলেছে। এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। পুলিশ তাকে গরু খোঁজা হয়ে খুঁজছে। এমতাবস্থায়, ভয়ের পরিবর্তে তার মনে কিঞ্চিৎ কামভাব জাগ্রত হলো। সাত পাঁচ না ভেবেই রওনা দিলো জনৈকা পু'র বাড়ির দিকে। এদিকে ঘুঘু ফাঁদ পেতে বসে আছে। ঘুণাক্ষরেও জানলো না সে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলোসফির শিক্ষক ডঃ মেহবুব আরেফীন চৌধুরী চীনে গিয়েছিলেন। চীন থেকে ফিরে এসে সারা দুনিয়ায় মোটামুটি হৈচৈ ফেলে দিয়েছেন। হৈচৈ এর উৎস চা বিষয়ক একটি অার্টিকেল- দ্য টি অব শ্যানং। এখন রাশিয়া, আমেরিকা তার উপর হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। মুন ফার্মাসিউটিক্যাল নামের একটি নামজাদা ওষুধ কোম্পানিও রাস্তায় নেমেছে। আরও আছে চোখের পাতাবিহীন মানুষজনে ভরা একটি প্রাচীন গুপ্ত সংগঠন। সবাই সন্দেহ করছে ডঃ আরেফীনের কাছে বিশাল এক রহস্যের চাবি আছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি অমরত্বের সন্ধান পেয়েছেন। ফলশ্রুতিতে, ক্ষমতাবানের তাদের নিজ নিজ দুর্ধর্ষ কিছু স্পাই মাঠে নামিয়ে ফেললো। সবার উদ্দেশ্য এক। বুঝে হোক, আর না বুঝে হোক বাংলাদেশী ঘুঘুবাহিনীকেও রাস্তায় দেখা গেল।
এই ঘটনার কয়েকদিন আগের ঘটনা। ঢাকা শহরে হুট করেই এক রহস্যময় 'দুধ চা কিলারের' আবির্ভাব হয়েছে। মানুষ খুন করে লাশের পাশে অদ্ভুত এক গ্র্যাফিত্তি এঁকে যাচ্ছে। তাতে আবার লিখেও রাখছে- 'দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব'। দুর্বোধ্য এই দেয়ালচিত্রের মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝে উঠতে পারে না পুলিশের সিনিয়র গোয়েন্দা রফিকুল ইসলাম। কিন্তু অবস্থা তো বেগতিক, তার বোঝা না বোঝার অনেক উপরে! কূল-কিনারা কিছু একটা খুঁজে পেতেই হবে। দুধ চা রহস্য সমাধানে মরিয়া হয়ে ছুটলো সে চট্টগ্রামে।
এদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে, মান্নান মিয়া দুধ জ্বাল দেয়। চা পাতা মেশায়, চিনি মেশায়। গরম গরম চা কাপে ঢেলে দোকানের কাস্টমারদের পরিবেশন করে। মন মেজাজ ভালো থাকলে, মাঝেমধ্যে খদ্দেরদের সাথে গল্পও জুড়ে দেয়। দুর্গম জঙ্গলের এক দয়ালু সন্ত'র গল্প, যিনি কিনা মৃত্যু ছাড়া সারাতে পারতেন যে কোন রোগ। সন্তু মহাশয় একবার জঙ্গলের মধ্যেই সহস্রাব্দ-প্রাচীন এক রহস্যময় গাছের সন্ধান পেয়ে যান। তারপরই গল্পের মোড় অন্যদিকে ঘুরে যায়।
যাইহোক, কমেডি আর ভাড়ামির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। বইয়ের নাম শুনে প্রথমদিকে একটা বড়সড় ধাক্কা খেলেও, জাহিদ হোসেনের উপর আস্থা ছিল। তবে কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম পড়া শুরু করার পর। লেখক এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে যেন বইটাকে আবার ভাড়ামি থ্রিলার না বানিয়ে ফেলেন! শেষমেশ হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। না, উনি বেশ সফলভাবেই উনার এই নিরীক্ষাধর্মী থ্রিলার উপন্যাসটি শেষ করতে পেরেছেন। স্পাই থ্রিলার আর সিরিয়াল কিলিংয়ের মিশেলে একটি চমৎকার কমেডি থ্রিলার। এই জনরাতে লেখা আর কোন বই আছে কিনা জানি না আমি। যদি না থেকে থাকে, তবে নতুন একটি থ্রিলার জনরা তৈরি করায় লেখককে অভিনন্দন।
বি দ্রঃ প্রথম ১০০ পেজ এক বসাতে পড়া গেছে। পরের ৫০/৬০ পেজ পড়তে সময় লেগেছে ৪/৫ দিন। ভাবছিলাম আর বোধহয় শেষ করতে পারবো না। ভয়াবহ রকমের একঘেয়ে লাগা শুরু করছিলো। তবে শেষের ১০০ পেজ আবারও একবসাতেই শেষ করা গেছে। মাঝখানের ঐ ৫০/৬০ পেজ বাদ দিলে, সবমিলাইয়ে পুরো বইটা বেশ ভালো। বাংলা থ্রিলারে এধরণের এক্সপেরিমেন্টাল বই আরও থাকা উচিত। বস্তাপচা কাহিনী আর ভাল্লাগেনা।
April 4, 2019
লেখক দুধ-চিনিবিহীন শুধু কড়া লিকারে দুধ চা বানিয়েছেন !
গুডরিডস আর ফেসবুকে গ্রপের সকল পজিটিভ-নেগেটিভ রিভিউ নিউরন থেকে ঝেড়ে ফেলে খোশ মেজাজেই এক বিকালে দুধ চা নিয়ে আড্ডায় বসলাম। ডার্ক কমেডি আর স্যাটায়ারের সাথে ক্রাইম-থ্রিলারের সংকরায়নটা শুরুর দিকে বেশ ভালোই জমজমাট ছিলো। লেখক তো দিওয়ালি ছাড়াই ফটকা বাজি ফুটাচ্ছেন। মনে হচ্ছিলো হাতিরঝিলে মধ্যরাতে একশ বিশ স্পীডে ধাবমান কোনো বাইকের পিছনে শাহরুখ খানের মত দুইহাত প্রসারিত করে চোখ মু্দিয়া বিশুদ্ধ বাতাসের ফিল নিচ্ছি। মান্নান মিয়ার চা- চারটে খুনের কাহিনী- দ্য টি অভ শ্যানং থিওরি- ড. মেহবুব আরেফীন চৌধুরী- কদম- গিল্টি মিয়া- রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা 'ঘুঘু'- কসাই কাসেমের চাপাতির কুপ- সবমিলিয়ে ভালোই গতিবেগ নিয়ে ছুটছিলো কাহিনী।
কিন্তু কয়েকটা অধ্যায় পরেই হঠাৎ করেই নিজেকে আবিস্কার করলাম শাহবাগের জ্যামে। বসে বসে শুকনো বিষাদ মুখে বাদাম চিবোচ্ছি। বইয়ে প্রচুর চরিত্রের আগমন আর তাদের অহেতুক ব্যাকস্টোরির বিস্তর বর্ণনায় কাহিনীর মোড় কানাগলিতে গিয়ে থমকে দাঁড়ায়। অধিকাংশ চরিত্রেরই ভূমিকা ছিলো সামান্য। তবে হ্যাঁ, কিছু জায়গায় এইসব চরিত্রের মাঝে গ্যাংস অব ওয়াসিপুর টাইপ ফিল পাইসি। প্রঙ্গতই, দলের সাথে জড়িত লতা-পাতা জাতের কিছু পাবলিকের আগমন হতেই পারে। তাই বলে এত ? আর কমেডির বিস্তর জালে লেখক গল্পের থ্রিলটাই হারিয়ে বসেন। কোনোরকম দুই-তিন অধ্যায় পড়েই রেখে দিচ্ছিলাম। ভাবতেসিলাম এই বই কি আদৌ শেষ করা সম্ভব ? গল্পের কনসেপ্টটা শুধুমাত্র নামে। আমেরিকা, রাশিয়া, ঘুঘু, মুন ফার্মাসিউটিক্যাল সবার লক্ষ্য- শ্যানং চা। কিন্তু দ্য টি অভ শ্যানং থিওরি অথবা ইমমরটালিটি নিয়ে লেখক প্রথমে কিছু খসড়া ধারণা দিলেও পরবর্তীতে কোনো বিস্তারিত থিওরিক্যাল এক্সপ্লেনেশনের দরকার মনে করেন নি। টুইস্টের পরিমাণ ছিলো কম আর শেষের টুইস্টটা অনেকের মতে মাথা নষ্ট হলেও আমার কাছে এভারেজ লেগেছে। লেখক ভালোই কুপ দিসিলেন তবে কসাই কাসেমের ভাষায় বলতে পারব না যে, 'আর এইরাম কুপ খাইলাম, ব্রেইন বাইর অইয়া গেলো'
এইটা ছিলো এক্সপেরিমেন্টাল কাজ। স্যাটায়ার আর ডার্ক কমেডিতে লেখক পরিপূর্ণভাবে সার্থক।অনেকের অতিরিক্ত গালিগালাজ নিয়ে কচকচানি ছিলো। তবে আমার কাছে তেমন গালিসমৃদ্ধ মনে হয় নাই। শেষে বলব, দেড় চা চামচ চিনি নামক থ্রিলারে সাথে আড়াই চা চামচ কমেডি দুধের স্বাদ নিতে চাইলে পড়তে পারেন এই বছর বইমেলার অন্যতম সেরা আলোচিত স্ল্যাশ সমালোচিত বই। তবে উচ্চআশা না রাখাই শ্রেয়। - ধন্যবাদ
September 9, 2019
দুর্দান্ত!!!
March 26, 2019
এই প্রকাশনী থেকে আগে একটা থৃলার পড়ে এটা কিনতে আগ্রহী হয়েছিলাম। সামনে সাবধান থাকব। ভালো হয় নি।
July 20, 2021
❝দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব ❞
❝জাহিদ হোসন❞
বইটা শুনেছি অনেক বাজে। লোকে বলে, প্রায় অর্ধেক পড়া যায়। আর বেশি আগানো যায় না। বা ৬০-৭০ পেরোলেই বিরক্ত হবার জোগাড়। জানি না কাদের কাছে কেমন লাগে বইটা। সব পাঠকের মনের অবস্থা তো আর এক না। কারো এই বইটা ভালো লাগলে, কারো আছে এই বইটা বাজে লাগতে পারে সেটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তেমনি অনেকের কাছে খারাপ লাগলেও আমার থেকে লাগেনি। বলা যায়, বেশ ভালো লেগেছে। এই বইটি দুই বাংলার থ্রিলার লেখক জাহিদ হোসনের লেখা একটি ডার্ক কমেডি থ্রিলার। এটা একটা পরীক্ষামুলক কাজও বলা যায়। যে এই জনরা পাঠক কিভাবে নেবে বা পড়তে কেমন লাগবে। লেখক বলেছেন, এই বইটা লিখে তিনি খুব মজা পেয়েছেন। তাই তিনি আশাবাদী যে এই বই পাঠকের কাছেও ভালো লাগবে। কিন্তু বিধিবাম খুব কম পাঠকই এই বইটাকে ভালো বলেছেন। কিন্তু আমি বলবো বইটা জাহিদ ভাইয়ার একটা মারাত্মক ভালো ডার্ক কমেডি থ্রিলার। এই বইয়ে একই সাথে ডার্ক কমেডি, স্পাই, মিথ, স্যাটায়ারের সংমিশ্রণ পাবেন পাঠক।
পাঠ-পতিক্রিয়া -
প্রথম দিক থেকেই ইন্টারেস্টিং। এই বইটা শুরুর কয়েকটা অধ্যায় থেকেই একের পর এক চরিত্র আসতে শুরু হয়। এত এত চরিত্র যে বইটা মাঝামাঝিতে একটা চরিত্র এলে সেটা কোন চরিত্র সেটা বেমালুম ভুলে যাই। পরে ধীরে ধীরে পড়তে পড়তে মনে পড়ে যে এইটা এই চরিত্র। বইটার অনেক জনরার সংমিশ্রণে তৈরি একটি ডার্ক কমেডি থ্রিলার। যার কাহিনী ধীরে ধীরে একসাথে মিলিত হতে থাকে। শেষটা সবচেয়ে সুন্দর। শেষে এসে যে টুইস্টটা পাইছি। সেটা বলার মতো না। পুরা মাথা চক্কর দিয়ে উঠে। এর আগে জাহিদ হোসেনের ❝এক জোড়া চোখ খোঁজে আরেক জোড়া চোখকে❞ পড়েছিলাম। ঐ বইয়ে কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। এখন এটা পড়ে আমার বিশ্বাস যে জাহিদ ভাইয়ের বাকি বইগুলোও ভালো লাগবে আমার।
অব্যশই ধৈর্যশক্তি সম্পন্ন একজন থ্রিলার পাঠকের জন্য অবশ্যই রেকোমেন্ডেড। পড়ে ভালো লাগবে আশা করি।
এই একটা বইয়ে আমার কোনো প্রিয় চরিত্র নেই। ভাবা যায়! তবে কিছু কিছু চরিত্র আছে যেগুলো ভালো লেগেছিল। কিন্তু তা বেশিক্ষণ টেকে নি। বলা যায় পুরো আড়াইশো পৃষ্ঠার একটা বইয়ে আমার কোনো প্রিয় চরিত্র নেই।
বইটি একনজরে,
দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব
জাহিদ হোসন
বাতিঘর প্রকাশনী
তিনশত টাকা
২৫৫ পৃষ্ঠা
প্রচ্ছদ- ডিলান
রেটিং- ❝৪.৫/৫❞
❝জাহিদ হোসন❞
বইটা শুনেছি অনেক বাজে। লোকে বলে, প্রায় অর্ধেক পড়া যায়। আর বেশি আগানো যায় না। বা ৬০-৭০ পেরোলেই বিরক্ত হবার জোগাড়। জানি না কাদের কাছে কেমন লাগে বইটা। সব পাঠকের মনের অবস্থা তো আর এক না। কারো এই বইটা ভালো লাগলে, কারো আছে এই বইটা বাজে লাগতে পারে সেটা স্বাভাবিক ব্যাপার। তেমনি অনেকের কাছে খারাপ লাগলেও আমার থেকে লাগেনি। বলা যায়, বেশ ভালো লেগেছে। এই বইটি দুই বাংলার থ্রিলার লেখক জাহিদ হোসনের লেখা একটি ডার্ক কমেডি থ্রিলার। এটা একটা পরীক্ষামুলক কাজও বলা যায়। যে এই জনরা পাঠক কিভাবে নেবে বা পড়তে কেমন লাগবে। লেখক বলেছেন, এই বইটা লিখে তিনি খুব মজা পেয়েছেন। তাই তিনি আশাবাদী যে এই বই পাঠকের কাছেও ভালো লাগবে। কিন্তু বিধিবাম খুব কম পাঠকই এই বইটাকে ভালো বলেছেন। কিন্তু আমি বলবো বইটা জাহিদ ভাইয়ার একটা মারাত্মক ভালো ডার্ক কমেডি থ্রিলার। এই বইয়ে একই সাথে ডার্ক কমেডি, স্পাই, মিথ, স্যাটায়ারের সংমিশ্রণ পাবেন পাঠক।
পাঠ-পতিক্রিয়া -
প্রথম দিক থেকেই ইন্টারেস্টিং। এই বইটা শুরুর কয়েকটা অধ্যায় থেকেই একের পর এক চরিত্র আসতে শুরু হয়। এত এত চরিত্র যে বইটা মাঝামাঝিতে একটা চরিত্র এলে সেটা কোন চরিত্র সেটা বেমালুম ভুলে যাই। পরে ধীরে ধীরে পড়তে পড়তে মনে পড়ে যে এইটা এই চরিত্র। বইটার অনেক জনরার সংমিশ্রণে তৈরি একটি ডার্ক কমেডি থ্রিলার। যার কাহিনী ধীরে ধীরে একসাথে মিলিত হতে থাকে। শেষটা সবচেয়ে সুন্দর। শেষে এসে যে টুইস্টটা পাইছি। সেটা বলার মতো না। পুরা মাথা চক্কর দিয়ে উঠে। এর আগে জাহিদ হোসেনের ❝এক জোড়া চোখ খোঁজে আরেক জোড়া চোখকে❞ পড়েছিলাম। ঐ বইয়ে কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। এখন এটা পড়ে আমার বিশ্বাস যে জাহিদ ভাইয়ের বাকি বইগুলোও ভালো লাগবে আমার।
অব্যশই ধৈর্যশক্তি সম্পন্ন একজন থ্রিলার পাঠকের জন্য অবশ্যই রেকোমেন্ডেড। পড়ে ভালো লাগবে আশা করি।
এই একটা বইয়ে আমার কোনো প্রিয় চরিত্র নেই। ভাবা যায়! তবে কিছু কিছু চরিত্র আছে যেগুলো ভালো লেগেছিল। কিন্তু তা বেশিক্ষণ টেকে নি। বলা যায় পুরো আড়াইশো পৃষ্ঠার একটা বইয়ে আমার কোনো প্রিয় চরিত্র নেই।
বইটি একনজরে,
দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দেব
জাহিদ হোসন
বাতিঘর প্রকাশনী
তিনশত টাকা
২৫৫ পৃষ্ঠা
প্রচ্ছদ- ডিলান
রেটিং- ❝৪.৫/৫❞
April 9, 2021
এইটা কী লেখসেন জাহিদ ভাই!! :v
July 20, 2021
৪.৫/৫
ওয়ান এ্যান্ড অনলি জাহিদ ভাইয়াই লিখতে পারেন এমন লেখা।খুব ভালো লেগেছে।
ওয়ান এ্যান্ড অনলি জাহিদ ভাইয়াই লিখতে পারেন এমন লেখা।খুব ভালো লেগেছে।
March 16, 2019
" দুধ চা খেয়ে তোকে গুলি করে দিব " লেখক জাহিদ হোসেন।
প্রথমেই আসি বইটার নাম নিয়ে ( স্বাভাবিকভাবেই)৷ হ্যা, নামটা যথার্থ ছিল৷ নাম নিয়ে হাইপ ছিল, মানুষ প্রচুর আলোচনা করেছে, ফেসবুকে মজা করে স্ট্যাটাস দিয়েছে, এমনকি বদনামও করেছে৷ বইটার এত নাম ডাক শুনে আমার পরিচিত অনেকেই সেটা কিনেছে, যারা থ্রিলার পড়েও দেখেনা। আমি এরকম বইমেলাই চাই, যেখানে বই নিয়ে উত্তেজনার স্বীকার হবে, রিভিউ আসবে, বদনাম হবে, লেখক এক্সপেরিমেন্ট করবে লেখা নিয়ে, এবং লোকে মনে রাখবে৷ আমি লেখককে মন থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি বইটা লেখার জন্য৷
এবার আসি গল্প নিয়ে৷ গল্প টা শুরু মান্নান মিয়াকে দিয়ে, সামান্য চা বিক্রেতা, কিন্তু ভাল গল্প বলতে পারেন৷ এরপরে আসে দুধ চা কিলারের কথা, যে কিনা খুন করে তার রক্ত দিয়ে একটা গ্রাফিতি একে পাশে দুধ চায়ের কাপ আর বিস্কিট রেখে যায়। এরপর একে একে রাশিয়ান এজেন্ট, শিট বুলশিট, ঘুঘু কোম্পানি, কুয়ারান, ড মেহবুব (!) চৌধুরী, আকবর, মাজেদা খালা, গিলটি ( Guilti) ----- আরো প্রচুর প্রচুর চরিত্র৷ আমার ধারনা লোকজন না বুঝেই গিলটি মিয়া আর মাজেদা খালা র নাম শুনে নাচা শুরু করে দিয়েছে, হ্যা নাম কপি করেছে, কপি সব, কিভাবে সাহস হয় হ্যান ত্যান। আমার ধারনা, বইটা আপনারা দশ বারোপাতা ধরে পড়ে রেখে দিয়েছেন৷ 🙂 তাদের সাথে কোনো মিল নেই এখানের চরিত্রের৷ গল্পটা শ্যানং ট্রি বা গন্ধম ফলের কেন্দ্র করে হলেও আমরা এর পরিচয় পাইনা, একেবারে শেষে 'তব দেখা পাই ', তাও এমনভাবে, তাতে লেখক একটা দুধ চা পাওয়ার যোগ্য৷
কিছু নেগেটিভ কথা উঠেছে, উনার এই বইতে অশ্লীলতা বেশি, স্ল্যাং প্রচুর ব্যবহৃত, পুরীষ (!) দিয়ে ভরা। তাদের উত্তরে বলছি --- হ্যা বইয়ের মাঝামাঝি গিয়ে মনে হয়েছে, পুরীষ (!) এর ছড়াছড়ি হয়েছে অনেকখানেই ( যেমন লালন বৈরাগীর বাসার পার্টে) কিন্তু মাঝেমাঝে তা আনন্দের খোরাক ছিল( ইব্রাহিম লস্করের বাহিনীর এটাক!) । আর ৭১ থেকে ৭৪ পর্যন্ত পৃষ্ঠা আমার চোখে সেটে ছিল সিরিয়াসলি! আমি খালি দেখতে পাচ্ছিলাম, ও হোন্ডায় উঠল, লুংগি উড়ল বাতাসে ফজল আলীর, টোকাইয়ের হাসি, ফুটপাতে হোন্ডা ----- আসলেই অসামান্য। সাধারনত এরকম খুব কম হয় আমার, তাই আবারো লেখককে ধন্যবাদ এরকম অনুভূতি দেবার জন্য৷
এই প্রথম বাংলাদেশী লেখকদের মধ্যে কাউকে দেখলাম মেটা টাইপের গল্পে লেখকদের আনতে( আশরাফুল সুমন ভাইয়ের ড্রাগোমির ত মেটার উপরেই লেখা জানি, তবে তা অন্যরকম ) অধ্যায় ৩৩ এ টাশকি খেয়েছি আমার প্রিয় লেখক শরীফুল হাসান আর খোদ লেখকের পরিচয় পেয়ে৷ অধ্যায়টাই উদ্ভট ছিল -- তাও ভাল লেগেছে৷
পুরো বইটা আমার কাছে এক্সপেরিমেন্টাল লেগেছে, এবং বিশ্বাস করুন আমার ভাল লেগেছে। থ্রিল ছিল, কমেডি ছিল, উদ্ভট জিনিসও ছিল, তাও আবার ঢাকার পটভূমিতে৷
আরো আরো চাই এক্সপেরিমেন্টাল লেখা। রেটিং ৮/১০ দিলাম। প্রচ্ছদ ফাটাফাটি। বইটা হাতে নিতেও ভাল লেগেছে৷
( আমি দুধ চা বেশি করে খাওয়া শুরু করেছি কদিন ধরে! )
প্রথমেই আসি বইটার নাম নিয়ে ( স্বাভাবিকভাবেই)৷ হ্যা, নামটা যথার্থ ছিল৷ নাম নিয়ে হাইপ ছিল, মানুষ প্রচুর আলোচনা করেছে, ফেসবুকে মজা করে স্ট্যাটাস দিয়েছে, এমনকি বদনামও করেছে৷ বইটার এত নাম ডাক শুনে আমার পরিচিত অনেকেই সেটা কিনেছে, যারা থ্রিলার পড়েও দেখেনা। আমি এরকম বইমেলাই চাই, যেখানে বই নিয়ে উত্তেজনার স্বীকার হবে, রিভিউ আসবে, বদনাম হবে, লেখক এক্সপেরিমেন্ট করবে লেখা নিয়ে, এবং লোকে মনে রাখবে৷ আমি লেখককে মন থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি বইটা লেখার জন্য৷
এবার আসি গল্প নিয়ে৷ গল্প টা শুরু মান্নান মিয়াকে দিয়ে, সামান্য চা বিক্রেতা, কিন্তু ভাল গল্প বলতে পারেন৷ এরপরে আসে দুধ চা কিলারের কথা, যে কিনা খুন করে তার রক্ত দিয়ে একটা গ্রাফিতি একে পাশে দুধ চায়ের কাপ আর বিস্কিট রেখে যায়। এরপর একে একে রাশিয়ান এজেন্ট, শিট বুলশিট, ঘুঘু কোম্পানি, কুয়ারান, ড মেহবুব (!) চৌধুরী, আকবর, মাজেদা খালা, গিলটি ( Guilti) ----- আরো প্রচুর প্রচুর চরিত্র৷ আমার ধারনা লোকজন না বুঝেই গিলটি মিয়া আর মাজেদা খালা র নাম শুনে নাচা শুরু করে দিয়েছে, হ্যা নাম কপি করেছে, কপি সব, কিভাবে সাহস হয় হ্যান ত্যান। আমার ধারনা, বইটা আপনারা দশ বারোপাতা ধরে পড়ে রেখে দিয়েছেন৷ 🙂 তাদের সাথে কোনো মিল নেই এখানের চরিত্রের৷ গল্পটা শ্যানং ট্রি বা গন্ধম ফলের কেন্দ্র করে হলেও আমরা এর পরিচয় পাইনা, একেবারে শেষে 'তব দেখা পাই ', তাও এমনভাবে, তাতে লেখক একটা দুধ চা পাওয়ার যোগ্য৷
কিছু নেগেটিভ কথা উঠেছে, উনার এই বইতে অশ্লীলতা বেশি, স্ল্যাং প্রচুর ব্যবহৃত, পুরীষ (!) দিয়ে ভরা। তাদের উত্তরে বলছি --- হ্যা বইয়ের মাঝামাঝি গিয়ে মনে হয়েছে, পুরীষ (!) এর ছড়াছড়ি হয়েছে অনেকখানেই ( যেমন লালন বৈরাগীর বাসার পার্টে) কিন্তু মাঝেমাঝে তা আনন্দের খোরাক ছিল( ইব্রাহিম লস্করের বাহিনীর এটাক!) । আর ৭১ থেকে ৭৪ পর্যন্ত পৃষ্ঠা আমার চোখে সেটে ছিল সিরিয়াসলি! আমি খালি দেখতে পাচ্ছিলাম, ও হোন্ডায় উঠল, লুংগি উড়ল বাতাসে ফজল আলীর, টোকাইয়ের হাসি, ফুটপাতে হোন্ডা ----- আসলেই অসামান্য। সাধারনত এরকম খুব কম হয় আমার, তাই আবারো লেখককে ধন্যবাদ এরকম অনুভূতি দেবার জন্য৷
এই প্রথম বাংলাদেশী লেখকদের মধ্যে কাউকে দেখলাম মেটা টাইপের গল্পে লেখকদের আনতে( আশরাফুল সুমন ভাইয়ের ড্রাগোমির ত মেটার উপরেই লেখা জানি, তবে তা অন্যরকম ) অধ্যায় ৩৩ এ টাশকি খেয়েছি আমার প্রিয় লেখক শরীফুল হাসান আর খোদ লেখকের পরিচয় পেয়ে৷ অধ্যায়টাই উদ্ভট ছিল -- তাও ভাল লেগেছে৷
পুরো বইটা আমার কাছে এক্সপেরিমেন্টাল লেগেছে, এবং বিশ্বাস করুন আমার ভাল লেগেছে। থ্রিল ছিল, কমেডি ছিল, উদ্ভট জিনিসও ছিল, তাও আবার ঢাকার পটভূমিতে৷
আরো আরো চাই এক্সপেরিমেন্টাল লেখা। রেটিং ৮/১০ দিলাম। প্রচ্ছদ ফাটাফাটি। বইটা হাতে নিতেও ভাল লেগেছে৷
( আমি দুধ চা বেশি করে খাওয়া শুরু করেছি কদিন ধরে! )
April 12, 2020
মনে হচ্ছিল অনেকটা গাই রিচি অথবা কোয়েন্টিন ট্যারান্টিনোর কোন মুভি দেখতেছি।লেখক নিজেও শুরুতেই বলে দিয়েছেন সেটা।কাহিনি এক জায়গা থেকে লাফ দিয়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে।কেনো কি হচ্ছে কিছুই বুঝা যাচ্ছিলো না একদম শেষ পর্যন্ত।অ্যাকশন সিকোয়েন্সগুলা অনেকটা পার্ক চান উকের ওল্ডবয় অথবা কিম জি উনের আই সও দ্য ডেভিল এর মতই ভায়োলেন্সে ভরপুর।বইটির মূল থিম একটি অমূল্য সম্পদ খুজে পাওয়া নিয়ে এবং সেটা অনেকটা ভালো মতোই ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।কয়েকটি খুন এবং তার পাশে আঁকা গ্রাফিতি থেকেই কাহিনির সূত্রপাত।ডার্ক হিউমারগুলো ব্যপক মজার ছিলো এবং পড়ায় কোন বিরাম সৃষ্টি করতে পারে নি। তবে দুর্বল এন্ডিং অথবা টুইস্টের জন্য বইটি তার স্বকীয়তা অনেকাংশেই হারিয়েছে।এই নিয়ে লেখকের টানা দুইটি বইতে একই রকমের সমস্যা খুজে পেলাম।খুবই ভালো শুরু কিন্তু বাজে সমাপ্তি।রিভেঞ্জ ট্রিলোজির প্রথম দুইটি এই দিক থেকে অনেক ভালো ছিলো।
বি.দ্র. বইটিতে ভাল্গার কথাবার্তা সবার নাও পছন্দ হতে পারে। গু-মুত সম্পর্কিত অ্যাকশন সিকোয়েন্সটা একই সাথেই হাসির উদ্রেক যেমন করেছে তেমনি গা গুলানো ফিলিংস ও ছিলো।
বৃষ্টির মায়েরে চু*** দিয়ে যখন বইটি শুরু হয়েছে তখনই কিছুটা বুঝতে পেরেছিলাম সামনে কি আসতেছে।যাই হোক হ্যাপি রিডিং।
বি.দ্র. বইটিতে ভাল্গার কথাবার্তা সবার নাও পছন্দ হতে পারে। গু-মুত সম্পর্কিত অ্যাকশন সিকোয়েন্সটা একই সাথেই হাসির উদ্রেক যেমন করেছে তেমনি গা গুলানো ফিলিংস ও ছিলো।
বৃষ্টির মায়েরে চু*** দিয়ে যখন বইটি শুরু হয়েছে তখনই কিছুটা বুঝতে পেরেছিলাম সামনে কি আসতেছে।যাই হোক হ্যাপি রিডিং।
January 20, 2021
জাহিদ হোসেন কি আমার মন্তব্যটা পড়বেন? হয়তো পড়বেন, হয়তো পড়বেন না। আমি লিখে যাই আমার মতামত।
প্লটটা অসাধারণ ছিলো। অনন্যসাধারণ! লেখক হয়তো কোনো কিছুর ছায়া অবলম্বনে লিখেছেন, তবুও, লিখেছেন তো!
তবে, বইটা পড়ার পুরো সময় জুড়ে, একটা উৎকট গন্ধ আমায় ঘিরে ধরে ছিলো। উৎকট!
শব্দের ব্যবহার আরেকটু মার্জিত হলে সম্ভবত গন্ধটা পেতাম না। প্লট ভালো হলেও শব্দের ব্যবহারে পাঠকমনে যে ইমেজের সৃষ্টি হয়েছে, সেটা মোটেও ভালো নয়!
প্লটটা অসাধারণ ছিলো। অনন্যসাধারণ! লেখক হয়তো কোনো কিছুর ছায়া অবলম্বনে লিখেছেন, তবুও, লিখেছেন তো!
তবে, বইটা পড়ার পুরো সময় জুড়ে, একটা উৎকট গন্ধ আমায় ঘিরে ধরে ছিলো। উৎকট!
শব্দের ব্যবহার আরেকটু মার্জিত হলে সম্ভবত গন্ধটা পেতাম না। প্লট ভালো হলেও শব্দের ব্যবহারে পাঠকমনে যে ইমেজের সৃষ্টি হয়েছে, সেটা মোটেও ভালো নয়!
Displaying 1 - 30 of 121 reviews































