What do you think?


অদ্ভুতুড়ে #47
গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ি
96 pages, Hardcover
First published January 1, 2020
About the author
Shirshendu Mukhopadhyay
412 books965 followersশীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
তিনি ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত ময়মনসিংহে (বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ) জন্মগ্রহণ করেন—যেখানে তাঁর জীবনের প্রথম এগারো বছর কাটে। ভারত বিভাজনের সময় তাঁর পরিবার কলকাতা চলে আসে। এই সময় রেলওয়েতে চাকুরিরত পিতার সঙ্গে তিনি অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বিভিন্ন স্থানে তাঁর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি কোচবিহারের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। শীর্ষেন্দু একজন বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি আনন্দবাজার পত্রিকা ও দেশ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত।
তাঁর প্রথম গল্প জলতরঙ্গ শিরোনামে ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। সাত বছর পরে সেই একই পত্রিকার পূজাবার্ষিকীতে তাঁর প্রথম উপন্যাস ঘুণ পোকা প্রকাশিত হয়। ছোটদের জন্য লেখা তাঁর প্রথম উপন্যাসের নাম মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি।
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 16 of 16 reviews
August 19, 2021
৩.৫/৫
সকাল সকাল এ বই পড়ে মন ভালো হয়ে গেলো। কাহিনি অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অন্যসব বইয়ের মতোই,আবার একটু আলাদা।ভূতপ্রেত আর ডাকাতের ওপর ভরসা না করে শীর্ষেন্দু এবার আস্থা রেখেছেন মানুষের শ্রেয়বোধ ও ভালোবাসায়।গল্পের পরিসমাপ্তি যে কারো মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলবে।
সকাল সকাল এ বই পড়ে মন ভালো হয়ে গেলো। কাহিনি অদ্ভুতুড়ে সিরিজের অন্যসব বইয়ের মতোই,আবার একটু আলাদা।ভূতপ্রেত আর ডাকাতের ওপর ভরসা না করে শীর্ষেন্দু এবার আস্থা রেখেছেন মানুষের শ্রেয়বোধ ও ভালোবাসায়।গল্পের পরিসমাপ্তি যে কারো মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলবে।
February 10, 2021
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের চিরপরিচিত প্রেক্ষাপট-উপাদান অনেককিছুই উপস্থিত থাকলেও (পুরনো রাজবাড়ি, গ্রামগঞ্জ-হাটবাজারের পাগলাটে রঙিন চরিত্রের সব মজাদার মানুষজন) এবার এতে সেই গৎবাঁধা গুপ্তধন-সাইফাই-অদ্ভুতুড়ে রহস্যময় কিছু চরিত্র বা বস্তু যা কেন্দ্র করে সাধারণত কাহিনি আবর্তিত হয় এমন কোনো ব্যাপার সেভাবে ছিল না... যা শেষমেষ ছিল তা হলো কেবল মানুষের জন্য মানুষের ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ। শুনতে হাস্যকর লাগলেও এটাই শীর্ষেন্দুর আজীবনপ্রিয় লেখনির সৌন্দর্যে স্বস্তিদায়ক-সতেজতার সাথে গল্পটাকে প্রাথমিকভাবে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা একঘেয়ে গতানুগতিক বাক্যালাপের মধ্য দিয়ে নিয়েও পরবর্তিতে নতুন মাত্রা দিতে পেরেছে, চেনা পথে না হেঁটে একটু অন্যদিকে যাওয়ায় মন ছুঁয়ে দিতে পেরেছে।
মন্দলোক তেমন কেউ ছিল না, একটা অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্ন রহস্যময় পুতুল ছাড়া উদ্ভট উল্টোপাল্টা ঘটনাবলীও সেভাবে ঘটেনি (সেই পুতুলেরও সবমিলিয়ে খুব বেশি ভূমিকা নেই), ৪৫+ বইয়ের এই 'অদ্ভুতুড়ে' সিরিজের সর্বশেষ উপন্যাসটি গড়পড়তার পরিচিত ঘটনাক্রমে না গড়িয়ে প্রধান উপজীব্য করেছে মানুষের পারস্পারিক বিশ্বাস, বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধাবোধ আর ভালোবাসাকে। বোধকরি সেকারণেই তাতে স্নিগ্ধ একটা ভিন্নতার স্বাদ পেলাম। ছোট্ট বইটা একঘন্টায় শেষ করে ফেলে মনটা ভালো হয়ে গেল, মুখে অকারণ একটা হাসি লেগে রইলো। বাহ, শীর্ষেন্দু স্যার, ছেচল্লিশতম অদ্ভুতুড়ে বইতে এসেও সিরিজটা পড়ার এই আটাশ-ত্রিশ বছর পর এখনো একনিমিষে আমার মন ভাল করে দিতে পারেন!
মন্দলোক তেমন কেউ ছিল না, একটা অদ্ভুত ক্ষমতাসম্পন্ন রহস্যময় পুতুল ছাড়া উদ্ভট উল্টোপাল্টা ঘটনাবলীও সেভাবে ঘটেনি (সেই পুতুলেরও সবমিলিয়ে খুব বেশি ভূমিকা নেই), ৪৫+ বইয়ের এই 'অদ্ভুতুড়ে' সিরিজের সর্বশেষ উপন্যাসটি গড়পড়তার পরিচিত ঘটনাক্রমে না গড়িয়ে প্রধান উপজীব্য করেছে মানুষের পারস্পারিক বিশ্বাস, বন্ধুত্ব, শ্রদ্ধাবোধ আর ভালোবাসাকে। বোধকরি সেকারণেই তাতে স্নিগ্ধ একটা ভিন্নতার স্বাদ পেলাম। ছোট্ট বইটা একঘন্টায় শেষ করে ফেলে মনটা ভালো হয়ে গেল, মুখে অকারণ একটা হাসি লেগে রইলো। বাহ, শীর্ষেন্দু স্যার, ছেচল্লিশতম অদ্ভুতুড়ে বইতে এসেও সিরিজটা পড়ার এই আটাশ-ত্রিশ বছর পর এখনো একনিমিষে আমার মন ভাল করে দিতে পারেন!
March 7, 2021
অদ্ভুতুড়ে অদ্ভূত এক রোগের নাম। এর সাথে মিশে আছে লেখক-পাঠক উভয়ের সীমাহীন ভালোবাসা। অন্যান্য সব গল্পের মত এখানেও আছে অদ্ভূত সব চরিত্র, তাদের কান্ড-কারখানা আর বিচিত্র সব ঘটনা।
তবে গল্পটা বড্ড ছোট। আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকী '১৯ এ পড়েছিলাম। আর একটুসখানি বড় হইলে বিশেষভাবে তৃপ্তি পাইতাম আরকি।
তবে গল্পটা বড্ড ছোট। আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকী '১৯ এ পড়েছিলাম। আর একটুসখানি বড় হইলে বিশেষভাবে তৃপ্তি পাইতাম আরকি।
September 28, 2022
অদ্ভুতুরে সিরিজের আরেকটা নভেলা যুক্ত হল,আমার প্রিয়'র তালিকায়। মানুষ ই মানুষ কে বাঁচায়, এটাই তো চিরকালের ধর্ম।
June 11, 2023
অদ্ভুত ব্যাপার লিখা যেন শীর্ষেন্দুর স্বভাব।
বইয়ের শেষটা ভালবাসার।
বইয়ের শেষটা ভালবাসার।
September 19, 2020
অন্তর বছরখানেক আগে পড়া। সেই পুরোনো ফ্লেভার। ভাঙা রাজবাড়ি, অথর্ব রাজা, বিটকেলে ভূত ও গুপ্তধন। নাথিং নিউ। পড়ার মতো কিছু না পেলে পড়তে পারেন। একেবারে খারাপ লাগবে এমনও নয়।
October 17, 2025
যদু ঘোষ যে গজপতি রায়ের কাছ থেকে পঁচাত্তর টাকা পায়, এটা গড় হেকিমপুর গাঁয়ের সবাই জানে। শুধু জানে বললে কম বলা হয়, এই নিয়ে হাটেবাজারে নানা রকম আলোচনাও হয়ে থাকে। হওয়ারই কথা কিনা! কারণ, তল্লাটের সবাই জানে গজপতির টাকার লেখাজোখা নেই। কিন্তু বাইরে থেকে বোঝে কার সাধ্যি! একখানা সাদামাটা বাড়িতে থাকে, নিতান্তই সাদামাটা জীবন।
বাজারে তার একটা ছোটমতো মুদির দোকান আছে বটে, কিন্তু তা থেকে তেমন কিছু রোজগার হওয়ার কথাও নয়। তবু গড় হেকিমপুরসহ আরও পাঁচটা গাঁয়ের লোক জেনে গিয়েছে গজপতি রায়ের অনেক টাকা। যদু ঘোষ অতি ধৈর্যশীল লোক, অন্য কেউ হলে এতদিনে ওই পঁচাত্তর টাকার আশা ছেড়েই দিত। কিন্তু যদু ঘোষ ছাড়েনি। প্রায় রোজই সকালবেলায় নিয়মিত, অর্থাৎ ঝড়বাদলা না হলে, বা বাঘা শীত না পড়লে, বা আমাশায় কাবু হয়ে না পড়লে, অথবা পুরনো অর্শের ব্যথাটা ভোগান্তি না দিলে যদু ঘোষ গজপতির বাড়িতে হানা দেবেই কী দেবে।
দু’জনের মধ্যে সবিস্তারে আলোচনা হয়। আর সেইসব আলোচনা ভারী রসস্থ হয়ে ওঠে যখন প্রতিদিনই গজপতির গিন্নি বীণাপাণি দেবী তাদের কথার মাঝখানেই ভারী যত্ন করে জলখাবার বেড়ে দেন। কখনও ওমলেট আর পরোটা, কোনওদিন লুচি আর পেস্তা বাদাম দেওয়া মোহনভোগ, কোনওদিন কড়াইশুঁটির কচুরি আর ছোলার ডাল, কোনওদিন বা কাজুবাদাম ছোলার চটপটি আর ধনেপাতা দিয়ে তায়েবগঞ্জের বিখ্যাত মুড়ির মাখা, কখনও বা ঢাকাই পরোটার সঙ্গে আলুর দম, আর তার সঙ্গে অতি চমৎকার দার্জিলিংয়ের চা। তবে হ্যাঁ, তাগাদার কথাটাও সে ভোলে না।
গজপতি কথা দিয়েছিল শুক্লা প্রতিপদে টাকা শোধ দেবে। দেখতে-দেখতে শুক্লা প্রতিপদ এসে গেল। সকাল থেকেই এলাহি ভোজের ব্যবস্থা হচ্ছে। বাসমতী চালের ভাত, সোনা মুগের ডালে মাছের মুড়ো, পাঁঠার মাংস, রুই মাছের কালিয়া, আলুবখরার চাটনি, পাঁপড়ভাজা, বিষ্টুপুরের বিখ্যাত গামছা বাঁধা দই আর পাঁচ রকমের মিষ্টি। গাঁয়ের মাতব্বররা তো বটেই, সেই সঙ্গে আরও বিস্তর লোকের নেমন্তন্ন হয়েছে। কিন্তু টাকা শোধের কথা গজপতি বেমালুম ভুলে গেছে।
ওদিকে গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ির সেই আগের জৌলুস আর নেই। প্রাসাদের মতো বাড়িখানা গর্দানভাই অটোয়ালের কাছে বাঁধা আছে, তা যেন সবাই জানে। মাঝে-মাঝেই তারা এসে হুমকি দিয়ে যায়। যদি একদিন পাইক-বরকন্দাজ নিয়ে এসে সবাইকে রাস্তায় বের করে দিয়ে বাড়ির দখল নেয়, তখন বোধহয় সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। আরো আছে অর্থের অভাব। যেমন একখানা চটের ব্যাগ হাতে রাজবাড়ির কর্মচারী সাতকড়ি বহুক্ষণ ধরে হাটের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে যাচ্ছে। রানিমা মোটে তিরিশটি টাকা হাতউপুড় করে যে ফর্দখানা ধরিয়ে দিয়েছেন, তা দেখলে চোখ কপালে ওঠার কথা। ফর্দে ঘি, গরম মশলা, পাঁঠার মাংস, চিতলের পেটিও আছে। প্রথম দিন ফর্দ দেখে ঘাবড়ে গিয়ে পুরুতমশাইকে গিয়ে দেখিয়েছিল। তা রাজপুরোহিত ব্ৰহ্মপদ ভট্টাচাৰ্য একটু হেসে বললেন, “ওরে, রাজবাড়ির ফর্দ বলে কথা, ওসব না লিখলে কি মানমর্যাদা থাকে? ওসব লিখতে হয়। তা বলে তুই ঘাবড়াস না। যা পারিস, নিয়ে আয়।” সাতকড়িও বোঝে, ওসব অভ্যেসের বশে লেখা। ওসব জিনিস বহুকাল রাজবাড়ির দেউড়ি পেরিয়ে ভিতরে ঢোকেনি।
রাজবাড়ির খাসমহলের উত্তর দিকের গোল ঘরে যে মস্ত আলমারিটা আছে তার উপরের তাকে একটা ছেলে ডলপুতুল আছে। সবুজ পোশাক পরা। অনেকের নজর আছে সেই পুতুলের দিকে। সাতকড়িকে ঘুষ দিয়ে তারা পুতুল সরাতে চায়। কিন্তু কেন? ওই পুতুলের মধ্যে কী আছে এমন?
গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ির অবস্থা শেষমেশ কী হয় আর সেই পুতুল নিয়েই বা কেন এত আগ্ৰহ অনেকের জানতে হলে বইয়ের পাতায় ভ্রমণ করতে হবে গড় হেকিমপুর। বলা যায় না যদি রহস্যের মধ্যে আরো রহস্য এসে জোটে!
🧄পাঠ প্রতিক্রিয়া 🧄
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের আরেকটি চমৎকার বই পড়লাম। "গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ি" পারফেক্ট অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বই মনে হলো আমার কাছে। সমাপ্তি সেটাও বেশ ভালো আবার শুরু সেটাও ভালো। চরিত্রের আধিক্য থাকলেও এখানে ভজঘট পাকিয়ে যাবার অবস্থা হয়নি বরং সবগুলো চরিত্রের মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাব ছিল। আমার ভালো লেগেছে যে বইয়ের কাহিনী যেভাবে এগোচ্ছিল তাতে ধীরগতি মনে হয়নি। গল্পের প্লট ও বেশ ভালো এবং আমার ভালো লেগেছে।
মাঝপথে দুই এক জায়গায় একটু বোরিং কিন্তু সেটা পুষিয়ে দিয়েছেন লেখক পুতুলের টুইস্টটা দিয়ে। এইটুকু নাহলে যেন স্বাদের কমতি থাকে। এবং এই রাজবাড়ি টাইপের গল্প হয়তো আরো আছে এই সিরিজের তবে আমার কাছে এই বইটিও বেশ ভালো লাগলো। কিশোর উপযোগী এবং বর্ণনায় বইটি নিয়ে সময়টা ভালোই কাটলো। আসলে শীর্ষেন্দু সবসময় যে তাড়াহুড়ো করে লেখেন এই বইটা শেষ করে আসলে আবার সেটাও বলতে পারছি না। এখানে কিন্তু সবকিছু একদম ঠিকঠাক ভাবেই হয়েছে।
সবমিলিয়ে বলতে পারি অদ্ভুতুড়ে সিরিজের এই বইটিও বেশ ভালো। এবং সিরিজের সেরা বইয়ের তালিকায় রাখতেও পারেন বা সেকেন্ড সারিতে। পড়লে ভালো লাগবে আশা করছি।
🧄 বইয়ের নাম: "গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ি"
🧄লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
🧄 প্রকাশনা: আনন্দ পাবলিশার্স
বাজারে তার একটা ছোটমতো মুদির দোকান আছে বটে, কিন্তু তা থেকে তেমন কিছু রোজগার হওয়ার কথাও নয়। তবু গড় হেকিমপুরসহ আরও পাঁচটা গাঁয়ের লোক জেনে গিয়েছে গজপতি রায়ের অনেক টাকা। যদু ঘোষ অতি ধৈর্যশীল লোক, অন্য কেউ হলে এতদিনে ওই পঁচাত্তর টাকার আশা ছেড়েই দিত। কিন্তু যদু ঘোষ ছাড়েনি। প্রায় রোজই সকালবেলায় নিয়মিত, অর্থাৎ ঝড়বাদলা না হলে, বা বাঘা শীত না পড়লে, বা আমাশায় কাবু হয়ে না পড়লে, অথবা পুরনো অর্শের ব্যথাটা ভোগান্তি না দিলে যদু ঘোষ গজপতির বাড়িতে হানা দেবেই কী দেবে।
দু’জনের মধ্যে সবিস্তারে আলোচনা হয়। আর সেইসব আলোচনা ভারী রসস্থ হয়ে ওঠে যখন প্রতিদিনই গজপতির গিন্নি বীণাপাণি দেবী তাদের কথার মাঝখানেই ভারী যত্ন করে জলখাবার বেড়ে দেন। কখনও ওমলেট আর পরোটা, কোনওদিন লুচি আর পেস্তা বাদাম দেওয়া মোহনভোগ, কোনওদিন কড়াইশুঁটির কচুরি আর ছোলার ডাল, কোনওদিন বা কাজুবাদাম ছোলার চটপটি আর ধনেপাতা দিয়ে তায়েবগঞ্জের বিখ্যাত মুড়ির মাখা, কখনও বা ঢাকাই পরোটার সঙ্গে আলুর দম, আর তার সঙ্গে অতি চমৎকার দার্জিলিংয়ের চা। তবে হ্যাঁ, তাগাদার কথাটাও সে ভোলে না।
গজপতি কথা দিয়েছিল শুক্লা প্রতিপদে টাকা শোধ দেবে। দেখতে-দেখতে শুক্লা প্রতিপদ এসে গেল। সকাল থেকেই এলাহি ভোজের ব্যবস্থা হচ্ছে। বাসমতী চালের ভাত, সোনা মুগের ডালে মাছের মুড়ো, পাঁঠার মাংস, রুই মাছের কালিয়া, আলুবখরার চাটনি, পাঁপড়ভাজা, বিষ্টুপুরের বিখ্যাত গামছা বাঁধা দই আর পাঁচ রকমের মিষ্টি। গাঁয়ের মাতব্বররা তো বটেই, সেই সঙ্গে আরও বিস্তর লোকের নেমন্তন্ন হয়েছে। কিন্তু টাকা শোধের কথা গজপতি বেমালুম ভুলে গেছে।
ওদিকে গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ির সেই আগের জৌলুস আর নেই। প্রাসাদের মতো বাড়িখানা গর্দানভাই অটোয়ালের কাছে বাঁধা আছে, তা যেন সবাই জানে। মাঝে-মাঝেই তারা এসে হুমকি দিয়ে যায়। যদি একদিন পাইক-বরকন্দাজ নিয়ে এসে সবাইকে রাস্তায় বের করে দিয়ে বাড়ির দখল নেয়, তখন বোধহয় সবাইকে রাস্তায় নামতে হবে। আরো আছে অর্থের অভাব। যেমন একখানা চটের ব্যাগ হাতে রাজবাড়ির কর্মচারী সাতকড়ি বহুক্ষণ ধরে হাটের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে যাচ্ছে। রানিমা মোটে তিরিশটি টাকা হাতউপুড় করে যে ফর্দখানা ধরিয়ে দিয়েছেন, তা দেখলে চোখ কপালে ওঠার কথা। ফর্দে ঘি, গরম মশলা, পাঁঠার মাংস, চিতলের পেটিও আছে। প্রথম দিন ফর্দ দেখে ঘাবড়ে গিয়ে পুরুতমশাইকে গিয়ে দেখিয়েছিল। তা রাজপুরোহিত ব্ৰহ্মপদ ভট্টাচাৰ্য একটু হেসে বললেন, “ওরে, রাজবাড়ির ফর্দ বলে কথা, ওসব না লিখলে কি মানমর্যাদা থাকে? ওসব লিখতে হয়। তা বলে তুই ঘাবড়াস না। যা পারিস, নিয়ে আয়।” সাতকড়িও বোঝে, ওসব অভ্যেসের বশে লেখা। ওসব জিনিস বহুকাল রাজবাড়ির দেউড়ি পেরিয়ে ভিতরে ঢোকেনি।
রাজবাড়ির খাসমহলের উত্তর দিকের গোল ঘরে যে মস্ত আলমারিটা আছে তার উপরের তাকে একটা ছেলে ডলপুতুল আছে। সবুজ পোশাক পরা। অনেকের নজর আছে সেই পুতুলের দিকে। সাতকড়িকে ঘুষ দিয়ে তারা পুতুল সরাতে চায়। কিন্তু কেন? ওই পুতুলের মধ্যে কী আছে এমন?
গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ির অবস্থা শেষমেশ কী হয় আর সেই পুতুল নিয়েই বা কেন এত আগ্ৰহ অনেকের জানতে হলে বইয়ের পাতায় ভ্রমণ করতে হবে গড় হেকিমপুর। বলা যায় না যদি রহস্যের মধ্যে আরো রহস্য এসে জোটে!
🧄পাঠ প্রতিক্রিয়া 🧄
অদ্ভুতুড়ে সিরিজের আরেকটি চমৎকার বই পড়লাম। "গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ি" পারফেক্ট অদ্ভুতুড়ে সিরিজের বই মনে হলো আমার কাছে। সমাপ্তি সেটাও বেশ ভালো আবার শুরু সেটাও ভালো। চরিত্রের আধিক্য থাকলেও এখানে ভজঘট পাকিয়ে যাবার অবস্থা হয়নি বরং সবগুলো চরিত্রের মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাব ছিল। আমার ভালো লেগেছে যে বইয়ের কাহিনী যেভাবে এগোচ্ছিল তাতে ধীরগতি মনে হয়নি। গল্পের প্লট ও বেশ ভালো এবং আমার ভালো লেগেছে।
মাঝপথে দুই এক জায়গায় একটু বোরিং কিন্তু সেটা পুষিয়ে দিয়েছেন লেখক পুতুলের টুইস্টটা দিয়ে। এইটুকু নাহলে যেন স্বাদের কমতি থাকে। এবং এই রাজবাড়ি টাইপের গল্প হয়তো আরো আছে এই সিরিজের তবে আমার কাছে এই বইটিও বেশ ভালো লাগলো। কিশোর উপযোগী এবং বর্ণনায় বইটি নিয়ে সময়টা ভালোই কাটলো। আসলে শীর্ষেন্দু সবসময় যে তাড়াহুড়ো করে লেখেন এই বইটা শেষ করে আসলে আবার সেটাও বলতে পারছি না। এখানে কিন্তু সবকিছু একদম ঠিকঠাক ভাবেই হয়েছে।
সবমিলিয়ে বলতে পারি অদ্ভুতুড়ে সিরিজের এই বইটিও বেশ ভালো। এবং সিরিজের সেরা বইয়ের তালিকায় রাখতেও পারেন বা সেকেন্ড সারিতে। পড়লে ভালো লাগবে আশা করছি।
🧄 বইয়ের নাম: "গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ি"
🧄লেখক: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
🧄 প্রকাশনা: আনন্দ পাবলিশার্স
September 1, 2022
গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ি
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
যত বারই পড়ি নতুন মনে হয়।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজ বরাবরই খুব আনন্দ দেয়। হতে পারে Child Fiction কিন্তু বড়দের জন্যও খুব ভাল।
এইবার পড়ে একটা নতুন জিনিস পাওয়া গেল। শীর্ষেন্দু Community ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার একটা নতুন সংগা দিয়েছেন।
কবেই আমাদের দেশ থেকে জমিদারী প্রথা উঠে গেছে। কিন্তু আজো কোথাও একটা দারুণ ভালো লাগা কাজ করে রাজবাড়ি দর্শনে গেলে। নিজের এলাকায় কোনো রাজবাড়ি থাকলে যেন গর্বের শেষ থাকে না। শেষটায় একেবারে রাজায় প্রজায় এমনভাবে মিলিয়ে দিলেন এককথায় অনবদ্য। চোখের আনন্দাশ্রু ধরে রাখা যায় না।
গল্পের মূল চরিত্র যদিও যদু ঘোষ কিন্তু কোথাও একটা মনে হয়েছে সেই পুতুলটা যেন পুরো ঘটনাটা ঘটিয়ে নিয়ে চলেছে।
পুতুলের চরিত্রে MagicRealism -এর যেন একটা গন্ধ লেগে আছে। অসাধারণ এবং অনবদ্য।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
যত বারই পড়ি নতুন মনে হয়।
অদ্ভুতুড়ে সিরিজ বরাবরই খুব আনন্দ দেয়। হতে পারে Child Fiction কিন্তু বড়দের জন্যও খুব ভাল।
এইবার পড়ে একটা নতুন জিনিস পাওয়া গেল। শীর্ষেন্দু Community ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থার একটা নতুন সংগা দিয়েছেন।
কবেই আমাদের দেশ থেকে জমিদারী প্রথা উঠে গেছে। কিন্তু আজো কোথাও একটা দারুণ ভালো লাগা কাজ করে রাজবাড়ি দর্শনে গেলে। নিজের এলাকায় কোনো রাজবাড়ি থাকলে যেন গর্বের শেষ থাকে না। শেষটায় একেবারে রাজায় প্রজায় এমনভাবে মিলিয়ে দিলেন এককথায় অনবদ্য। চোখের আনন্দাশ্রু ধরে রাখা যায় না।
গল্পের মূল চরিত্র যদিও যদু ঘোষ কিন্তু কোথাও একটা মনে হয়েছে সেই পুতুলটা যেন পুরো ঘটনাটা ঘটিয়ে নিয়ে চলেছে।
পুতুলের চরিত্রে MagicRealism -এর যেন একটা গন্ধ লেগে আছে। অসাধারণ এবং অনবদ্য।
October 23, 2024
একটা কিউট গল্প। এই ধরনের বিশেষণ প্রয়োগ করায় আমি অভ্যস্ত নই একেবারে। তবে এই ছোট্ট বইটা শেষ করার পর এই একটা কথাই মনে এল।
গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ির পড়তি অবস্থা। গ্রামের প্রজাদের মধ্যে নানারকমের অদ্ভুতুড়ে চরিত্র। মজাদার সংলাপ। একটি কথা বলা পুতুল। রাজবাড়ির উপর নেমে আসা বিপদ। অতঃপর একটি হ্যাপি এন্ডিং।
সত্যিই কিউট। পড়লে একটা ফিল্ গুড ব্যাপার কাজ করবে।
গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ির পড়তি অবস্থা। গ্রামের প্রজাদের মধ্যে নানারকমের অদ্ভুতুড়ে চরিত্র। মজাদার সংলাপ। একটি কথা বলা পুতুল। রাজবাড়ির উপর নেমে আসা বিপদ। অতঃপর একটি হ্যাপি এন্ডিং।
সত্যিই কিউট। পড়লে একটা ফিল্ গুড ব্যাপার কাজ করবে।
August 10, 2021
Shining and feel good as usual...wish it was longer though
Want to Read
September 25, 2022পিডিএফ ডাউনলোড অথবা আপনাদের সাইটে পছন্দের বই গুলো পড়ার ব্যবস্থা কি?
September 28, 2022
শীর্ষেন্দুর লেখা পড়তেই ভাল লাগে, কাহিনী থাকুক আর না থাকুক।
October 24, 2022
শাসনের আমলনামা
December 26, 2021
✨📖✨😊😊😊
✨📖উপন্যাসের নাম - গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ি📖✨
✍️লেখক - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
🎉প্রথম প্রকাশিত - শারদীয়া আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকী 1426
💫📚গজপতি রায়ের টাকার যে অভাব নেই , সে কথা গড় হেকিমপুরের সকলেই জানে , কিন্তু যদু ঘোষের পাওনা টাকা আর শোধ করা হয়ে উঠেছে না তার । কোনও কথাই মনে রাখতে না পেরে নানা ঝামেলা বাঁধান গজপতির ভায়রাভাই ভোলানাথ মুস্তফি । রাজমাতা বৃন্দাবনবাসিনী দেব্যার কাছে আছে তোশাখানার চাবি , কিন্তু তোশাখানা কোথায় কেউ জানে ব্যবসায়ী গর্দানভাই অটোয়ালের দেড় লক্ষ টাকা শোধ না হলে সে রাজবাড়ি দখল করে নেবে । গর্দানভাইয়ের সঙ্গে আবার জুটেছে কুখ্যাত গুন্ডা হারাধন খাসনবিশ । রাজবাড়ির সর্বেসর্বা কর্মচারী সাতকড়ি চায় রাজবাড়িকে রক্ষা করতে । সে কি পারবে ? রাজবাড়ির গোলঘরে রাখা আছে সবুজ পোশাক পরা মায়াবী চোখের এক পুতুল । রহস্যময় সেই পুতুল কি কথা বলতে পারে ? সে কি কিছু বলতে চায় সাতকড়িকে ?💫📚
#bengalinovel #bengalibook #books #readingchallenge #goodread #readingbooks #booklovers #reading #drama #pujospecial #ananda #anandamal #boipoka
✨📖উপন্যাসের নাম - গড় হেকিমপুরের রাজবাড়ি📖✨
✍️লেখক - শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
🎉প্রথম প্রকাশিত - শারদীয়া আনন্দমেলা পূজাবার্ষিকী 1426
💫📚গজপতি রায়ের টাকার যে অভাব নেই , সে কথা গড় হেকিমপুরের সকলেই জানে , কিন্তু যদু ঘোষের পাওনা টাকা আর শোধ করা হয়ে উঠেছে না তার । কোনও কথাই মনে রাখতে না পেরে নানা ঝামেলা বাঁধান গজপতির ভায়রাভাই ভোলানাথ মুস্তফি । রাজমাতা বৃন্দাবনবাসিনী দেব্যার কাছে আছে তোশাখানার চাবি , কিন্তু তোশাখানা কোথায় কেউ জানে ব্যবসায়ী গর্দানভাই অটোয়ালের দেড় লক্ষ টাকা শোধ না হলে সে রাজবাড়ি দখল করে নেবে । গর্দানভাইয়ের সঙ্গে আবার জুটেছে কুখ্যাত গুন্ডা হারাধন খাসনবিশ । রাজবাড়ির সর্বেসর্বা কর্মচারী সাতকড়ি চায় রাজবাড়িকে রক্ষা করতে । সে কি পারবে ? রাজবাড়ির গোলঘরে রাখা আছে সবুজ পোশাক পরা মায়াবী চোখের এক পুতুল । রহস্যময় সেই পুতুল কি কথা বলতে পারে ? সে কি কিছু বলতে চায় সাতকড়িকে ?💫📚
#bengalinovel #bengalibook #books #readingchallenge #goodread #readingbooks #booklovers #reading #drama #pujospecial #ananda #anandamal #boipoka
This entire review has been hidden because of spoilers.
September 8, 2021
ধন্যবাদ শীর্ষেন্দু বাবু। একটি ঝড়ঝড়ে লেখা। গজপতি আর যদু ঘোষের কথপোকথন ভোলা বাবুর সংলাপ গুলো খুবই হাস্যকর। রাজবাড়ির জন্য প্রজাদের ভালোবাসা আমদের ঐতিহ্যের উপর আকর্ষনকে দেখায়।
Displaying 1 - 16 of 16 reviews
















