"ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ" একটি ক্ষুদ্র পাঠ পর্যালোচনা
বইটি রচিত হয়েছে জেএমবি ও হরকতের কিছু নাজায়িজ কর্মকান্ডের পর এবং উলামাদের পক্ষ থেকে তিনিই সম্ভবত প্রথম লিখিত কিতাব আকারে তাদের বিভ্রান্তি তুলে ধরে মুমিনদের সতর্ক করার হক আদায় করেছেন। শাইখ রাহ. বিস্তারিত জিহাদের ফিকহ আলোচনা করেননি, বা অবিন্যস্ত-অপরিণত জিহাদের দিকে উদ্বুদ্ধকারী কোন কিতাব হিসেবে এটা রচনা করেন নি। এটাকে কেউ বইয়ের অসম্পূর্ণতা! হিসেবে ধরতে পারে বা এর উপর ভিত্তি করে সমালোচনায় লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু এটি যে ইসলামি জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধের সম্প্রসারিত রূপ ফলে আলোচ্য বিষয়ের বিস্তারে অনিবার্যভাবে সীমাবদ্ধ এবং এর পাঠক শ্রেণীর বৈচিত্রে বিশেষরকম এইটা মাথায় রাখা চাই। আসলে তিনি বিধ্বংসী ও ভ্রান্তিকর কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়কে ফোকাস করেছেন, এবং প্রত্যেক বিষয়ের ভিত্তি হিসেবে পর্যাপ্ত নুসুসের আশ্রয় নিয়েছেন। এবং নুসুসের ফাহমের সত্যায়নকারী হিসেবে সালাফদের কর্মপন্থাও যুক্ত করেছেন। যে কোন ইবাদতের মত জিহাদ-কিতালের ব্যবস্থাপনায় সামর্থ্যের প্রসঙ্গ বা সামর্থ্যের বাইরে কোন কিছুই অনিবার্য হয়না- ফলে আবেগী হয়ে ইদাদ-আসবাব ছাড়া কেবল কুফফারের ক্ষতিসাধন শরীয়ার মাক্সাদ কিনা এসব বিষয় ও সামর্থ্যহীনতায় কাফির-মুরতাদ শাসকের আনুগত্যও ফুকাহাদের কাছে বিধিসিদ্ধ জায়িজ এসব বিষয়েও ইজতিহাদি আলোচনা করেন নি। তিনি কোথাও তালিবান বা আলকায়দার সুনির্দিষ্ট সমালোচনা করেন নি বরং সাইয়্যেদ আহমাদ বেরেলভীর রহ. ইমারাহ এর মত তালিবানি ইমারাহকেও হক হিসেবেই গন্য করেছেন, নাইজেরিয়ার উসমান দান ফুদিওর সংস্কারে নির্মিত ইমারাহর প্রশংসা করেছেন, কুফফারদের আক্রমনে ডিফেন্সিভ জিহাদকে যারা জংগীবাদ বলে তাদেরও সমালোচনা করেছেন, দাওয়াত,তালীম, এসলাহ, রাজনীতি ইত্যাদির ক্ষেত্রে যারা ঢালাওভাবে জিহাদের পরিভাষা বা ফাযায়েল ব্যবহার করেন তাদেরও সমালোচনা করেছেন। সমস্যা হল সুধারনার সুন্নাহতে অনভ্যস্ত অনেক ভাই তাদের পছন্দনীয় ঢংয়ে না হবার কারণে এগুলোকে অন্যান্য সরকারী আলিম বা বক্তার কথার সাথে মিলিয়ে ফেলেন এবং আশ্চর্যভাবে এই পূর্বধারনায় পুরোদস্তুর আক্রান্ত হয়ে বক্তব্য পুরো না পড়েই অসংখ্য অসংগতি খুজে পান। অথচ এটা তাঁর অন্যান্য বইয়ের মতই বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ, সমৃদ্ধ, অনবদ্য, অবশ্যপাঠ্য বইগুলির একটি। কোনটি ওয়াহি- মুজমায়ালাইহি বিষয়, আর কোনটি ইজতিহাদগত ফুরুয়ী অবস্থান, কোনটি জায়িজ কিন্তু সুন্নাহ নয়, কোনটি জাদিদ ইস্তিলাহে ইজতিহাদি অবস্থান, কোনটি সমালোচকদের তথ্য বিকৃতি(যেমন- আগে থেকে চলে আসা বায়যান্টেনিয় এলাকা উবনায় জিহাদ, ইমামকে- রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবাহী নেতা না মনে করে সালাত বা অন্যকিছু হতে পারে মনে করা, বেসামরিক হারবি কাফির হত্যার ফিকহি জায়িজ বনাম অনুসৃত সুন্নাহ ইত্যাদি) তার পার্থক্য মাথায় রাখার তৌফিক দিন।
মূলত সুস্থ মনে বইটির পাঠই এর যথার্থতার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ আমাদের হক বুঝার ও মুসলিমদের ব্যাপারে সুধারণার ও কথার সদর্থের তৌফিক দিন।