আশির আহমেদ জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহযোগী অধ্যাপক। গবেষণা করছেন তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে। গবেষণাগার খুলেছেন বাংলাদেশে। সামাজিক সমস্যা সমাধানের গবেষণাগার। গ্রামীণ কমিউনিকেশান্সের গ্লোবাল কমিউনিকেশন সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। জন্ম সিলেটে হলেও শৈশব আর প্রাইমারি স্কুল কেটেছে মতলব থানার এখলাসপুর গ্রামে। তারপর কুমিল্লা জিলা স্কুল আর ঢাকা কলেজ। বুয়েটে অল্প কিছুদিন ক্লাস করার পর ১৯৮৮ সালের অক্টোবরে জাপান শিক্ষামন্ত্রণালয়ের বৃত্তি নিয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কলেজ অব টেকনোলজি গ্রুপের প্রথম ব্যাচের ছাত্র হিসেবে জাপানে আসেন। জাপানের ৪৭টি প্রিফেকচারের ৪৭টিই চষে বেড়িয়েছেন। বানিয়েছেন হাজারো জাপানি বন্ধু। প্রায় তিন দশকের জাপানের অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাভাষীদের জন্য লিখেছেন বেশ কিছু জাপান-কাহিনী।
বলুনতো আজান ছাড়া নামাজ,আর নামাজ ছাড়া আজান কখন হয় ?
পড়ছিলাম ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত #আশির_আহমেদ এর #জাপান_কাহিনি ৪র্থ খন্ড।
২৮ বছরের জাপানে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখকের লেখা জাপান কাহিনির ৪ নাম্বার বই এটি। চলুন দেখি কি আছে এই বইটিতে।
শুরু হয় লেখকের অন্ধ বন্ধুর গল্প দিয়ে। তারপর জানতে পারি জাপানে অন্ধদের জন্য কি সুবিধা আছে সেটা। অবাক করার মতো ব্যবস্থা সব। সাউন্ড প্রুফ হাইওয়ে! এমন কিছু হতে পারে কল্পনা করেছেন কখনো? আপনার কল্পনার বাইরে গিয়ে জাপান তৈরী করেছে এমনই হাইওয়ে! জাপানে মদ্যপায়ী গাড়িচালকদের ই শাস্তি দেওয়া হয়না যে রেস্টুরেন্ট খাওয়া হয়েছে তাদেরও শাস্তি দেওয়া হয়। গাড়িতে সঙ্গী হিসাবে যে থাকবে তাকেও! হিরোশিমা ছাড়খার করে দেওয়া আমেরিকার সাথে জাপানের সাথে বর্তমান সম্পর্ক কেমন? আপনি জেনে অবাক হবেন জাপানের মতো উন্নত দেশের মানুষও গণক বিশ্বাস করেন। গণক দের পেছনে জাপানিরা বছরে ১০০ হাজার কোটি ইয়েন ব্যায় করে! জাপানিদের নববর্ষ কেমন হয়? কেমন হয় জাপানের চা? জাপানিরাও ছ্যাঁকা খায় প্রেমে। খেলে কি করে? আত্মহত্যা? না মুখে এসিড মারে? কেমন হয় জাপানে বিয়ের অনুষ্ঠান? জেনে আবাক হবেন বেশিরভাগ জাপানি পরচুলা ব্যবহার করেন। তারা এক সাথে নগ্ন হয়ে গোসল করতে লজ্জা না পেলেও টাক দেখিয়ে লজ্জা পান! একা থাকা কাকে বলে? কখনো একা থেকেছেন? গরমের ছুটিতে সবাই যখন বাড়ি ট চলে যেত তখন লেখকসাপ একা থেকে যেতেন। যাওয়ার কোন জায়গা নেই তার। কেমন করে কেটেছিল তার দিন গুলো? জানেন কি জাপানের জনপ্রিয় কম্পানি প্যানাসনিকের প্রতিষ্ঠাতা ছিল মাত্র ৪র্থ শ্রেণী পাস! আরো অনেক কিছু জানতে পারবেন বইটি থেকে।
ধৈর্য্য ধরে পুরো সিরিজ পড়লাম। খুব একটা ভালো লাগে নাই। সবচেয়ে বিরক্ত লেগেছে প্রায় প্রতিটা টপিকেই লিংক দেওয়া। লিংক দেওয়া জিনিস্টা অনলাইনের রচনায় মানায় কিন্তু বইয়ে কেন??? আমরা কি ঐতা ধরে ধরে টাইপ করে খুঁজবো? আর উনার লেখার সিরিয়াল্টা এলোমেলো মনে হইসে। কেমন জানি, একবার এইটা একবার ঐটা। মাঝে মাঝে কিছু গল্প ভালোও লেগেছে আবার বিরক্ত হয়েছি পেইজ ভরে ভরে জাপানিজ সিনেমা বা এনিমের কাহিনী তুলে দেওয়ায়। আমি সম্ভবত এনিমে দেখে দেখে জাপানের প্রতি বেশিই আগ্রহী হয়েছি এইজন্যই পড়তে পেরেছি বইটা। অন্যদের কাছে ভালো না লাগারই কথা। আর উনি সম্ভবত জাপানে সেলিব্রেটি টাইপের কেউ??? বই পড়ে তাই মনে হলো। সামনে এক বিখ্যাত ব্যক্তির সূচনাই মনে হয় অনেক মার্কেটিং করায়ে দিছে। কিন্তু আমার কাছে আহামরি লাগে নাই, না কাহিনী, না লেখনী। তবে খারাপও না। ফেসবুক কেন্দ্রিক লেখালেখি হিসেবে হয়তো ওকে।
আশির আহমেদ চিন্তা করেন চমৎকার, লেখার ফাঁকে দুম করে দু-একটা সুন্দর কথাও লিখে ফেলেন। কিন্তু মুগ্ধ হওয়ার ফুরসত পাই না, কারণ সুন্দর কথাটার পরপরই হয়তো দুর্বল একটা প্রসঙ্গ চলে আসে। লেখার content-এর দিক দিয়ে তৃতীয় খণ্ডটা বরং একটু সমৃদ্ধ ছিল। চতুর্থ খণ্ডে এসে লেখকের বই প্রকাশের অস্থিরতাটা টের পাচ্ছি। একটু ধীরে চললে হয়তো আমাদের ভালো কিছু দিতে পারতেন।
আমার মনে হয় আশির আহমেদের quantity-র চাইতে quality-র দিকে বেশি মন দেয়ার সময় হয়েছে। চার খণ্ড জাপান কাহিনির চাইতে চল্লিশ পৃষ্ঠার পালামৌ ঢের দামি।
একদম শেষে উল্লেখিত মেডিকেল ছাত্রের তৈরি করা সেই সফটওয়্যার দিয়েই লিখছি। বইটির শেষ দিকে বেশ কিছু ঘটনা আছে যা মোটেই জাপান কাহিনী নয়, লেখকের বিগত জীবনের অভিজ্ঞতা বলা যেতে পারে। তবু খুব বেশি খারাপ লাগেনি পড়তে। আর বিভিন্ন গল্পের শেষে বা মাঝে কিছু লিঙ্ক দেয়া, এসব লিঙ্ক টাইপ করে access করা একটু বেশি শ্রমসাধ্য। এভাবে রেফারেন্স হিসেবে সরাসরি লিঙ্ক না দিয়ে লিঙ্কগুলো ছোট আকারের QR কোড হিসেবে দেয়া যেতে পারত।