ভাই তারেক আর ভাবি রীনার সংসারে থাকে প্রায় বেকার হাসান। প্রায় বেকার বললাম কারণ হাসানের একটা চাকরি আছে, সপ্তাহে একদিন হিশামুদ্দিন কোম্পানির মালিক হিশামুদ্দিন সাহেবের জীবনী লেখার কাজ করে সে। এদিকে একসময়ের প্রতিবেশী তিতলীকে ভালোবাসে হাসান কিন্তু কোনো এক অদ্ভূত কারণে সে সহজ হতে পারে না তিতলীর কাছে। আর বাবার পছন্দের মানুষ হাসান কেমন যেন আকর্ষণ করে চিত্রলেখাকে, ওর কাছে আসলেই কেমন যেন মায়া মায়া অনুভব করে সে। দুই ছেলেকে নিয়ে তারেকের সাথে নয়টা বছর ভালোভাবে কাটালেও অফিসের টাইপিস্ট লাবণীকে কেন্দ্র করে একটু একটু করে জটিল হচ্ছে তারেক-রীনার সম্পর্ক। কল্পনাতে তো আমরা সবসময় চাই ‘ অতঃপর তারা সুখে-শান্তিতে বাস করতে লাগল' ধরণের ফলাফল কিন্তু বাস্তবতা যে এতটা সহজ হয় না, মানুষের কল্পনার সাথে বাস্তবতার মিল যে খুব একটা হয় না তাইতো সবাই কোনো না কোনো একসময় নিজেদের আবিস্কার করে বাস্তবতার চোরাবালিতে!
অতি পরিচিত এক মধ্যবিত্ত সমাজের গল্প। মধ্যবিত্ত পরিবারের সুখ, দুঃখ, ভালোবাসা, সংকট, স্বপ্ন, আশা ইত্যাদির পরিচিত বয়ান। লেখকের স্বভাবসুলভ অনেক বৈশিষ্ট্যই আছে বইটাতে; বেকার নায়ক, কর্তৃত্বপরায়ণ এক বাবা, অদ্ভূত এক বৃদ্ধ/বৃদ্ধা চরিত্র, হেযালি কিছু চরিত্র, দারোয়ান বা এ জাতীয় মানুষদের নিয়ে মজা করা, অতি সরলীকৃত কিছু চটকদার উক্তি ইত্যাদি।
আবেগ নিয়ে বেশ ভালোভাবে খেলেছেন লেখক। হাসান-তিতলী, হাসান-চিত্রলেখা, শওকত-তিতলী, তারেক-রীনাসহ নানা ধরনের সম্পর্ক নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। একেক সম্পর্ককে একেক পরিণতি দিযে পাঠককে কখনও হতাশ করেছেন, কখনও ক্রুদ্ধ করেছেন, কখনও আশাবাদী করেছেন। প্রতিটা চরিত্র সৃষ্টি করেছেন দোষ-গুণ মিলিয়ে, তাইতো কোনো চরিত্রকেই শুধু ঘৃণা করা যায় না আবার শুধু ভালোবাসাও যায় না। পুরো বইয়ে পাঠক কি চাচ্ছিল তা যেন অনুমান করতে পেরেছিলেন লেখক তাইতো সেগুলোকে কল্পনা বলে তুলে ধরেছেন ভিন্ন বাস্তবতা যা পাঠককে একধরনের আঘাত দিতে যথেষ্ট। শেষ পৃষ্ঠাটা ভীষণ সুন্দর, বারবার পড়ার মতো, মনে রাখার মতো।