মহামায়া কর্পোরেশন একদল ধান্ধাবাজ ছেলেমেয়ের গল্প। চালাক, চতুর ও ধান্ধাবাজ। তারা ঘুরে বেড়াচ্ছে আপনার আমার মতই। তাদের চোখেও স্বপ্ন। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথটা আমাদের থেকে একটু ভিন্ন।
তিনটি মুখোশ, ছয়টি ডায়মন্ড, একজন শিকার, একদল শিকারি… কোনো বিভ্রান্তি নেই। দ্বিধা নেই। তাড়াহুড়া নেই। নিখুঁত, শান্ত, চুপচাপ।
প্রকাশক যখন লেখক! আবরার আবীরকে আমরা আফসার ব্রাদার্সের প্রকাশক হিসেবেই চিনি। এই পরিচয়ের আড়ালে তার লেখক সত্ত্বা অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছিল। কিন্তু মহামায়া কর্পোরেশন লেখক হিসেবে সাহিত্য জগতে তার জায়গা পোক্ত করবে বলেই আমার ধারণা।
আমরা যারা লেখকের পূর্ববর্তী রচনাগুলো পড়েছি(যেমন রাসেল, হুরপতঙ্গ, জলজ) তারা জানি যে আবরার আবীরের গল্প বলার আলাদা একটা টোন আছে। পড়লে বোঝা যায়, এটা আবরার আবীরের লেখা। স্বকীয়তা। মহামায়া কর্পোরেশনেও সেই সিগনেচার টোনটা বজায় ছিল ভালোভাবেই। তবে এবারে সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হেঁটেছেন লেখক।
যারা ওশেনস ইলেভেনের মতন হাইস্ট নিয়ে সিনেমাগুলো দেখেছেন, তাদের জন্যে মহামায়া কর্পোরেশন একটা ট্রিট। বাংলাদেশী মৌলিক থ্রিলার জগতে হাইস্ট নিয়ে উপন্যাস লেখা হয়েছে খুবই কম। আমি এর আগে একটিই পড়েছিলাম, প্রান্ত ঘোষ দস্তিদারের মাস্টারপ্ল্যান। এটা দ্বিতীয়। এই ধরণের লেখায় এক্সিকিউশন ভালো না হলে সব গুবলেট পাকিয়ে যায়। তবে সেই ভয় শেষ অবধি অমূলক প্রমাণিত হয়েছে।
মহামায়া কর্পোরেশনের হিমা, মুহিব, সিয়াম- এই তিন চরিত্রকে ঘিরেই উপন্যাস। সাথে তাদের সঙ্গীসাথীরা তো আছেই। ঘটনাক্রমে এক বড় ব্যবসায়ীর লজ্জাবতী, কঙ্কাবতী আর লীলাবতী নামক তিনটি বাড়িতে একইসাথে চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকতে হবে তাদের।
মহামায়া কর্পোরশন টুইস্ট নির্ভর থ্রিলার নয়। বাড়তি মেদ রাখেননি লেখক। টানা গল্প বলে গিয়েছেন, যেখানে যেটুকু দরকার। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টের সুযোগ খুব একটা ছিল না। তবুও প্রয়োজনীয় ক্যারেক্টারগুলর ব্যাকগ্রাউন্ড আমরা জানতে পারি।
উপভোগ করেছি। সামনে এরকম আরো ব্যতিক্রমী থ্রিলারের অপেক্ষায়।
গল্পটায় বৈচিত্র্য বা স্বাতন্ত্র্য খুব একটা না থাকলেও লেখকের টানটান মেদহীন গদ্যের জন্য পড়তে ভালো লেগেছে। মাত্রাতিরিক্ত ভুল বানান প্রচুর ভুগিয়েছে অবশ্য।আফসার ব্রাদার্সের উচিত বানানের দিকে একটু নজর দেওয়া। কেউ পোশাক "পরে" বা পরিধান করে, "পড়ে" না। এই ছোট জিনিসটা পুরো বইতেই ভুল বানানে লেখা।
মেদহীন, একটানা পড়ে যাওয়ার মত একটা গল্প পড়লাম। বাংলাতে এরকম হেইস্ট নিয়ে খুব বেশি থ্রিলার লেখা হয়নি। তিনটা বাড়ির তিনটি মুখোশে থাকা মূল্যবান রত্ন চুরি নিয়েই এই বই। বইয়ের নব্বই শতাংশেই চুরির প্ল্যান, প্রসিডিওর দেখানো হয়েছে বেশ বিস্তারিতভাবেই। এর মধ্যেই উঠে এসেছে খুনসুটি, মজার কিছু দৃশ্য একইসাথে সাসপেন্স। আর শেষ দশভাগে রয়েছে এক্সিকিউশন। এখন প্রশ্ন হল মহায়ামা করপোরেশন কি সফল হতে পেরেছে? জানতে হলে বইটা পড়তে হবে। একেবারেই নির্ভেজাল, সুন্দর লেখনশৈলী, সাসপেন্স ও কিছু কমেডিযুক্ত একটা বই পড়তে চাইলে উঠিয়ে নিতে পারেন বইটা। খেলা হবে।
আমাদের দেশ টা দুর্নীতির দিক থেকে বরাবর ই শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে।হরহামেশাই এখন খুন-খারাবি, চুরি ডাকাতি চোখে পড়ে।এরা সবাই যে প্রকৃত অর্থে চোর বা পেশাদার চোর এরকম হয় নাহ।এইতো কিছুদিন আগেই রাস্তা দিয়ে হাটছিলাম,ফোনটা কানে ছিলো একটা ভয়েজ নোট শুনছিলাম হুট করে একটা প্রাইভেট কার সামনে দিয়ে গেলো যাওয়ার সময় কান থেকে ফোন টা টান দিয়ে নিয়ে গেলো।এতো বড়লোক চোর আমার দশ হাজার টাকার মোবাইল টা নিয়ে গেলো ভাবতেও আফসোস লাগে।যাক তার হয়তো একটু বেশিইই প্রয়োজন ছিলো।
শহরে কিছু ভদ্র ঘরের ছেলেপেলে ঘুরছে একটুকরো শান্তির আশায়।তারা কেউ কেউ হয়তো সমাজের ঠোকর খাচ্ছে,এখনো নিজের পায়ে দাড়াতে পারছে নাহ।কেউ আবার চাকরি নামক ফুট ফরমায়েশ খাটতে খাটতে অসহ্য হয়ে পড়েছে।কিন্তু এবার তাদের পরিকল্পনা বড় কিছু করার যার কারণে তাদের যেন আর পিছে ফিরে তাকাতে না হয়।যদিও কিছুদিন আগে তাদের একটা প্রজেক্ট বিফলে গেছে তবে এইবার একদল মিলে দারুণ পরিকল্পনা করেছে এবং সফল তাদের হতেই হবে।তিনটি মুখোশে লুকানো ছয়টি ডায়ামন্ড একবার হাত করতে পারলেই জীবন নিয়ে আর কোন পরিকল্পনা করতে হবে নাহ।কিন্তু কাজ টা তো আর সাধারণ কিছু নাহ।ঝুঁকির সর্বোচ্চটা জেনেই তারব এই রাস্তায় খেলতে নেমেছে।এখন তারা পরিকল্পনা সাজাচ্ছে......."খেলা হবে"।
এই গল্প টাকে মূলত আখ্যায়িত করা হয়েছে হাইস্ট থ্রিলার হিসেবে।প্লট খুব শক্ত নাহ তবে গল্পটা সম্পূর্ণ মেদহীন।এই ধরনের মুভি আমি প্রচুর দেখেছি।লেখক বলেছেন বাংলা অ্যাকশন সিনেমার মতো না হলিউডের মতো একের পর এক প্লট টুইস্ট।এই ধরনের মুভি অনেক দেখার সুবাদে টুইস্ট গুলো অনেক টাই আন্দাজ করতে পারছিলাম।গল্পে নতুনত্ব ছিলো নাহ তবে প্রেজেন্টেশন প্রশংসনীয়।১৪৪ পৃষ্ঠার ছোট একটা বই।বইয়ের ব্যপ্তি আরেকটু বড় হলে হয়তো সাসপেন্স টা অনেকখানি বাড়তে পারতো।কিছু বানান ভুল আছে বেশি নাহ তবে ফ্লো টা নষ্ট করছিলো।এই ধরনের থ্রিলার মুভি তে প্রোটাগনিস্ট রা অনেক ধরনের কোড ওয়ার্ড ব্যবহার করে তবে তার ব্যাখা দেওয়া থাকে।কিন্তু এই বইয়ের কথোপকথন এ যেই কোড ভাষা তারা ব্যবহার করসে তার বেশিরভাগই যে কি জিনিস তা আমি বুঝি ই নাই।প্রথমে অনেক পৃষ্ঠা জুড়ে শুধু চরিত্র দের সাথে পরিচয়ে খরচ হয়েছে।মূল ঘটনা ৩০/৩৫ পৃষ্ঠার পরে।মূল ঘটনা শুরু হওয়ার পর বেশ ভালো গতিতে এগিয়েছে।দেশীয় মৌলিক হাইস্ট থ্রিলার আমার এই প্রথম পড়া হিসেবে অনেক প্রশংসার দাবিদার।খুবই হালকা একটা বই।হাইস্ট রিলেটেড থ্রিলার পড়তে চাইলে এইটা পড়া যেতে পারে।
কোনো এক মহাপুরুষ কহিয়াছেন, চুরিবিদ্যা মহাবিদ্যা যদি না খাও ধরা। কিন্তু চুরিবিদ্যা এমন এক বিদ্যা যেটা কেউ কাউকে শিখায় না, ধরা খেয়ে তারপর শিখে নেয় আসল কৌশলটা কি। এবং শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষার্থীদের জন্য, চোরদের জন্য ও।
আমাদের যুগে চোররা বেশ বিখ্যাত, তবে আগের যুগে ছিলো না তা নয়। বিশেষ করে আর্সেন লুপার নাম শুনে থাকতে পারেন। চুরিবিদ্যা নিয়ে লেখনি কম হয়নি, পেইন্টিং চুরি, এন্টিক চুরি থেকে শুরু করে সবই। আর এই নেটফ্লিক্সের যুগে মানি হাইস্টের নাম শুনেনি কিংবা সিরিজ দেখেনি এমন মানুষ পাওয়া দায়৷ এরকম এক সংগঠিত এক চুরির কাহিনী। যারা কোনো এক চুরির ব্যার্থ হয়ে অবশেষে আরেক চুরি বাস্তবায়নে লেগে পরছেন।
এক বসায় শেষ করলাম আফসার ব্রাদার্স কর্তৃক প্রকাশিত আবরার আবীর ভাই লিখিত বই "মহামায়া কর্পোরেশন"। একটা দীর্ঘ সময় ব্লকে থাকার পর বইটি হাতে নিয়ে এক নিশ্বাসে শেষ করতে সমস্যা হয়নি৷ বরং বইট���র আবহ আমাকে বেশ এট্রাক্ট করেছে। তবে স্টোরিলাইনে আগের টাইমলাইনের কোনো এক ঘটনা সম্পর্কে বলা হয়েছে যেটির ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি। আর ডিটেইলিং তুলনামূলক কম।
বইটির লেখনি খুবই সাদামাটা। খুব বেশি ডিটেইলিং নয় কিন্তু গল্পের স্রোতটা বেশ সুন্দর। চরিত্র ডিটেইলিনং যতসামান্য। এতে গল্পের আবহ তেমন একটা জমে উঠেনি, কিন্তু একটানা পড়তে গেলে ব্যাপারটা চোখে পরে না। তবে স্টোরিবিল্ডিং বেশ ইন্ট্��েস্টিং ভাবে গড়ে উঠে। কিন্তু গল্পের ফ্লো চলতে চলতে বিশেষ করে শেষের দিকে যেনো গল্পের গোটানোটা একটু দ্রুত হয়ে এসেছে। বিশেষ করে গল্পের ক্লাইমেক্সখানা যেনো আরেকটু ধীর স্থিরভাবে হলে মন্দ লাগতো না। বরং ক্লাইমেক্সের বাস্তবায়নটাকে উপভোগ করা যেতো। এবং শেষটাকেও বেশ উপভোগ করা যেতো। কিন্তু পুরো গল্পটা একদম এঞ্জয় করার মত, এক বসায় হালকা কোনোকিছু পড়তে চাইলে পড়তে পারবেন।
রিটায়ার্ড মতিউর রশিদের ব্যক্তিগত সংগ্রহে রয়েছে তিনটি মুখোশ।তিনটি মুখোশের চোখে ছয়টি পাথর।তিনটি পান্না, দুটি লাল ডায়মন্ড আর একটি নীল ডায়মন্ড।মুখোশ তিনটি রয়েছে লীলাবতী,কঙ্কাবতী ও লজ্জাবতী নামক তার তিন বাড়িতে।এই তিনটি মুখোশের যেকোন একটিতে রয়েছে আসল পাথর বসানো।
ছোটখাটো ধান্দা করে পেট চালানো সিয়াম,মুহিন আর হিমা একদিন প্ল্যান করে বড় দান মারার।হ্যাঁ সেই বড় দান হলো এই তিনটি মুখোশ একইদিনে একইসময়ে চুরি করা।পাথর গুলো একবার হাতে পেয়ে গেলে ব্যস আর তাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।কিন্তু এত কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকা মুখোশ তিনটি চুরি করা কী আর মুখের কথা!এর জন্য চাই সূক্ষ্ম পরিকল্পনা।পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে এই তিনজনের সাথে একে একে যুক্ত হতে থাকে - ধ্রুব,তারা,দুর্বার,রাফি ও নিখিল।
এই আটজন তরুণ-তরুণী জীবনে কোন না কোন ভাবে আঘাতপ্রাপ্ত।এদের কেউ নিজেদের যাপিত জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট নয়।একেকজন ভিন্ন মনোভাবের মানুষ হয়েও ভবিষ্যৎ জীবন নিশ্চিত করতে এই একটি পরিকল্পনায় তারা দ্বিধাহীন,নিখুঁত,শান্ত।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
হাইস্ট থ্রিলার জনরার বই এই প্রথম পড়লাম।মেদহীন থ্রিলার হওয়ায় পড়ে বেশ আরাম পেয়েছি।বইটি পড়ার সময় বিরক্তির একমাত্র কারণ ছিলো বেশ কিছু জায়গায় বানান ভুল। এছাড়া কোন অযাচিত বর্ণনা নেই,দ্রুত টেনে শেষ করার মতো একটি বই।সবমিলিয়ে বেশ উপভোগ করেছি।
আবরার আবীর ভাইয়ের লেখা 'কাগজ' আমার অনেক ভালো লেগেছিল সাথে এই বইয়ের জনরা হাইস্ট থ্রিলার -এই দুয়ে মিলিয়ে বইটি কেনা। এই জনরার কোনো মৌলিক উপন্যাস আগে পড়া হয়নি। তাই এই বইয়ে ভিন্ন স্বাদের থ্রিলার পেলাম। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে ঘটনাপ্রবাহ বেশ ধীর গতিতে এগিয়েছে। দুর্দান্ত গতির থ্রিলার পড়ব এই এক্সপেক্টেশন নিয়ে শুরু করেছিলাম বলে হয়তো এমন মনে হয়েছে। থ্রিলার প্রেমী হিসেবে এক-দুইটা টুইস্ট থাকলেও মন্দ হতো না!! বইয়ের বেশ কিছু অংশ জুড়ে বিভিন্ন চরিত্রের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়েছে। আসল খেলা শুরু হয় শেষ ২০/৩০ পৃষ্ঠা জুড়ে। এই সময়টুকু অনেক রোমাঞ্চকর ছিল মানতেই হবে! ! হাইস্ট থ্রিলার হিসেবে গল্পটা ভালো লেগেছে। ভিন্ন স্বাদের থ্রিলার পড়তে চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।
মেদহীন থ্রিলার বলতে যা বুঝানো হয়,এটা ঠিক তেমন। ঠিকঠাকমতোন প্লট সাজানো বলে পড়ে যাচ্ছিলাম গড়গড়িয়ে। অবশ্য ২টা প্রিন্টিং মিসটেক পেয়েছি। একটা একেবারেই গোড়ার দিকে।
তবে বেশ কবার বাড়ির নাম, মানুষের নাম গুলিয়ে ফেলছিলাম।
এধরনের হায়েস্ট গল্প পড়তে আর এতকিছুর প্ল্যানিং প্লটিং নিয়ে গল্পটা ভালোই এগোচ্ছিলো। তবে আমার জন্য এটা বলতে গেলে একটা নিউট্রাল রীড এর কিছু ভালো লাগা এবং খারাপ লাগা তুলে ধরছি।
ভালো লাগা: ১. গল্পের ক্যারেক্টার অনেক এবং একেক জন একেক পেশার যে কারণে এটা হায়েস্ট এর ভাইভ দিচ্ছিলো, আর এধরনের হায়েস্ট টাইপ বই আমি এই প্রথম পড়ছি। ২. কিছু কিছু প্ল্যানিং ব্রেইনস্টোর্মিং ছিল যেটা আমার ভালো লেগেছে।
খারাপ লাগা: ১. সং্খ্যায় বেশি হওয়ায় ক্যারেক্টারদের মনে রাখার অসুবিধা। ২. কিছু কিছু সাংকেতিক ভাষা বুঝতে অসুবিধা। ৩. রফিক সাহেব একদিকে এন্টিং কালেক্টর স্বভাবতই উনার মোটামুটি বুদ্ধিমান ব্যক্তি ভাবার কথা কিন্ত গল্পে উনাকে এমনভাবে বোকা দেখানো হয়েছে সেটা সত্যিই অপ্রত্যাশিত। ৪. কোনো কিছুই নিখুত নয়। কিন্ত এখানে তাদের এক্সিকিউশন ধরতে গেলে নিখুতই একটু আলাদা হলে জমতো।
লেখকের অন্যান্য বই পড়ার আশা রাখছি। লেখনী ভালো লেগেছে।
একদম ক্লাসিক হাইস্ট গল্প, যা বাংলায় খুব একটা পড়া হয়নি। হাইস্ট মুভি প্রচুর দেখেছি, তা নয়, তবে মোটামুটি এনাফ দেখা হয়েছে। সেই হিসাবে, বইটা ঠিকঠাক হাইস্টের সব বিল্ডআপ রেখেছে, আর ডেলিভারিও করেছে ভালোভাবেই।
তবে—and this is a big তবে—হাইস্টের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অংশ হলো, কিছু একটা ঝামেলা হয়ে। প্ল্যান প্রায় ফেইল হয়ে যাওয়া। এখানে সেটা প্রায় ছিল না বলতে গেলে। সব কিছু অতিরিক্ত স্মুথলি হয়ে গেল, যেটা খুব বিরক্তিকর না হলেও, একটু অস্বাভাবিকই লাগে, কারণ হাইস্টটা বেশ বড়সড় ছিল—তিন-তিনটা লোকেশনে একসাথে কাজ চলছিল! এত নিখুঁতভাবে সব মিলে যাওয়া একটু...unsatisfactory.
ক্যারেক্টারদের ব্যাকস্টোরি শুরুতে ভালোই গড়ে তুলেছেন লেখক, কিন্তু হাইস্টের মাঝে ওদের পারসোনালিটি আরও ফুটিয়ে তোলা যেত। যেভাবে শুরুর দিকে ক্যারেক্টার বিল্ডআপ করলেন, সেটার পূর্ণ ব্যবহার করলে গল্পটা আরও জমত।
কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ভুল বানান মাথা গরম করে দিয়েছে। আফসার ব্রাদার্সের উচিত একজন দক্ষ প্রুফরিডার নিয়োগ দেওয়া। নাহলে পাঠকদের আসলে তাদের বই বর্জন করতে বেশি সময় লাগবে না।
হাইস্ট নিয়ে থ্রিলার আর পড়া হইসে কি না মনে নাই এই মুহূর্তে। যাইহোক, লেখকের প্রশংসা না করে পারতেসি না, খুবই সাবলীল লেখনী। কাহিনী খুবই স্ট্রেইটফরওয়ার্ড, আপনি বুঝবেনই কি হতে যাচ্ছে, এর ব্যতিক্রম কিছুই দেখবেন না, তাও আপনি বইটা পড়তে থাকবেন, কারণ লেখার ধরণ।